ফেসবুক পেজের বায়োতে একটা লিংক, তার নিচে সবকিছু
এক লিংকের সমস্যা
ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম বা টিকটক, সবখানেই বায়োতে একটাই লিংক দেওয়া যায়।
কিন্তু আপনার দরকার অনেকগুলো: WhatsApp-এ অর্ডার নেওয়া, দামের তালিকা, দোকানের ঠিকানা, আগের কাজের ছবি, হয়তো একটা ইউটিউব চ্যানেল।
তাই মানুষ যা করেন: বায়োতে WhatsApp-এর লিংক দেন, আর বাকি সব প্রতিটা পোস্টের কমেন্টে বারবার লিখতে থাকেন। কেউ পড়ে, কেউ পড়ে না।
লিংক-ইন-বায়ো পেজ এই সমস্যার সোজা সমাধান: একটা পেজ, তার নিচে সব বাটন।
পেজটা কেমন হয়
ছোট, লম্বা আর ফোনের জন্য।
উপরে দোকানের নাম আর লোগো, এক লাইনে আপনি কী করেন। নিচে বড় বড় বাটন, একটার নিচে একটা, আঙুল দিয়ে চাপার মতো।
প্রতিটা বাটনের নাম যেন কাজটা বলে দেয়:
- WhatsApp-এ অর্ডার করুন
- দামের তালিকা দেখুন
- দোকান কোথায় (ম্যাপ)
- আগের কাজের ছবি
- ফেসবুক পেজ
পাঁচ-ছয়টার বেশি বাটন রাখবেন না। যত বেশি বিকল্প, তত কম চাপ পড়ে।
ক্রমটাই আসল সিদ্ধান্ত
সবচেয়ে উপরের বাটনটা সবচেয়ে বেশি চাপ পায়, তাই সেটা হবে সেই কাজ যেটা আপনি সবচেয়ে বেশি চান।
দোকানের জন্য সেটা প্রায় সব সময়ই WhatsApp-এ অর্ডার। সেবার জন্য সিরিয়াল নেওয়া। ক্রিয়েটরের জন্য নতুন ভিডিও।
যেটা কম দরকারি, সেটা নিচে। আর যেটা কেউ চাপে না, সেটা তিন মাস পর সরিয়ে দিন।
বানানোর সময় যা বলবেন
নির্দিষ্ট করে বলাই এখানে সবচেয়ে কাজে দেয়।
উদাহরণ: "একটা লিংক-ইন-বায়ো পেজ বানাও, ফোনের জন্য লম্বা। উপরে দোকানের নাম 'রহিম স্টোর', নিচে এক লাইনে 'মিরপুরের দেশি পোশাকের দোকান'। তারপর পাঁচটা বড় বাটন: WhatsApp-এ অর্ডার, দামের তালিকা, ম্যাপে ঠিকানা, ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম। রং হালকা, লেখা বড়, বাংলায়।"
লিংকগুলো হাতে দিতে ভুলবেন না, নইলে বাটন থাকবে কিন্তু কোথাও নিয়ে যাবে না।
যা এই পেজ পারে না
দুইটা কথা আগে জেনে রাখা ভালো।
সরাসরি টাকা নেওয়া যায় না। পেমেন্টের লিংকের বাটন বসানো যায় Business প্ল্যান থেকে, আর টাকাটা যায় আপনার নিজের অ্যাকাউন্টে।
পেজ নিজে থেকে আপনাকে মেসেজ পাঠায় না। হোস্টিং না নেওয়া পর্যন্ত কেউ ফর্ম পূরণ করলেও কিছু জমা হয় না, সে যে লিংক দিয়েই আসুক। জমা নিতে চাইলে হোস্টিং লাগে।
তাই বেশিরভাগ ছোট দোকানের জন্য সবচেয়ে কাজের বাটনটা হলো WhatsApp, কারণ ওটা কোনো খরচ ছাড়াই সরাসরি আপনার কাছে মেসেজ নিয়ে আসে।
WhatsApp বাটনটা কাজের করার কৌশল
শুধু চ্যাট খোলার বদলে একটা লেখা আগে থেকে বসিয়ে রাখতে বলুন, যেমন "আসসালামু আলাইকুম, আমি দামের তালিকা চাই।"
এতে দুইটা লাভ। ক্রেতাকে কী লিখবেন ভাবতে হয় না, আর আপনি মেসেজ দেখেই বুঝে যান তিনি কোথা থেকে এসেছেন।
আলাদা আলাদা বাটনে আলাদা লেখা রাখলে আরও ভালো, তখন কোন বাটন কাজ করছে সেটাও বোঝা যায়।
প্রশ্নোত্তর
এটা কি ওয়েবসাইট? এক পাতার ছোট সাইট বলা যায়। পার্থক্যটা উদ্দেশ্যে: সাধারণ সাইট আপনার সম্পর্কে বলে, আর এই পেজ শুধু মানুষকে পরের ধাপে পাঠায়। তাই এখানে লেখা কম, বাটন বড়।
কতগুলো বাটন রাখা উচিত? পাঁচ থেকে ছয়টা। এর বেশি হলে মানুষ পড়া বন্ধ করে দেন আর কোনোটাতেই চাপেন না। যেটা কেউ ব্যবহার করে না, সেটা সরিয়ে দিলে বাকিগুলো বেশি চাপ পায়।
হোস্টিং ছাড়াই চলবে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চলবে, কারণ পেজের কাজটা শুধু দেখানো আর পাঠানো। হোস্টিং তখনই লাগে যখন ঠিকানাটা নিজের নামে চান, নিচের ব্যাজটা সরাতে চান, বা ফর্মের তথ্য জমা রাখতে চান।
পেজে কতজন এসেছে দেখা যাবে? নিজের ডোমেইনে হোস্টিং থাকলে সাইট ম্যানেজ পাতায় ভিজিটরের হিসাব দেখা যায়। ফ্রি লিংকে ওই হিসাবটা থাকে না, তবে WhatsApp-এর বাটনে আলাদা লেখা বসিয়ে রাখলে মেসেজ দেখেই আন্দাজ পাওয়া যায়।
দামের তালিকা কি এই পেজেই রাখব? তালিকা ছোট হলে এই পেজেই রাখতে পারেন। বড় হলে আলাদা একটা পেজ বানিয়ে সেটার বাটন রাখুন, নইলে পেজটা লম্বা হয়ে যায় আর উপরের বাটনগুলো নিচে চলে যায়।
ইনস্টাগ্রাম আর ফেসবুক দুইটার জন্য আলাদা পেজ? একটাই যথেষ্ট। তবে চাইলে দুই জায়গার জন্য দুইটা লিংক ব্যবহার করতে পারেন, তাতে কোন প্ল্যাটফর্ম থেকে বেশি মানুষ আসছে সেটা বোঝা যায়।
লিংক বদলালে বায়োর লিংকও বদলাতে হবে? না, যদি পেজের ঠিকানা এক থাকে। ভেতরের বাটনগুলো যত খুশি বদলান, বায়োর লিংকটা একই থাকবে। এটাই এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা।
পেজটা পরে বড় সাইট বানানো যাবে? যাবে। বিল্ডারে বলে নতুন পাতা যোগ করে নিলেই এটা একটা পূর্ণ সাইট হয়ে যায়, আর বায়োর লিংক তখনো কাজ করতে থাকে।
সংক্ষেপে
- বায়োতে একটাই লিংক দেওয়া যায়, এই পেজটাই সেই লিংক
- ফোনের জন্য লম্বা পেজ, বড় বাটন, পাঁচ-ছয়টার বেশি নয়
- সবচেয়ে উপরের বাটনটা সবচেয়ে বেশি চাপ পায়, তাই ওটাই আপনার মূল কাজ
- WhatsApp বাটনে আগে থেকে একটা লেখা বসিয়ে রাখুন
- সরাসরি টাকা নেওয়া যায় না, আর হোস্টিং ছাড়া ফর্মের তথ্য জমা হয় না
- ভেতরের বাটন বদলালেও বায়োর লিংক একই থাকে