একই কথা বারবার না লিখে AI-কে নিয়ম শিখিয়ে রাখা

যে ক্লান্তিটা সবাই টের পান

প্রতিবার নতুন চ্যাট খুলে একই কথা লিখতে হয়: আমি মিরপুরে শাড়ির দোকান চালাই, ক্রেতারা মধ্যবিত্ত, বাংলায় লিখবে, দাম টাকায়।

চার লাইন। দিনে দশবার। এক সপ্তাহ পর মানুষ ক্লান্ত হয়ে ছোট করে দেন, আর তখন উত্তরের মানও নেমে যায়।

ফোল্ডার এই সমস্যার জন্যই।

ফোল্ডার আসলে কী

একটা ফোল্ডার হলো কয়েকটা চ্যাটের ঘর, আর ওই ঘরের একটা নিজের স্মৃতি আছে।

ফোল্ডারে তিনটা জিনিস রাখা যায়, আর ফোল্ডারের ভেতরের প্রতিটা চ্যাটে সেগুলো সাথে যায়:

নিয়ম। কীভাবে উত্তর দিতে হবে। "বাংলায় লিখবে, ছোট বাক্যে, দাম টাকায়, ইংরেজি শব্দ কম।"

মেমোরি। কী মনে রাখতে হবে। "দোকানের নাম রহিম স্টোর, মিরপুর ১১, WhatsApp ০১৭...।"

রেফারেন্স ফাইল। কয়েকটা ফাইল, যেমন দামের তালিকা বা প্রোডাক্টের বিবরণ।

একবার বসিয়ে দিলে আর লিখতে হয় না।

কীভাবে ভাগ করবেন

একটা ফোল্ডারে সব ঢালার চেয়ে কাজ ধরে ভাগ করা ভালো।

ফোল্ডারনিয়মরেফারেন্স
দোকানের পোস্টব্র্যান্ডের ভাষা, ইমোজি কমদামের তালিকা
ক্রেতার জবাবভদ্র, ছোট, WhatsApp-এর মতোসাধারণ প্রশ্নের উত্তর
পড়াশোনাসহজ ভাষায় বোঝাবে, ধাপে ধাপেসিলেবাস

কারণ নিয়মগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে যায়। ব্যবসার লেখার নিয়ম আর পড়ার নোটের নিয়ম এক নয়, আর দুটো এক ফোল্ডারে থাকলে দুটোই দুর্বল হয়।

নিয়ম লেখার কৌশল

নিয়মগুলো যত নির্দিষ্ট, ফল তত ভালো।

দুর্বল: "ভালো করে লিখবে।"

ভালো: "বাংলায় লিখবে। বাক্য ছোট রাখবে। এক পোস্টে একটাই কথা। শেষে সব সময় WhatsApp-এ অর্ডার করতে বলবে। দাম লিখবে টাকায়, সংখ্যা বাংলায়।"

আর যা চান না সেটাও লিখুন। "ইমোজি দিবে না" বা "অতিরিক্ত প্রশংসার শব্দ লিখবে না", এই ধরনের নিষেধ প্রায়ই নির্দেশের চেয়ে বেশি কাজ করে।

রেফারেন্স ফাইল

এখানেই ফোল্ডার সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়।

দামের তালিকাটা একটা ফাইলে রাখুন। তারপর যখন বলবেন "এই শাড়িটার জন্য একটা পোস্ট লেখো", দামটা আর টাইপ করতে হবে না, ফাইলেই আছে।

কয়েকটা কথা জেনে রাখা দরকার:

শেষেরটা গুরুত্বপূর্ণ। আগে বড় ফাইলের বাকি অংশ চুপচাপ বাদ পড়ত আর আপনি জানতেন না; এখন কোন ফাইলটা কাটা পড়েছে সেটা বলে দেওয়া হয়।

লিংক আর ভিডিও থেকে

চ্যাটে একটা লিংক বা ইউটিউবের ভিডিওর ঠিকানা দিয়ে বললে সেটার লেখা নিয়ে বাংলায় নোট বা সারসংক্ষেপ বানানো যায়।

ছাত্রদের জন্য এটা সবচেয়ে কাজে দেয়: একটা লম্বা ইংরেজি লেখা বা ক্লাসের ভিডিও থেকে বাংলায় নোট, তারপর ওই নোট থেকে নিজের প্রশ্ন।

এখানেও একটা সীমা আছে, খুব লম্বা লেখার প্রথম অংশটুকু নেওয়া হয়।

অ্যাপের নিজের মেমোরি

ফোল্ডার চ্যাটের জন্য। বানানো অ্যাপের জন্য আলাদা ব্যবস্থা আছে।

প্রতিটা অ্যাপের নিজের মেমোরি আর রেফারেন্স ফাইল রাখা যায়, যাতে ওই অ্যাপে কাজ করার সময় বারবার প্রসঙ্গ বোঝাতে না হয়। দোকানের নাম, রং, ফোন নম্বর একবার বসিয়ে দিলে পরের প্রতিটা বদলে সেগুলো মনে থাকে।

প্রশ্নোত্তর

ফোল্ডারের নিয়ম কি সব চ্যাটে যায়? ওই ফোল্ডারের ভেতরের সব চ্যাটে যায়। ফোল্ডারের বাইরের চ্যাটে যায় না, তাই কাজ ধরে ফোল্ডার বানানোই সবচেয়ে কাজের।

কতগুলো ফোল্ডার বানানো যায়? ৩০টা পর্যন্ত। সাধারণ ব্যবহারে সেখানে পৌঁছানো কঠিন, আর অনেক ফোল্ডার বানানোর চেয়ে কম ফোল্ডারে ভালো নিয়ম লেখা বেশি কাজে দেয়।

রেফারেন্স ফাইলে কী রাখব? যেটা বারবার লাগে আর বদলায় কম: দামের তালিকা, প্রোডাক্টের বিবরণ, সাধারণ প্রশ্নের উত্তর, ব্র্যান্ডের ভাষার নিয়ম। যেটা রোজ বদলায় সেটা ফাইলে না রেখে চ্যাটেই বলুন।

Word ফাইল দেওয়া যায়? না। .pdf, .txt, .md, .csv আর .json চলে। Word ফাইল হলে সেটাকে PDF করে নিন, তাতে লেখাটা ঠিকভাবে পড়া যায়।

বড় ফাইল দিলে কী হয়? দুই রকম, আর দুইটাই জানানো হয়। একটা ফাইল ২০,০০০ অক্ষরের বেশি হলে প্রথম ২০,০০০ রাখা হয় আর বাকিটা বাদ যায়। কিন্তু ৫টা ফাইলের সীমা বা সব মিলিয়ে ৫০,০০০ অক্ষরের সীমা পেরিয়ে গেলে ফাইলটা একেবারেই রাখা হয় না।

ফোল্ডারের মেমোরিতে ব্যক্তিগত তথ্য রাখা কি নিরাপদ? যা না রাখলেই চলে সেটা রাখবেন না, এটাই সাধারণ নিয়ম। ব্যবসার নাম বা ঠিকানা রাখা স্বাভাবিক, কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর বা কারও ব্যক্তিগত তথ্য রাখার দরকার নেই। এ নিয়ে বিস্তারিত আছে AI-কে কী বলা উচিত নয় লেখায়

নিয়ম লিখলেই কি AI সব সময় মানবে? বেশিরভাগ সময় মানে, তবে নিয়ম যত পরিষ্কার আর যত কম, মানার হার তত বেশি। বিশটা নিয়মের চেয়ে পাঁচটা নির্দিষ্ট নিয়ম ভালো কাজ করে। কীভাবে গুছিয়ে বলবেন সেটা আছে ভালো prompt লেখার নিয়মে

পুরোনো চ্যাটের কথা কি মনে থাকে? এক চ্যাটের ভেতরের কথা ওই চ্যাটে মনে থাকে, আর লম্বা হলে পুরোনো অংশ সংক্ষেপ হয়ে যায়। চ্যাট থেকে চ্যাটে যেটা মনে রাখা দরকার, সেটাই ফোল্ডারের মেমোরিতে লিখে রাখার জিনিস।

সংক্ষেপে