দোকানের ফেসবুক পোস্ট লেখা, যেটা মানুষ পড়ে আর অর্ডার করে

ফেসবুকই বাংলাদেশের দোকানের রাস্তা

বাংলাদেশে ছোট ব্যবসার বেশিরভাগ খদ্দের আসেন ফেসবুক থেকে। এটা নিয়ে তর্ক নেই।

তর্ক যেখানে হয় সেটা হলো, একই পণ্যের একই ছবি দিয়ে একজন দিনে বিশটা অর্ডার পান আর আরেকজন কিছুই পান না।

পার্থক্যটা বেশিরভাগ সময় লেখাটায়।

প্রথম লাইনটাই সব

ফেসবুক পোস্টের প্রথম দুই লাইন দেখা যায়, বাকিটা "আরও দেখুন"-এর পেছনে লুকিয়ে থাকে।

মানে আপনার লেখার ৮০ ভাগ কেউ পড়বেন না, যদি না প্রথম দুই লাইন তাঁদের থামায়।

তাই যা করবেন না: "আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা নিয়ে এসেছি..." এই তিন লাইনে আসল কথাটা আসেনি, আর পাঠক ততক্ষণে চলে গেছেন।

যা করবেন: কাজের কথাটা প্রথমেই।

দাম লিখুন

এটা নিয়ে দোকানদারদের মধ্যে ভয় আছে: দাম লিখলে প্রতিযোগী দেখে ফেলবে, বা মানুষ বেশি মনে করে চলে যাবে।

বাস্তবে যা হয়: দাম না লিখলে কমেন্টে "দাম কত?" আসে, আপনি ইনবক্সে বলেন, আর দশজনের মধ্যে আটজন উত্তর পাওয়ার আগেই ভুলে যান।

দাম লেখা মানে যাঁরা কিনবেন না তাঁরা আগেই সরে যান, আর যাঁরা কিনবেন তাঁরা সরাসরি অর্ডারে আসেন। আপনার সময় বাঁচে।

শেষে বলুন কী করতে হবে

লেখার শেষে একটা পরিষ্কার নির্দেশ থাকা দরকার, আর একটাই।

"ইনবক্সে মেসেজ দিন" অথবা "অর্ডার করতে সাইটে যান" অথবা "এই নম্বরে ফোন করুন"। তিনটা একসাথে দিলে মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, আর সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে কিছুই করেন না।

যদি সাইট থাকে, সাইটের লিংকটাই দিন। কারণ ইনবক্সে অর্ডার নিলে প্রতিটা অর্ডারে আপনাকে দশ মিনিট দিতে হয়, আর সাইটের ফর্মে নাম, ফোন আর ঠিকানা নিজে থেকেই গোছানো হয়ে ইনবক্সে জমা হয়। সেটা নিয়ে অর্ডার ইনবক্সের লেখায় আছে।

খসড়াটা AI দিয়ে, সংখ্যাগুলো নিজে

চ্যাটে বলুন পণ্যটা কী, দাম কত আর কার জন্য। খসড়া চলে আসবে।

তারপর তিনটা জিনিস নিজে মিলিয়ে নিন: দাম, ফোন নম্বর আর ডেলিভারির শর্ত। এগুলো AI-এর হাতে ছেড়ে দিলে সে যুক্তিসঙ্গত শোনায় এমন সংখ্যা বসিয়ে দেয়, যেটা আপনার সংখ্যা নয়।

আর খসড়াটা নিজের মুখের ভাষায় একটু বদলে নিন। আপনার পুরোনো খদ্দেররা আপনার কথা বলার ধরন চেনেন, আর হঠাৎ অন্যরকম ভাষা দেখলে অচেনা লাগে।

কী নিয়ে লিখবেন, যখন নতুন কিছু নেই

প্রতিদিন নতুন পণ্য থাকে না, কিন্তু চুপ করে থাকলে ফেসবুক আপনার পোস্ট কম মানুষকে দেখায়।

যা নিয়ে লেখা যায়:

শেষেরটা সবচেয়ে ভালো কাজ করে, কারণ যিনি কিনবেন ভাবছেন তিনি ঠিক এটাই জানতে চান।

ছবিটাও লাগবে

লেখা যত ভালোই হোক, ছবি ছাড়া পোস্ট ফিডে হারিয়ে যায়।

পণ্যের সত্যিকারের ছবি সবচেয়ে ভালো। ছবি ভালো না হলে বা অফারের পোস্টার লাগলে সেটা বানিয়ে নেওয়া যায়, আর নিয়মগুলো পোস্টার আর ব্যানারের লেখায় আছে।

ভিডিও আরও ভালো কাজ করে, আর ছোট ভিডিও বানানোর পথটা রিল শুরু করার লেখায়

প্রশ্নোত্তর

ফেসবুক পোস্টে দাম লেখা উচিত? উচিত। দাম না লিখলে কমেন্টে দাম জিজ্ঞেস করা লোকের ভিড় হয় আর বেশিরভাগ উত্তর পাওয়ার আগেই সরে যান। দাম লিখলে যাঁরা কিনবেন তাঁরাই থাকেন, আর আপনার সময় বাঁচে।

পোস্টের প্রথমে কী লিখব? কাজের কথাটা। ফেসবুক প্রথম দুই লাইনের পরেরটুকু লুকিয়ে রাখে, তাই সালাম আর ভূমিকায় ওই দুই লাইন খরচ করলে আসল কথাটা কেউ দেখেন না।

AI দিয়ে পোস্ট লেখালে কি বোঝা যায়? খসড়াটা নিজের মুখের ভাষায় একটু বদলে নিলে বোঝা যায় না। আর সংখ্যাগুলো নিজে বসান: দাম, ফোন নম্বর আর ডেলিভারির শর্ত AI-এর হাতে ছাড়লে সে নিজের মতো বানিয়ে ফেলতে পারে।

শেষে কয়টা নির্দেশ দেব? একটা। ইনবক্স, ফোন আর সাইট, তিনটা একসাথে দিলে মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। সাইট থাকলে সাইটের লিংকটাই সবচেয়ে কাজের, কারণ অর্ডারের তথ্য গোছানো হয়ে জমা হয়।

নতুন কিছু না থাকলে কী নিয়ে লিখব? খদ্দেরের সবচেয়ে বেশি করা প্রশ্নের উত্তর, পণ্যের যত্নের নিয়ম, দুইটা পণ্যের তুলনা, বা কাজ চলছে এমন ছবি। তুলনার পোস্ট সবচেয়ে ভালো কাজ করে, কারণ যিনি কিনবেন ভাবছেন তিনি ঠিক ওটাই জানতে চান।

দিনে কয়টা পোস্ট দেওয়া উচিত? সংখ্যার চেয়ে নিয়মিত হওয়া বেশি জরুরি। সপ্তাহে তিনটা ভালো পোস্ট দিনে তিনটা দায়সারা পোস্টের চেয়ে ভালো কাজ করে।

ছবি ছাড়া পোস্ট দিলে চলবে? চলবে, কিন্তু কম মানুষ দেখবেন। ফিডে ছবিই মানুষকে থামায়। পণ্যের সত্যিকারের ছবি সবচেয়ে ভালো, আর অফারের জন্য পোস্টার বানিয়ে নেওয়া যায়।

কমেন্টে দাম জিজ্ঞেস করলে কী করব? পোস্টেই দাম থাকলে এই প্রশ্ন অনেক কমে যায়। তবু এলে কমেন্টেই উত্তর দিন, ইনবক্সে ডাকবেন না; অন্য যাঁরা পড়ছেন তাঁরাও তখন দামটা জেনে যান।

সংক্ষেপে