হোস্টিং প্ল্যান কোনটা নিবেন, দোকানের আকার অনুযায়ী
আগে ঠিক করুন সাইটটা কী করবে
প্ল্যান বাছাই আসলে দামের প্রশ্ন নয়, কাজের প্রশ্ন।
একটা সাইট শুধু দেখানোর জন্য হতে পারে: এই আমরা, এই আমাদের কাজ, এই নম্বরে ফোন করুন। আরেকটা সাইট কাজ করার জন্য: অর্ডার আসে, তথ্য জমা হয়, ক্রেতাকে খবর যায়।
প্রথমটার খরচ প্রায় শূন্য। দ্বিতীয়টার খরচ আছে, কারণ ওখানে প্রতিদিন কিছু ঘটে।
ফ্রি শেয়ার লিংকে কতদূর
সাইট বানানোর পর একটা লিংক পাওয়া যায়, আর সেটা কাউকে পাঠালেই তিনি সাইটটা দেখতে পান। এতে কোনো টাকা লাগে না।
এই অবস্থায় যা হয়: সাইট দেখা যায়, পাতা কাজ করে, ছবি আসে, WhatsApp বাটনে চাপলে চ্যাট খোলে।
আর যা হয় না: নিজের ডোমেইন থাকে না, লিংকটা আমাদের নামে থাকে, আর সাইটের ফর্ম থেকে কোনো তথ্য জমা হয় না।
শেখার জন্য, দেখানোর জন্য আর কাজটা পছন্দ হচ্ছে কি না বোঝার জন্য এটুকু যথেষ্ট। ব্যবসার জন্য নয়, কারণ ব্যবসার সাইটের ঠিকানা নিজের হওয়া দরকার।
কখন হোস্টিং লাগবেই
তিনটা ঘটনার যেকোনো একটা ঘটলে:
- নিজের ডোমেইনে সাইট রাখতে চান। ভিজিটিং কার্ডে নিজের নাম, অন্য কারও নয়। ডোমেইন কেনা আর যুক্ত করার পুরো কাজটা আলাদা করে লেখা আছে।
- ফর্ম থেকে অর্ডার বা আবেদন জমা নিতে চান। এটাই সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
- সাইটের নিচের ব্যাজটা সরাতে চান।
এর কোনোটা দরকার না হলে হোস্টিং নেওয়ার তাড়া নেই।
তিনটা প্ল্যান, পার্থক্য কোথায়
| একবারের হোস্টিং | Business | Commerce | |
| দাম | ৳৬,৯৯৯ | ৳১৪,৪৯৯ | ৳২৩,৯৯৯ |
| নিজের ডোমেইন আর HTTPS | আছে | আছে | আছে |
| দিনে ফর্ম জমা | ২৫টা | ১০০টা | ৫০০টা |
| দিনে ইমেইল খবর | ৫টা | ১০টা | ৩০টা |
| ড্যাশবোর্ড থেকে নতুন পেজ ও ব্লগ | নেই | ৫০টা | ২০০টা |
| হেডার-ফুটারে নিজের কোড | নেই | আছে | আছে |
| পেমেন্ট লিংকের বাটন | নেই | আছে | আছে |
| ইনবক্সের CSV আর পুরো সাইটের ব্যাকআপ | নেই | আছে | আছে |
| ক্রেতাকে অর্ডার SMS | নেই | নেই | আছে, দিনে ২০০টা |
| ফর্ম পূরণ করলে ক্রেতাকে অটো-রিপ্লাই | নেই | নেই | আছে, দিনে ২০টা |
| কুরিয়ারের অর্ডার ফাইল | নেই | নেই | আছে |
সব প্ল্যানেই দামটা একবারের, মাসিক বা বাৎসরিক বিল নেই। বছরে ভাড়া দেওয়া হোস্টিংয়ের সাথে পাঁচ বছরের হিসাবটা পাশাপাশি আছে ওয়েবসাইটের খরচের লেখায়। ডোমেইনের বাৎসরিক ভাড়াটা এর মধ্যে নেই, ওটা যেখান থেকে কিনেছেন সেখানে দিতে হবে।
কোনটা আপনার
একবারের হোস্টিং যথেষ্ট যদি সাইটটা মূলত পরিচিতির জন্য হয়: দোকানের ঠিকানা, কাজের নমুনা, যোগাযোগের ফর্ম। দিনে কয়েকটা মেসেজ এলে এই ২৫টার সীমা ছোঁয়াই কঠিন।
Business দরকার যখন সাইটে নিয়মিত নতুন লেখা যোগ করবেন বা অর্ডার বাড়ছে। ড্যাশবোর্ড থেকে পেজ আর ব্লগ যোগ করার সুবিধাটাই এখানে সবচেয়ে কাজের, কারণ প্রতিটা নতুন লেখার জন্য AI-কে বলতে হয় না। পেমেন্ট লিংকের বাটনও এখান থেকে শুরু।
Commerce দরকার যখন সত্যিকারের অর্ডার সামলাচ্ছেন। ক্রেতাকে SMS, ফর্ম পূরণের সাথে সাথে অটো-রিপ্লাই আর কুরিয়ারের ফাইল, এই তিনটাই অর্ডার সামলানোর কাজ, দেখানোর কাজ নয়। SMS দিনে ২০০টা পর্যন্ত আর অটো-রিপ্লাই দিনে ২০টা পর্যন্ত যায়।
সন্দেহ হলে ছোট দিয়ে শুরু করুন। Business থেকে Commerce-এ যেতে পুরো দাম আবার দিতে হয় না, শুধু পার্থক্যটা দিতে হয়।
দিনের সীমাগুলো আসলে কী
"দিনে ২৫টা জমা" মানে ওই দিনের জন্য ২৫টার পর ফর্মটা আর তথ্য নিবে না। পরের দিন আবার নতুন করে শুরু।
এটা মাথায় রাখার কারণ আছে: ঈদের অফার বা কোনো পোস্ট হঠাৎ ছড়িয়ে গেলে একদিনেই সীমা ছুঁয়ে যেতে পারে। ড্যাশবোর্ডে সীমার আশি শতাংশ ছুঁলে একটা সতর্কতা দেখানো হয়, তাই ধাক্কাটা আগেই টের পাওয়া যায়।
ইমেইলের সীমাটা আলাদা, আর সেটা শুধু আপনাকে পাঠানো খবরের হিসাব। সীমা পেরোলেও জমাগুলো ইনবক্সে থাকে, শুধু প্রতিটার জন্য আলাদা মেইল যায় না।
মেয়াদের প্রশ্নটা আজকের ক্রেতার জন্য নয়
আজ যে হোস্টিং নিবেন সেটা সারাজীবনের জন্য। একবারের দাম মানে একবারের দাম, আর সাইট চালু রাখতে দ্বিতীয়বার কিছু দিতে হয় না।
মেয়াদের ব্যবস্থাটা আছে পুরোনো বাৎসরিক নিয়মে যাঁরা নিয়েছিলেন তাঁদের জন্য। সেখানে হিসাব শেষ হলে সাইট সাথে সাথে বন্ধ হয় না: আগে খবর যায়, তারপর ১৪ দিনের একটা সময় থাকে, আর ওই সময়ের মধ্যে ঠিক করে ফেললে কিছুই হারায় না।
ওই সময়ও পার হলে নিজের ডোমেইনটা খুলে নেওয়া হয়, কিন্তু সাইট মুছে যায় না, ফ্রি শেয়ার লিংকে চলতেই থাকে। আপনার কাজ, ছবি আর লেখা সব থাকে।
যা কোনো প্ল্যানেই নেই
সৎ থাকা দরকার, কারণ এগুলো জেনে নেওয়া ভালো আগেই।
সাইটটা static, মানে সেখানে PHP বা MySQL চলে না। WordPress-এর প্লাগিন এখানে বসে না। ভারী কোনো সার্ভারের প্রোগ্রামও নয়।
যা বসে সেটা হলো পাতার ভেতরের কোড, ফর্ম, বাইরের পেমেন্ট লিংক আর অন্য সেবার বসানোর মতো কোড, যেমন চ্যাট বাক্স বা অ্যানালিটিক্স।
প্রশ্নোত্তর
হোস্টিং কি প্রতি বছর দিতে হবে? না, দামটা একবারের। সাইট চালু রাখার জন্য আর কোনো বিল নেই। শুধু ডোমেইনের ভাড়াটা প্রতি বছর দিতে হবে, আর ওটা ডোমেইন কোম্পানিকে, আমাদের নয়।
ফ্রি লিংকেই চালিয়ে দেওয়া যায় না? শেখা বা দেখানোর জন্য যায়। ব্যবসার জন্য দুইটা জায়গায় আটকায়: ঠিকানাটা নিজের হয় না, আর সাইটের ফর্ম থেকে কোনো তথ্য জমা হয় না। যে সাইটে অর্ডার আসার কথা, সেখানে এটাই মূল কাজ।
Business থেকে Commerce-এ যেতে পুরো টাকা আবার দিতে হবে? না, শুধু দুই প্ল্যানের পার্থক্যটা। তাই ছোট দিয়ে শুরু করে দরকার হলে বড় করা নিরাপদ, আর সেটাই বেশিরভাগের জন্য ঠিক পথ।
দিনের সীমা পেরিয়ে গেলে কী হয়? ওই দিনের জন্য ফর্মটা আর নতুন তথ্য নিবে না, পরের দিন আবার স্বাভাবিক। সীমার কাছাকাছি গেলে ড্যাশবোর্ডে সতর্কতা আসে, তাই আগেই বোঝা যায়।
একটা প্ল্যানে কি একাধিক সাইট চলে? হোস্টিং প্রতিটা সাইটের জন্য আলাদা, কারণ প্রতিটার নিজের ডোমেইন আর নিজের সীমা থাকে। একই অ্যাকাউন্টে যত খুশি সাইট বানানো যায়, কিন্তু নিজের ডোমেইনে যেটা চালাবেন সেটার জন্য হোস্টিং লাগবে।
পেমেন্ট নেওয়ার জন্য কোন প্ল্যান লাগে? সাইটে পেমেন্ট লিংকের বাটন বসাতে Business বা তার উপরে লাগে। টাকাটা কিন্তু আমাদের হাত দিয়ে যায় না, আপনার নিজের গেটওয়ে বা bKash-এর লিংকে যায়, তাই ওই অ্যাকাউন্টটা আপনাকেই খুলতে হবে।
সাইট বানানো আর হোস্টিং কি একই খরচ? না। বানানোর কাজে Token খরচ হয়, আর ফ্রি Model-এ বানালে সেটাও লাগে না। হোস্টিং আলাদা, আর সেটা তখনই লাগে যখন নিজের ডোমেইনে সাইট রাখতে চান বা ফর্মে তথ্য নিতে চান।
টাকা দেওয়ার পর মত বদলালে? হোস্টিং একবার চালু হয়ে গেলে সেটা নামিয়ে ছোট প্ল্যানে ফেরা যায় না, তাই বড়টা নেওয়ার আগে সত্যিই দরকার কি না ভেবে নিন। এই কারণেই ছোট দিয়ে শুরু করার পরামর্শ।
সংক্ষেপে
- ফ্রি লিংকে সাইট চলে, কিন্তু নিজের ডোমেইন আর ফর্মের তথ্য পাওয়া যায় না
- হোস্টিং লাগে তিন কারণে: নিজের ডোমেইন, ফর্মে জমা, আর ব্যাজ সরানো
- একবারের ৳৬,৯৯৯ পরিচিতির সাইটের জন্য যথেষ্ট
- Business দরকার নিয়মিত নতুন পেজ, নিজের কোড আর পেমেন্ট লিংকের জন্য
- Commerce দরকার SMS, অটো-রিপ্লাই আর কুরিয়ারের ফাইলের জন্য
- ছোট দিয়ে শুরু করুন, বড় করতে গেলে শুধু পার্থক্যটা লাগে
- আজকের হোস্টিংয়ের মেয়াদ নেই; পুরোনো বাৎসরিক নিয়মে সাইট মুছত না, ফ্রি লিংকে চলত