ভালো Prompt লেখার নিয়ম, আগে ও পরের উদাহরণ সহ

নাসির উদ্দিন শামীমপ্রতিষ্ঠাতা, BanglaCodes.Com

১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · ১৭ মিনিটের পড়া · Prompt, গাইড

এক নজরে উত্তর

AI-কে কিভাবে প্রশ্ন করলে ভালো উত্তর পাওয়া যায়?

ভালো Prompt-এ পাঁচটা জিনিস থাকে, কাজটা ঠিক কী, প্রেক্ষাপট কী, পাঠক কে, উত্তরটা কী আকারে চান, আর কোন কোন শর্ত মানতে হবে। "একটা পোস্ট লিখে দাও" বলার বদলে "মিরপুরের মিষ্টির দোকানের জন্য ঈদের ছাড়ের ফেসবুক পোস্ট, ৩ লাইন, সহজ বাংলা, শেষে ফোন নম্বর" বললে ফল সম্পূর্ণ বদলে যাবে। সবচেয়ে বড় কৌশল হলো একটা উদাহরণ দেওয়া আর প্রথম উত্তরে না থেমে ঠিক করিয়ে নেওয়া।

Prompt জিনিসটা কী আর এত জরুরি কেন

Prompt মানে AI-কে দেওয়া আপনার নির্দেশ। চ্যাটের ঘরে আপনি যা লেখেন, সেটাই Prompt।

কেন এটা এত গুরুত্বপূর্ণ, সেটা একটা তুলনায় পরিষ্কার হবে। আপনি যদি নতুন একজন কর্মচারীকে বলেন "একটা পোস্ট লিখে দাও", সে কী লিখবে? কীসের পোস্ট, কার জন্য, কত বড়, কোন সুরে, কিছুই তো সে জানে না। ফল যা আসবে তা এলোমেলো হতে বাধ্য।

AI-এর বেলাতেও একই ব্যাপার, একটা বাড়তি সমস্যা সহ। মানুষ কর্মচারী অন্তত পাল্টা প্রশ্ন করে। AI সাধারণত প্রশ্ন না করে অনুমান করে ফেলে, আর ভুল অনুমানের ওপর দাঁড়িয়ে গুছিয়ে উত্তর দিয়ে দেয়।

তাই খারাপ উত্তরের প্রধান কারণ AI-এর দুর্বলতা নয়, অসম্পূর্ণ নির্দেশ। ভালো খবর হলো এটা ঠিক করা সহজ, আর বাংলাতেই করা যায়।

ভালো Prompt-এর পাঁচটা অংশ

মনে রাখার জন্য পাঁচটা প্রশ্ন। সব Prompt-এ পাঁচটাই লাগবে না, কিন্তু যত বেশি থাকবে ফল তত ভালো হবে।

১. কাজটা ঠিক কী। "লেখো" নয়, বরং "৫টা বিকল্প শিরোনাম লেখো" বা "এই লেখাটা ছোট করে ১০০ শব্দে আনো"। ক্রিয়াপদ আর সংখ্যা দিন।

২. প্রেক্ষাপট। আপনি কে, ব্যবসাটা কী, সমস্যাটা কোথায়। দুই লাইনের প্রেক্ষাপট উত্তরের মান সবচেয়ে বেশি বদলায়।

৩. পাঠক কে। কাস্টমার, শিক্ষার্থী, ব্যাংকের ম্যানেজার, নাকি বিদেশি ক্লায়েন্ট। পাঠক বদলালে ভাষা বদলাবে।

৪. আকার ও ধরন। কত শব্দ, কয়টা পয়েন্ট, টেবিল না অনুচ্ছেদ, সহজ বাংলা না আনুষ্ঠানিক ভাষা।

৫. শর্ত ও লিমিট। কী কী রাখা যাবে না, কোন তথ্য বদলানো যাবে না, দাম বা ফোন নম্বর হুবহু রাখতে হবে কি না।

একটা Prompt দাঁড় করানোর সাত ধাপ

প্রতিবার নতুন করে ভাবার দরকার নেই। এই ফরম্যাটটা মুখস্থ হয়ে গেলে ৬০ সেকেন্ডে একটা ভালো নির্দেশ দাঁড়িয়ে যাবে।

  1. প্রথমে ক্রিয়াপদ আর সংখ্যা লিখুন। "৩টা বিকল্প লেখো", "১৫টা প্রশ্ন বানাও", "১০০ শব্দে ছোট করো"। এই এক লাইনেই অর্ধেক অস্পষ্টতা কেটে যায়।
  2. দুই লাইনে নিজের পরিচয় দিন। ব্যবসা কী, কোথায়, ক্রেতা কারা। এই দুই লাইন একবার লিখে ফোনের নোটে রেখে দিন, প্রতিবার পেস্ট করবেন।
  3. পাঠক কে, লিখে দিন। "কাস্টমারদের জন্য" আর "ব্যাংকের ম্যানেজারের জন্য" এক লেখা হবে না।
  4. আকার আর ভাষা ঠিক করে দিন। কত লাইন, কোন ভাষা, কতটা আনুষ্ঠানিক।
  5. নিষেধগুলো আলাদা করে লিখুন। "বানানো কোনো তথ্য যোগ করবে না", "দাম হুবহু রাখবে", "ইংরেজি শব্দ কম"। নিষেধ না দিলে সে ফাঁক পূরণ করে ফেলে।
  6. পারলে একটা উদাহরণ Attach করে দিন। পুরনো একটা লেখা কপি করে "এই ধাঁচে" বলুন।
  7. উত্তর পেয়ে একটা কারেকশন দিন। প্রথম উত্তর নিয়ে উঠে যাবেন না, অন্তত একবার ঘষুন।

আগে আর পরে, বাস্তব উদাহরণ

তত্ত্ব বাদ। আটটা আসল উদাহরণ দেখুন।

১. দোকানের ফেসবুক পোস্ট

আগে: আমার দোকানের জন্য একটা পোস্ট লিখে দাও।
পরে: আমি মিরপুর ১১-তে একটা মিষ্টির দোকান চালাই, নাম "রসনা মিষ্টান্ন"। ঈদ উপলক্ষে সব মিষ্টিতে ১০% ছাড় দিচ্ছি, চলবে ৩ দিন। ফেসবুকের জন্য একটা পোস্ট লেখো। শর্ত: সর্বোচ্চ ৪ লাইন, সহজ কথ্য বাংলা, ইংরেজি শব্দ কম, শেষ লাইনে ফোন নম্বর ০১XXXXXXXXX থাকবে। ৩টা আলাদা ভঙ্গির বিকল্প দাও।

প্রথমটায় AI অনুমান করবে দোকানটা কীসের। দ্বিতীয়টায় অনুমানের কিছু বাকি নেই, আর আপনি তিনটা বিকল্প থেকে বেছে নিতে পারবেন।

২. শিক্ষকের প্রশ্নপত্র

আগে: এই অধ্যায় থেকে কিছু প্রশ্ন বানাও।
পরে: নিচে নবম শ্রেণির ভূগোল বইয়ের "জলবায়ু" অধ্যায়ের লেখা দিলাম। এখান থেকে ১৫টা বহুনির্বাচনি প্রশ্ন বানাও। প্রতিটায় ৪টা অপশন থাকবে, ৩টা সহজ ৩টা কঠিন আর বাকিগুলো মাঝারি হবে। উত্তরগুলো প্রশ্নের সাথে না দিয়ে একেবারে শেষে আলাদা লিস্টে দাও। বইয়ের বাইরের কোনো তথ্য ব্যবহার করবে না।

শেষ শর্তটা সবচেয়ে জরুরি। ওটা না দিলে AI বাইরের তথ্য ঢুকিয়ে দিবে, আর ছাত্ররা এমন প্রশ্ন পাবে যার উত্তর বইয়ে নেই।

৩. চাকরির আবেদনের ইমেইল

আগে: চাকরির জন্য একটা ইমেইল লিখে দাও।
পরে: আমি একটা বেসরকারি ব্যাংকের "Officer, Customer Service" পদে আবেদন করছি। আমার অভিজ্ঞতা ২ বছর, একটা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের কল সেন্টারে। HR-কে পাঠানোর জন্য একটা ইমেইল লেখো, ইংরেজিতে, সর্বোচ্চ ১৫০ শব্দ। সুর আত্মবিশ্বাসী কিন্তু বিনয়ী হবে। বানানো কোনো অর্জন বা সার্টিফিকেট যোগ করবে না, আমি যা বলেছি শুধু তাই ব্যবহার করবে।

শেষ শর্তটা মনে রাখবেন। এটা না বললে AI চমৎকার শোনায় এমন অর্জন নিজে থেকে বানিয়ে বসাতে পারে, আর ইন্টারভিউতে সেটা ধরা পড়বে।

৪. পড়া বুঝতে চাওয়া

আগে: ফটোসিনথেসিস বুঝিয়ে দাও।
পরে: আমি ক্লাস এইটের ছাত্র, বিজ্ঞানে দুর্বল। ফটোসিনথেসিস ব্যাপারটা এমনভাবে বোঝাও যেন একদম নতুন কেউ বুঝতে পারে। বাংলায় লেখো, দৈনন্দিন জীবনের একটা উদাহরণ দিয়ে শুরু করো। প্রথমে ৫ লাইনে মূল কথা, তারপর ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা। শেষে আমাকে ৩টা প্রশ্ন করো যাতে বুঝি সত্যিই বুঝেছি কি না।

শেষ বাক্যটা এই Prompt-এর আসল জাদু। AI আপনাকে প্রশ্ন করলে পড়াটা মুখস্থ না হয়ে ভেরিফাই হয়ে যায়।

৫. ওয়েবসাইট বানানো

আগে: আমার দোকানের একটা ওয়েবসাইট বানাও।
পরে: একটা ওয়েবসাইট বানাও। ব্যবসা: চট্টগ্রামের একটা হোমমেড আচারের দোকান, নাম "নানুর আচার"। পেজ লাগবে ৩টা, হোম, প্রোডাক্ট আর যোগাযোগ। হোম পেজে উপরে দোকানের নাম আর এক লাইনের পরিচয়, নিচে ৩টা জনপ্রিয় প্রোডাক্টের ছবি ও দাম। প্রোডাক্ট পেজে ৮টা আচার, প্রতিটার নাম, দাম আর ওজন। যোগাযোগ পেজে ফোন, WhatsApp আর ঠিকানা। রং হবে সবুজ ও অফহোয়াইট, লেখা বাংলায়, ফোনে দেখতে সুন্দর হতে হবে।

লক্ষ করুন, এখানে কোনো কারিগরি শব্দ নেই। শুধু গুছিয়ে বলা হয়েছে কী চাই। BanglaCodes-এর মতো টুলে এই ধরনের বাংলা নির্দেশ দিয়েই সাইট বানানো ও প্রকাশ করা যায়। ফ্রিতে প্রকাশ করা সাইট পুরোপুরি চলে, ফোনে ইনস্টলও হয়; শুধু যোগাযোগ ফর্মের মেসেজ সত্যিই আপনার কাছে পৌঁছাতে হলে লাইফটাইম হোস্টিং লাগে, এটা শুরুতেই জেনে রাখলে ভালো।

৬. ক্রেতাকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ

আগে: নতুন শাড়ি এসেছে, কাস্টমারদের একটা মেসেজ দাও।
পরে: আমি ময়মনসিংহ শহরে একটা শাড়ির দোকান চালাই, নাম "নীলাঞ্জনা শাড়ি ঘর"। টাঙ্গাইল তাঁতের নতুন চালান এসেছে, দাম ১৮০০ থেকে ৪৫০০ টাকা। পুরনো ক্রেতাদের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর জন্য একটা মেসেজ লেখো। শর্ত: সর্বোচ্চ ৩ লাইন, সম্বোধন "আপা", দামের রেঞ্জ হুবহু রাখবে, কোনো ইমোজি দিবে না, ডেলিভারির কথা লিখবে না কারণ আমি ডেলিভারি দিই না। শেষে "দোকানে চলে আসুন" থাকবে।

এখানে সবচেয়ে দামি লাইনটা হলো "ডেলিভারির কথা লিখবে না"। না বললে সে নিজে থেকেই "সারা দেশে ডেলিভারি" ধরনের কথা বসিয়ে দিতে পারে, আর ইনবক্সে ভুল প্রত্যাশা নিয়ে মানুষ আসবে।

৭. বিক্রির হিসাব থেকে সারাংশ

আগে: এই বিক্রির হিসাবটা দেখে কিছু বলো।
পরে: নিচে আমার দোকানের গত ৩ মাসের মাসভিত্তিক বিক্রির সংখ্যা দিলাম। এই সংখ্যাগুলো দেখে ৫টা বুলেটে সারাংশ লেখো। প্রতিটা বুলেটে শুধু সেটাই লিখবে যা এই সংখ্যাগুলো থেকে সরাসরি বোঝা যায়, বাইরের কোনো অনুমান বা বাজার নিয়ে সাধারণ কথা লিখবে না। কোনো নতুন সংখ্যা তৈরি করবে না। শেষে আলাদা করে লেখো, আরও কী তথ্য পেলে তোমার পড়াটা ভালো হতো।

লক্ষ করুন, যোগ বা ভাগের কাজটা তাকে দেওয়া হয়নি। সংখ্যার হিসাব ক্যালকুলেটর বা স্প্রেডশিটে করে ফেলুন, আর AI-কে দিন ব্যাখ্যা করার কাজটা। এই ভাগাভাগিতে ভুল অনেক কমে।

৮. দর বাড়ানোর কঠিন মেসেজ

আগে: ক্লায়েন্টকে বলো যে আমি দাম বাড়াব।
পরে: আমি একজন ফ্রিল্যান্স ডিজাইনার, চট্টগ্রামে থাকি। একজন পুরনো বিদেশি ক্লায়েন্টের সাথে দেড় বছর ধরে কাজ করছি, দর একই আছে। আগামী মাস থেকে দর ২০ শতাংশ বাড়াতে চাই। ইংরেজিতে একটা ইমেইল লেখো, সর্বোচ্চ ১৩০ শব্দ। সুর হবে কৃতজ্ঞ কিন্তু দৃঢ়। ক্ষমা চাওয়ার কোনো লাইন থাকবে না। কারণ হিসেবে শুধু "কাজের পরিধি বেড়েছে" বলবে, ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক কারণ লিখবে না। আমি যা বলিনি এমন কোনো তারিখ বা চুক্তির ধারা যোগ করবে না।

কঠিন মেসেজে সুরটাই আসল, আর সুর ঠিক করতে হলে দুটো জিনিস স্পষ্ট বলতে হয়, কোন ভাব চাই আর কোন ভাব চাই না। শুধু "পেশাদার লেখো" বললে বেশিরভাগ সময় এক্সট্রা বিনয়ী একটা লেখা আসে।

একটা Prompt কীভাবে তিন চেষ্টায় দাঁড়ায়

উপরের জোড়াগুলোতে "আগে" আর "পরে" পাশাপাশি দেখানো হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে মাঝখানে কয়েকটা চেষ্টা থাকে। ধরুন ঢাকার একজন কলেজছাত্র পরীক্ষার আগে অর্থনীতির একটা অধ্যায় বুঝতে চাইছে।

প্রথম চেষ্টা। সে লিখল "মুদ্রাস্ফীতি বুঝিয়ে দাও"। যা এলো তা সঠিক, কিন্তু তার কোনো কাজে আসেনি। ভাষা কঠিন, উদাহরণ বিদেশি, আর লেখাটা এত লম্বা যে পড়তে গিয়ে মনোযোগ হারিয়ে গেল। সময় গেল আট মিনিট, লাভ শূন্য।

দ্বিতীয় চেষ্টা। সে যোগ করল "সহজ বাংলায় লেখো, ছোট করে"। এবার ভাষা সহজ হলো, কিন্তু নতুন সমস্যা এলো। এত ছোট হয়ে গেল যে পরীক্ষার উত্তরে লেখার মতো কিছু রইল না, আর উদাহরণটা এখনো বিদেশি।

তৃতীয় চেষ্টা। এবার সে পুরো কাঠামোটা দিল,

আমি ঢাকার একজন কলেজছাত্র, এইচএসসি পরীক্ষার্থী, অর্থনীতিতে দুর্বল। মুদ্রাস্ফীতি বিষয়টা বোঝাও। প্রথমে ৫ লাইনে মূল কথা, তারপর ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা, সব মিলিয়ে ৩০০ শব্দের মধ্যে। উদাহরণ দিবে বাংলাদেশের দৈনন্দিন জীবন থেকে, যেমন বাজারের চাল বা ডিমের দাম। সহজ কথ্য বাংলা, ইংরেজি শব্দ কম। শেষে আমাকে ৪টা প্রশ্ন করো যাতে বুঝি সত্যিই বুঝেছি কি না। বইয়ের বাইরের কোনো তথ্য মুখস্থ করার মতো করে দিবে না।

এবার যা এলো সেটা কাজের। পুরো প্রসেসটায় লাগল ১২ মিনিট, যার বেশিরভাগ গেছে প্রথম দুই ফেইল চেষ্টায়। কিন্তু তৃতীয় নির্দেশটা সে নোটে সেভ করে রেখেছে, তাই পরের অধ্যায়ে শুধু বিষয়ের নামটা বদলে দিলেই হবে, তাতে লাগবে ৩০ সেকেন্ড।

একটা জায়গায় তবু সতর্ক থাকতে হয়েছে। শেষ প্রশ্নগুলোর একটার উত্তর সে নিজেই ভুল দিয়েছিল, একটা সংখ্যা গুলিয়ে ফেলেছিল। ব্যাখ্যায় সে নির্ভরযোগ্য, কিন্তু নির্দিষ্ট সংখ্যায় নয়, আর এই পার্থক্যটা মনে রাখাই আসল কাজ।

হুবহু কপি করার মতো একটা কাঠামো

জটিল কাজের সময় এই ছাঁচটা কপি করে ফাঁকা জায়গাগুলো ভরে নিলেই হবে।

প্রেক্ষাপট: আমি [কে], [কোথায়], আমার কাজ [কী]। কাজ: [ক্রিয়াপদ] [সংখ্যা] [জিনিস]। পাঠক: [কার জন্য], তারা [কী জানে বা জানে না]। আকার: [কত শব্দ বা লাইন], [ভাষা], [সুর]। শর্ত: [কী রাখতে হবে হুবহু], [কী লিখবে না], [বানানো তথ্য যোগ করবে না]। উদাহরণ: নিচের লেখাটার ধাঁচে লেখো, [পুরনো লেখা পেস্ট]।

সব ঘর ভরতেই হবে এমন নয়। কিন্তু যেটা ভরবেন না, ওই জায়গাটাতেই সে অনুমান করবে, আর ওখানেই ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

পাশাপাশি রেখে দেখুন

দুর্বল Promptকেন খারাপভালো Prompt
ভালো একটা নাম দাওকীসের নাম, কার জন্য, কিছুই নেইসিলেটের একটা অনলাইন চা বিক্রির পেজের জন্য ২০টা নাম দাও, বাংলা শব্দে, প্রতিটা ২ শব্দের মধ্যে
লেখাটা ঠিক করে দাওঠিক মানে কী, বানান না গঠনএই লেখার বানান ও যতিচিহ্ন ঠিক করো, বাক্যের গঠন বদলাবে না, কী কী বদলালে তার লিস্ট নিচে দাও
মার্কেটিং প্ল্যান বানাওএত বড় প্রশ্নে গৎবাঁধা উত্তর আসবেমাসে ৩০ হাজার টাকা বাজেটে, ঢাকায়, ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের জন্য একটা হোম ডেলিভারি সার্ভিসের ৪ সপ্তাহের প্ল্যান বানাও, সপ্তাহ ধরে ভাগ করে
কোড লিখে দাওভাষা, উদ্দেশ্য, ইনপুট কিছুই বলা নেইPython-এ একটা ফাংশন লেখো যেটা একটা CSV ফাইল পড়ে মাসভিত্তিক মোট বিক্রি বের করবে, ফাইলের কলাম হলো তারিখ ও টাকা, কোডে বাংলা কমেন্ট দাও
সারাংশ করোকত বড়, কার জন্য, বলা নেইএই ৩ পেজের নোটিশটা ৫টা বুলেটে সারাংশ করো, যাতে একজন দোকানদার এক নজরে বোঝেন তাকে কী করতে হবে
একটা সিভি বানিয়ে দাওকোন পদ, কী অভিজ্ঞতা, কিছুই নেইনিচে আমার অভিজ্ঞতার লিস্ট দিলাম, এগুলো দিয়ে একটা এক পেজের সিভি সাজাও, পদ হলো জুনিয়র মার্চেন্ডাইজার, নতুন কোনো অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা যোগ করবে না
অনুবাদ করে দাওকোন ভাষা, কোন সুর, কার জন্যএই বাংলা লেখাটা ইংরেজিতে অনুবাদ করো, পাঠক একজন বিদেশি ক্রেতা, সুর পেশাদার, প্রোডাক্টের নাম ও দাম হুবহু বাংলা হরফে যেমন আছে সেভাবেই রাখো

উদাহরণ দিলে ফল লাফ দিয়ে বাড়ে

সবচেয়ে ইফেক্টিভ কৌশলটা সবচেয়ে কম ব্যবহার হয়। AI-কে বলার চেয়ে দেখিয়ে দেওয়া অনেক বেশি কাজ করে।

আপনার পুরনো একটা পোস্ট, যেটা ভালো চলেছিল, সেটা কপি করে দিয়ে লিখুন, "এই ধাঁচে আর একই দৈর্ঘ্যে নতুন প্রোডাক্টের জন্য একটা লেখো"। এক লাইনের এই নির্দেশে আপনি সুর, দৈর্ঘ্য, শব্দচয়ন আর গঠন একসাথে বুঝিয়ে দিলেন, যা ব্যাখ্যা করে বোঝাতে গেলে দশ লাইন লাগত।

দুই তিনটা উদাহরণ দিলে ফল আরও ভালো হয়। এটা বিশেষভাবে কাজে দেয় যখন আউটপুটের একটা নির্দিষ্ট ছাঁচ দরকার, যেমন প্রতিটা প্রোডাক্টের জন্য একই ফরম্যাটে বর্ণনা।

উল্টো উদাহরণও কাজে দেয়, আর এটা প্রায় কেউ ব্যবহার করেন না। একটা খারাপ নমুনা দিয়ে লিখুন, "এই ধরনের লেখা আমি চাই না, কারণ এটা খুব বিজ্ঞাপনের মতো শোনায়"। কী চাই তার চেয়ে কী চাই না, সেটা বলা অনেক সময় সহজ, আর ফলও ভালো হয়।

AI-কে দিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করান

কাজটা জটিল হলে সরাসরি ফল না চেয়ে এই লাইনটা যোগ করুন।

শুরু করার আগে আমাকে ৫টা প্রশ্ন করো, যেগুলোর উত্তর পেলে তোমার কাজটা ভালো হবে।

এতে দুটো লাভ। এক, AI যেসব জায়গায় অনুমান করত সেগুলো সামনে চলে আসে। দুই, আপনি নিজেই বুঝতে পারেন নিজের চাহিদাটা কোথায় অস্পষ্ট। বড় কাজে এই একটা লাইন সবচেয়ে বেশি সময় বাঁচায়।

এর একটা ভাই আছে, যেটা কাজ শেষ হওয়ার পর দিতে হয়।

এই কাজটা করতে গিয়ে তুমি কোথায় কোথায় অনুমান করেছ, আলাদা লিস্ট করে লেখো।

লিস্টটা পড়লেই বুঝে যাবেন কোন লাইনগুলো ভেরিফাই করা দরকার, আর কোনগুলো নিরাপদ।

এক Prompt-এ শেষ নয়

নতুনরা প্রথম উত্তর দেখে হয় খুশি হয়ে নিয়ে নেন, নয়তো হতাশ হয়ে ছেড়ে দেন। অভিজ্ঞরা তৃতীয় বা চতুর্থ উত্তর নেন।

সমস্যা অনুযায়ী কোন সংশোধনী বাক্যটা কাজে দিবে, নিচের ফরম্যাটটা সেটাই বলছে।

উত্তরের সমস্যাযে বাক্যটা লিখবেন
খুব লম্বা হয়ে গেছে"অর্ধেক দৈর্ঘ্যে আনো, কোনো তথ্য বাদ দিও না"
খুব বিজ্ঞাপনের মতো শোনাচ্ছে"এটা বিজ্ঞাপনের মতো শোনাচ্ছে, স্বাভাবিক কথ্য ভাষায় লেখো"
ইংরেজি শব্দ বেশি"ইংরেজি শব্দ কমাও, সহজ বাংলা ব্যবহার করো"
একটা পয়েন্ট ভালো, বাকিগুলো নয়"৩ নম্বর পয়েন্টটা রেখে বাকিগুলো বাদ দাও, ওটা নিয়ে বিস্তারিত লেখো"
সব বিকল্প প্রায় একই রকম"একই জিনিস আরও দুই রকমভাবে লেখো, ধরন সম্পূর্ণ আলাদা হবে"
কোথাও বানানো তথ্য মনে হচ্ছে"এখানে তুমি কোথায় অনুমান করেছ, সেটা আলাদা করে বলো"
সুরটা ধরতে পারছে নাপুরনো একটা লেখা পেস্ট করে "এই ধাঁচে লেখো"
গঠন ঠিক আছে, তথ্য কম"প্রতিটা পয়েন্টের নিচে একটা করে বাস্তব উদাহরণ যোগ করো"

একটা ছোট কৌশল যোগ করুন। কারেকশন দিতে গিয়ে আগের ভালো অংশটা যেন হারিয়ে না যায়, তাই লিখুন "শুধু এই একটা জিনিস বদলাও, বাকিটা যেমন আছে তেমন রাখো"। না বললে সে প্রায়ই পুরো লেখাটা নতুন করে লিখে ফেলে।

যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয়

ভুলকী হয়সমাধান
একসাথে অনেকগুলো কাজ দেওয়াকোনোটাই ভালোভাবে হয় নাএক Prompt-এ এক কাজ, তারপর পরেরটা
নিষেধ না লেখাসে ফাঁক পূরণ করে বানানো তথ্য বসায়"যা বলিনি তা যোগ করবে না" লিখে দিন
শব্দসংখ্যা না বলাদরকারের চেয়ে তিন গুণ লম্বা উত্তর"সর্বোচ্চ ১০০ শব্দ" ধরনের লিমিট দিন
ভুল ধরিয়ে দিয়ে চাপ দেওয়াসে ক্ষমা চেয়ে আরও ভুল উত্তরে যায়"তুমি কোথা থেকে পেলে" জিজ্ঞেস করুন
প্রতিবার শূন্য থেকে শুরুএকই প্রেক্ষাপট বারবার লিখতে হয়পরিচয়ের দুই লাইন নোটে রেখে পেস্ট করুন
এক চ্যাটে দশ রকম বিষয়পুরনো প্রসঙ্গ নতুন উত্তরে ঢোকেবিষয় বদলালে নতুন চ্যাট
হিসাবের কাজ Prompt দিয়ে করানোচুপচাপ ভুল অঙ্ক চলে আসেহিসাব স্প্রেডশিটে, ব্যাখ্যা AI-তে

যেসব কৌশল আসলে কাজ করে না

ফেসবুকে ঘুরতে থাকা অনেক টোটকা আসলে কিছুই বদলায় না। সৎভাবে বললে,

  • এক্সট্রা ভূমিকা। "তুমি বিশ্বসেরা ২০ বছরের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ" লিখলে সামান্য পার্থক্য হতে পারে, কিন্তু এটা কোনো জাদু নয়। এর চেয়ে "সহজ বাংলায়, দোকানদারদের জন্য" লেখা অনেক ইফেক্টিভ।
  • পুরস্কার বা হুমকি। "ঠিকমতো করলে ১০০ ডলার দিব" ধরনের কথা কাজে আসে না।
  • লম্বা মানেই ভালো, এই ধারণা। অদরকারি কথা বাড়ালে বরং মূল নির্দেশটা চাপা পড়ে যায়। দরকারি তথ্য দিন, শব্দ বাড়াবেন না।
  • ভদ্রতার জাদু। "দয়া করে" বললে উত্তর নাটকীয়ভাবে ভালো হবে না। ভদ্র থাকা ভালো অভ্যাস, কিন্তু সেটা কৌশল নয়।
  • গোপন শব্দের লিস্ট। কিছু নির্দিষ্ট শব্দ লিখলেই নাকি হিডেন ফিচার চালু হয়ে যায়, এমন দাবি ঘোরে। এসব সাধারণত ওই লিস্ট বিক্রির বিজ্ঞাপন।

আর সবচেয়ে বড় সীমারেখাটা মনে রাখুন। যে তথ্য AI জানে না, কোনো Prompt দিয়ে সেটা বের করা যাবে না। আপনার এলাকার আজকের মার্কেট প্রাইস যত সুন্দর করেই চান, উত্তরটা আন্দাজই থাকবে।

কখন Prompt নিয়ে সময় নষ্ট করবেন না

ভালো Prompt লেখা কাজের দক্ষতা, কিন্তু সব জায়গায় নয়। কিছু ক্ষেত্রে সৎ উত্তর হলো, নির্দেশ সাজাতে বসাটাই ভুল সিদ্ধান্ত।

যখন কাজটা নিজের হাতে দ্রুত হয়ে যায়। তিন লাইনের একটা মেসেজ লিখতে গিয়ে ছয় লাইনের নির্দেশ সাজানো নিছক সময় নষ্ট। যেখানে নির্দেশ লেখার সময় কাজের সময়ের চেয়ে বেশি, সেখানে নিজে লিখে ফেলুন।

যখন তথ্যটা AI-এর কাছে নেই। আজকের মার্কেট প্রাইস, আজকের সরকারি নিয়ম, আপনার এলাকার নির্দিষ্ট খবর। এখানে Prompt যত নিখুঁতই হোক, উত্তর আন্দাজই থাকবে। ভালো নির্দেশ অজ্ঞতাকে জ্ঞান বানাতে পারে না।

যখন নিখুঁত সংখ্যা লাগবে। বড় অঙ্কের যোগ, সুদের হিসাব, ভাগাভাগি। এই কাজটা স্প্রেডশিট নিখুঁতভাবে করবে, আর সেখানে কোনো Prompt কৌশল লাগবে না।

যখন ভুলের দায় আপনার নামে যাবে। আইনি জবাব, চিকিৎসার সিদ্ধান্ত, নিরীক্ষার মতামত। ড্রাফট নেওয়া যায়, কিন্তু একটা চমৎকার Prompt আপনাকে দায় থেকে বাঁচাবে না।

যখন লেখাটার আসল মূল্য আপনার নিজের কণ্ঠে। শোকবার্তা, ক্ষমা চাওয়া, প্রিয় কাউকে লেখা কথা। এখানে গোছানো ভাষার চেয়ে এলোমেলো সত্যি কথার দাম অনেক বেশি।

প্রশ্নোত্তর

বাংলায় Prompt লিখলে কি উত্তর খারাপ হয়? দৈনন্দিন কাজে না। তবে খুব কারিগরি বিষয়ে ইংরেজিতে নির্দেশ দিয়ে শেষে "উত্তর বাংলায় দাও" লিখলে সাধারণত ভালো ফল পাবেন।

Prompt কত বড় হওয়া উচিত? যতটুকু দরকার ততটুকু। সাধারণ কাজে দুই তিন লাইনই যথেষ্ট। জটিল কাজে দশ লাইনও ঠিক আছে, যদি প্রতিটা লাইন নতুন তথ্য যোগ করে।

একই Prompt বারবার দিলে একই উত্তর পাব? না, প্রতিবার একটু আলাদা আসবে। এটা কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজে দুবার চালিয়ে দুই উত্তর মিলিয়ে দেখুন, অমিল থাকলে বুঝবেন ওই অংশটা ভেরিফাই করা দরকার।

তৈরি Prompt-এর লিস্ট কিনে লাভ আছে? সাধারণত নেই। কারণ সবচেয়ে দামি অংশটা, মানে আপনার ব্যবসা ও পাঠকের প্রেক্ষাপট, ওই লিস্টে থাকে না। বরং যেসব Prompt আপনার কাজে ভালো ফল দিয়েছে সেগুলো নিজের ফোনে একটা নোটে জমিয়ে রাখুন, ওটাই সবচেয়ে দামি লিস্ট হবে।

AI ভুল করলে সেটা কি Prompt-এর দোষ? অনেক সময়ই তাই, বিশেষ করে অস্পষ্ট নির্দেশের বেলায়। কিন্তু সব সময় নয়। নির্দিষ্ট তথ্য, সংখ্যা বা তারিখের বেলায় নিখুঁত Prompt দিলেও ভুল হতে পারে, কারণ সেখানে সমস্যাটা নির্দেশের নয়, Model-এর স্বভাবের।

লম্বা নির্দেশ দিলে সে কি শুরুর দিকের শর্তগুলো ভুলে যায়? খুব লম্বা কথোপকথনে এমন হতে পারে, কারণ তার সামনে ধরে রাখা লেখার একটা লিমিট আছে। দুটো উপায়ে এটা সামলানো যায়। সবচেয়ে জরুরি শর্তগুলো একদম শেষে আবার লিখে দিন, আর চ্যাট বেশি লম্বা হয়ে গেলে "এতক্ষণের শর্তগুলো ৫ পয়েন্টে লেখো" বলে নতুন চ্যাটে সেগুলো নিয়ে যান।

Prompt-এ কি আমার আসল তথ্য দিতে হবে? দরকার নেই, আর অনেক ক্ষেত্রে দেওয়া উচিতও নয়। কাস্টমারের নাম, ফোন নম্বর, NID বা ব্যাংকের তথ্য বদলে দিন। "কাস্টমার ১" আর কাছাকাছি একটা অঙ্ক বসালেই কাজ ঠিকঠাক হবে, আর ঝুঁকিটা থাকবে না।

ছবি বা ফাইল দিয়ে Prompt দিলে কি নিয়ম আলাদা? নিয়ম একই, শুধু একটা কথা যোগ করবেন। ফাইল দিলে স্পষ্ট লিখে দিন "শুধু এই ফাইলের তথ্য ব্যবহার করবে, বাইরের কিছু নয়"। এই এক লাইনেই বানানো তথ্য ঢোকার সবচেয়ে বড় পথটা বন্ধ হয়ে যায়।

সংক্ষেপে

  • Prompt হলো AI-কে দেওয়া নির্দেশ, আর খারাপ উত্তরের সবচেয়ে বড় কারণ AI-এর দুর্বলতা নয়, অসম্পূর্ণ নির্দেশ।
  • ভালো Prompt-এ পাঁচটা জিনিস থাকে, কাজ, প্রেক্ষাপট, পাঠক, আকার আর শর্ত।
  • একটা উদাহরণ দিয়ে "এই ধাঁচে লেখো" বলা সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশল, কারণ তাতে সুর ও গঠন একসাথে বোঝানো হয়ে যায়।
  • নিষেধ লেখাটা নির্দেশের সবচেয়ে অবহেলিত অংশ, কারণ যা বলবেন না সেখানেই সে অনুমান করে বানানো তথ্য বসিয়ে দিবে।
  • প্রথম উত্তর চূড়ান্ত নয়, দুই তিনবার কারেকশন করিয়ে নিলে ফল অনেক ভালো হবে।
  • ভূমিকা, পুরস্কার বা লম্বা লেখার টোটকা কাজে আসে না, আর যে তথ্য Model জানে না তা কোনো Prompt দিয়েই বের করা যাবে না।