দোকানের পোস্টার আর অফারের ব্যানার নিজে বানানো

ছোট দোকানের সবচেয়ে ঘন ঘন দরকার

দোকান চালালে ছবির দরকার পড়ে প্রায় প্রতি সপ্তাহে।

নতুন মাল এসেছে, ঈদের অফার, শুক্রবার বন্ধ, ডেলিভারি ফ্রি, দাম কমেছে। প্রতিটার জন্য একটা ছবি লাগে, আর প্রতিবার ডিজাইনারের কাছে যাওয়া মানে সময় আর টাকা।

ফল যা হয়: বেশিরভাগ দোকানদার ফোনে টাইপ করা সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে লেখা একটা ছবি দেন, অথবা কিছুই দেন না।

তিনটা কথা বললেই হয়

কীসের পোস্টার। ঈদের অফার, নতুন পণ্য, বন্ধের নোটিশ, ডেলিভারির খবর।

কী লেখা থাকবে। ঠিক যে শব্দগুলো চান, নিজে লিখে দিন। এটা AI-এর হাতে ছেড়ে দিলে সে নিজের মতো বানিয়ে ফেলে, আর ভুল দাম বা ভুল তারিখ ছাপা হয়ে যায়।

কোথায় ব্যবহার করবেন। ফেসবুকে পোস্ট, নাকি স্টোরিতে, নাকি ছাপাবেন। মাপটা এখান থেকেই ঠিক হয়।

বাংলা লেখা যখন ছবির উপরে বসাতে হবে, তখন এভাবে বলুন: "এই লেখা দিয়ে একটা কভার বানিয়ে দাও: ঈদ অফার, সব থ্রি পিসে ২০% ছাড়, ফ্রি ডেলিভারি। ফেসবুকে পোস্ট করার মাপে, সবুজ আর সোনালি রং।"

এই বলাটা গুরুত্বপূর্ণ, আর কারণটা পরের অংশে।

মাপটা কেন গুরুত্বপূর্ণ

কোথায়কেমন মাপ
ফেসবুক পোস্টচারকোনা
ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম স্টোরিলম্বা, দাঁড়ানো
ফেসবুক পেজের কভারচওড়া, শোয়ানো
ছাপার পোস্টারকাগজের মাপে, দাঁড়ানো

ভুল মাপে বানালে যা হয়: ফেসবুক নিজে থেকে কেটে বসায়, আর কাটতে গিয়ে প্রায়ই লেখার একটা অংশ বাদ পড়ে। দাম কেটে গেলে পোস্টটা অর্থহীন হয়ে যায়।

তাই কোথায় দেবেন সেটা বলে দেওয়াই সবচেয়ে কম খরচে সবচেয়ে বড় উন্নতি।

বাংলা লেখা ছবির ভেতরে বসাবেন না

AI-এর ছবি-মডেল বাংলা অক্ষর আঁকতে পারে না, অক্ষর ভেঙে যায়। তাই "লেখা থাকবে ঈদ অফার" এভাবে বাংলা লেখাসহ ছবি চাইলে সিস্টেম সেটা বানানোর চেষ্টাই করে না, বরং বলে দেয় অন্যভাবে চাইতে।

অন্যভাবে চাওয়াটা হলো: "এই লেখা দিয়ে একটা কভার বানিয়ে দাও"। তখন লেখাটা সত্যিকারের বাংলা ফন্টে ক্যানভাসে বসানো হয়, ছবির ভেতরে আঁকা হয় না। ফল দুইটা দিক থেকেই ভালো: বানান নিখুঁত থাকে, আর এই পথটা ফ্রি, দিনের ছবির হিসাবেও ধরা হয় না।

ছবিটা যদি শুধু পটভূমি হয়, মানে লেখা ছাড়া, তাহলে সাধারণভাবে চাইলেই হয়।

লেখা নিজে ঠিক করে দিন

এই একটা কথা বাকি সবকিছুর চেয়ে বেশি কাজে দেয়।

দাম, তারিখ, শতাংশ আর ফোন নম্বর, এই চারটা জিনিস কখনো AI-কে বানাতে দেবেন না। নিজে লিখে দিন, আর ছবি আসার পর মিলিয়ে নিন।

কারণ ছবি বানানোর AI সংখ্যা আর বাংলা যুক্তাক্ষরে ভুল করে, আর ভুল দাম দেওয়া পোস্টার দোকানের জন্য শুধু বিব্রতকর নয়, ক্ষতিকর: খদ্দের ওই দামেই চাইবেন।

ছবি আসার পর তিনটা জিনিস অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে নিন: দাম, তারিখ আর ফোন নম্বর।

ছাপাতে হলে

স্ক্রিনে দেখার ছবি আর ছাপার ছবি এক জিনিস নয়।

ফেসবুকে দেওয়ার জন্য সাধারণ ফ্রি ছবিই যথেষ্ট। কিন্তু বড় করে ছাপালে, যেমন দোকানের সামনে টাঙানোর ব্যানার, তখন সাধারণ ছবি ঘোলা দেখায়।

সেজন্য HD চালু করে বানান। প্রতিটা HD ছবিতে ২,৫০০ Token কাটে, আর সেটা দিনের ফ্রি হিসাবের বাইরে।

ছাপার দোকানে যাওয়ার আগে তাঁদের জিজ্ঞেস করে নিন কত বড় ফাইল লাগবে, কারণ ব্যানারের মাপভেদে চাহিদা আলাদা।

একটা ধাঁচ ধরে রাখুন

প্রতিবার নতুন রং আর নতুন ধাঁচে পোস্টার বানালে কোনোটাই মনে থাকে না।

সহজ নিয়ম: দুইটা রং বেছে নিন যেগুলো আপনার দোকানের, আর প্রতিটা পোস্টারে সেই দুইটাই ব্যবহার করুন। লোগোটা একই জায়গায় বসান।

তিন মাস পরে মানুষ ফিডে স্ক্রল করতে করতে আপনার পোস্টার দেখলে নাম না পড়েই বুঝবেন এটা কার। ওই চেনাটাই ব্র্যান্ড।

লোগো বানানোর নিয়মটা লোগোর লেখায় আছে, আর ফেসবুকে কী লিখে দেবেন সেটা নিয়ে ফেসবুক পোস্টের লেখাটা

দাওয়াতের কার্ড আলাদা জিনিস

বিয়ে, আকিকা বা জন্মদিনের কার্ড আলাদা নিয়মে চলে, কারণ সেখানে নাম, তারিখ আর ঠিকানা নিখুঁত হতে হয়। ওটা নিয়ে দাওয়াত কার্ডের লেখাটা আলাদা করে আছে।

প্রশ্নোত্তর

পোস্টার বানাতে কি ডিজাইন জানা লাগে? না। কীসের পোস্টার, কী লেখা থাকবে আর কোথায় ব্যবহার করবেন, এই তিনটা বাংলায় বলে দিলেই হয়। ডিজাইনের কাজটা AI করে।

দাম বা তারিখ কি AI-কে লিখতে দেব? না। দাম, তারিখ, শতাংশ আর ফোন নম্বর নিজে লিখে দিন, আর ছবি আসার পর অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে নিন। AI সংখ্যায় ভুল করতে পারে, আর ভুল দামের পোস্টার দিলে খদ্দের ওই দামেই চাইবেন।

ফেসবুকে দেওয়ার জন্য কোন মাপ? পোস্টের জন্য চারকোনা, স্টোরির জন্য লম্বা দাঁড়ানো। বানানোর সময় কোথায় দেবেন সেটা বলে দিলে মাপটা ঠিক আসে, আর ফেসবুক নিজে থেকে কেটে বসিয়ে লেখা বাদ দেয় না।

ছাপানোর জন্য কী করতে হবে? HD চালু করে বানান, কারণ সাধারণ ছবি বড় করে ছাপলে ঘোলা দেখায়। প্রতিটা HD ছবিতে ২,৫০০ Token কাটে। ছাপার দোকানে আগে জিজ্ঞেস করে নিন কত বড় ফাইল লাগবে।

দিনে কয়টা ছবি বানানো যায়? ফ্রি অ্যাকাউন্টে ২০টা পর্যন্ত। এটা সাধারণত যথেষ্ট, কারণ একটা ভালো পোস্টার পেতে তিন চারটা চেষ্টাই লাগে।

প্রতিবার কি নতুন ডিজাইন করব? না করাই ভালো। দুইটা রং বেছে নিন আর সব পোস্টারে সেই দুইটাই রাখুন, লোগোটাও একই জায়গায়। কয়েক মাস পরে মানুষ নাম না পড়েই বুঝবেন পোস্টারটা কার।

বাংলা লেখা ঠিক আসে? ছবির ভেতরে আঁকা বাংলা ঠিক আসে না, তাই সিস্টেম সেটা বানানোর চেষ্টাই করে না। বাংলা লেখাসহ কিছু চাইলে বলুন "এই লেখা দিয়ে একটা কভার বানিয়ে দাও", তখন লেখাটা সত্যিকারের ফন্টে ক্যানভাসে বসে, বানান নিখুঁত থাকে, আর এই পথটা ফ্রি।

বিয়ের কার্ডও কি এভাবে বানানো যায়? যায়, তবে সেখানে নাম, তারিখ আর ঠিকানা নিখুঁত হওয়া বেশি জরুরি বলে নিয়মগুলো একটু আলাদা। দাওয়াত কার্ড নিয়ে আমাদের আলাদা একটা লেখা আছে।

সংক্ষেপে