আগে ঠিক করুন সাইটটা কী করবে
প্ল্যান বাছাই আসলে দামের প্রশ্ন নয়, কাজের প্রশ্ন।
একটা সাইট শুধু দেখানোর জন্য হতে পারে: এই আমরা, এই আমাদের কাজ, এই নম্বরে ফোন করুন। আরেকটা সাইট কাজ করার জন্য: অর্ডার আসে, তথ্য জমা হয়, ক্রেতাকে খবর যায়।
প্রথমটার খরচ প্রায় শূন্য। দ্বিতীয়টার খরচ আছে, কারণ ওখানে প্রতিদিন কিছু ঘটে।
ফ্রিতে প্রকাশ করলে কতদূর
সাইট বানানোর পর এক চাপে সেটা প্রকাশ করা যায়, আর তাতে কোনো টাকা লাগে না। ঠিকানাটা হয় আপনার-নাম.banglacodes.app, একসাথে তিনটা সাইট পর্যন্ত।
এই অবস্থায় যা হয়: সাইট দেখা যায়, পেজ কাজ করে (সাইটপ্রতি ৫টা), ছবি আসে, WhatsApp বাটনে চাপলে চ্যাট খোলে, ফোনের হোম স্ক্রিনে ইনস্টল হয়, আসল Android অ্যাপও (.apk, .aab) বানানো যায়, অফলাইনের জন্য বানানো অ্যাপ নেট ছাড়াও চলে, আর বাইরের স্ক্রিপ্ট বা কার্টও চলে। সাইটটা কখনো মেয়াদে মুছে যায় না।
আর যা হয় না: ঠিকানাটা নিজের কেনা ডোমেইনে নয়, নিচে ছোট একটা ব্যাজ থাকে, আর সাইটের ফর্ম থেকে কোনো তথ্য জমা হয় না।
অনেক ছোট ব্যবসার জন্য এটুকুই যথেষ্ট, বিশেষ করে যদি অর্ডার WhatsApp-এ আসে। হোস্টিং লাগে তখনই, যখন ঠিকানাটা নিজের নামে চাই বা ফর্মের তথ্য সত্যিই জমা রাখতে চাই।
কখন হোস্টিং লাগবেই
দুটো ঘটনার যেকোনো একটা ঘটলে:
- নিজের ডোমেইনে সাইট রাখতে চান। ভিজিটিং কার্ডে নিজের নাম, অন্য কারও নয়। ডোমেইন কেনা আর যুক্ত করার পুরো কাজটা আলাদা করে লেখা আছে।
- ফর্ম থেকে অর্ডার বা আবেদন জমা নিতে চান। এটাই সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
এর কোনোটা দরকার না হলে হোস্টিং নেওয়ার তাড়া নেই। আর শুধু নিচের ব্যাজটা সরাতে চাইলে হোস্টিং লাগে না: যেকোনো কেনাকাটাতেই সেটা ওঠে, ৳১৯৯-এর Token প্যাক নিলেও।
তিনটা প্ল্যান, পার্থক্য কোথায়
| একবারের হোস্টিং | Business | Commerce | |
| দাম | ৳৬,৯৯৯ | ৳১৪,৪৯৯ | ৳২৩,৯৯৯ |
| নিজের ডোমেইন আর HTTPS | আছে | আছে | আছে |
| দিনে ফর্ম জমা | ২৫টা | ১০০টা | ৫০০টা |
| দিনে ইমেইল খবর | ৫টা | ১০টা | ৩০টা |
| ড্যাশবোর্ড থেকে নতুন পেজ ও ব্লগ | ১৫টা | ৫০টা | ২০০টা |
| হেডার-ফুটারে নিজের কোড | নেই | আছে | আছে |
| বিকাশ, নগদ, রকেট নম্বরে পেমেন্টের ঘর আর TrxID | আছে | আছে | আছে |
| নিজের bKash Merchant বা SSLCommerz লিংকের বাটন | নেই | আছে | আছে |
| পুরো সাইটের ব্যাকআপ ফাইল | আছে | আছে | আছে |
| ইনবক্সের CSV, Excel-এ খোলার জন্য | নেই | আছে | আছে |
| অ্যাপের হিসাব ক্লাউডে, সব ডিভাইসে এক | নেই | ৫,০০০টা নাম, ১০ MB | ২০,০০০টা নাম, ৫০ MB |
| ক্রেতাকে অর্ডার SMS | নেই | নেই | আছে, দিনে ২০০টা |
| ফর্ম পূরণ করলে ক্রেতাকে অটো-রিপ্লাই | নেই | নেই | আছে, দিনে ২০টা |
| কুরিয়ারের অর্ডার ফাইল | নেই | নেই | আছে |
সব প্ল্যানেই দামটা একবারের, মাসিক বা বাৎসরিক বিল নেই। বছরে ভাড়া দেওয়া হোস্টিংয়ের সাথে পাঁচ বছরের হিসাবটা পাশাপাশি আছে ওয়েবসাইটের খরচের লেখায়। ডোমেইনের বাৎসরিক ভাড়াটা এর মধ্যে নেই, ওটা যেখান থেকে কিনেছেন সেখানে দিতে হবে।
কোনটা আপনার
একবারের হোস্টিং যথেষ্ট যদি সাইটটা মূলত পরিচিতির জন্য হয়: দোকানের ঠিকানা, কাজের নমুনা, যোগাযোগের ফর্ম। দিনে কয়েকটা মেসেজ এলে এই ২৫টার লিমিট ছোঁয়াই কঠিন।
Business দরকার যখন ১৫টার বেশি পেজ লাগবে বা অর্ডার বাড়ছে। ড্যাশবোর্ড থেকে পেজ আর ব্লগ যোগ করা সব প্ল্যানেই যায় (ফ্রিতে ৫টা, একবারের হোস্টিংয়ে ১৫টা), Business-এ সেটা ৫০টা পর্যন্ত, তাই নিয়মিত নতুন লেখা দিলে এটাই কাজের। জমাগুলো Excel-এ খোলার CSV আর নিজের bKash Merchant বা SSLCommerz লিংকের বাটনও এখান থেকে শুরু।
আর যদি সাইটটার সাথে কোনো হিসাব, স্টক বা হাজিরার অ্যাপ থাকে, তাহলে Business-এর সবচেয়ে বড় কারণটা ক্লাউড ডেটা: ওটা ছাড়া অ্যাপের হিসাব যে ফোনে লেখা হয়েছে সেখানেই থাকে, আর ওটা চালু থাকলে পাসকোড দিয়ে যেকোনো ফোন থেকে একই হিসাব খোলে।
Commerce দরকার যখন সত্যিকারের অর্ডার সামলাচ্ছেন। ক্রেতাকে SMS, ফর্ম পূরণের সাথে সাথে অটো-রিপ্লাই আর কুরিয়ারের ফাইল, এই তিনটাই অর্ডার সামলানোর কাজ, দেখানোর কাজ নয়। SMS দিনে ২০০টা পর্যন্ত আর অটো-রিপ্লাই দিনে ২০টা পর্যন্ত যায়।
সন্দেহ হলে ছোট দিয়ে শুরু করুন। Business থেকে Commerce-এ যেতে পুরো দাম আবার দিতে হয় না, শুধু পার্থক্যটা দিতে হয়।
দিনের লিমিটগুলো আসলে কী
"দিনে ২৫টা জমা" মানে ওই দিনের জন্য ২৫টার পর ফর্মটা আর তথ্য নিবে না। পরের দিন আবার নতুন করে শুরু।
এটা মাথায় রাখার কারণ আছে: ঈদের অফার বা কোনো পোস্ট হঠাৎ ছড়িয়ে গেলে একদিনেই লিমিট ছুঁয়ে যেতে পারে। ড্যাশবোর্ডে লিমিটের আশি শতাংশ ছুঁলে একটা সতর্কতা দেখানো হয়, তাই ধাক্কাটা আগেই টের পাওয়া যায়।
ইমেইলের লিমিটটা আলাদা, আর সেটা শুধু আপনাকে পাঠানো খবরের হিসাব। লিমিট পেরোলেও জমাগুলো ইনবক্সে থাকে, শুধু প্রতিটার জন্য আলাদা মেইল যায় না।
মেয়াদের প্রশ্নটা আজকের ক্রেতার জন্য নয়
আজ যে হোস্টিং নিবেন সেটা সারাজীবনের জন্য। একবারের দাম মানে একবারের দাম, আর সাইট চালু রাখতে দ্বিতীয়বার কিছু দিতে হয় না।
মেয়াদের ব্যবস্থাটা আছে পুরোনো বাৎসরিক নিয়মে যাঁরা নিয়েছিলেন তাঁদের জন্য। সেখানে হিসাব শেষ হলে সাইট সাথে সাথে বন্ধ হয় না: আগে খবর যায়, তারপর ১৪ দিনের একটা সময় থাকে, আর ওই সময়ের মধ্যে ঠিক করে ফেললে কিছুই হারায় না।
ওই সময়ও পার হলে নিজের ডোমেইনটা খুলে নেওয়া হয়, কিন্তু সাইট মুছে যায় না, ফ্রি আপনার-নাম.banglacodes.app ঠিকানায় চলতেই থাকে। আপনার কাজ, ছবি আর লেখা সব থাকে।
যা কোনো প্ল্যানেই নেই
সৎ থাকা দরকার, কারণ এগুলো জেনে নেওয়া ভালো আগেই।
সাইটটা static, মানে সেখানে PHP বা MySQL চলে না। WordPress-এর প্লাগিন এখানে বসে না। ভারী কোনো সার্ভারের প্রোগ্রামও নয়। নিজের ডেটাবেস চালানো আর অ্যাপের হিসাব ক্লাউডে রাখা এক জিনিস নয়: দ্বিতীয়টা Business-এ আছে, প্রথমটা কোনো প্ল্যানেই নেই।
যা বসে সেটা হলো পেজের ভেতরের কোড, ফর্ম, বাইরের পেমেন্ট লিংক আর অন্য সেবার বসানোর মতো কোড, যেমন চ্যাট বাক্স বা অ্যানালিটিক্স।
প্রশ্নোত্তর
হোস্টিং কি প্রতি বছর দিতে হবে? না, দামটা একবারের। সাইট চালু রাখার জন্য আর কোনো বিল নেই। শুধু ডোমেইনের ভাড়াটা প্রতি বছর দিতে হবে, আর ওটা ডোমেইন কোম্পানিকে, আমাদের নয়।
ফ্রিতে প্রকাশ করেই চালিয়ে দেওয়া যায় না? অনেক ক্ষেত্রেই যায়। সাইটটা আপনার-নাম.banglacodes.app ঠিকানায় সত্যিই লাইভ থাকে আর Google-এও আসে। ব্যবসার জন্য আটকায় এক জায়গায়: সাইটের ফর্ম থেকে কোনো তথ্য জমা হয় না। যে সাইটে অর্ডার আসার কথা, সেখানে এটাই মূল কাজ। নিজের কেনা ডোমেইন বসাতে চাইলেও হোস্টিং লাগে।
Business থেকে Commerce-এ যেতে পুরো টাকা আবার দিতে হবে? না, শুধু দুই প্ল্যানের পার্থক্যটা। তাই ছোট দিয়ে শুরু করে দরকার হলে বড় করা নিরাপদ, আর সেটাই বেশিরভাগের জন্য ঠিক পথ।
দিনের লিমিট পেরিয়ে গেলে কী হয়? ওই দিনের জন্য ফর্মটা আর নতুন তথ্য নিবে না, পরের দিন আবার স্বাভাবিক। লিমিটের কাছাকাছি গেলে ড্যাশবোর্ডে সতর্কতা আসে, তাই আগেই বোঝা যায়।
একটা প্ল্যানে কি একাধিক সাইট চলে? হোস্টিং প্রতিটা সাইটের জন্য আলাদা, কারণ প্রতিটার নিজের ডোমেইন আর নিজের লিমিট থাকে। একই অ্যাকাউন্টে যত খুশি সাইট বানানো যায়, তবে ফ্রি অ্যাকাউন্টে একসাথে তিনটা প্রকাশ করা থাকতে পারে। আর যে সাইটে ফর্মের জমা লাগবে বা নিজের কেনা ডোমেইন বসাবেন, সেটার জন্য হোস্টিং লাগবে।
পেমেন্ট নেওয়ার জন্য কোন প্ল্যান লাগে? কোনো প্ল্যান লাগে না। সাইট ম্যানেজারের "বিকাশ, নগদ আর রকেট নম্বর" অংশে নম্বর দিলে অর্ডার ফর্মে পেমেন্টের ঘর আর TrxID লেখার জায়গা বসে যায়, সব প্ল্যানে ফ্রি (কীভাবে, এই লেখায়)। নিজের bKash Merchant বা SSLCommerz-এর লিংকের বাটন লাগলে Business বা তার উপরে লাগে। দুই পথেই টাকাটা আমাদের হাত দিয়ে যায় না, সোজা আপনার কাছে যায়।
সাইট বানানো আর হোস্টিং কি একই খরচ? না। বানানোর কাজে Token খরচ হয়, আর ফ্রি Model-এ বানালে সেটাও লাগে না। হোস্টিং আলাদা, আর সেটা তখনই লাগে যখন নিজের ডোমেইনে সাইট রাখতে চান বা ফর্মে তথ্য নিতে চান।
টাকা দেওয়ার পর মত বদলালে? হোস্টিং একবার চালু হয়ে গেলে সেটা নামিয়ে ছোট প্ল্যানে ফেরা যায় না, তাই বড়টা নেওয়ার আগে সত্যিই দরকার কি না ভেবে নিন। এই কারণেই ছোট দিয়ে শুরু করার পরামর্শ।
সংক্ষেপে
- ফ্রিতে প্রকাশ করলে সাইট পুরোপুরি চলে: ইনস্টল, Android অ্যাপ (প্রথমটা ফ্রি), অফলাইনের জন্য বানানো অ্যাপের অফলাইন আর কার্ট সবই। যা পাওয়া যায় না তা হলো নিজের কেনা ডোমেইন আর ফর্মের জমা
- হোস্টিং লাগে দুই কারণে: নিজের ডোমেইন আর ফর্মে জমা। ব্যাজ সরাতে হোস্টিং লাগে না, যেকোনো কেনাকাটাই যথেষ্ট
- একবারের ৳৬,৯৯৯ পরিচিতির সাইটের জন্য যথেষ্ট
- Business দরকার ১৫টার বেশি পেজ, নিজের কোড, ইনবক্সের CSV, নিজের গেটওয়ের পেমেন্ট লিংক আর অ্যাপের হিসাব ক্লাউডে রাখার জন্য
- Commerce দরকার SMS, অটো-রিপ্লাই আর কুরিয়ারের ফাইলের জন্য
- ছোট দিয়ে শুরু করুন, বড় করতে গেলে শুধু পার্থক্যটা লাগে
- আজকের হোস্টিং সারাজীবনের; পুরোনো বাৎসরিক নিয়মে সাইট মুছত না, ফ্রি ঠিকানায় চলত