AI আসলে কী? একদম সহজ বাংলায় বুঝে নিন

নাসির উদ্দিন শামীমপ্রতিষ্ঠাতা, BanglaCodes.Com

১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · ১৯ মিনিটের পড়া · AI, বেসিক

এক নজরে উত্তর

AI আসলে কী এবং এটা কিভাবে কাজ করে?

AI বা Artificial Intelligence হলো এমন software, যেটা বিপুল পরিমাণ লেখা ও ছবি থেকে নিজে নিজে ধরন চিনতে শেখে, তারপর সেই শেখা কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু অনুমান করে। ChatGPT-এর মতো AI কোনো লিস্ট থেকে উত্তর খুঁজে আনে না। এটা হিসাব করে বের করে আপনার লেখার পরে সবচেয়ে মানানসই পরের শব্দটা কী, তারপর একটার পর একটা শব্দ বসিয়ে উত্তর বানায়। তাই উত্তর গুছিয়ে আসে, কিন্তু গোছানো মানেই সত্যি নয়।

AI মানে আসলে কী

শব্দটা এখন সবখানে। ফেসবুকের রিলে, খবরের কাগজে, অফিসের মিটিংয়ে, এমনকি চায়ের দোকানের আলোচনায়। কিন্তু বেশিরভাগ জায়গায় শব্দটা এমনভাবে বলা হয় যেন এটা কোনো জাদু বা সিনেমার রোবট। আসল ব্যাপারটা অনেক সাদামাটা।

AI, বাংলায় যেটা অনেকে লেখেন এআই, হলো software। মানে কম্পিউটারে চলা একটা প্রোগ্রাম, যেমন bKash অ্যাপ বা ফেসবুক একেকটা প্রোগ্রাম। পার্থক্য একটাই জায়গায়। সাধারণ software-এ মানুষ হাতে লিখে দেয়, "এই অবস্থা হলে এটা করো, ওই অবস্থা হলে ওটা করো"। AI-এর বেলায় মানুষ নিয়মগুলো লিখে দেয় না। বরং অসংখ্য উদাহরণ সামনে ধরে দেয়, আর প্রোগ্রামটা উদাহরণ দেখে দেখে নিয়মটা নিজেই আন্দাজ করে নেয়।

একটা তুলনা ভাবুন। নতুন একজন দোকান কর্মচারীকে লিখিত নিয়ম ধরিয়ে দিলেন, "কেউ চাল চাইলে বাঁ পাশের বস্তা থেকে দিবে", সেটা সাধারণ software। আর তাকে ছয় মাস দোকানে বসিয়ে রাখলে সে নিজেই বুঝে ফেলে কোন খদ্দের কী চাইবে, সেটাই AI-এর ধরন। কেউ নিয়ম লিখে দেয়নি, সে ধরন চিনেছে।

তাই AI-কে বুদ্ধিমান প্রাণী ভাবার দরকার নেই। এটা ধরন চেনার যন্ত্র। কিন্তু ধরন চেনার ক্ষমতা এত বেড়ে গেছে যে ফল দেখে অবাক লাগে।

"AI" শব্দটা অবশ্য একটা ছাতার মতো, অনেক কিছু এর নিচে আসে। এই লেখায় আমরা মূলত সেই ধরনটা নিয়ে কথা বলছি যেটা লেখা বোঝে আর লেখা তৈরি করে, মানে ChatGPT বা Gemini-এর মতো জিনিস।

AI শেখে কীভাবে

শেখার কাজটা হয় Training নামের একটা ধাপে। ChatGPT বা Gemini-এর মতো AI বানাতে গিয়ে যা করা হয়, সেটা মোটামুটি তিন লাইনে বলা যায়।

প্রথমে ইন্টারনেট থেকে বিপুল পরিমাণ লেখা জোগাড় করা হয়। বই, ওয়েবসাইট, ফোরামের আলোচনা, কোড, খবরের আর্কাইভ। এত লেখা যে একজন মানুষ সারাজীবন পড়েও শেষ করতে পারবে না।

তারপর প্রোগ্রামটাকে একটাই খেলা খেলতে বলা হয়, লাখ লাখ বার। একটা বাক্যের শেষ শব্দটা ঢেকে রাখা হয়, আর প্রোগ্রামকে বলা হয় অনুমান করো পরের শব্দ কী। "ঢাকার রাস্তায় প্রচণ্ড..." এর পরে কী আসবে? সে অনুমান করে। ভুল হলে ভেতরের হিসাবগুলো সামান্য বদলে দেওয়া হয়, যাতে পরেরবার একটু কম ভুল হয়।

এই খেলা কোটি কোটি বার চললে অদ্ভুত একটা জিনিস ঘটে। পরের শব্দ ঠিকঠাক অনুমান করতে হলে ভাষার ব্যাকরণ লাগে, বিষয়ের জ্ঞান লাগে, যুক্তির ধারা লাগে। তাই ধরন চিনতে চিনতে প্রোগ্রামটার ভেতরে ভাষা, তথ্য আর যুক্তির একটা ঝাপসা মানচিত্র তৈরি হয়ে যায়। কেউ আলাদা করে ব্যাকরণ শেখায়নি। শব্দ অনুমানের চাপেই সেটা এসেছে।

শেষ ধাপে মানুষ বসে হাজার হাজার উত্তর দেখে রায় দেয়, কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ। এই ধাপেই AI ভদ্রভাবে উত্তর দিতে শেখে, প্রশ্ন এড়াতে শেখে, আর গালিগালাজ এড়িয়ে চলতে শেখে। এর একটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। মানুষ যেহেতু গোছানো উত্তরকে ভালো নম্বর দিয়েছে, Model শিখে গেছে কিছু একটা গুছিয়ে বলাই নিরাপদ, তাই "জানি না" বলার অভ্যাসটা দুর্বল থেকে গেছে।

Token জিনিসটা আসলে কী

এতক্ষণ সুবিধার জন্য "শব্দ" বলছিলাম। আসল হিসাবটা শব্দে হয় না, হয় Token-এ।

Token মানে লেখার ছোট ছোট টুকরো। মাঝেমধ্যে একটা আস্ত শব্দ একটাই Token হয়, আবার মাঝেমধ্যে একটা শব্দ ভেঙে দুই বা তিন টুকরো হয়ে যায়। Model কখনো আস্ত বাক্য দেখে না। সে দেখে টুকরোর একটা লম্বা সারি, আর হিসাব করে পরের টুকরোটা কী হওয়া উচিত।

এটা জানা থাকলে দুটো জিনিস হঠাৎ পরিষ্কার হয়ে যায়।

এক, "এই লেখায় কতগুলো অক্ষর আছে" বা "শেষ থেকে তিন নম্বর অক্ষরটা কী" ধরনের প্রশ্নে AI প্রায়ই ভুল করে। কারণ সে অক্ষর গুনছে না, সে টুকরো দেখছে। অক্ষর গোনার কাজটা আপনার ফোনের সাধারণ টেক্সট এডিটর তার চেয়ে ভালো পারবে।

দুই, বাংলা হরফে লেখা একই কথা ইংরেজির চেয়ে সাধারণত বেশি Token খায়। কারণ ইন্টারনেটে ইংরেজি লেখা বেশি বলে ইংরেজি শব্দগুলো টুকরো করার ছাঁচটা বেশি মসৃণ হয়েছে। ফল হলো, লম্বা বাংলা কথোপকথনে জায়গা একটু দ্রুত ফুরায়, আর AI সার্ভিসগুলো যেহেতু নিজেদের হিসাব Token ধরে করে, তাই খরচের হিসাবেও এটা গোনায় আসে।

Training আর আপনার টাইপ করার মুহূর্ত, দুটো আলাদা জিনিস

নতুনদের সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটা এখানে। অনেকে ভাবেন, আমি যা লিখছি তা দিয়ে AI শিখছে, তাই ভুল ধরিয়ে দিলে সে পরেরবার ঠিক বলবে।

আসল ব্যাপারটা এমন নয়। Training হলো কারখানার কাজ। বিপুল কম্পিউটার, বিপুল বিদ্যুৎ, দীর্ঘ সময়। ওই ধাপ শেষ হলে যন্ত্রটা তৈরি হয়ে বেরিয়ে আসে, আর তার ভেতরের সংখ্যাগুলো তখন আর বদলায় না।

আপনি যখন চ্যাটে লেখেন, তখন কারখানা চলছে না। তখন তৈরি হয়ে যাওয়া যন্ত্রটা শুধু চালানো হচ্ছে। আপনার লেখা তার ভেতরের কিছু বদলায় না, ঠিক যেমন ক্যালকুলেটরে হিসাব করলে ক্যালকুলেটরের ভেতরের বর্তনী বদলায় না।

তাহলে ভুল ধরিয়ে দিলে সে ঠিক করে কেন? কারণ ওই কারেকশনটা এখন তার সামনে লেখা আছে, আর সে সামনে থাকা লেখাটা হিসাবে ধরছে। ওই একই চ্যাটের ভেতরে সে ঠিক বলবে। নতুন চ্যাটে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে আবার আগের ভুলটাই পাবেন।

কিছু অ্যাপ আলাদাভাবে "মেমরি" নামে একটা সুবিধা দেয়, যেখানে আপনার পছন্দ একটা নোটের মতো জমা থাকে আর পরের চ্যাটে সেটা সামনে ধরা হয়। ওটাও Model শেখা নয়, ওটা নোট রাখা।

Model জিনিসটা আসলে কী

Training শেষ হলে যা পাওয়া যায়, সেটাই Model। GPT, Gemini, Claude, Llama, এগুলো একেকটা Model-এর নাম।

Model জিনিসটা কোনো তথ্যভান্ডার নয়। ভেতরে কোনো টেবিল নেই যেখানে লেখা আছে "বাংলাদেশের রাজধানী = ঢাকা"। ভেতরে আছে কেবল সংখ্যা। বিলিয়ন বিলিয়ন সংখ্যা, যেগুলোকে বলে Parameter। Training-এর সময় প্রতিবার ভুল হলে এই সংখ্যাগুলোই একটু একটু করে বদলেছে।

এভাবে দেখুন। Training হলো রান্না শেখার বছরগুলো, আর Model হলো শেখা শেষে রাঁধুনির মাথায় জমে থাকা দক্ষতা। রেসিপির বই আলাদা করে নেই, কিন্তু হাতের আন্দাজ তৈরি হয়ে গেছে।

এখান থেকেই দুটো গুরুত্বপূর্ণ কথা বেরিয়ে আসে। এক, Model যা "জানে" তা ঝাপসা, তাই মূল কথাটা মনে থাকলেও নির্দিষ্ট সংখ্যা বা তারিখ গুলিয়ে ফেলা খুব স্বাভাবিক। দুই, Training একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ডেটা দিয়ে হয়, তাই তার পরের ঘটনা Model-এর জানার কথা নয়। এই সীমারেখাটার নাম Knowledge cutoff।

তৃতীয় একটা কথাও এখান থেকেই আসে। কোনো বিষয়ে ইন্টারনেটে যত বেশি লেখা আছে, Model-এর আন্দাজ তত পাকা। ঢাকা শহর নিয়ে ভালো, আপনার ইউনিয়নের বাজার নিয়ে পাতলা। প্রশ্ন করার আগে নিজেকে একবার জিজ্ঞেস করুন, এই বিষয়ে ইন্টারনেটে কি অনেক লেখা থাকার কথা?

এক চ্যাট শেষ হলে সে সব ভুলে যায় কেন

অনেকের অভিজ্ঞতা এমন। গতকাল লম্বা আলোচনা করে দোকানের পুরো পরিচয় বুঝিয়েছিলেন। আজ নতুন চ্যাটে লিখলেন "গতকালের মতো আরেকটা পোস্ট দাও", আর সে কিছুই চিনল না।

কারণটা সহজ। Model-এর ভেতরে কোনো স্মৃতির খাতা নেই। প্রতিবার উত্তর দেওয়ার সময় ওই চ্যাটের এতক্ষণের পুরো লেখাটা আবার নতুন করে তার সামনে ধরা হয়, আর সে পুরোটা পড়ে তারপর পরের টুকরো ঠিক করে।

মানে সে মনে রাখছে না। সে প্রতিবার আবার পড়ছে। এই সামনে ধরে রাখা লেখার একটা সর্বোচ্চ মাপ আছে। মাপ পেরিয়ে গেলে শুরুর দিকের কথা বাদ পড়তে থাকে, তাই খুব লম্বা চ্যাটে সে প্রথম দিকের নির্দেশ ভুলে যাচ্ছে বলে মনে হয়।

এই একটা কথা জানা থাকলে আপনার কাজের ধরন বদলে যাবে।

  • এক কাজের জন্য এক চ্যাট রাখুন, তাতে সামনে ধরা লেখাটা প্রাসঙ্গিক থাকে।
  • আপনার ব্যবসার পরিচয়টা তিন লাইনে গুছিয়ে ফোনের নোটে লিখে রাখুন, নতুন চ্যাটে প্রথমেই সেটা পেস্ট করে দিন।
  • খুব লম্বা চ্যাট হয়ে গেলে বলুন, "এতক্ষণের সিদ্ধান্তগুলো ৫ পয়েন্টে লেখো", তারপর ওই পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে নতুন চ্যাটে যান।

পরের শব্দ অনুমান করা মানে কী

অনেকে শুনে অবাক হন, একটা যন্ত্র শুধু পরের শব্দ অনুমান করে এত কাজ কী করে করে।

মজার ব্যাপার হলো, ভালোভাবে পরের শব্দ অনুমান করা একটা বিশাল কাজ। "রুমানার দোকানে গতকাল বিক্রি হয়েছে ৪২০০ টাকা আর আজ ৩৮০০ টাকা, তাহলে দুই দিনে মোট..." এই বাক্যের পরের শব্দ ঠিকমতো বলতে হলে যোগ করতে জানতে হবে। "রোগীর জ্বর তিন দিন ধরে, তাই ডাক্তার পরামর্শ দিলেন..." এই বাক্য চালাতে হলে কিছুটা প্রেক্ষাপট বুঝতে হবে।

AI একটা শব্দ বসিয়েই থামে না। বসানো শব্দটা সহ পুরো লেখাটা আবার পড়ে, তারপর তার পরের শব্দ ঠিক করে। এভাবে শব্দের পর শব্দ জুড়ে পুরো উত্তরটা দাঁড়িয়ে যায়। আপনি যখন দেখেন উত্তর টাইপ হওয়ার মতো ধীরে ধীরে আসছে, ঠিক এই কাজটাই তখন চোখের সামনে ঘটছে।

এই একই কারণে AI-এর কাছে "নিশ্চিত" আর "আন্দাজ" আলাদা কিছু নয়। দুই ক্ষেত্রেই সে একইভাবে পরের শব্দ বসায়। তাই ভুল উত্তরও ঠিক ততটাই আত্মবিশ্বাসী শোনায় যতটা সঠিক উত্তর।

আরেকটা ব্যাপারও এখান থেকেই বোঝা যায়। প্রতিবার পরের টুকরো বাছার সময় একটু এলোমেলো ভাব ইচ্ছে করেই রাখা হয়, নাহলে উত্তর যান্ত্রিক ও একঘেয়ে শোনাত। এই কারণেই একই প্রশ্ন দুবার করলে দুই রকম উত্তর আসে। এটা দোষ নয়, এটা নকশা।

তাহলে কেন মনে হয় AI বুঝতে পারছে

আপনি বাংলায় লিখলেন, "দোকানের হিসাবটা গোলমেলে হয়ে গেছে, কী করব বুঝতেছি না"। উত্তর এলো গুছিয়ে, সহানুভূতি সহ, ধাপে ধাপে। মনে হওয়াই স্বাভাবিক যে ওপাশে কেউ আপনাকে বুঝেছে।

কয়েকটা কারণে এমন মনে হয়।

  • ভাষার দখল অসাধারণ। যে যন্ত্র লক্ষ কোটি বাক্য থেকে ধরন শিখেছে, তার বাক্য গঠন মানুষের চেয়ে পরিচ্ছন্ন হতে পারে।
  • মানুষ ভদ্র ও সহানুভূতিশীল উত্তর পছন্দ করে বলেই শেষ ধাপে AI-কে সেভাবে ঘষামাজা করা হয়েছে। এই সহানুভূতি অভিনয় নয়, আবার অনুভূতিও নয়। এটা শেখানো ধরন।
  • আমাদের মস্তিষ্কের স্বভাবই হলো ভাষার পেছনে একজন মানুষ কল্পনা করা। গুছিয়ে লেখা দেখলে আমরা ধরেই নিই ভেতরে চিন্তা আছে।

তাহলে কি AI কিছুই বোঝে না? এখানে সৎ উত্তর হলো, বিজ্ঞানীরাও এ নিয়ে একমত নন। ব্যবহারিক দিক থেকে যেটা নিরাপদ, সেটা হলো এভাবে ভাবা। AI ভাষা আর ধারণার সম্পর্ক ভালো বোঝে, কিন্তু সত্য-মিথ্যার হিসাব তার কাছে নেই। সে জানে কোন কথার পরে কোন কথা মানানসই, কিন্তু কথাটা বাস্তবে ঘটেছে কি না সেটা তার ভেরিফাই করার ব্যবস্থা নেই।

সাধারণ software আর AI, পার্থক্য কোথায়

বিষয়সাধারণ softwareAI Model
নিয়ম কে ঠিক করেমানুষ, হাতে লিখে দেয়Model নিজে, উদাহরণ থেকে
একই প্রশ্নে উত্তরপ্রতিবার হুবহু একপ্রতিবার একটু আলাদা হতে পারে
ভুল হলেনির্দিষ্ট bug, খুঁজে ঠিক করা যায়কেন ভুল হলো তা ব্যাখ্যা করা কঠিন
অচেনা পরিস্থিতিতেশেখানো না থাকলে থেমে যায়কাছাকাছি কিছু একটা অনুমান করে বলে দেয়
ফলের ওপর ভরসাহিসাব ঠিক থাকলে নিশ্চিতচোখ বুলিয়ে ভেরিফাই করা লাগে

শেষ সারিটাই সবচেয়ে জরুরি। ক্যালকুলেটর বড় সংখ্যার গুণ ভুল করবে না। AI করতে পারে, বিশেষ করে বড় সংখ্যায়। তাই AI-কে কর্মী ভাবুন, ক্যালকুলেটর ভাববেন না। কর্মীর কাজ শেষে একবার চোখ বোলাতে হয়।

AI যা ভালো পারে আর যা পারে না

ভালো পারে এমন কাজগুলোর একটা মিল আছে। এসবে "মোটামুটি ঠিক" হলেই চলে, আর ভুল হলে আপনি সাথে সাথে ধরে ফেলতে পারবেন।

  • লেখা গুছিয়ে দেওয়া, ছোট করা, ভদ্র ভাষায় বদলে দেওয়া
  • বাংলা থেকে ইংরেজি বা উল্টোটা অনুবাদ
  • কঠিন বিষয় সহজ করে বুঝিয়ে দেওয়া
  • আইডিয়ার লিস্ট বানানো, যেমন দোকানের ২০টা নাম
  • কোড লেখা আর কোডের ভুল ধরা

যেখানে ভরসা করা ঠিক নয়, সেখানেও মিল আছে। এসবে নির্দিষ্ট সংখ্যা, নাম বা তারিখ লাগে, আর ভুল হলে ক্ষতি হয়।

  • আজকের মার্কেট প্রাইস, আজকের খবর, নতুন সরকারি নিয়ম
  • ওষুধের ডোজ বা রোগ নির্ণয়
  • আইনি ধারা, মামলার তথ্য, জমির দলিলের ব্যাখ্যা
  • কারো ব্যক্তিগত তথ্য বা প্রতিষ্ঠানের ভেতরের হিসাব
  • বড় অঙ্কের হিসাবনিকাশ, যেখানে এক টাকা এদিক ওদিক হলেই সমস্যা

কোন কাজে কোন যন্ত্র

AI সব যন্ত্রের বিকল্প নয়। ভুল যন্ত্র বেছে নেওয়াই নতুনদের সবচেয়ে বড় সময় নষ্ট।

আপনার দরকারসবচেয়ে ভালো যন্ত্রকেন
আজকের সোনার দাম বা ট্রেনের সময়সার্চ ইঞ্জিন বা অফিসিয়াল সাইটনির্দিষ্ট ও বদলে যাওয়া তথ্য, Model-এর কাছে পুরনো থাকতে পারে
৩৭টা বিক্রির যোগফলক্যালকুলেটর বা স্প্রেডশিটহিসাব নিখুঁত লাগবে, আন্দাজ চলবে না
৩৭টা বিক্রির লিস্ট দেখে সারাংশ ও পরামর্শAIধরন চেনা ও ভাষায় প্রকাশ করা তার শক্তির জায়গা
চিঠির ইংরেজি ঠিক করাAIভুল হলে আপনি নিজেই পড়ে ধরতে পারবেন
জমির দলিল বা মামলার ব্যাখ্যাপেশাজীবী মানুষদায় নিতে হয়, আর দায় কোনো Model নেয় না
নতুন কিছু শেখা, ধারণা বোঝাAI, তারপর বই বা কোর্সধারণা বোঝাতে ভালো, কিন্তু নির্দিষ্ট তথ্য মিলিয়ে নিতে হবে
জ্বর তিন দিন ধরে কেনডাক্তারভুলের মূল্য শরীর দিয়ে দিতে হয়

প্রথম সাত দিনে যা করবেন, ধাপে ধাপে

তত্ত্ব যথেষ্ট হয়েছে। এবার হাতে ধরে শুরু করার একটা ফরম্যাট।

  1. একটা ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুলুন। ফোনেই হবে, কম্পিউটার লাগবে না। ব্রাউজারে গিয়ে বা অফিসিয়াল অ্যাপ নামিয়ে শুরু করুন।
  2. প্রথম কাজটা এমন বাছুন যার ফল আপনি নিজে ভেরিফাই করতে পারবেন। আপনার নিজের পুরনো একটা ফেসবুক পোস্ট কপি করে দিয়ে লিখুন, "এটা ৩ লাইনে আরও আকর্ষণীয় করে লেখো"।
  3. উত্তর পছন্দ না হলে থামবেন না, ঠিক করিয়ে নিন। "আরও ছোট করো", "ইংরেজি শব্দ কমাও", "দামটা বড় করে বলো"। দুই তিনবার ঘষামাজা করলেই ফল বদলে যাবে।
  4. তিন লাইনের একটা পরিচয় লিখে ফোনের নোটে রাখুন। আপনি কে, ব্যবসা বা পড়াশোনা কী, পাঠক কারা। প্রতিটা নতুন চ্যাটের শুরুতে এটা পেস্ট করবেন।
  5. এক সপ্তাহ প্রতিদিন একটা করে সত্যিকারের কাজ দিন। কাল্পনিক প্রশ্ন নয়, আপনার আসল কাজ। শেখা এখানেই হয়।
  6. প্রতিদিন একবার ইচ্ছে করে ভুল ধরার চেষ্টা করুন। আপনার জানা একটা প্রশ্ন করুন, তারপর উত্তর মিলিয়ে দেখুন। কোথায় সে দুর্বল, সেটা নিজে দেখে শেখা সবচেয়ে ভালো শেখা।
  7. সপ্তাহ শেষে হিসাব করুন। কোন কাজে সময় বাঁচল আর কোন কাজে বরং বেড়ে গেল, এই লিস্টটাই আপনার নিজস্ব ব্যবহারবিধি।

ময়মনসিংহের শাড়ির দোকান, একটা পুরো উদাহরণ

ধরুন ময়মনসিংহে একটা ছোট শাড়ির দোকান, নাম "নীলাঞ্জনা শাড়ি ঘর"। মালিক প্রতিদিন ফেসবুকে ছবি দেন, কিন্তু লেখা নিয়ে বসলে আধা ঘণ্টা চলে যায়। প্রথম দিন তিনি লিখলেন,

শাড়ির দোকানের জন্য একটা পোস্ট লিখে দাও।

যা এলো তা দেখতে সুন্দর, কিন্তু কাজের নয়। ইংরেজি মেশানো ঝকঝকে বিজ্ঞাপনের ভাষা, কোথাও দাম নেই, কোথাও এলাকার নাম নেই, শেষে ইমোজির সারি। তার খদ্দেররা এই ভাষায় কথা বলেন না।

দ্বিতীয় দিন তিনি পুরো ব্যাপারটা বুঝিয়ে লিখলেন,

আমি ময়মনসিংহ শহরে একটা শাড়ির দোকান চালাই, নাম "নীলাঞ্জনা শাড়ি ঘর"। টাঙ্গাইল তাঁতের শাড়ির নতুন চালান এসেছে, দাম ১৮০০ থেকে ৪৫০০ টাকা। ক্রেতা মূলত ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারী, বেশিরভাগই স্থানীয়। ফেসবুকের জন্য পোস্ট লেখো। শর্ত: সর্বোচ্চ ৪ লাইন, সহজ কথ্য বাংলা, ইংরেজি শব্দ যত কম যায়, দামের রেঞ্জ হুবহু রাখবে, শেষ লাইনে "ইনবক্সে মেসেজ দিন" থাকবে। ৩টা আলাদা ভঙ্গির বিকল্প দাও।

এবার তিনটা বিকল্প এলো। একটা খুব আবেগি, একটা সোজাসাপটা, একটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু। তিনি সোজাসাপটাটা বেছে নিলেন, একটা শব্দ বদলালেন, আর দামের অঙ্কটা নিজের খাতার সাথে মিলিয়ে দেখলেন।

খেয়াল করার মতো তিনটা জিনিস ঘটল এখানে।

প্রথমত, প্রথম চেষ্টাটা ফেইল করেছিল, কিন্তু ফেইল করার কারণ AI-এর দুর্বলতা নয়। প্রথম নির্দেশে দোকান কোথায়, ক্রেতা কারা, দাম কত, কিছুই ছিল না। ফাঁক থাকলে সে ফাঁক পূরণ করে ফেলে, আর তার পূরণ করা ফাঁক হয় গড়পড়তা ইন্টারনেটের মতো, আপনার ময়মনসিংহের মতো নয়।

দ্বিতীয়ত, লম্বা নির্দেশটা লিখতে লেগেছিল প্রায় পাঁচ মিনিট, কিন্তু তিনি ওটা নোটে সেভ করে রেখেছেন। পরের দিন শুধু প্রোডাক্ট আর দাম বদলে দিলেই হয়, তাতে লাগে এক মিনিট। খরচটা একবারের, লাভটা প্রতিদিনের।

তৃতীয়ত, একটা জায়গায় সে ভুল করেছিল। এক বিকল্পে সে নিজে থেকে লিখে দিয়েছিল "সারা দেশে ডেলিভারি", অথচ তিনি ডেলিভারি দেন না। কেউ ধরিয়ে না দিলে ওটা পোস্ট হয়ে যেত, আর ইনবক্সে ভুল প্রত্যাশা নিয়ে মানুষ আসত। এই কারণেই শেষ চোখটা মানুষের হতে হয়।

রাজশাহীর কোচিং, চট্টগ্রামের ফ্রিল্যান্সার আর ঢাকার ছাত্র

রাজশাহীর একটা কোচিং সেন্টার। নবম শ্রেণির বিজ্ঞান পড়ানো হয়, ব্যাচে ২২ জন। প্রতি সপ্তাহে একটা করে পরীক্ষা নিতে হয়, আর প্রশ্ন বানাতে গিয়ে শিক্ষকের রবিবারের সন্ধ্যাটা চলে যায়। এখন তিনি বইয়ের অধ্যায়টা পেস্ট করে দিয়ে লেখেন, "এই লেখা থেকে ১৫টা বহুনির্বাচনি প্রশ্ন বানাও, প্রতিটায় ৪টা অপশন, উত্তর একেবারে শেষে আলাদা লিস্টে, বইয়ের বাইরের কোনো তথ্য ব্যবহার করবে না"। ২০ মিনিটে তিনি ১৫টা প্রশ্ন পান, তার মধ্যে ৯টা সরাসরি রাখেন, ৪টা একটু ঘষে নেন, আর ২টা বাদ দেন কারণ ওগুলোর উত্তর বইয়ে নেই। সন্ধ্যাটা বেঁচে যায়, কিন্তু বাদ দেওয়ার কাজটা তাকেই করতে হয়।

চট্টগ্রামের একজন ফ্রিল্যান্সার। বিদেশি ক্লায়েন্টের সাথে ইংরেজিতে কথা বলতে হয়, আর দর নিয়ে কঠিন মেসেজ লিখতে গেলে সুর ঠিক রাখা কঠিন হয়ে যায়। তিনি এখন বাংলায় নিজের কথাটা লিখে দেন, তারপর বলেন "এটা পেশাদার কিন্তু বন্ধুত্বপূর্ণ ইংরেজিতে লেখো, সর্বোচ্চ ১২০ শব্দ, ক্ষমা চাওয়ার সুর থাকবে না"। মেসেজ পাঠানোর আগে তিনি নিজে একবার পড়ে দেখেন, কারণ AI মাঝেমধ্যে এমন প্রতিশ্রুতি বসিয়ে দেয় যা তিনি দেননি, যেমন একটা নির্দিষ্ট তারিখে ডেলিভারি।

ঢাকার একজন কলেজছাত্র। ইংরেজিতে লেখা একটা অধ্যায় বুঝতে পারছিল না। সে অধ্যায়টা পেস্ট করে লিখল, "সহজ বাংলায় বুঝিয়ে দাও, তারপর আমাকে ৫টা প্রশ্ন করো যাতে বুঝি সত্যিই বুঝেছি কি না"। শেষ অংশটাই আসল। ব্যাখ্যা পড়ে মনে হয় বোঝা হয়ে গেছে, কিন্তু প্রশ্নের মুখে পড়লে বোঝা যায় কোথায় ফাঁক রয়ে গেছে। তবে সে জমা দেওয়ার লেখাটা কপি করে না, কারণ ওতে শেখা হয় না আর ধরাও পড়ে।

একজন ছোট উদ্যোক্তা আবার নিজের ব্যবসার ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেলেন বাংলায় নির্দেশ দিয়ে, যেটা BanglaCodes-এর মতো টুল দিয়ে কোড না জেনেও করা যায়। ফ্রিতে প্রকাশ করা সাইট পুরোপুরি চলে, ফোনে ইনস্টলও হয়; শুধু যোগাযোগ ফর্মের মেসেজ সত্যিই আপনার কাছে পৌঁছাতে হলে লাইফটাইম হোস্টিং লাগে। শুরুর দিনে এটা জেনে রাখলে পরে অবাক হতে হয় না।

খেয়াল করুন, প্রতিটা উদাহরণে মানুষটা শেষ সিদ্ধান্ত নিজে নিচ্ছেন। এটাই এখন পর্যন্ত AI ব্যবহারের সবচেয়ে নিরাপদ ধরন।

নতুনরা যে ভুলগুলো করেন

ভুলকী হয়কী করবেন
এক লাইনের নির্দেশ দেওয়াসে ফাঁক পূরণ করে গড়পড়তা উত্তর দেয়প্রেক্ষাপট, পাঠক আর আকার যোগ করুন
প্রথম উত্তরকেই চূড়ান্ত ধরাসবচেয়ে দুর্বল ড্রাফটটাই ব্যবহার হয়"আরও ছোট করো" ধরনের কারেকশন দুই তিনবার দিন
সংখ্যা ও তারিখ ভেরিফাই না করাআত্মবিশ্বাসী ভুল ছাপা হয়ে যায়উত্তরের প্রতিটা সংখ্যা ও নাম আলাদা করে মিলিয়ে নিন
এক চ্যাটে দশ রকম কাজপুরনো প্রসঙ্গ নতুন উত্তরে ঢুকে পড়েবিষয় বদলালে নতুন চ্যাট খুলুন
গোপন তথ্য চ্যাটে লেখাতথ্য প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা থেকে যায়NID, ব্যাংক তথ্য বা কাস্টমারের লিস্ট বদলে দিয়ে লিখুন
তাকে ক্যালকুলেটর ভাবাবড় অঙ্কে চুপচাপ ভুল হয়হিসাব স্প্রেডশিটে করুন, ব্যাখ্যা AI-কে দিয়ে করান
"এটা তো ভুল" বলে চাপ দেওয়াসে ক্ষমা চেয়ে ভুল উত্তরে চলে যায়বলুন "তুমি কোথা থেকে পেলে, কতটা নিশ্চিত"

কখন এটা ব্যবহার করবেন না

এই অংশটা কোনো ফিচারের লিস্টের চেয়ে বেশি জরুরি। কিছু জায়গায় সৎ উত্তর হলো, এটা ভুল যন্ত্র।

যেখানে ভুলের মূল্য শরীর দিয়ে দিতে হয়। ওষুধের ডোজ, শিশুর জ্বর, গর্ভকালীন সমস্যা, পুরনো রোগের ওষুধ বদলানো। AI ধারণা বোঝাতে পারে, কিন্তু আপনার শরীরটা সে দেখেনি।

যেখানে দায় নিতে হয় এবং সই করতে হয়। জমির দলিল, আইনি নোটিশের জবাব, কর ফাইলিং, নিরীক্ষার মতামত। শুধু আইনি ঝুঁকি নয়, এখানে ভুলের ফল বছরের পর বছর টানতে হয়। AI ড্রাফট দিতে পারে, দায় নিতে পারে না।

যেখানে আজকের নির্দিষ্ট সংখ্যাটাই সব। আজকের ডলার রেট, আজকের মার্কেট প্রাইস, পরীক্ষার তারিখ, ট্রেনের সময়সূচি। এসবের জন্য অফিসিয়াল উৎস আছে, আর সেটাই লাগবে।

যেখানে আপনার নিজের কণ্ঠটাই আসল জিনিস। শোকবার্তা, ক্ষমা চাওয়ার চিঠি, প্রিয় মানুষকে লেখা কথা, বিয়ের ভাষণ। এলোমেলো কিন্তু নিজের ভাষায় লেখা চার লাইন গোছানো দশ লাইনের চেয়ে ভালো, কারণ যিনি পড়বেন তিনি ভাষা নয়, আপনাকে খুঁজছেন।

যেখানে অন্যের গোপন তথ্য জড়িত। কাস্টমারের ফোন নম্বরের লিস্ট, রোগীর ফাইল, কর্মীর বেতনের কাগজ। এসব আপনার নয়, তাই ঝুঁকি নেওয়ার অধিকারও আপনার নয়।

যেখানে শেখাটাই উদ্দেশ্য। পরীক্ষার উত্তর, অ্যাসাইনমেন্ট, নতুন দক্ষতার হাতেখড়ি। উত্তর কপি করলে কাগজটা জমা পড়বে, কিন্তু মাথায় কিছু ঢুকবে না।

প্রশ্নোত্তর

AI কি ইন্টারনেট থেকে উত্তর খুঁজে আনে? সাধারণভাবে না। Model তার Training থেকে শেখা ধরন দিয়ে উত্তর বানায়। তবে অনেক AI অ্যাপে এখন আলাদা একটা search সুবিধা আছে, যেটা চালু থাকলে সে সত্যিই ওয়েব থেকে দেখে নেয়। উত্তরে লিংক দেখলে বুঝবেন search ব্যবহার হয়েছে, আর লিংক না থাকলে ধরে নিন সে স্মৃতি থেকে বলছে।

AI কি বাংলা ভালো বোঝে? আগের চেয়ে অনেক ভালো বোঝে, দৈনন্দিন কাজের জন্য যথেষ্ট। তবে ইন্টারনেটে ইংরেজি লেখা বাংলার চেয়ে অনেক বেশি, তাই বাংলা ভাষায় আর বাংলাদেশের নির্দিষ্ট তথ্যে ভুলের ঝুঁকি বেশি থাকে। জটিল কারিগরি বিষয়ে ইংরেজিতে প্রশ্ন করে উত্তরটা বাংলায় অনুবাদ করিয়ে নিলে ফল ভালো হয়।

AI কি নিজে নিজে শিখতে থাকে আমার কথা থেকে? চ্যাট করার সময় Model বদলায় না। আপনার লেখা কথাগুলো ওই কথোপকথনের ভেতরেই কাজে লাগে, যেমন আগের মেসেজ মনে রেখে উত্তর দেওয়া। কিছু অ্যাপ আলাদাভাবে আপনার পছন্দ মনে রাখার সুবিধা দেয়, সেটা Model শেখা নয়, নোট রাখা। মনে রাখবেন, আপনার লেখা কথা প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা থাকতে পারে, তাই NID নম্বর বা ব্যাংকের তথ্য চ্যাটে লিখবেন না।

একই প্রশ্নে দুবার দুই উত্তর এলে কোনটা ঠিক? অমিলটাই আসল খবর। যেখানে দুই উত্তর মিলে যায় সেটা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, আর যেখানে সংখ্যা বা নাম বদলে যায় সেখানে সে আন্দাজ করছে।

AGI বা সুপার ইন্টেলিজেন্স নিয়ে যে কথা হয়, সেটা কি সত্যি? এটা এখনো তর্কের বিষয়, নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। কেউ বলছেন কয়েক বছরের মধ্যেই হবে, কেউ বলছেন অনেক দূর। যারা জোর দিয়ে তারিখ বলে দেন, তাদের কথা সতর্ক হয়ে শুনুন। আজকের AI দিয়ে আপনি যা করতে পারবেন, সেটার হিসাব করাই বেশি কাজে দিবে।

AI ব্যবহার শুরু করতে কি কম্পিউটার লাগবে? লাগবে না। ফোনে ব্রাউজার বা অ্যাপ থাকলেই হবে। বেশিরভাগ বড় AI-এর একটা ফ্রি স্তর আছে, দৈনন্দিন কাজে সেটাই যথেষ্ট। খরচের হিসাব শুরুতেই নিয়ে ভাববেন না, আগে দুই সপ্তাহ ব্যবহার করে দেখুন আপনার কোন কাজে আসলে লাগছে।

AI কি আমার ফোনের ভেতরে চলে, নাকি অন্য কোথাও? বড় Model-গুলো ফোনে চলে না, চলে প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে। আপনার লেখাটা ইন্টারনেট দিয়ে ওখানে যায়, উত্তর ফিরে আসে। এই কারণেই ইন্টারনেট ছাড়া কাজ করে না, আর এই কারণেই আপনার কথাগুলো ফোনের বাইরে চলে যায়।

AI ব্যবহার করা কি কোনোভাবে অসৎ? কাজটা কী তার ওপর নির্ভর করে। চিঠির ড্রাফট করানো বা অনুবাদ করানো ক্যালকুলেটর ব্যবহারের মতোই স্বাভাবিক। কিন্তু যেখানে জমা দেওয়া জিনিসটা আপনার নিজের কাজ বলে ধরা হয়, যেমন পরীক্ষার খাতা, সেখানে নিয়মটা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জেনে নিন।

সংক্ষেপে

  • AI হলো software, যেটা হাতে লেখা নিয়ম নয়, বরং বিপুল উদাহরণ থেকে ধরন চিনে কাজ করে।
  • ChatGPT-এর মতো AI উত্তর খুঁজে আনে না, এটা এক টুকরো করে অনুমান করে পুরো উত্তরটা বানিয়ে তোলে।
  • Model হলো Training শেষে জমা হওয়া বিলিয়ন সংখ্যার সমষ্টি, কোনো তথ্যভান্ডার নয়, তাই নির্দিষ্ট সংখ্যা ও তারিখ গুলিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক।
  • আপনার লেখা কথায় Model বদলায় না, সে প্রতিবার পুরো চ্যাটটা আবার পড়ে উত্তর দেয়, তাই নতুন চ্যাটে সে আপনাকে চেনে না।
  • যেসব কাজে "মোটামুটি ঠিক" হলেই চলে সেখানে AI দুর্দান্ত, আর যেখানে নির্দিষ্ট সংখ্যা, আইন বা স্বাস্থ্যের প্রশ্ন জড়িত সেখানে মানুষের ভেরিফাই বাধ্যতামূলক।
  • শুরু করতে কোনো কম্পিউটার বা কারিগরি জ্ঞান লাগে না, ফোন আর কৌতূহলই যথেষ্ট।