দোকানের লোগো বানানো, ডিজাইনার ছাড়াই

লোগো নিয়ে একটা ভুল ধারণা

অনেকে ভাবেন লোগো মানে শিল্পকর্ম: যত জটিল, তত ভালো।

বাস্তবে উল্টো। লোগোর একটাই কাজ, আর সেটা হলো চেনা যাওয়া। ফেসবুকের গোল ছবিতে, ভিজিটিং কার্ডের কোণায়, প্যাকেটের স্টিকারে, সব জায়গায় ছোট হয়ে বসেও যেটা চেনা যায়, সেটাই ভালো লোগো।

এই কারণেই দুনিয়ার বড় ব্র্যান্ডগুলোর লোগো এত সাদামাটা। জটিল লোগো ছোট হলে ঘোলা দেখায়, আর ঘোলা লোগো মনে থাকে না।

বলার আগে তিনটা জিনিস ঠিক করুন

চ্যাটে গিয়ে "একটা লোগো বানাও" লিখলে যা আসে সেটা কারও দোকানের লোগো নয়, যেকোনো দোকানের লোগো।

তিনটা জিনিস বলে দিলে ফলটা অন্যরকম হয়:

নামটা। ঠিক যেভাবে লিখতে চান, বাংলায় না ইংরেজিতে সেটাসহ।

কী বিক্রি করেন। কাপড়ের দোকান আর মিষ্টির দোকানের লোগো এক রকম হওয়ার কথা নয়।

কেমন লাগবে চান। পুরোনো দিনের মতো, নাকি আধুনিক; নরম রঙে, নাকি গাঢ়। এক লাইনে বললেই হয়।

উদাহরণ: "রহিমা টেইলার্স নামে একটা দর্জির দোকানের লোগো বানাও, বাংলায় নাম, সুই-সুতার ছোট একটা চিহ্ন, গাঢ় নীল আর সাদা, সাদামাটা।"

কয়েকটা দেখে বেছে নিন

প্রথমবারে যেটা আসবে সেটা নিয়েই থেমে যাবেন না।

ফ্রি অ্যাকাউন্টেও দিনে ২০টা ছবি বানানো যায়, তাই তিন চারটা আলাদা ধাঁচ চেয়ে নিয়ে পাশাপাশি দেখা যায়। ছাপার আগে বেছে নেওয়ার এই সুযোগটাই আসল সুবিধা, কারণ ডিজাইনারের কাছে তিনটা নমুনা চাইলে তিন গুণ বিল আসে।

বাছার সময় একটা পরীক্ষা করুন: ছবিটা ছোট করে দেখুন। ফোনের স্ক্রিনে নখের সমান করে দেখলে যদি বোঝা যায় ওটা কী, তাহলে লোগোটা কাজ করবে। না বোঝা গেলে জটিলতা কমাতে বলুন।

লেখা নিয়ে একটা সতর্কতা

ছবি বানানোর AI বাংলা লেখা সবসময় নিখুঁত লেখে না। অক্ষর জোড়া লাগা, মাত্রা কেটে যাওয়া, এসব হয়।

তাই দুইটা কৌশল কাজে দেয়:

লেখা ছাড়া চিহ্নটা বানান, নাম পরে বসান। চিহ্নটা AI দিয়ে বানিয়ে নিন, আর নামটা সাইটে বা কার্ডে আলাদা করে টাইপ করে বসিয়ে দিন। এতে বানান নিখুঁত থাকে।

যা এসেছে সেটা পড়ে দেখুন। ছাপাতে দেওয়ার আগে নিজের নামের বানানটা অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে নিন। ছাপানো পাঁচশো স্টিকারে ভুল বানান ধরা পড়লে সেটা আর ঠিক করা যায় না।

লোগোটা কোথায় কোথায় লাগবে

জায়গাকেমন লাগে
সাইটের উপরেচওড়া, লেখাসহ
ফেসবুক পেজের ছবিগোল, তাই কেবল চিহ্নটা
ভিজিটিং কার্ডছোট, তাই পরিষ্কার
প্যাকেটের স্টিকারএক রঙেও চেনা যেতে হবে
রসিদের উপরেসাদাকালোতেও কাজ করতে হবে

শেষ দুইটা অনেকে ভাবেন না, আর সেখানেই বেশিরভাগ লোগো ভেঙে পড়ে। রঙিন গ্রেডিয়েন্টের সুন্দর লোগো সাদাকালো রসিদে ছাপলে ধূসর একটা দাগ হয়ে যায়।

তাই বানানোর সময় একবার বলুন: "এক রঙে, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে কেমন দেখাবে সেটাও দাও।"

HD লাগবে কখন

সাধারণ ছবি ফ্রি, আর সাইট বা ফেসবুকের জন্য সেটাই যথেষ্ট।

কিন্তু বড় করে ছাপাতে হলে, যেমন সাইনবোর্ড বা বড় ব্যানার, তখন পরিষ্কার ছবি দরকার। সেজন্য HD চালু করে বানানো যায়, আর প্রতিটা HD ছবিতে ২,৫০০ Token কাটে। দিনের ফ্রি হিসাবের সাথে এর সম্পর্ক নেই।

ছাপার কাজ যখন করবেন, তখনই HD নিন। স্ক্রিনে দেখার জন্য ফ্রিটাই ভালো।

লোগো হলো, তারপর

লোগো একা কিছু করে না। ওটা যখন সাইটে, কার্ডে আর প্যাকেটে একইরকম থাকে, তখন মানুষ চিনতে শুরু করেন।

তাই বেছে নেওয়ার পর ফাইলটা যত্ন করে রাখুন, আর সব জায়গায় ওই একটাই ব্যবহার করুন। তিন জায়গায় তিন রকম লোগো থাকা মানে কোনো লোগোই না থাকা।

দোকানের বাকি ছবিগুলো নিয়ে পোস্টার আর ব্যানারের লেখাটা দেখতে পারেন, আর ফেসবুকে দেওয়ার জিনিস নিয়ে ফেসবুক পোস্টের লেখাটা

প্রশ্নোত্তর

লোগো বানাতে কি টাকা লাগে? সাধারণ ছবি ফ্রি, আর ফ্রি অ্যাকাউন্টেও দিনে ২০টা পর্যন্ত বানানো যায়। বড় করে ছাপানোর জন্য HD লাগলে প্রতিটায় ২,৫০০ Token কাটে, আর সেটা দিনের ফ্রি হিসাবের বাইরে।

বাংলা লেখা কি নিখুঁত আসে? সবসময় না। ছবি বানানোর AI বাংলা অক্ষরে ভুল করতে পারে। নিরাপদ পথ হলো চিহ্নটা AI দিয়ে বানিয়ে নাম আলাদা করে বসানো, আর ছাপাতে দেওয়ার আগে বানান অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে নেওয়া।

কয়টা নমুনা দেখা উচিত? অন্তত তিন চারটা আলাদা ধাঁচ। প্রথমটায় থেমে যাওয়ার দরকার নেই, কারণ দিনে ২০টা ছবি বানানো যায়। পাশাপাশি রেখে দেখলে কোনটা আপনার ব্যবসার সাথে যায় সেটা পরিষ্কার হয়।

ভালো লোগো চেনার উপায় কী? ছোট করে দেখুন। ফোনের স্ক্রিনে নখের সমান করে দেখে যদি বোঝা যায় ওটা কী, তাহলে লোগোটা কাজ করবে। আর সাদাকালোতেও একবার দেখে নিন, কারণ রসিদ আর স্টিকারে রং থাকে না।

একই লোগো সব জায়গায় ব্যবহার করতে হবে? হ্যাঁ, আর এটাই সবচেয়ে দরকারি অভ্যাস। সাইট, কার্ড, ফেসবুক আর প্যাকেটে একই লোগো থাকলে মানুষ চিনতে শুরু করেন। তিন জায়গায় তিন রকম থাকলে কেউ চেনেন না।

সাইনবোর্ডে ছাপানোর জন্য কোনটা লাগবে? HD দিয়ে বানানো ছবিটা, কারণ বড় করে ছাপলে সাধারণ ছবি ঘোলা দেখায়। ছাপার দোকানে দেওয়ার আগে তাঁদের জিজ্ঞেস করে নিন কত বড় ফাইল লাগবে।

লোগোর মালিকানা কার? আপনি যা বানিয়েছেন সেটা আপনার ব্যবসার কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে AI দিয়ে বানানো ছবির আইনি দিকগুলো নিয়ে আলাদা করে জানার আছে, আর সেটা কপিরাইট নিয়ে লেখা আমাদের অন্য লেখায় আছে।

পুরোনো লোগো থাকলে সেটা দিয়ে কাজ চালানো যায়? যায়, আর অনেক সময় সেটাই ভালো। খদ্দেররা যে চিহ্নটা চিনে ফেলেছেন সেটা বদলানোর আগে দুইবার ভাবুন। নতুন লোগো তখনই দরকার, যখন পুরোনোটা ছোট আকারে চেনা যায় না বা ব্যবসাটাই বদলে গেছে।

সংক্ষেপে