ডোমেইন জিনিসটা আসলে কী
ডোমেইন হলো ইন্টারনেটে আপনার নিজের ঠিকানা, যেমন aiinbangla.com। কেউ ব্রাউজারে ওই নামটা লিখলেই আপনার সাইট খুলবে।
!নিজের ডোমেইনে হোস্টিংয়ের তিনটা স্তর
- নামটা নিজে কোনো ওয়েবসাইট নয়, ওয়েবসাইট রাখার জায়গাও নয়।
- ওটা শুধু একটা নাম, যেটা বছরে বছরে আপনার নামে লেখা থাকে।
- আপনি ঠিক করে দেন নামটা কোন সাইটের দিকে তাক করবে।
তাই খরচটাও দুই জায়গায় ভাগ হয়ে যায়:
| কীসের খরচ | কার কাছে যায় | কতবার |
| নামের ভাড়া | ডোমেইন কোম্পানির কাছে | প্রতি বছর |
| সাইট রাখার জায়গা | হোস্টিংয়ে | এখানে একবারই |
এই দুটো গুলিয়ে ফেলা নতুনদের সবচেয়ে সাধারণ ভুল।
.com, .com.bd না .xyz
নামের শেষের অংশটা মানুষ চোখ বুলিয়েই পড়ে ফেলে, আর সেখান থেকেই আপনার ব্যবসার প্রথম ধারণাটা তৈরি হয়।
| ধরন | কার জন্য ভালো | যা জানা দরকার |
| .com | দোকান, এজেন্সি, ফ্রিল্যান্সার, প্রায় সবাই | বছরে ৳১,০০০ থেকে ৳১,৫০০। ফোনে বলা সহজ, সবাই চেনে |
| .com.bd | স্কুল, প্রতিষ্ঠান, যাদের দেশি পরিচয়টাই মূল কথা | জাতীয় রেজিস্ট্রি থেকে নিতে হয়, ট্রেড লাইসেন্সের কাগজ লাগে, হাতে সময় নিয়ে করতে হয় |
| .xyz আর সস্তা extension | শখের প্রজেক্ট, পরীক্ষা, ব্যক্তিগত পাতা | প্রথম বছর সস্তা দেখায়, নবায়নে দাম বাড়ে। অচেনা ক্রেতার চোখে কম বিশ্বাসযোগ্য |
বাংলাদেশের একটা দোকানের জন্য পরামর্শটা সোজা: .com নিন।
- ক্রেতাকে ফোনে ঠিকানা বলতে হয়, আর .com একমাত্র শেষাংশ যেটা না বললেও মানুষ ধরে নেয়।
- .com.bd দেখতে সুন্দর আর দেশি, কিন্তু কাগজপত্র আর অপেক্ষা আছে, তাই ওটা প্রতিষ্ঠানের জন্য তোলা থাক।
- .xyz দিয়েও দোকান চলে, তবে অচেনা ক্রেতা ঠিকানাটা দেখে একটু থমকায়, আর ওই থমকানোটাই আপনার বিক্রি।
- পছন্দের নামটা .com-এ খালি না পেলে হাল ছাড়বেন না। শহরের নাম, bd, কিংবা আপনি যে কাজটা করেন সেটা জুড়ে দিন।
কোথা থেকে কিনবেন
আমরা ডোমেইন বিক্রি করি না, তাই কোনো কোম্পানির নাম বলছি না। কিন্তু জায়গাগুলো আসলে তিন রকমেরই হয়:
- আন্তর্জাতিক ডোমেইন কোম্পানি। দাম সবচেয়ে পরিষ্কার, প্যানেলটা পুরো আপনার হাতে, আর DNS বদলাতে কারও অনুমতি লাগে না।
- বাংলাদেশি রিসেলার বা হোস্টিং কোম্পানি। এরা bKash, নগদ বা ব্যাংক ট্রান্সফারে টাকা নেয় আর বাংলায় কথা বলে, তাই কার্ড না থাকলে এটাই সহজ পথ।
- .com.bd-র জন্য জাতীয় রেজিস্ট্রি। এগুলো বাংলাদেশের নিজস্ব রেজিস্ট্রি থেকে নিতে হয়, আবেদনের সাথে ট্রেড লাইসেন্স বা প্রতিষ্ঠানের কাগজ লাগে।
কেনার সময় আর দাম দেখার সময় এই কথাগুলো মনে রাখুন:
- আন্তর্জাতিক কোম্পানির শর্ত একটাই: আন্তর্জাতিক লেনদেন খোলা আছে এমন একটা কার্ড লাগবে।
- রিসেলারের কাছে কিনলে নিশ্চিত করুন account-টা আপনার নিজের নামে আর আপনার নিজের email দিয়ে খোলা হচ্ছে।
- .com.bd-তে কাগজ ঠিক থাকলে হয়ে যায়, শুধু এক ঘণ্টায় হয় না।
- দাম দেখার সময় নবায়নের দামটা দেখবেন, প্রথম বছরের অফারের দামটা নয়।
- .com-এ বছরে ৳১,০০০ থেকে ৳১,৫০০ স্বাভাবিক; এর চেয়ে অনেক কম দামের অফার মানে সাধারণত পরের বছরের বড় বিল।
নামটা কেমন হলে ভালো
নামটা আপনি একবার বাছবেন আর হাজারবার বলবেন: ফোনে, ভিজিটিং কার্ডে, ডেলিভারির প্যাকেটে, ফেসবুক পোস্টে। তাই মুখে বলার সহজত্বটাই আসল মাপকাঠি।
- ছোট রাখুন। এক বা দুই শব্দ। লম্বা নাম মানুষ ভুল টাইপ করে, আর ভুল টাইপ মানে হারানো ক্রেতা।
- ফোনে বলে পরীক্ষা করুন। পরিচিত কাউকে ফোনে ঠিকানাটা বলুন। একবারে ঠিক লিখতে পারলে নামটা ভালো, বানান করে বোঝাতে হলে নামটা বাদ দিন।
- ধোঁকা দেয় এমন বানান এড়ান। যে শব্দের উচ্চারণ এক কিন্তু ইংরেজি বানান কয়েক রকম, সেটা ঠিকানায় রাখলে অর্ধেক মানুষ ভুল জায়গায় পৌঁছাবে।
- ড্যাশ আর সংখ্যা রাখবেন না। মুখে বললে ড্যাশটা শোনাই যায় না, আর সংখ্যাটা অঙ্কে না কথায় লিখবে সেটা কেউ বুঝতে পারে না।
- সাইনবোর্ডের সাথে মিল রাখুন। দোকানের নাম আর ঠিকানার নাম এক হলে মানুষ মনে রাখে, আলাদা হলে ভুলে যায়।
- অন্যের নাম নেবেন না। পরিচিত কোনো ব্র্যান্ডের কাছাকাছি নাম নিলে ডোমেইনটা পরে কেড়ে নেওয়া হতে পারে, আর তখন টাকাটাও ফেরত পাবেন না।
কেনার সাথে সাথেই যে কাজগুলো
টাকা কাটার পর ট্যাব বন্ধ করার আগেই এই কাজগুলো সেরে ফেলুন। পরে করব ভাবলে ঝামেলাটা ঠিক এক বছর পরে ফিরে আসে।
- login-টা লিখে রাখুন। কোন সাইট, কোন email, কোন password, তিনটাই এক জায়গায়।
- auto-renew চালু করুন। ডোমেইন প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়, আর auto-renew থাকলে তারিখ মনে রাখতে হয় না।
- যে email দিয়ে কিনেছেন সেটা ধরে রাখুন। নবায়নের চিঠি আর মালিকানা বদলের অনুমোদন ওই ঠিকানাতেই যায়।
- account-এ নিজের নাম আর নিজের নম্বর বসান। যিনি সেটআপ করে দিচ্ছেন তাঁর নাম নয়, আপনার নাম।
- ডোমেইন লক চালু আছে কি না দেখে নিন। চালু থাকলে কেউ চুপচাপ ডোমেইনটা অন্য কোথাও সরিয়ে নিতে পারে না।
কেন এই পাঁচটাই:
- এক বছর পর মানুষ ঠিক login-এর তথ্যটাই খুঁজে পায় না।
- auto-renew চালু থাকলে কার্ড বা ব্যালেন্স থেকে নিজে থেকেই কেটে নেয়।
- যে email দিয়ে কিনেছেন সেটা হারালে ডোমেইনটাও কার্যত হারায়।
- account-এ আপনার নামটাই আপনার মালিকানার একমাত্র কাগজ।
- বেশির ভাগ কোম্পানিতে ডোমেইন লক এমনিতেই চালু থাকে।
!কেনার পর অ্যাপে যা লিখবেন, আর যে দুটো record পাবেন
যে দুই ভুলে মানুষের ডোমেইন হাতছাড়া হয়
এক, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া। ডোমেইন এক বছরের জন্য নেওয়া হয়।
- তারিখ পার হলে সাইট নিভে যায়, আর ওই নামের email আসা বন্ধ হয়।
- কিছুদিন পর নামটা যে কেউ কিনে নিতে পারে, আর ফেরত পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না।
- বহু বছর ধরে ক্রেতাদের চেনা একটা ঠিকানা ঠিক এভাবেই হারিয়ে যায়।
- ঠেকানোর উপায়: auto-renew চালু রাখুন, আর কার্ডের মেয়াদ শেষ হলে সাথে সাথে নতুনটা বসিয়ে দিন।
দুই, ডোমেইনটা অন্য কারও নামে থেকে যাওয়া। যিনি সাইটটা বানিয়ে দিলেন তিনি নিজের account-এ, নিজের email দিয়ে ডোমেইনটা কিনলে কাগজে-কলমে নামটা তাঁর।
- টাকা আপনি দিলেন, সেটা কোনো প্রমাণ নয়।
- একদিন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে বা সম্পর্ক খারাপ হলে আপনার হাতে কিছুই থাকে না।
- ঠেকানোর উপায়: কেউ কিনে দিলেও account-টা আপনার নামে আর আপনার email-এ খুলিয়ে নিন।
- তারপর নিজে একবার login করে দেখে নিন যে সত্যিই ঢোকা যাচ্ছে।
ডোমেইনের account-এ যাঁর email, ডোমেইনটা তাঁর। টাকা কে দিয়েছে, সেটা এখানে কোনো প্রমাণই নয়।
এরপর কী
ডোমেইনটা কেনা হয়ে গেলে কঠিন অংশটা শেষ। বাকি পথটা তিন ধাপ।
- সাইটটা Publish করুন।
!বিল্ডারের উপরে ডোমেইন বাটনটা এখানে
- বিল্ডারের ডোমেইন বাটনে ঠিকানাটা লিখুন।
- DNS-এ দুটো লাইন বসিয়ে ভেরিফাই চাপুন। কোন ঘরে কী লিখবেন, সেটা পরের অধ্যায়ে ধাপে ধাপে লেখা আছে।
- নিজের ডোমেইনে হোস্টিং এখানে একবারই ৳৬,৯৯৯-এর সমান Token, সারাজীবনের জন্য।
- কোনো নবায়ন নেই, কোনো মাসিক বিল নেই, দাম বাড়ার চিঠি নেই।
- Business বা Commerce হোস্টিং নিলে এই ৳৬,৯৯৯ ওই দামের ভেতরেই ধরা থাকে, আলাদা করে দিতে হয় না।
ডোমেইনের বাৎসরিক ভাড়াটা আপনি ডোমেইন কোম্পানিকেই দিতে থাকবেন। ওটা কোনো হোস্টিং কোম্পানি মাফ করতে পারে না, আমরাও পারি না। আমরা শুধু আমাদের অংশটা একবারেই শেষ করে দিয়েছি।