রেস্টুরেন্টের QR মেনু বানানো, ছাপানোর খরচ ছাড়াই

নাসির উদ্দিন শামীমপ্রতিষ্ঠাতা, BanglaCodes.Com

৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · ৭ মিনিটের পড়া · রেস্টুরেন্ট, QR

এক নজরে উত্তর

রেস্টুরেন্ট বা চায়ের দোকানের জন্য QR কোডের মেনু বানাব কিভাবে?

মেনুটা আসলে একটা সাধারণ ওয়েব পেজ, আর ওই পেজের লিংক থেকে একটা QR কোড তৈরি হয়। কোডটা ছোট কার্ডে ছাপিয়ে টেবিলে রাখলে ক্রেতা ফোনের ক্যামেরা ধরলেই মেনু খোলে, ছবি আর দাম সহ। দাম বদলালে পেজটা বদলান, QR কোড একই থাকে, তাই নতুন করে ছাপাতে হয় না। সাধারণ মেনু পেজ থেকে অর্ডার জমা হয় না; অর্ডার নিতে চাইলে WhatsApp-এর বাটন বসানো যায়, আর সাইটে জমা রাখতে হলে হোস্টিং লাগে।

কাগজের মেনুর আসল খরচ

মেনু ছাপানোর খরচটা একবারের মনে হয়, কিন্তু হয় না।

চায়ের দাম পাঁচ টাকা বাড়ল, মেনু পুরোনো হয়ে গেল। নতুন একটা আইটেম যোগ হলো, মেনুতে জায়গা নেই। বর্ষায় দুইটা মেনু ভিজে নষ্ট হলো। ছয় মাস পর আবার ছাপাতে হয়।

আর মাঝের সময়টায় কী হয়: ওয়েটার এসে বলেন "ওটার দাম এখন আশি"। ক্রেতা প্রথমেই একটা ছোট অস্বস্তি নিয়ে শুরু করেন।

QR মেনুতে এই দুইটাই থাকে না। দাম বদলালে পেজটা বদলান, আর টেবিলের কার্ডটা যেমন আছে তেমনই থাকে।

জিনিসটা আসলে কী

দুইটা অংশ।

এক, একটা পেজ। সেখানে আপনার আইটেমগুলো ভাগ করে সাজানো: চা, নাশতা, ভাত-তরকারি, মিষ্টি। প্রতিটার নাম, দাম, আর চাইলে ছবি।

দুই, একটা QR কোড। ওই পেজের লিংকটাই কোডের ভেতরে। ক্যামেরা ধরলে ফোন লিংকটা পড়ে আর পেজটা খুলে দেয়।

গুরুত্বপূর্ণ কথাটা এখানেই: QR কোডের ভেতরে মেনু নেই, শুধু ঠিকানা আছে। তাই মেনু যতবার খুশি বদলান, কোডটা একই থাকে।

বানানোর ধাপ

বিল্ডারে বাংলায় বলুন কী চান। যত নির্দিষ্ট বলবেন, তত কম বার ঠিক করতে হবে।

একটা কাজের বলার ধরন: "একটা রেস্টুরেন্টের মেনু পেজ বানাও। ভাগগুলো হবে চা ও কফি, নাশতা, ভাত ও তরকারি, মিষ্টি। প্রতিটা আইটেমের নাম আর দাম থাকবে, ফোনে পড়ার মতো বড় লেখায়। উপরে দোকানের নাম আর খোলার সময়, নিচে ফোন নম্বর আর WhatsApp-এর বাটন।"

তারপর আইটেমগুলো দিন। একবারে সব দিতে হবে না; প্রথমে দশটা দিয়ে দেখুন সাজানোটা পছন্দ হয় কি না, তারপর বাকিটা।

শেয়ার চাপলে লিংকের সাথে QR কোডটাও পাওয়া যায়। সেটা নামিয়ে পাশের কম্পিউটারের দোকান থেকে ছোট কার্ড করে ছাপিয়ে নিন।

টেবিলের কার্ডটা যেমন হলে কাজ করে

  • QR-এর সাথে এক লাইন লেখা থাকুক, যেমন "ক্যামেরা ধরুন, মেনু খুলবে"। অনেকেই কোড দেখে বোঝেন না কী করতে হবে।
  • কোডটা যথেষ্ট বড় রাখুন। খুব ছোট কোড কম আলোয় পড়ে না, আর রেস্টুরেন্টে আলো কমই থাকে।
  • দোকানের নামটা কার্ডে রাখুন। কোড কাজ না করলেও ক্রেতা বুঝবেন কার্ডটা কীসের।
  • প্লাস্টিকে মুড়ে নিন বা শক্ত কাগজে ছাপান। টেবিলে পানি পড়বেই।

যা এই মেনু পারে না

সৎ থাকা দরকার, কারণ এটা না জানলে পরে হতাশা আসে।

সাধারণ মেনু পেজ থেকে ক্রেতা অর্ডার পাঠাতে পারেন না, আর কোথাও অর্ডারের লিস্ট জমা হয় না। এটা একটা পড়ার জিনিস, নেওয়ার জিনিস নয়।

দুইটা উপায়ে এটা এগোনো যায়:

WhatsApp-এর বাটন। মেনুর নিচে একটা বাটন বসান যেটায় চাপলে আপনার নম্বরে চ্যাট খোলে। ক্রেতা তখন সরাসরি লিখে অর্ডার দিতে পারেন। এতে কোনো বাড়তি খরচ নেই।

সাইটে ফর্ম। অর্ডার লিস্ট হিসেবে জমা রাখতে চাইলে হোস্টিং লাগে, আর তখন জমাগুলো ইনবক্সে আসে, যে লিংক দিয়েই ক্রেতা আসুন।

ছোট দোকানের জন্য প্রথমটাই বেশিরভাগ সময় যথেষ্ট।

দাম বদলানো

এটাই এই মেনুর সবচেয়ে বড় সুবিধা, তাই ব্যবহার করুন।

সাইটটা বানানোর পর সাইট ম্যানেজ পেজ থেকে দাম, নাম আর ছবি নিজেই বদলানো যায়, AI-কে কিছু না বলে আর কোনো Token খরচ ছাড়াই। কীভাবে, সেটা আছে নিজে সাইট বদলানোর লেখায়।

মালাই চায়ের দাম বাড়লে দুই মিনিটে বদলে দিন, আর টেবিলের কার্ড আগের মতোই থাকুক।

ছবি দিব কি না

দুই দিকেরই যুক্তি আছে।

ছবি থাকলে নতুন ক্রেতা সহজে বাছেন, আর দামি আইটেম বেশি বিক্রি হয়। কিন্তু খারাপ ছবি না থাকার চেয়েও খারাপ, আর মোবাইল ডেটায় পেজ ভারী হয়ে যায়।

মাঝামাঝি পথ: যে পাঁচ-সাতটা আইটেম আপনি সবচেয়ে বেশি বেচতে চান শুধু সেগুলোর ছবি দিন, বাকিগুলো শুধু নাম আর দাম।

ছবি তুলবেন জানালার পাশে, দিনের আলোয়, উপর থেকে। ফ্ল্যাশ নয়।

মেনুটা বাংলায় বলে বানাতে মেনু কার্ড আর QR মেনুর পেজ থেকে শুরু করুন।

প্রশ্নোত্তর

QR কোড কি বদলাতে হবে দাম বদলালে? না। কোডের ভেতরে শুধু পেজের ঠিকানা থাকে, মেনু নয়। তাই মেনু যতবার খুশি বদলান, একই কার্ড কাজ করতে থাকবে। এটাই ছাপানো মেনুর সাথে মূল পার্থক্য।

QR কোড ছাপাতে কত খরচ? কোডটা নামানো ফ্রি। ছাপানোর খরচ পাশের কম্পিউটারের দোকানের, আর সেটা কার্ডের সংখ্যা আর কাগজের মানের উপর নির্ভর করে। টেবিল অনুযায়ী কয়েকটা কার্ডই যথেষ্ট।

ক্রেতার ফোনে কি আলাদা অ্যাপ লাগবে? না। আজকাল প্রায় সব ফোনের ক্যামেরা নিজে থেকেই QR পড়ে। পুরোনো কিছু ফোনে না পড়লে ক্রেতা মেনুর লিংকটা লিখেও ঢুকতে পারেন, তাই কার্ডে ছোট করে লিংকটাও লিখে রাখা ভালো।

ইন্টারনেট না থাকলে মেনু খুলবে? খুলবে না, কারণ পেজটা ইন্টারনেট থেকে আসে। রেস্টুরেন্টে ওয়াইফাই থাকলে তার নাম আর পাসওয়ার্ড কার্ডে লিখে দিন, তাতে দুইটা কাজ একসাথে হয়।

অর্ডার কি সরাসরি রান্নাঘরে যাবে? না, এই মেনু পড়ার জিনিস। অর্ডার নিতে চাইলে WhatsApp-এর বাটন বসান, তাহলে ক্রেতা সরাসরি চ্যাটে লিখতে পারবেন। লিস্ট হিসেবে জমা রাখতে চাইলে হোস্টিং নিয়ে ফর্ম বসাতে হবে।

একাধিক শাখার জন্য আলাদা মেনু? দাম বা আইটেম আলাদা হলে আলাদা পেজ আর আলাদা QR বানান। এক হলে একটাই যথেষ্ট, শুধু ঠিকানার অংশে দুইটা শাখার কথা লিখে দিন।

মেনুটা কি Google-এ আসবে? প্রকাশ করলেই পেজটা Google-এর জন্য খোলা থাকে, ফ্রি ঠিকানাতেও; ডোমেইন কেনা লাগে না। দোকানের ঠিকানা-সময় ঠিকভাবে দেওয়া থাকলে সম্ভাবনা বাড়ে। সেটার নিয়ম আছে সার্চে দোকান দেখানোর লেখায়।

পুরোনো কাগজের মেনু কি রাখব? প্রথম কয়েক মাস রাখুন। যাঁরা QR-এ স্বচ্ছন্দ নন তাঁদের জন্য একটা কাগজের কপি হাতে থাকা ভদ্রতা, আর ওই সময়ে আপনি দেখতেও পাবেন কতজন আসলে কোডটা ব্যবহার করছেন।

সংক্ষেপে

  • QR কোডে মেনু থাকে না, শুধু পেজের ঠিকানা থাকে
  • তাই দাম বদলালে কার্ড ছাপাতে হয় না
  • কার্ডে এক লাইন ইনস্ট্রাকশন আর দোকানের নাম রাখুন
  • সাধারণ মেনু থেকে অর্ডার জমা হয় না, WhatsApp বাটনই সহজ পথ
  • অর্ডার লিস্ট হিসেবে চাইলে হোস্টিং আর ফর্ম লাগে
  • সব আইটেমের নয়, বেছে কয়েকটার ছবি দিন