যে বিজ্ঞাপনটা আমরা বানাব
ধরুন আপনার একটা ছোট জুতার দোকান আছে, নাম সোহেল সুজ। এই সপ্তাহে একটা সাদা স্নিকার এসেছে, দাম ১,২৫০ টাকা। ফেসবুকে ছবিটা দিলে কয়েকটা লাইক পড়ে, কিন্তু অর্ডার আসে না।
!রিল স্টুডিওর প্রথম পাতা: উপরে দুইটা কার্ড, নিচে "১. কী নিয়ে"
কারণটা সহজ। স্থির একটা ছবি দেখে কেউ বুঝতে পারে না:
- জুতাটা হাতে নিলে কেমন লাগে।
- কে বিক্রি করছে।
- মানুষটা বিশ্বাস করার মতো কিনা।
UGC বিজ্ঞাপন ঠিক এই জায়গাটায় কাজ করে। পর্দায় একজন মানুষ আপনার আসল স্নিকারটা হাতে ধরে বাংলায় বলে কেন জিনিসটা ভালো।
- মানুষটা আপনি নিজে হতে পারেন, নয়তো আমাদের আঁকা ছয়জন উপস্থাপকের একজন।
- ভিডিওটা ১৫ সেকেন্ডের।
- পুরোটা করতে আপনার লাগবে একটা ফোন, দশ মিনিট সময় আর ৮৫,০০০ Token।
শুরু করুন banglacodes.com/reels পাতা থেকে। উপরে দুইটা কার্ড থাকবে, বাঁ পাশেরটা "UGC বিজ্ঞাপন"। ওটাতেই চাপ দিন।
পণ্যের ছবিটা তুলবেন যেভাবে
পুরো বিজ্ঞাপনের মান দাঁড়িয়ে আছে এই ছবিটার উপর। AI জুতাটা নতুন করে আঁকে না, আপনার দেওয়া ছবিটাকেই উপস্থাপকের হাতে বসায়। ছবি ঘোলা হলে ভিডিওর জুতাও ঘোলা।
- পটভূমি এক রঙের রাখুন। সাদা দেয়াল বা এক টুকরা সাদা কাগজই যথেষ্ট, দোকানের তাক আর অন্য জুতাগুলো সরিয়ে দিন।
- দিনের আলোয় তুলুন। জানালার পাশে, তবে সরাসরি রোদে নয়। টিউবলাইটের নিচে সাদা জুতা হলদে দেখায়।
- পুরো জুতাটা ফ্রেমের ভিতরে রাখুন। ডগা বা গোড়ালি কেটে গেলে বাকিটা AI নিজের মতো বানিয়ে নেয়।
- দুই বা তিনটা কোণ থেকে তুলুন: একটা পাশ থেকে, একটা সামনে থেকে, একটা একটু উপর থেকে।
- গায়ের লেখাটা যেন পড়া যায়। ব্র্যান্ডের নাম বা সাইজের ট্যাগ ছবিতে পরিষ্কার থাকলে ভিডিওতেও পরিষ্কার আসে।
তিনটার বেশি ছবি লাগে না, নেওয়াও হয় না। "পণ্যের ছবি (১ থেকে ৩টা)" লেখা ঘরটায় ছবিগুলো দিন।
উপস্থাপক বাছাই আর সম্মতির টিক
ঠিক নিচেই লেখা "উপস্থাপক: আপনার সেলফি, বা নিচের একজন"। দুইটা পথ আছে।
!উপস্থাপক বাছাইয়ের সারি: নিজের ছবি দেওয়ার ঘর আর ছয়জন উপস্থাপক
পথ এক, নিজের সেলফি। এটাই সবচেয়ে ভালো কাজ করে, কারণ ক্রেতা দোকানদারকে চিনে ফেলে আর চেনা মুখ বিশ্বাস করে।
- মুখটা ফ্রেমের মাঝখানে, ভালো আলোয়, চশমার কাচে ঝিলিক নেই, এমন একটা সোজা সেলফি দিন।
- নিচে আসা টিক বাক্সটায় টিক দিন: "ছবির মানুষটা আমি নিজে, বা তার লিখিত অনুমতি আছে"।
- টিক না দিলে ভিডিও বানানোর বাটন কাজ করবে না, তাই ওটা বাদ দেওয়ার উপায় নেই।
পথ দুই, আমাদের ছয়জন উপস্থাপক। ছয়টা মুখ সারি ধরে দেখানো আছে, একটাতে চাপ দিলেই বাছাই হয়ে যায়।
- ওগুলো আমাদের নিজেদের আঁকা, কোনো আসল মানুষ নয়, তাই অনুমতির প্রশ্নই ওঠে না।
- নিজের মুখ দিতে সংকোচ থাকলে এটাই নিন।
- চাইলে দোকানের একটা ছবিও দিতে পারেন, তাহলে পটভূমিতে আপনার দোকানটাই থাকবে। এটা ঐচ্ছিক।
এক লাইনে পণ্যের কথা
সবার উপরের ঘরটার নাম "পণ্য বা বিষয় (এক লাইনে)"। এখানে রচনা লিখতে হয় না। একজন ক্রেতা জুতাটা নিয়ে যা যা জানতে চাইবে, সেটুকুই লিখুন:
সাদা স্নিকার, খুব হালকা, সারাদিন পরে থাকা যায়, সাইজ ৩৮ থেকে ৪৪
পাশের তিনটা ছোট ঘরে যা বসবে:
- ব্যবসার নাম, যেমন সোহেল সুজ।
- অফার বা দাম, যেমন ১,২৫০ টাকা।
- ফোন নম্বর। শেষ দুইটা ঐচ্ছিক।
দামের ঘরটা ভরলে দামটা স্ক্রিপ্টে ঢুকে যায় আর ভিডিওতে বলা হয়। তাই দাম বদলানোর সম্ভাবনা থাকলে ঘরটা খালি রাখুন, নইলে দাম বাড়ার দিন পুরো ভিডিওটা অচল হয়ে যাবে।
!এক নম্বর ধাপ ভরা অবস্থায়: পণ্যের কথা, ব্যবসার নাম, দাম, পণ্যের ছবি আর উপস্থাপকের সারি
নিচে "বিজ্ঞাপনের ধরন" লেখা আটটা চিপ: বন্ধুকে বলা, সমস্যা-সমাধান, ৩টা কারণ, প্যাকেট খোলা, আগে-পরে, আপত্তির জবাব, উৎসবের অফার, ছোট গল্প। প্রতিটা একেকটা ছক, AI সেই ছক ধরে দৃশ্য সাজায়: "সমস্যা-সমাধান" বাছলে প্রথমে ক্রেতার সমস্যা, তারপর পণ্য হাতে সমাধান, শেষে এক লাইনের প্রমাণ; "৩টা কারণ" বাছলে তিন দৃশ্যে তিন কোণ থেকে পণ্য। চিপে চাপ দিলে নিচে এক লাইনে লেখা থাকে কোন পণ্যে কোনটা ভালো চলে।
- প্রথমবার "বন্ধুকে বলা" বা "সমস্যা-সমাধান" রাখুন, এই দুটোই সবচেয়ে বেশি চলে।
- সেকেন্ড বেছে নিন ১৫।
- স্তরে "সাশ্রয়ী" রাখুন, তারপর "স্ক্রিপ্ট লিখুন" চাপুন।
দ্বিতীয়বার থেকে ব্যবসার নাম, দাম, ফোন, উপস্থাপক আর কণ্ঠ আগেরবারের মতো ভরা থাকবে; স্টুডিও মনে রাখে।
স্ক্রিপ্ট এল, এবার ঘষামাজা
কয়েক সেকেন্ডে দ্বিতীয় বাক্সটা খুলবে। উপরে "হুক", তার নিচে দৃশ্য ধরে ধরে "যা বলা হবে", "পর্দায় লেখা" আর "দৃশ্য (ইংরেজিতে)"। প্রতিটা ঘরে আপনি নিজে লিখে বদলাতে পারেন, আর এই পুরো ধাপটা ফ্রি।
কাজে লাগার মতো একটা স্ক্রিপ্ট দেখতে এরকম:
হুক: সারাদিন দাঁড়িয়ে কাজ, সন্ধ্যায় পা ব্যথা? যা বলা হবে: এই সাদা স্নিকারটা এত হালকা যে পায়ে আছে বলে মনেই হয় না। যা বলা হবে: সোহেল সুজে এসেছে, সাইজ ৩৮ থেকে ৪৪। যা বলা হবে: ইনবক্স করুন, আজই পাঠিয়ে দিব।
!AI-এর লেখা আসল স্ক্রিপ্ট: হুক, তারপর দৃশ্য ধরে ধরে যা বলা হবে আর পর্দায় লেখা
চারটা জিনিস মিলিয়ে নিন:
- প্রথম লাইনটা তিন সেকেন্ডে বুড়ো আঙুল থামাতে পারছে তো? "আমাদের দোকানে ভালো জুতা আছে" কারও থাম্ব থামায় না, "সন্ধ্যায় পা ব্যথা করে?" থামায়।
- প্রতিটা বলার লাইন ছোট রাখুন, এক শ্বাসে বলা যায় এমন। লম্বা লাইন হলে উপস্থাপক তাড়াহুড়ো করে বলে।
- দাম সত্যিই ভিডিওর ভিতরে চান কিনা ঠিক করুন। না চাইলে দামের লাইনটা মুছে দিয়ে লিখুন "ইনবক্সে দাম জেনে নিন"।
- শেষ লাইনে একটা কাজের কথা রাখুন: ইনবক্স করুন, ফোন করুন, দোকানে আসুন।
- যতবার খুশি "আবার লিখুন" চাপুন, একটা Token-ও কাটবে না।
- "দৃশ্য (ইংরেজিতে)" ঘরটা ইংরেজিতেই থাকতে দিন। ওই লেখাটা ভিডিও মডেলের জন্য, আর সে বাংলা পড়তে পারে না।
প্রথম তিন সেকেন্ড: হুক বেছে নিন
স্ক্রিপ্টের একদম উপরে একটা বাক্সে লেখা "প্রথম ৩ সেকেন্ডে কী বলবে: একটা বেছে নিন", নিচে তিন থেকে পাঁচটা লাইন, প্রতিটার আগে ছোট একটা ট্যাগ: প্রশ্ন, থমকে দেওয়া, খোলা হচ্ছে, আগে-পরে, দাম, প্রমাণ। Facebook-এ একটা রিলের ভাগ্য এই তিন সেকেন্ডেই ঠিক হয়, তাই AI একটা হুকের বদলে কয়েক ধরনের হুক লিখে দেয় আর আপনি বাছেন।
- "প্রশ্ন" মানে ক্রেতা নিজেকে যে প্রশ্নটা করে, যেমন "সারাদিন দাঁড়িয়ে কাজ, সন্ধ্যায় পা ব্যথা?"
- "দাম" শুধু তখনই আসে যখন আপনি দামের ঘরটা ভরেছেন; "প্রমাণ" শুধু আপনি কোনো সংখ্যা দিলে (যেমন গত সপ্তাহে ৪০ জন নিয়েছেন)। AI নিজে থেকে সংখ্যা বানায় না।
- একটায় চাপ দিলে প্রথম দৃশ্যের "যা বলা হবে" আর "পর্দায় লেখা" সেভাবে বদলে যায়, বাকি দৃশ্য যেমন ছিল তেমনই।
কোনটা কাজ করবে আগে থেকে কেউ জানে না, আমরাও না। তাই ভিডিও শেষ হওয়ার পর একই বিজ্ঞাপন অন্য হুক দিয়ে কম দামে আবার বানানো যায়; সেটা নিচে।
কণ্ঠ: নিজের, নাকি AI-এর
স্তরের সারিতেই দুইটা বাটন থাকে, "AI কণ্ঠ" আর "নিজের কণ্ঠ"।
- AI কণ্ঠ নিলে পাশের তালিকা থেকে একটা কণ্ঠ বেছে নিন, আর কিছু করতে হবে না।
- নিজের কণ্ঠ নিলে স্ক্রিপ্টের নিচে একটা রেকর্ডার আসে, আর উপস্থাপকের ঠোঁট আপনার কণ্ঠের সাথেই নড়বে।
নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করার ধাপগুলো:
- "রেকর্ড শুরু" চেপে স্ক্রিপ্টের কথাগুলো নিজের মতো করে বলুন, ৩ থেকে ৩০ সেকেন্ড।
- ফোনটা মুখ থেকে এক বিঘত দূরে রাখুন আর ফ্যান বন্ধ করুন।
- একবার শুনে নিন। পছন্দ না হলে "আবার রেকর্ড"।
- মাইক্রোফোন না পেলে ব্রাউজার অনুমতি চাইবে, দিয়ে দিন।
!নিজের কণ্ঠ বাছলে স্ক্রিপ্টের নিচে যে রেকর্ডারটা আসে
দুইটা কারণে নিজের কণ্ঠ প্রায়ই ভালো:
- নিজের গলা আর আঞ্চলিক টান শুনতে অনেক বেশি আসল লাগে।
- AI কণ্ঠের Token কাটে না বলে বিজ্ঞাপনটা সস্তায় হয়ে যায়।
হাতে বসানো ছবিটা আপনি দেখে নিবেন
"ভিডিও বানান" চাপার পর সাথে সাথে ভিডিও শুরু হয় না। আগে একটা স্থির ছবি তৈরি হয়, যেখানে উপস্থাপক আপনার স্নিকারটা হাতে ধরে আছে। আধা মিনিট লাগে।
| ছবিতে যা দেখবেন | না মিললে |
| জুতাটা সত্যিই আপনার জুতা তো | আবার বানাও, বা পরিষ্কার ছবি দিয়ে নতুন করে শুরু করুন |
| ব্র্যান্ডের লেখা আর লোগো ঠিক আছে তো | আবার বানাও, ট্যাগ পড়া যায় এমন ছবি দিন |
| হাত দুইটা স্বাভাবিক তো, আঙুল গুনে দেখুন | আবার বানাও |
| জুতার রং আসল রঙের মতো তো | আবার বানাও, দিনের আলোয় তোলা ছবি দিন |
| উপস্থাপক যাকে বেছেছিলেন সেই মুখটাই তো | আবার বানাও |
সব মিলে গেলে "ঠিক আছে, এটাই" চাপুন।
এই ছবিটা আপনি না দেখা পর্যন্ত ভিডিও এগোয় না, আর এটাই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে দরকারি ধাপ: এখানে "আবার বানাও" চাপা ফ্রি, ভিডিও হয়ে যাওয়ার পর আর ফ্রি নয়।
অপেক্ষাটা, আর ভিডিওটা হাতে পাওয়ার পর
ভিডিওর নিচে তিনটা জিনিস থাকে, তিনটাই কাজের।
পোস্টের লেখা। একই স্ক্রিপ্ট লেখার সময় AI Facebook পোস্টের দুই-তিন লাইন, WhatsApp-এ ক্রেতাকে পাঠানোর এক লাইন আর পাঁচটা হ্যাশট্যাগ লিখে রাখে। "পোস্টের লেখা কপি" চাপলে সব একসাথে কপি হয়, পোস্টে বসিয়ে দিন।
একই বিজ্ঞাপন, অন্য হুক দিয়ে। বাকি হুকগুলো এখানে সারি ধরে থাকে, সাথে দামটা লেখা। ছবি আর মিউজিক আগেরটাই থাকে, শুধু কথা আর উপস্থাপকের ক্লিপ নতুন করে হয়, তাই পুরো বিজ্ঞাপনের চেয়ে অনেক কম Token লাগে। Facebook-এ একই বিজ্ঞাপন এক-দুই সপ্তাহ পরে ক্লান্ত হয়ে যায়; তখন নতুন হুকের রিলটা দিন। (নিজের রেকর্ড করা কণ্ঠের বিজ্ঞাপনে এটা হয় না, কারণ রেকর্ডিং একটা কথাই বলে।)
"এই রিলটা কি ইনবক্স বা অর্ডার এনেছে?" দুই-তিন দিন পর হ্যাঁ বা না চেপে দিন। যে ধরনের হুক আপনার ক্রেতার কাছে কাজ করেছে, পরের স্ক্রিপ্টে AI সেগুলো আগে রাখে। এটাই আপনার নিজের বিজ্ঞাপনের হিসাব, অন্য কারও ডেটা নয়।
এবার সত্যিকারের ভিডিও বানানো শুরু। পর্দায় একটা অগ্রগতির দাগ এগোতে থাকে আর নিচের লেখাটা বদলায়: "পণ্যটা হাতে দেওয়া হচ্ছে", "কণ্ঠ বসছে", "উপস্থাপক কথা বলছে, ২ থেকে ৪ মিনিট", "সব জোড়া লাগছে"।
- মোট সময় ২ থেকে ৪ মিনিট।
- ট্যাব বন্ধ করে দিলেও কাজটা চলতে থাকে, ফিরে এসে দেখবেন হয়ে গেছে।
- মাঝপথে কিছু ভেঙে গেলে লাল লেখায় জানানো হয় আর কাটা Token পুরোটা ব্যালেন্সে ফিরে আসে, চাইতে হয় না।
হয়ে গেলে ভিডিওটা পর্দাতেই চলবে, নিচে দুইটা বাটন: "নামান" আর "শেয়ার"। নামিয়ে নিন। এরপর একটা ভিডিও দিয়ে তিনটা কাজ করুন:
- ফেসবুক পেজে রিল হিসেবে দিন। দাম আর যোগাযোগের কথা ক্যাপশনে লিখুন, ভিডিওর ভিতরে নয়।
- অল্প টাকায় বুস্ট করুন, নিজের এলাকার আশপাশে আর মানানসই বয়সে। রিল ফরম্যাটে খরচ কম পড়ে।
- নিজের সাইটে বসান। বিল্ডারকে বলুন ভিডিওটা প্রথম পাতায় বসাতে, আর WhatsApp স্ট্যাটাসেও দিয়ে রাখুন।
একটা কথা সৎভাবে বলে রাখি: ভিডিওর ভিতরে বাংলা লেখা বসে না। যে মডেল ভিডিও আঁকে সে বাংলা হরফ আঁকতে পারে না। বাংলা ক্যাপশন আমরা আনছি, ততদিন লেখাটা ফোনের এডিটিং অ্যাপে (যেমন CapCut) বসিয়ে নিন, দুই মিনিটের কাজ।
বাংলাদেশের ফিডে যে বিজ্ঞাপন সত্যি কাজ করে
- প্রথম তিন সেকেন্ডেই সমস্যাটার কথা বলুন। ফিডে মানুষ পণ্য খুঁজছে না, নিজের সমস্যার কথা শুনলে থামছে।
- এক ভিডিওতে এক পণ্য, এক কথা। পাঁচটা জুতা দেখালে কোনোটাই মনে থাকে না।
- শব্দ ছাড়াও যেন বোঝা যায়। অনেকে ফিড নীরব করে দেখেন, তাই জুতাটা যেন হাতে নাড়াচাড়া করা হয়, শুধু কথা নয়।
- আঞ্চলিক টান লুকাবেন না। নিজের কণ্ঠে বলা বিজ্ঞাপন বেশি বিশ্বাসযোগ্য, কারণ সেটা বিজ্ঞাপনের মতো শোনায় না।
- সপ্তাহে একটা নতুন। একই ভিডিও বারবার দেখলে মানুষ চোখ সরিয়ে নেয়, আর শুধু হুক বদলে দ্বিতীয় বিজ্ঞাপন বানানো সহজ।
- দাম ক্যাপশনে রাখুন, ভিডিওতে নয়। দাম বদলালে ক্যাপশন বদলানো ফ্রি, ভিডিও আবার বানানো ফ্রি নয়।
খরচ, আর কোন প্যাকে কয়টা বিজ্ঞাপন
স্ক্রিপ্ট ফ্রি, হাতে বসানো ছবিটাও ফ্রি। Token কাটে শুধু ভিডিওতে, আর কত কাটবে সেটা "ভিডিও বানান" বাটনের ঠিক উপরে একটা সংখ্যা হয়ে লেখা থাকে। ১৫ সেকেন্ডের একটা বিজ্ঞাপন সাশ্রয়ী স্তরে ৮৫,০০০ Token, ভালো স্তরে ১,৬৩,০০০।
!ভিডিও ধাপে দামটা লেখা থাকে, বানানোর আগেই
| প্যাক | Token | সাশ্রয়ী বিজ্ঞাপন |
| Publish ৳১৯৯ | ৩৯,৮০০ | বিজ্ঞাপনে হয় না, একটা রিল হয় |
| Starter ৳৪৯৯ | ১,০০,০০০ | ১টা |
| Builder ৳৯৯৯ | ৩,০০,০০০ | ৩টা |
আরও দুইটা কথা মনে রাখুন:
- ভিডিও বানাতে Token কেনা অ্যাকাউন্ট লাগে; দিনের ফ্রি ৪,০০,০০০ Token পর্যন্ত দিয়ে চ্যাট, বিল্ডার আর ছবি চলে, রিল স্টুডিওর ভিডিও চলে না।
- নিজের কণ্ঠে বললে AI কণ্ঠের খরচটা বাদ যায়, তাই দামটা আরও নামে, আর কতটা নামল সেটা ওই সংখ্যাটাতেই দেখতে পাবেন।
প্রথমবার সাশ্রয়ী স্তরেই বানান। ফল পছন্দ হলে দ্বিতীয়টা "ভালো" স্তরে বানিয়ে পাশাপাশি রেখে দেখুন, তখনই বুঝবেন আপনার পণ্যের জন্য বাড়তি খরচটা লাগে কিনা।
যা বানানো যাবে না
- অন্য কারও মুখ তার লিখিত অনুমতি ছাড়া। বন্ধুর ছবি, ক্রেতার ছবি, ইন্টারনেট থেকে নামানো ছবি, কোনোটাই নয়।
- পরিচিত কোনো মানুষের মুখ: নায়ক, খেলোয়াড়, নেতা বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।
- রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বা কোনো দলের প্রচার।
- ধর্মীয় বিদ্বেষ, বা কোনো গোষ্ঠীকে ছোট করে দেখানো।
- রোগ সারানোর দাবি ("এই তেলে বাত সেরে যায়") বা টাকা দ্বিগুণ করার দাবি।
নিজের সেলফি দিলে "ছবির মানুষটা আমি নিজে" টিকটা দিতেই হয়। এটা শর্তাবলিরও অংশ, আর অভিযোগ এলে আমরা ভিডিওটা সরিয়ে দিই।