স্ট্যাটিক ফর্ম কেন কোথাও পৌঁছায় না
একটা সাধারণ ফর্ম দেখতে ফর্মের মতোই: নাম, মোবাইল, ঠিকানা, তারপর পাঠান বাটন। কিন্তু ভিতরে যা ঘটে সেটা অন্য কথা।
!ইনবক্সে জমা হওয়া তিনটা অর্ডার, নাম ফোন আর ঠিকানাসহ
- BanglaCodes-এ বানানো সাইট চলে ভিজিটরের নিজের ব্রাউজারে, তার নিজের কোনো সার্ভার নেই।
- মানে পাঠান চাপার পর তথ্যটা নেওয়ার মতো কেউ ওপাশে নেই।
- ভিজিটর যা লিখলেন, তা তার নিজের ফোনেই রয়ে গেল।
তাই আমাদের AI কখনো ভান করে না। যে টুল পাঠান চাপার পর পাঠানো হয়েছে লিখে দেয় অথচ আসলে কোথাও পাঠায় না, সেটা শুধু বাজে কোড নয়, সেটা মিথ্যা: দোকানদার ভাবেন অর্ডার আসছে না, ক্রেতা ভাবেন অর্ডার চলে গেছে।
সৎ পথ দুটো:
- এক, ফর্মের বদলে WhatsApp বা কল করার বাটন। এটা ফ্রি প্ল্যানেই চলে।
- দুই, সাইটের ফর্ম। নিজের ডোমেইনে হোস্টিং নিলে ভিজিটরের জমা সত্যিই আমাদের সার্ভারে আসে আর আপনার ইনবক্সে বসে; Business বা Commerce-এ দিনে আরও বেশি জমা নেওয়া যায়।
এই অধ্যায়টা দ্বিতীয় পথের।
ফর্মটা চাইবেন যেভাবে
- বিল্ডারে বাংলায় বলুন, আর কথাটা পরিষ্কার করে বলুন যে এটা সাইটের ফর্ম হবে।
- কোন ঘরগুলো থাকবে সেটাও একবারে বলে দিন, তাহলে বারবার ঠিক করতে হবে না।
আমার দোকানের সাইটে একটা অর্ডার ফর্ম দাও, তাতে নাম, মোবাইল, পুরো ঠিকানা, কী কিনতে চান আর কোনো মন্তব্য থাকবে। ফর্মটা সাইটের ফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যাতে জমাগুলো আমার ইনবক্সে আসে।
- Publish করুন, আর হোস্টিংটা কেনা আছে কি না দেখে নিন। জমা নেওয়ার ব্যবস্থাটা হোস্টিংয়ের সাথে আসে; ওটা থাকলে ফর্ম চলে Publish করা সাইটে, মানে banglacodes.com/site/... ঠিকানায় আর আপনার নিজের ডোমেইনে।
- নিজে একবার পূরণ করে পাঠান, তারপর ইনবক্স খুলে দেখুন জমাটা বসেছে কি না। এই এক মিনিটের পরীক্ষাটা কখনো বাদ দিবেন না।
আরও কয়েকটা কথা মনে রাখুন:
- ঘরগুলোর নাম বুঝেশুনে দিন, কারণ ইনবক্সে আপনি ওই নামগুলোই দেখবেন।
- ঘরের নাম না মিললেও কুরিয়ারের ফাইলের জন্য আমরা নাম, মোবাইল আর ঠিকানা লেখার ধরন দেখে চিনে নিই।
- শেয়ারের /p/ লিংকটা প্রিভিউয়ের জন্য, ওখানে ফর্ম কাজ করবে না।
- একের বেশি ফর্ম রাখতে পারেন, যেমন একটা অর্ডারের আর একটা অভিযোগের, সবগুলোই কাজ করবে।
- ইনবক্স আলাদা করে বলে না কোনটা কোন ফর্ম, তাই প্রতিটা ফর্মে আলাদা একটা ঘর রাখুন, যেমন বিষয়।
ইনবক্সে যা এসে জমা হয়
সাইট ড্যাশবোর্ড খুললেই ইনবক্স। প্রতিটা জমার সাথে থাকে:
- ভিজিটর যা যা লিখেছেন, প্রতিটা ঘর আলাদা করে, আপনার দেওয়া নামের পাশে। খুব লম্বা লেখা ছেঁটে রাখা হয়।
- কখন এসেছে, তারিখ আর সময়সহ। কে আগে পাঠিয়েছেন সেটা নিয়ে তর্কের জায়গা থাকে না।
- চেকআউটের অর্ডার হলে পুরো ঝুড়িটা: কোনটা কয়টা, ডেলিভারি চার্জ আর সর্বমোট, একটা অর্ডার হিসেবে।
- একটা status, যেটা আপনি বদলাতে পারবেন: নতুন, দেখা আর শেষ।
status-টা আসলে ছোট একটা খাতা, আর তিনটা ঘর দিয়েই ব্যস্ত দিনে পুরো দোকান সামলানো যায়:
- সকালে ইনবক্স খুলে নতুনগুলো পড়ুন।
- পড়া হয়ে গেলে দেখা দাগিয়ে দিন।
- মাল পাঠানো হয়ে গেলে শেষ। তাহলে কোনটা বাকি আছে তা কখনো মাথায় রাখতে হবে না।
email-এর খবর আর CSV ফাইল (Excel-এ খোলা যায়)
জমা এলে আপনার account-এর email-এ খবর যায়, তাই সারাদিন ড্যাশবোর্ড খুলে বসে থাকতে হয় না। মেইলটা শুধু ইশারা, আসল লেখাটা ইনবক্সেই পড়বেন।
- লাইফটাইম ডোমেইন হোস্টিংয়ে দিনের প্রথম ৫টা জমার জন্য মেইল যায়, Business-এ ১০টা, Commerce-এ ৩০টা। এর পরের জমাগুলোও ইনবক্সে ঠিকই বসে।
- সীমা ছোঁয়ার দিনে আপনাকে মেইলে জানানো হয়, যাতে ব্যস্ততাটা টের পান।
- পুরো ইনবক্স CSV ফাইলে নামানো যায় ব্যাকআপ ট্যাব থেকে, তবে ব্যাকআপ ট্যাবটা Business আর Commerce-এর সুবিধা। এক ফাইলে ১,০০০টা জমা যায়, সবচেয়ে নতুনগুলো আগে।
- পুরো সাইট আর ইনবক্স মিলিয়ে একটা ব্যাকআপ ফাইলও ওই ট্যাব থেকেই নামে। মাসে একবার নামিয়ে নিজের কাছে রাখা ভালো অভ্যাস।
Commerce-এ যা বাড়তি পাবেন
দোকানের অর্ডার যখন দিনে কয়েকটা থেকে অনেকগুলো হয়ে যায়, তখন কেবল ইনবক্সে আসাই যথেষ্ট নয়। Commerce তিনটা কাজ যোগ করে।
- ক্রেতাকে অটোমেটিক উত্তর: ফর্মে email থাকলে ক্রেতার কাছে আপনার নিজের ভাষায় একটা ধন্যবাদের মেইল চলে যায়।
- ক্রেতাকে SMS: বাংলাদেশে ক্যাশ অন ডেলিভারির ক্রেতার email থাকে না, মোবাইল থাকেই।
- SMS যায় আপনার নিজের গেটওয়ে account থেকে, কারণ ব্যবসার নামে Sender ID আপনার নিজের নামেই নিবন্ধন করতে হয়। দিনে ২০০টা আর ঘণ্টায় ৩০টা পর্যন্ত।
- কুরিয়ারের অর্ডার ফাইল: এক এক করে টাইপ না করে ফাইলটা নামিয়ে ওদের প্যানেলে একবারে আপলোড করুন।
- এক ফাইলে ১,০০০টা অর্ডার, সবচেয়ে পুরোনোগুলো আগে, কারণ যিনি সবচেয়ে বেশি অপেক্ষা করেছেন তাঁর পার্সেলটাই আগে যাওয়া উচিত।
যে অর্ডারে ফোন বা ঠিকানা নেই সেটা কুরিয়ারের ফাইলে যায় না, কারণ ওটা কেউ পৌঁছে দিতে পারবেন না। কয়টা বাদ পড়ল সেটাও দেখানো হয়, যাতে পাঁচটা অর্ডারের জায়গায় চারটা পার্সেল পাঠিয়ে না দেন।
!Commerce-এ ক্রেতাকে SMS পাঠানোর ঘরগুলো
দিনের সীমা আর ব্যস্ত দিন
| যা পাচ্ছেন | লাইফটাইম হোস্টিং ৳৬,৯৯৯ | Business ৳১৪,৪৯৯ | Commerce ৳২৩,৯৯৯ |
| দিনে কতগুলো জমা | ২৫টা | ১০০টা | ৫০০টা |
| দিনে email-এর খবর | ৫টা | ১০টা | ৩০টা |
| ইনবক্সের CSV আর ব্যাকআপ ট্যাব | নেই | আছে | আছে |
| ক্রেতাকে অটোমেটিক উত্তর | নেই | নেই | আছে |
| ক্রেতাকে SMS | নেই | নেই | আছে |
| কুরিয়ারের অর্ডার ফাইল | নেই | নেই | আছে |
সীমা পেরিয়ে গেলে কী হয়, সেটা জেনে রাখা দরকার:
- ফর্মে ভিজিটর একটা ভদ্র মেসেজ দেখবেন যে আজকের কোটা শেষ, পরদিন আবার চালু।
- কিছু চুপচাপ হারিয়ে যায় না, আর ভিজিটরকে মিথ্যা আশ্বাসও দেওয়া হয় না।
- সীমাটা আসলে আপনার পক্ষে: ফর্ম তো সবার জন্য খোলা, তাই কেউ চাইলে হাজার হাজার ভুয়া জমা পাঠিয়ে ইনবক্স ভরিয়ে দিতে পারত।
- ব্যস্ত দোকানের জন্য Commerce-এর ৫০০-ই ঠিক মাপ; দিনে ১০০-এর ঘরে বারবার ঠেকলে বুঝবেন উপরে ওঠার সময় হয়েছে।
- Business থেকে Commerce-এ গেলে শুধু পার্থক্যটুকু কাটে।
যতটুকু দরকার, ততটুকুই চান
ফর্মে যত ঘর, তত কম মানুষ পূরণ করেন। আর যে তথ্য আপনি নিলেন, সেটা রাখার দায়িত্বও আপনার। তাই একটা সহজ নিয়ম: কাজটা করতে যা লাগে কেবল সেটাই চান।
- ডেলিভারির জন্য নাম, মোবাইল আর ঠিকানা লাগে। জন্মতারিখ, বাবার নাম বা NID লাগে না, তাই চাইবেন না।
- email বাধ্যতামূলক করবেন না। বাংলাদেশে বেশিরভাগ ক্রেতার email নেই, ওটা বাধ্যতামূলক করা মানে অর্ধেক অর্ডার হারানো।
- ছবি বা কাগজের কপি না চেয়ে ফোনে চেয়ে নিন, যদি সেটা কালেভদ্রে লাগে।
- ফর্মের নিচে এক লাইনে লিখে দিন তথ্যটা কী কাজে লাগবে আর কতদিনে উত্তর পাবেন। ভরসা বাড়ে, আর জমাও বাড়ে।
ফর্ম আমার কাছে আসছে না
| যা দেখছেন | সম্ভাব্য কারণ | যা করবেন |
| জমা দিলাম, ইনবক্স খালি | ফর্মটা সাইটের ফর্ম হিসেবে বানানো হয়নি | বিল্ডারে বলুন ফর্মটাকে সাইটের ফর্ম বানাতে, তারপর আবার Publish |
| শেয়ার লিংকে ফর্ম কাজ করে না | ওটা /p/ প্রিভিউ লিংক | Publish করা ঠিকানা বা নিজের ডোমেইন থেকে চেষ্টা করুন |
| ইনবক্সে আছে, মেইল আসেনি | দিনের মেইলের কোটা শেষ | ইনবক্সেই দেখুন, বা spam ফোল্ডারটাও দেখে নিন |
| আজ থেকে হঠাৎ বন্ধ | দিনের জমার সীমা ছোঁয়া হয়েছে | পরদিন আবার চালু, বারবার হলে Commerce-এ উঠুন |
| বদল করলাম, তবু আগেরটাই | Publish চাপা হয়নি | বিল্ডারে ফিরে Publish চাপুন, লাইভ সাইট তখনই বদলায় |
| ক্রেতা SMS পাননি | গেটওয়ের ব্যালেন্স বা সীমা | ড্যাশবোর্ডের কোড ট্যাব থেকে টেস্ট SMS পাঠিয়ে দেখুন |
নতুনদের যত প্রশ্ন
ফর্মের তথ্য কোথায় থাকে?
- আমাদের সার্ভারে, আর সেটা কেবল আপনার account থেকেই দেখা যায়।
- Business বা Commerce নিলে CSV-তে নামিয়ে নিজের কাছেও রেখে দিতে পারেন।
হোস্টিং না নিয়ে ফ্রিতে অর্ডার নেওয়ার উপায় আছে?
- আছে। ফর্মের বদলে WhatsApp বাটন দিন, ক্রেতা চাপ দিলে অর্ডারের লেখা তৈরি হয়ে যাবে, সে শুধু পাঠাবে।
- বাংলাদেশের বেশিরভাগ ছোট দোকান ঠিক এভাবেই চলে।
একই ফর্ম কি দোকান আর অফিস দুই জায়গায় ব্যবহার করা যায়?
- হোস্টিংটা প্রতি সাইটে, তাই দুটো আলাদা সাইট হলে দুটোর জন্যই আলাদা করে নিতে হবে।
- এক সাইটের ভেতরে যত ফর্ম খুশি রাখতে পারেন।