ডোমেইন কেনা আর সাইটে যুক্ত করা, পুরো কাজটা এক জায়গায়

দুইটা আলাদা কাজ, আর মানুষ গুলিয়ে ফেলেন

"ডোমেইন কিনলাম, কিন্তু সাইট তো আসছে না।"

এই বাক্যটা এত শোনা যায় কারণ কাজটা আসলে দুইটা।

এক, ঠিকানাটা ভাড়া নেওয়া। দুই, ওই ঠিকানাকে বলে দেওয়া কে ভিজিটরকে পাতা দেখাবে।

ডোমেইন কোম্পানি প্রথম কাজটা করে। দ্বিতীয় কাজটা আপনাকে করতে হয়, আর সেটা এক লাইন লেখার কাজ। ওই এক লাইন না বসানো পর্যন্ত ডোমেইনটা কিনে রাখা আছে, কিন্তু কোথাও নিয়ে যায় না।

ডোমেইন একটা ভাড়া, কেনা নয়

এটা প্রথমেই পরিষ্কার থাকা দরকার। আপনি প্রতি বছরের জন্য টাকা দেন, আর টাকা দেওয়া বন্ধ করলে নামটা ছেড়ে দিতে হয়।

একটা .com সাধারণত ৳১,০০০ থেকে ৳১,৫০০ টাকায় এক বছর পাওয়া যায়। প্রথম বছরে ছাড় দিয়ে অনেক কম দামে দেওয়া হয়, আর দ্বিতীয় বছরে নিয়মিত দামে ফিরে আসে। কেনার আগে দ্বিতীয় বছরের দামটা দেখে নিন, ওটাই আসল দাম।

কোন এক্সটেনশন নিব

এক্সটেনশনকার জন্যমনে রাখার কথা
.comপ্রায় সবার জন্যমানুষ ধরে নেয় সাইট মানেই .com
.com.bd বা .bdবাংলাদেশি পরিচয় জোর দিতে চাইলেকাগজপত্র লাগে, সময় বেশি লাগে
.orgসংগঠন বা অলাভজনকব্যবসার জন্য নয়
.xyz, .shop ধরনের নতুনগুলোদাম কম, শখের কাজেমানুষ কম চেনে, টাইপ করতে ভুল করে

সন্দেহ হলে .com। নামটা যদি .com-এ না পাওয়া যায়, তাহলে অন্য এক্সটেনশনে একই নাম নেওয়ার চেয়ে .com-এ একটু আলাদা নাম নেওয়া ভালো, কারণ মানুষ এমনিতেই .com লিখে ফেলে।

নামটা কেমন হলে ভালো

তিনটা পরীক্ষা যথেষ্ট।

ফোনে বলা যায়? কাউকে ফোনে বলতে হবে, আর তিনি ভুল না করে লিখতে পারবেন। হাইফেন, সংখ্যা আর একই অক্ষর পরপর দুবার, তিনটাই ফোনে ঝামেলা করে।

ছোট? যত ছোট তত ভালো, কারণ ভিজিটিং কার্ডে ধরে আর মানুষ মনে রাখে।

ব্যবসার সাথে মেলে? দোকানের নামটাই সবচেয়ে ভালো ডোমেইন, কারণ যিনি খুঁজবেন তিনি ওই নামটাই লিখবেন।

যে ভুলটা সবচেয়ে দামি

ডোমেইনটা যেন আপনার নিজের নামে থাকে।

অনেকে ডেভেলপার বা এজেন্সিকে বলেন "আপনি কিনে দেন", আর তাঁরা নিজের অ্যাকাউন্টে কিনে ফেলেন। সম্পর্ক ভালো থাকলে কিছুই টের পাওয়া যায় না। কিন্তু কাজ বদলাতে চাইলে বা যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে ব্যবসার নামটাই হাতছাড়া হয়ে যায়, আর ফেরানোর সহজ কোনো উপায় থাকে না।

কেনার আগে জিজ্ঞেস করে নিন কার নামে রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে, আর অ্যাকাউন্টের ইমেইল ও পাসওয়ার্ড আপনার হাতে আছে কি না।

কেনার সাথে সাথেই যে তিনটা কাজ

  1. অটো-রিনিউ চালু করুন। ডোমেইন হারানোর সবচেয়ে সাধারণ কারণ ভুলে যাওয়া, ইচ্ছে নয়।
  2. অ্যাকাউন্টের ইমেইলটা এমন দিন যেটা আপনি রোজ দেখেন। নবায়নের চিঠি ওখানেই যাবে।
  3. হোয়াইজ প্রাইভেসি চালু আছে কি না দেখুন। না থাকলে আপনার নাম, ঠিকানা আর ফোন নম্বর যে কেউ দেখতে পাবে, আর বিক্রির ফোন আসতে থাকবে।

এবার যুক্ত করা

ডোমেইন কেনা হয়ে গেলে আসল কাজটা এক লাইন। ডোমেইন কোম্পানির প্যানেলে ঢুকে DNS বা "নেম রেকর্ড" অংশটা খুঁজুন, আর সেখানে একটা লাইন যোগ করুন।

ঘরকী বসাবেন
TypeCNAME
Name@ অথবা www
Target বা Valueআমাদের বাক্সে যে ঠিকানাটা দেখানো হয়, হুবহু সেটা

CNAME লাইনটা আপনার ডোমেইনকে বলে দেয়, ভিজিটর এলে তাকে কোথায় পাঠাতে হবে। এটুকুই।

কিছু ডোমেইন কোম্পানি @ চিহ্নটা নেয় না। তখন Name-এর ঘরটা ফাঁকা রাখুন বা ডোমেইনের নামটা লিখুন, দুটোর যেটা তারা চায়।

মালিকানা প্রমাণের জন্য একটা TXT লাইনও চাওয়া হতে পারে। সেটাও একইভাবে বসে, শুধু Type হবে TXT আর Value হবে আমাদের দেওয়া লম্বা কোডটা।

তারপর কী হয়

DNS-এর বদল সারা দুনিয়ায় ছড়াতে সময় লাগে, সাধারণত কয়েক ঘণ্টা, কখনো এক দিন পর্যন্ত। এই সময়টায় কারও কাছে সাইট দেখাবে, কারও কাছে দেখাবে না, আর সেটা স্বাভাবিক।

ছড়িয়ে যাওয়ার পর HTTPS-এর তালার চিহ্নটা নিজে থেকেই আসে, আলাদা করে কিছু কিনতে হয় না। প্রথম কয়েক মিনিট ব্রাউজার "নিরাপদ নয়" দেখাতে পারে, ওটা সার্টিফিকেট তৈরি হওয়ার সময়টুকু।

আটকে গেলে যা দেখবেন

সমস্যাসাধারণত কারণ
ভেরিফাই হচ্ছে নাDNS এখনো ছড়ায়নি, ১৫ মিনিট পর আবার চাপুন
এখনো পুরোনো সাইট দেখাচ্ছেআগের A বা CNAME লাইনটা রয়ে গেছে, ওটা মুছুন
www-তে আসে, খালি নামে আসে নাদুটোর জন্য আলাদা লাইন লাগে
Target ভুলপুরো ঠিকানাটা হুবহু কপি করুন, শেষে ফাঁকা জায়গা যেন না থাকে
তালার চিহ্ন নেইসার্টিফিকেট তৈরি হতে সময় লাগে, একটু অপেক্ষা করুন

সবচেয়ে বেশি যেটা হয়: প্যানেলে আগে থেকে একটা "পার্কিং" বা বিজ্ঞাপনের পাতার লাইন বসানো থাকে। নতুন লাইন যোগ করার আগে পুরোনোটা মুছতে হয়, নইলে দুটো নির্দেশ একসাথে থাকে আর ব্রাউজার পুরোনোটাই মানে।

ডোমেইন আর হোস্টিং এক জিনিস নয়

ডোমেইন হলো ঠিকানা, হোস্টিং হলো ঘর। ঠিকানা কিনলেই ঘর হয় না।

আমাদের এখানে হোস্টিংটা একবারের, বছরের ভাড়া নয়: ৳৬,৯৯৯ টাকায় নিজের ডোমেইনে সাইট চালু থাকে, আর তারপর কোনো বিল নেই। এর মধ্যে ডোমেইনের ভাড়াটা নেই, ওটা যেখান থেকে কিনেছেন সেখানে প্রতি বছর দিতে হবে।

কোন প্ল্যানে কী পাবেন, সেটা আলাদা করে লেখা আছে হোস্টিং প্ল্যান বেছে নেওয়ার লেখায়। আর সব খরচ মিলিয়ে বছরে কত যায়, সেটা আছে ওয়েবসাইটের খরচের হিসাবে

ধাপে ধাপে ছবিসহ দেখা আছে ডোমেইন যোগ করার গাইডে

প্রশ্নোত্তর

ডোমেইন কিনলেই কি সাইট অনলাইনে চলে আসে? না। ডোমেইন শুধু ঠিকানা। ওই ঠিকানায় কে পাতা দেখাবে সেটা DNS-এ একটা CNAME লাইন দিয়ে বলে দিতে হয়। লাইনটা না বসানো পর্যন্ত ডোমেইন লিখলে কিছুই আসে না বা কোম্পানির নিজের একটা বিজ্ঞাপনের পাতা আসে।

.com নাকি .com.bd নিব? বেশিরভাগ ব্যবসার জন্য .com, কারণ মানুষ ওটাই ধরে নেয় আর ভুল করে না। .com.bd নিতে চাইলে কাগজপত্র জমা দিতে হয় আর সময় বেশি লাগে, তাই দেশি পরিচয়টা জরুরি হলে তবেই।

ডোমেইন কি একবার কিনলে সারাজীবনের? না, এটা বছরভিত্তিক ভাড়া। প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়, আর না করলে মেয়াদ শেষে নামটা ছেড়ে দিতে হয়। অটো-রিনিউ চালু রাখা আর নবায়নের চিঠি যায় এমন ইমেইল দেওয়া, দুটোই জরুরি।

DNS বদলাতে কত সময় লাগে? সাধারণত কয়েক ঘণ্টা, কখনো ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত। এই সময়টায় একেকজনের কাছে একেক রকম দেখানো স্বাভাবিক, কারণ বদলটা ধাপে ধাপে ছড়ায়। বারবার লাইন বদলাবেন না, তাতে সময় আরও বাড়ে।

HTTPS বা তালার চিহ্নের জন্য আলাদা টাকা লাগে? না। ডোমেইন যুক্ত হয়ে গেলে সার্টিফিকেট নিজে থেকেই তৈরি হয় আর নবায়নও নিজে থেকে হয়। প্রথম কয়েক মিনিট ব্রাউজার সতর্কতা দেখালে সেটা তৈরি হওয়ার সময়টুকু।

একই ডোমেইনে একাধিক সাইট রাখা যায়? একটা ডোমেইন এক সময়ে একটা সাইটকেই দেখায়। আলাদা অংশ চাইলে সাব-ডোমেইন ব্যবহার করা যায়, যেমন shop.example.com, আর প্রতিটার জন্য আলাদা DNS লাইন লাগে।

পুরোনো সাইট থেকে ডোমেইন সরিয়ে আনা যাবে? যাবে, আর ডোমেইন কেনা থাকলে নতুন করে কিনতে হয় না। শুধু DNS-এর পুরোনো লাইনটা মুছে নতুনটা বসাতে হয়। ডোমেইনটা যদি অন্য কারও অ্যাকাউন্টে থাকে, তাহলে আগে সেটা নিজের অ্যাকাউন্টে আনার কাজটা সারতে হবে।

ডোমেইন কোম্পানির প্যানেলে ঢুকতে পারছি না, কী করব? ওই অ্যাকাউন্টের ইমেইল দিয়ে পাসওয়ার্ড রিসেট করুন। ইমেইলটাও যদি হাতে না থাকে, তাহলে যিনি কিনে দিয়েছিলেন তাঁর কাছ থেকে অ্যাকাউন্টটা নিজের নামে নিতে হবে। এই কারণেই কেনার সময় নিজের নামে কেনাটা এত জরুরি।

সংক্ষেপে