নিজের সাইটে ব্লগ আর নতুন পেজ, HTML না জেনেই

সাইট বানানোর পরে আসল কাজটা শুরু হয়

সাইট একবার দাঁড়িয়ে গেলে বেশিরভাগ মানুষ আটকে যান একটা জায়গায়: নতুন কিছু লিখতে চাইলে কী করবেন।

দাম বদলানো, ছবি বদলানো, ফোন নম্বর ঠিক করা, এগুলোর জায়গা সবাই খুঁজে পান। কিন্তু "এই মাসের অফারটা নিয়ে একটা লেখা দিই" বা "আমাদের সম্পর্কে একটা পাতা থাকা দরকার", এই জিনিসটা কোথায় করতে হয় সেটা পরিষ্কার থাকে না।

জায়গাটা সাইট ম্যানেজ পাতার ভেতরেই আছে, আর কোড জানার দরকার হয় না।

পেজ আর পোস্ট, দুইটা আলাদা জিনিস

জিনিসকী কাজেউদাহরণ
পেজযেটা বদলায় নাআমাদের সম্পর্কে, শর্তাবলী, যোগাযোগ
ব্লগ পোস্ট (blog/ দিয়ে শুরু)যেটা তারিখ ধরে জমেএই মাসের অফার, নতুন পণ্য এলো

পার্থক্যটা ঠিকানায়। পেজ একা দাঁড়িয়ে থাকে, আর যেসব পাতার ঠিকানা blog/ দিয়ে শুরু, সেগুলো নিজে থেকেই একটা লিস্টে সাজানো থাকে, নতুনটা উপরে।

দোকানের জন্য সাধারণত দুইটাই লাগে: কয়েকটা স্থায়ী পাতা, আর একটা জায়গা যেখানে নতুন খবর জমে।

লেখার নিয়মটা

সাইট ম্যানেজ পাতায় পেজের অংশে গিয়ে নতুন পেজ যোগ করুন। তিনটা জিনিস লাগে:

ঠিকানা। পাতাটা সাইটের কোন ঠিকানায় বসবে, যেমন amader-somporke। ছোট হাতের ইংরেজি অক্ষর, সংখ্যা আর ড্যাশ চলে। ব্লগ পোস্ট হলে ঠিকানাটা blog/ দিয়ে শুরু করুন, যেমন blog/eid-offer, কারণ ওই ঠিকানার পাতাগুলোই নিজে থেকে একটা লিস্টে সাজানো হয়।

শিরোনাম। পাতার উপরে যে নামটা দেখা যাবে। এটা ঠিকানার চেয়ে আলাদা, আর এটা বাংলায় লিখলেই হয়।

লেখা। সাধারণ বাংলায় লিখুন। নতুন প্যারাগ্রাফ শুরু করতে মাঝে একটা খালি লাইন দিন, কারণ শুধু এন্টার চাপলে সেটা একই প্যারাগ্রাফের ভেতরে থেকে যায়। শিরোনাম বসাতে চাইলে লাইনের শুরুতে ## লিখে দিন।

সেভ। সেভ করা মানেই লাইভ হওয়া। আলাদা করে আবার Publish করতে হয় না।

শেষেরটা অনেকে ধরতে পারেন না, তাই আবার বলি: এই পাতায় সেভ করা মানেই লাইভ সাইটে বসে যাওয়া। সেভ করার পর নিজের সাইটে গিয়ে দেখে নিতে পারেন।

কয়টা পেজ লেখা যায়

প্ল্যানপেজ
ফ্রি অ্যাকাউন্ট৫টা
লাইফটাইম হোস্টিং১৫টা
Business৫০টা
Commerce২০০টা

ফ্রি অ্যাকাউন্টেও পেজ লেখা যায়, এটা আগে যেত না। পাঁচটা পেজ মানে আমাদের সম্পর্কে, যোগাযোগ, শর্তাবলী আর দুইটা লেখা: বেশিরভাগ ছোট দোকানের শুরুর জন্য যথেষ্ট।

লিমিট শেষ হলে পাতাটা নিজেই বলে দেয়, আর পুরোনো কোনো পেজ মুছে জায়গা খালি করা যায়।

গুগলে আসার জন্য যেটা কাজে দেয়

একটা সাইটে যত বেশি সত্যিকারের লেখা থাকে, গুগল তত বেশি কিছু নিয়ে সেটাকে দেখাতে পারে।

দোকানের একটামাত্র পাতা মানে গুগলের কাছে একটামাত্র প্রশ্নের উত্তর আছে আপনার কাছে। কিন্তু "শীতের কম্বল কীভাবে ধোবেন" নিয়ে একটা লেখা থাকলে সেই প্রশ্নটাতেও আপনি আসেন, আর যিনি এলেন তিনি আপনার কম্বলও দেখেন।

এই কারণেই ব্লগ অংশটা দোকানের জন্য সাজানোর জিনিস নয়, খদ্দের আনার জিনিস।

দুইটা কথা মনে রাখলে ভালো হয়। যা নিয়ে সত্যিই জানেন সেটা নিয়ে লিখুন, কারণ ধারে আনা লেখা পড়লেই বোঝা যায়। আর নিয়মিত লিখুন, মাসে একটা হলেও, কারণ এক দিনে দশটা লিখে ছয় মাস চুপ থাকার চেয়ে ওটা ভালো কাজ করে।

গুগলে আসার বাকি কাজগুলো গুগলে দোকান দেখানোর লেখায় আলাদা করে বলা আছে।

কী লিখবেন, যদি মাথায় না আসে

দোকানের জন্য যেগুলো প্রায় সবসময় কাজে দেয়:

সেবার ব্যবসার জন্য আরও দুইটা: কাজটা করতে কত সময় লাগে, আর দাম কীসের উপর নির্ভর করে।

লেখা শুরু করতে না পারলে বিল্ডারের চ্যাটে বাংলায় বলুন কী নিয়ে লিখতে চান, খসড়াটা এসে যাবে। তারপর সেটা নিজের মতো ঠিক করে পেজে বসান।

আপনার লেখা পেজ আর ব্লগ পোস্টগুলো সাইটের অংশ, তাই সেগুলো গুগলও পড়তে পারে।

লেখার আগে যেটা ঠিক করে নেওয়া ভালো

শিরোনামটা এমন হোক যেটা মানুষ সত্যিই খোঁজে। "আমাদের নতুন সংগ্রহ" এর চেয়ে "শীতের কম্বল: কোনটা কার জন্য" অনেক বেশি মানুষ খোঁজেন।

আর প্রতিটা লেখার শেষে পাঠককে পরের ধাপটা দিন: কোথায় অর্ডার করবেন, কোন নম্বরে ফোন করবেন। লেখা পড়ে মুগ্ধ হয়ে বেরিয়ে যাওয়া পাঠক কোনো কাজে আসেনি।

সাইটের লেখা আর ছবি বদলানোর নিয়মগুলো নিজে সাইট বদলানোর লেখায় আছে, আর কোন প্ল্যানে কী পাওয়া যায় সেটা হোস্টিং প্ল্যানের লেখায়

প্রশ্নোত্তর

পেজ লিখতে কি HTML জানা লাগে? না। ঠিকানা, শিরোনাম আর লেখা দিলেই হয়। নতুন প্যারাগ্রাফ শুরু করতে মাঝে একটা খালি লাইন দিন, কারণ শুধু এন্টার চাপলে লাইনটা একই প্যারাগ্রাফে থেকে যায়। শিরোনাম বসাতে লাইনের শুরুতে দুইটা হ্যাশ চিহ্ন আর একটা স্পেস দিন। কোড লেখার দরকার নেই।

সেভ করার পর কি আবার Publish করতে হয়? না। সাইট ম্যানেজ পাতায় সেভ করা মানেই লাইভ সাইটে বসে যাওয়া। এটাই এই পাতার সবচেয়ে দরকারি সুবিধা, কারণ বিল্ডারে ফিরে গিয়ে আবার Publish করার দরকার হয় না।

ফ্রি অ্যাকাউন্টে কি পেজ লেখা যায়? যায়, ৫টা পর্যন্ত। লাইফটাইম হোস্টিংয়ে ১৫টা, Business-এ ৫০টা আর Commerce-এ ২০০টা। লিমিট শেষ হলে পাতাটা নিজেই জানিয়ে দেয়।

ব্লগ পোস্ট আর পেজের পার্থক্য কী? পার্থক্যটা ঠিকানায়। সাধারণ পেজ একা দাঁড়িয়ে থাকে, যেমন আমাদের সম্পর্কে বা যোগাযোগ। আর যেসব পাতার ঠিকানা blog/ দিয়ে শুরু, সেগুলো নিজে থেকেই একটা লিস্টে সাজানো থাকে, নতুনটা উপরে। যা বদলায় না সেটা পেজ, যা জমে সেটা পোস্ট।

লেখা কি গুগলে আসবে? পাতাগুলো সাইটের অংশ, তাই গুগল সেগুলো পড়তে পারে। তবে আসতে সময় লাগে আর নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। যা নিয়ে সত্যিই জানেন সেটা নিয়ে নিয়মিত লিখলে সম্ভাবনা বাড়ে।

পুরোনো পেজ মোছা যায়? যায়। লিমিট শেষ হলে পুরোনো কোনোটা মুছে জায়গা খালি করা যায়। মোছার আগে ভেবে নিন, কারণ ওই ঠিকানায় কেউ লিংক দিয়ে রাখলে সেটা আর কাজ করবে না।

লেখা কি AI দিয়ে লেখাতে পারি? পারেন। বিল্ডারের চ্যাটে বাংলায় বলুন কী নিয়ে লিখতে চান, খসড়া এসে যাবে। তবে খসড়াটা নিজের মতো ঠিক করে নেওয়া ভালো, কারণ আপনার দোকানের কথা আপনিই সবচেয়ে ভালো জানেন।

পেজের ঠিকানা কি নিজে ঠিক করা যায়? হ্যাঁ, ঠিকানাটা আপনি নিজে লিখে দেন, শিরোনামের সাথে সেটার সম্পর্ক নেই। ছোট হাতের ইংরেজি অক্ষর, সংখ্যা আর ড্যাশ চলে। ছোট আর পরিষ্কার ঠিকানা মানুষের মনে থাকে।

সংক্ষেপে