প্রোডাক্টের ছবি থেকে রিল বিজ্ঞাপন, শুরু থেকে শেষ
যে কাজটা আগে তিনজন মানুষ লাগত
একটা পণ্যের ভিডিও বিজ্ঞাপন বানাতে আগে লাগত: একজন যিনি স্ক্রিপ্ট লিখবেন, একজন যিনি ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন, আর একজন যিনি এডিট করবেন।
ছোট দোকানের জন্য এটা প্রায় অসম্ভব ছিল, তাই বেশিরভাগ দোকান প্রোডাক্টের ছবিতেই থেমে থাকত।
রিল স্টুডিওর কাজটা এই চারটা ধাপ এক জায়গায় আনা: স্ক্রিপ্ট, দৃশ্যের ছবি, কণ্ঠ, তারপর ভিডিও। প্রতিটা ধাপে আপনি দেখেন, পছন্দ না হলে বদলান, তারপর পরেরটায় যান।
কী কী লাগবে
শুরু করার আগে হাতে রাখুন:
- প্রোডাক্টের একটা ছবি, জানালার আলোয় তোলা, পরিষ্কার ব্যাকগ্রাউন্ডে
- দোকানের নাম
- অফারটা এক লাইনে, যেমন দাম আর ডেলিভারির কথা
- কাকে বলছেন, এক লাইনে
শেষেরটা মানুষ বাদ দেন, আর ওটাই স্ক্রিপ্টের মান সবচেয়ে বেশি বদলায়। "ঢাকার কলেজে পড়া ছেলেমেয়ে" আর "গ্রামের গৃহিণী", দুইটার জন্য দুই রকম কথা হয়।
ধাপ এক: স্ক্রিপ্ট
তথ্যগুলো দিয়ে স্ক্রিপ্ট চাইলে বাংলায় একটা স্ক্রিপ্ট তৈরি হয়: প্রথম তিন সেকেন্ডের হুক, তারপর দুই থেকে চারটা দৃশ্য, প্রতিটার জন্য কী বলা হবে আর পর্দায় কী লেখা থাকবে, আর শেষে কী করতে বলা হচ্ছে।
সাথে কয়েকটা আলাদা হুকও আসে, আর আপনি বেছে নিতে পারেন কোনটা দিয়ে শুরু হবে। কোন হুক কখন কাজ করে সেটা আলাদা করে লেখা আছে হুক আর বিজ্ঞাপনের ছকের লেখায়।
প্রতিটা ঘর হাতে বদলানো যায়। দাম ভুল থাকলে ঠিক করুন, দোকানের ভাষায় কথাটা বলা হলে সেটা বসিয়ে দিন। এই ধাপে কোনো তাড়া নেই, কারণ এখানে এখনো ভিডিও বানানো শুরু হয়নি।
ধাপ দুই: উপস্থাপকের ছবি
উপস্থাপকের একটা ছবি তৈরি হয়, আর ভিডিও বানানোর আগে সেটা আপনাকে দেখানো হয়। এই অনুমোদনের ধাপটা উপস্থাপকওয়ালা বিজ্ঞাপনে থাকে; শুধু দৃশ্য দিয়ে বানানো ভিডিওতে প্রতিটা দৃশ্যের ছবি আলাদাভাবে আগে বানিয়ে নেওয়া যায়, আর সেটা ফ্রি।
এই থামাটা ইচ্ছাকৃত। ছবিটা যদি ভুল হয়, তাহলে ওই ছবি থেকে বানানো ভিডিওটাও ভুল হবে, আর ভিডিও বানানো অনেক বেশি খরচের কাজ। তাই আগে ছবি, তারপর অনুমোদন, তারপর ভিডিও।
ছবি পছন্দ না হলে বাতিল করে দিন, তাতে বাকি ধাপগুলোর Token ফেরত আসে। যে ছবিটা বানানো হয়ে গেছে তার খরচটা থাকে, কারণ সেটা সত্যিই বানানো হয়েছে আর আপনি দেখেছেন।
ধাপ তিন: কণ্ঠ
দুইটা পথ।
AI-এর কণ্ঠ। কয়েকটা কণ্ঠ থেকে বেছে নিন। দ্রুত, আর প্রতিবার একই রকম শোনায়।
নিজের কণ্ঠ। ব্রাউজারেই রেকর্ড করুন, তিন থেকে ত্রিশ সেকেন্ড। উপস্থাপকের ঠোঁট আপনার কণ্ঠের সাথে মিলবে।
ছোট দোকানের জন্য নিজের কণ্ঠ প্রায় সব সময়ই ভালো কাজ করে, কারণ স্থানীয় টান আর নিজের দোকানের নাম নিজের মুখে বলাটা বিশ্বাসযোগ্য শোনায়।
রেকর্ড করার সময় ঘরের দরজা বন্ধ করুন, ফোনটা মুখ থেকে এক বিঘত দূরে রাখুন, আর ফ্যান বন্ধ রাখুন। এই তিনটাই যথেষ্ট।
ধাপ চার: ভিডিও
এবার পুরো ভিডিওটা তৈরি হয়: উপস্থাপক, কথা, মিউজিক আর পর্দায় বাংলা লেখা।
ভিডিও দুই থেকে চার দৃশ্যের হয়, মানে দশ থেকে বিশ সেকেন্ড। এটা ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রামের রিলের জন্য ঠিক মাপ।
সাথে পাওয়া যায় পোস্টের লেখা, WhatsApp-এ পাঠানোর মতো একটা বার্তা, আর হ্যাশট্যাগ। মানে ভিডিও নামিয়ে সাথে সাথেই পোস্ট করা যায়।
উপস্থাপক নিয়ে
ছয়টা আঁকা চেহারা আছে, আর ওগুলো আঁকা, কোনো সত্যিকারের মানুষ নয়। যেকোনোটা বেছে নিতে পারেন।
নিজের ছবি দিলে সেটা আপনার নিজের মুখ হতে হবে, আর সেটার জন্য আলাদা করে সম্মতি দিতে হয়। অন্য কারও ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন বানানো এখানে চলে না, আর সেটা ঠেকানোর ব্যবস্থাটাই ওই সম্মতির ঘর।
দাম আর ফেরত
বানানোর আগে দামটা দেখানো হয়, তাই খরচটা কখনো অবাক করে না। দুইটা মান আছে, সাশ্রয়ী আর ভালো, আর দুইটার দাম আলাদা।
কোনো ধাপ ব্যর্থ হলে পুরো Token ফেরত আসে, ওই ধাপটুকুর নয়। "বানাতে পারিনি" বলার পর কিছু রেখে দেওয়াটা সৎ উত্তর নয়।
আর ছবি অনুমোদনের অপেক্ষায় ২৪ ঘণ্টা পড়ে থাকলে বাকি Token ফেরত যায়, শুধু বানানো ছবিটার খরচ থাকে। তাই ভুলে ফেলে রাখলে টাকা আটকে থাকে না।
ভিডিও হয়ে যাওয়ার পর
একটা কথা: প্রথম ভিডিওটাই সেরা হবে না, আর সেটা স্বাভাবিক।
যেটা করবেন তা হলো এক সপ্তাহ চালিয়ে দেখুন কতজন প্রথম তিন সেকেন্ড পার করছেন। তারপর একই পণ্যের জন্য আরেকটা সংস্করণ বানান, শুধু হুকটা বদলে। নতুন পণ্য নয়, নতুন হুক।
সস্তায় এই নতুন সংস্করণটা বানানো যায় শেষ হয়ে যাওয়া উপস্থাপকওয়ালা বিজ্ঞাপন থেকে। নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করা বিজ্ঞাপনে এটা কাজ করে না, কারণ কণ্ঠটা নতুন করে লাগবে।
ভিডিওটা কাজে দিয়েছে কি না সেটা জানানোর একটা ঘর আছে, আর সেটা পরের স্ক্রিপ্টে কাজে লাগে।
কী ধরনের ভিডিও আসলে কাজ করে সেটা আলাদা করে লেখা আছে UGC বিজ্ঞাপনের লেখায়।
প্রশ্নোত্তর
ভিডিও বানাতে কত সময় লাগে? স্ক্রিপ্ট সেকেন্ডের মধ্যে, ছবি কয়েক মিনিট, আর পুরো ভিডিও তার চেয়ে বেশি। কাজটা ধাপে ধাপে হয় বলে মাঝখানে অন্য কাজ করা যায়, তবে ভিডিওর ধাপে ট্যাবটা খোলা রাখাই ভালো।
পর্দার বাংলা লেখা কি ঠিকভাবে আসে? রিলের ক্ষেত্রে লেখাটা ভিডিওর উপরে বসানো হয়, ছবির ভেতরে আঁকা হয় না, তাই যুক্তবর্ণ ভাঙে না। ছবি বানানোর মডেলকে দিয়ে বাংলা লেখানোর চেষ্টা করলে সেটা ভাঙে, আর সেই কারণেই এভাবে করা হয়।
নিজের কণ্ঠ না দিলে কি চলবে? চলবে, কয়েকটা তৈরি কণ্ঠ আছে। তবে নিজের কণ্ঠে বিশ্বাসযোগ্যতা বেশি, বিশেষ করে স্থানীয় ক্রেতার কাছে। প্রথম ভিডিওতে AI-এর কণ্ঠ দিয়ে দেখে নিতে পারেন, পরে নিজেরটা।
অন্য কারও ছবি উপস্থাপক হিসেবে দেওয়া যাবে? না। নিজের ছবি দিলে আলাদা করে সম্মতি দিতে হয়, আর সেটা এই কারণেই আছে। অন্য কারও মুখ দিয়ে বিজ্ঞাপন বানানো আইনি আর নৈতিক দুই দিক থেকেই সমস্যার।
ভিডিও না হলে টাকা ফেরত পাব? কোনো ধাপ ব্যর্থ হলে পুরো Token ফেরত আসে। ছবি অনুমোদনের অপেক্ষায় ২৪ ঘণ্টা পড়ে থাকলে বাকিটা ফেরত যায় আর বানানো ছবির খরচটা থাকে। আর আপনি নিজে ছবিটা বাতিল করলেও একই নিয়ম।
কত সেকেন্ডের ভিডিও হয়? দুই থেকে চার দৃশ্য, মানে দশ থেকে বিশ সেকেন্ড। তবে নিজের কণ্ঠ রেকর্ড করে দিলে ভিডিওটা আপনার রেকর্ডিংয়ের সমান লম্বা হয়, তাই ত্রিশ সেকেন্ড রেকর্ড করলে ভিডিওও ত্রিশ সেকেন্ডের।
একই ভিডিও ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রাম দুইটাতেই দেওয়া যাবে? যাবে, মাপটা দুই জায়গার জন্যই ঠিক আছে। পোস্টের লেখাটা অবশ্য দুই জায়গায় একটু আলাদা করে নিলে ভালো, আর সেটাও সাথেই পাওয়া যায়।
প্রোডাক্টের ছবি কেমন হলে ভালো হয়? জানালার আলোয়, পরিষ্কার ব্যাকগ্রাউন্ডে, পণ্যটা যেন পুরো ফ্রেমে ধরে। ঝাপসা বা অন্ধকার ছবি দিলে পরের সব ধাপেই সেই দুর্বলতা বয়ে যায়, তাই এই এক জায়গায় দুই মিনিট বেশি দেওয়া লাভজনক।
সংক্ষেপে
- চারটা ধাপ: স্ক্রিপ্ট, উপস্থাপকের ছবি, কণ্ঠ, তারপর ভিডিও
- ছবি অনুমোদনের ধাপটা ইচ্ছাকৃত, কারণ ভুল ছবি থেকে ভুল ভিডিও হয়
- উপস্থাপক ছয়টা আঁকা চেহারা, বা নিজের ছবি সম্মতিসহ
- কণ্ঠ AI-এর বা নিজের, তিন থেকে ত্রিশ সেকেন্ড রেকর্ড
- ভিডিও দশ থেকে বিশ সেকেন্ড, সাথে পোস্টের লেখা আর হ্যাশট্যাগ
- দাম আগে দেখানো হয়, ধাপ ব্যর্থ হলে পুরো Token ফেরত
- প্রথম ভিডিও সেরা হয় না, হুক বদলে দ্বিতীয়টা বানান