এই গাইডটা কাদের জন্য

ধরে নিচ্ছি আপনি জীবনে কোনো ওয়েবসাইট অনলাইনে তোলেননি। DNS, হোস্টিং, SEO, এসব শব্দ শোনেননি বা শুনলেও মানে জানেন না। কোনো সমস্যা নেই। এই গাইডে প্রতিটা শব্দ যেখানে প্রথম আসে সেখানেই বুঝিয়ে দেওয়া আছে, আর প্রতিটা ধাপে কোন বাটনে চাপ দিতে হবে সেটা ছবিসহ দেখানো আছে।

একটা কথা শুরুতেই: এই পাতায় যা করবেন তাতে কোনো Token খরচ হবে না। AI-কে কিছু বলতে হবে না, আর ভুল হলে ফেরত আসা যায়। তাই ভয় না পেয়ে হাত দিন।

প্রথমে কয়েকটা শব্দের মানে

সাইট নিয়ে কথা বলতে গেলে কয়েকটা শব্দ বারবার আসবে। একবার বুঝে নিলে বাকিটা সহজ।

শব্দমানে
সাইট বা ওয়েবসাইটইন্টারনেটে আপনার দোকানের পাতা, যেটা যে কেউ খুলে দেখতে পারে
Publishসাইটটা ইন্টারনেটে তুলে দেওয়া, যাতে আপনি ছাড়াও অন্যরা দেখতে পায়
লাইভ সাইটPublish করার পর সবাই যে ঠিকানায় সাইটটা দেখে
প্রিভিউশুধু আপনার দেখার জন্য একটা লিংক, কাজ শেষ হওয়ার আগে
ডোমেইনসাইটের নিজের ঠিকানা, যেমন rahimsweets.com
DNSডোমেইনের নাম শুনে ব্রাউজার কোথায় যাবে সেটা বলে দেওয়ার ব্যবস্থা, ইন্টারনেটের ফোনবুক
ভিজিটরযিনি আপনার সাইট খুলে দেখলেন
ইনবক্সসাইটের ফর্ম ভরে কেউ পাঠালে সেটা যেখানে জমা হয়
SEOGoogle-এ সাইটটা যাতে খুঁজে পাওয়া যায়, তার ব্যবস্থা

এগুলো এখনই মুখস্থ করার দরকার নেই। নিচে যেখানে লাগবে সেখানে আবার মনে করিয়ে দেওয়া হবে।

ধাপ ১: পাতাটা খুলুন

সাইট ম্যানেজ পাতায় যাওয়ার তিনটা পথ আছে। যেটা হাতের কাছে সেটাই।

পথ ১, সবচেয়ে সহজ। বাঁ পাশের লম্বা সাইডবারে নিচের দিকে তাকান। "টপ-আপ করুন" লেখা কমলা বাটনটার ঠিক নিচে একটা সাদা বাটন আছে, তাতে লেখা সাইট/App ম্যানেজ করুন। ওটায় চাপ দিন।

পথ ২। বাঁয়ে "বিল্ডার" লেখায় চাপ দিলে আপনার সব অ্যাপের তালিকা আসে। যেটা ম্যানেজ করতে চান তার কার্ডে ম্যানেজ বাটন।

পথ ৩। কোনো অ্যাপ খুলে থাকলে ডান পাশের প্যানেলে "সাইট/App ম্যানেজ করুন" লেখা একটা কার্ড আছে, তাতে "খুলুন"।

ফোনে সাইডবার দেখা না গেলে উপরে বাঁ কোণায় তিনটা দাগের বাটনে চাপ দিন, সাইডবার বেরিয়ে আসবে।

Publish না করা থাকলেও পাতাটা খোলে। বরং কাউকে দেখানোর আগেই লেখা ঠিক করে নেওয়াটাই স্বাভাবিক।

ধাপ ২: উপরের অংশটা চিনে নিন

!সাইট ম্যানেজ পাতার উপরের অংশ

উপর থেকে নিচে, যা যা দেখছেন:

প্রথম লাইনে "← বিল্ডারে ফিরুন", পাতার নাম "সাইট ম্যানেজ করুন", আর ডানে একটা ছোট লেবেল (Basic, Business বা Commerce) যেটা বলে আপনার সাইটে কোন প্ল্যান চালু।

দ্বিতীয় লাইনে সাইটের ঠিকানাগুলো:

তৃতীয় লাইনে সাতটা ট্যাব। ফোনে এগুলো এক লাইনেই থাকে, আঙুল দিয়ে বাঁয়ে-ডানে টানলে বাকিগুলো আসবে।

ট্যাবএখানে কী করবেনকাদের জন্য
এক নজরেকতজন এলো, কয়টা অর্ডার এলোসবার
লেখা ও ছবিসাইটের লেখা, দাম, ছবি, লোগো, রংসবার
ব্যবসা ও চেহারাঠিকানা, খোলার সময়, সোশ্যাল, ঘোষণা বার, ফন্টসবার
ইনবক্সফর্ম থেকে আসা অর্ডার আর মেসেজনিজের ডোমেইনে হোস্টিং নিলে
পেজ ও ব্লগনতুন পাতা বা ব্লগ পোস্টBusiness ও Commerce
কোড ও অটো-রিপ্লাইনিজের কোড, পেমেন্ট লিংক, SMSBusiness ও Commerce
ব্যাকআপসব তথ্য এক ফাইলে নামানোBusiness ও Commerce

ধাপ ৩: "লেখা ও ছবি" ট্যাব, রোজকার কাজের জায়গা

এই ট্যাবটাই আপনি সবচেয়ে বেশি খুলবেন। ট্যাবে চাপ দিন।

!লেখা ও ছবি ট্যাবের শুরু

প্রথমেই একটা সারি দেখবেন, "কোথায় যাবেন:" লেখা, আর পাশে কয়েকটা গোল বাটন। সাইটে যত ধরনের জিনিস বদলানো যায়, তত বাটন। যেটায় চাপ দিবেন, পাতা সোজা সেই অংশে চলে যাবে। আর আপনি এখন যে অংশে আছেন, সেই বাটনটা কালো হয়ে থাকবে, তাই কোথায় আছেন সেটা হারাবেন না।

লম্বা সাইটে এই সারিটাই সময় বাঁচাবে। ছবি বদলাতে নিচ পর্যন্ত স্ক্রল করার দরকার নেই, শুধু "ছবি" চাপুন।

৩ক: লোগো আর আইকন

!লোগো আর ব্রাউজার ট্যাবের আইকন

এখানে দুটো জিনিস।

favicon মানে ব্রাউজারের ট্যাবে সাইটের নামের পাশে যে বুড়ো আঙুলের নখের সমান ছবিটা দেখায়, সেটা। খুব ছোট, কিন্তু ট্যাব ভরে গেলে মানুষ ওটা দেখেই আপনার সাইট খুঁজে নেয়।

বদলাতে ছবি বেছে নিন বাটনে চাপ দিন। ফোন হলে গ্যালারি খুলবে, কম্পিউটার হলে ফোল্ডার। একটা ছবি বাছুন, ব্যস। বাকিটা নিজে থেকে হয়: ছবিটা চৌকো করে কেটে ছোট করে নেওয়া হয়, কারণ ব্রাউজার ওটাকে মাত্র ষোলো পিক্সেলে আঁকে।

কোন ছবি ভালো: লোগো। চওড়া ছবি দিলে দুই পাশ কেটে যাবে, আর অনেক লেখাওয়ালা ছবি ওই মাপে পড়া যায় না।

লোগো, সাইটের একদম উপরে যেটা থাকে, সেটাও এই অংশেই।

৩খ: ছবি

!সাইটের প্রতিটা ছবি, সাথে আপলোড বাটন

সাইটে যতগুলো ছবি আছে, প্রতিটার জন্য একটা করে কার্ড। কার্ডে ছবিটা দেখা যায়, নিচে ছবি বেছে নিন বাটন, আর তার নিচে ছবিটার ঠিকানা লেখা থাকে (ওই ঠিকানাটা নিয়ে আপনার কিছু করার নেই, ওটা আমাদের হিসাব)।

ছবি বদলানোর ধাপ:

  1. যে ছবিটা বদলাতে চান তার কার্ডটা খুঁজুন
  2. ছবি বেছে নিন চাপুন
  3. ফোন বা কম্পিউটার থেকে নতুন ছবিটা বাছুন
  4. কার্ডে নতুন ছবিটা দেখা যাবে
  5. নিচের সেভ করে লাইভ করুন চাপুন

প্রতিটা ছবির পাশে আরেকটা ঘর আছে: ছবিটা কীসের, এক লাইনে। এটা অনেকে খালি রাখেন, রাখবেন না। কারণ দুটো:

তাই "ছবি ১" না লিখে লিখুন "কাঠের বাক্সে সাজানো নলেন গুড়ের সন্দেশ"। কার্ডগুলোর নামও ওই লাইন থেকেই আসে, তাই পরেরবার কোন ছবিটা কোনটা সেটা এক নজরে বুঝবেন।

৩গ: সাইটের রং

!সাইটের রংগুলো, কোনটা কত জায়গায় আছে সহ

সাইটটা যে কয়টা রং দিয়ে বানানো, সেগুলো এখানে ছোট চৌকো কোঠায় দেখানো হয়। পাশে লেখা থাকে সেই রংটা কত জায়গায় ব্যবহার হয়েছে।

ওই সংখ্যাটাই আসল কাজের জিনিস। যে রংটা ২০ জায়গায় আছে, সেটাই সম্ভবত আপনার বাটন আর শিরোনামের রং। যেটা ৩ জায়গায়, সেটা কোনো একটা ছোট অংশের।

রং বদলাতে কোঠাটায় চাপ দিন, রং বাছার একটা বাক্স খুলবে। বাছার সাথে সাথেই সাইটের সব জায়গায় একসাথে বদলাবে। আধা বদলে গিয়ে সাইট অদ্ভুত দেখাবে না।

সাদা আর কালো এখানে ইচ্ছে করেই দেখানো হয় না। ওগুলো রঙের পছন্দ নয়, সাইটের কাঠামো: লেখার রং, ঘরের দাগ। ওগুলো বদলালে পুরো সাইট পড়া কঠিন হয়ে যেত।

৩ঘ: পেজের নাম আর শেয়ার

!Google আর ফেসবুকে কেমন দেখাবে তার নমুনা

এই অংশটা একটু ব্যাখ্যা দরকার, কারণ এখানে যা লিখবেন সেটা আপনার সাইটে দেখা যায় না, অথচ সবচেয়ে বেশি মানুষ ওটাই আগে পড়ে।

কেউ Google-এ কিছু খুঁজলে ফলাফলের তালিকায় প্রতিটা সাইট তিন লাইনে দেখায়: উপরে নীল রঙের একটা নাম, নিচে ঠিকানা, তার নিচে দুই লাইনের পরিচয়। ওই নীল নামটাই "পেজের নাম", আর নিচের দুই লাইন হলো "এক লাইনের পরিচয়"। মানুষ ওটা পড়েই ঠিক করে আপনার সাইটে ঢুকবে কি না।

একইভাবে ফেসবুকে বা WhatsApp-এ কেউ আপনার সাইটের লিংক পাঠালে একটা কার্ড তৈরি হয়: একটা ছবি, তার নিচে নাম আর এক লাইন। সেটাও এখান থেকেই আসে।

তাই এই ঘরগুলোতে লেখার সাথে সাথে দুটো নমুনা দেখানো হয়, একটা Google-এর মতো আর একটা শেয়ার কার্ডের মতো। লিখতে লিখতেই দেখে নিতে পারবেন নামটা লম্বা হয়ে কেটে যাচ্ছে কি না।

কী লিখবেন:

৩ঙ: লেখা, প্রোডাক্ট, বাটন আর লিংক

বাকি অংশগুলো সোজা।

লেখা অংশে সাইটের শিরোনাম, প্যারা আর লিস্টের পয়েন্ট, প্রতিটা আলাদা ঘরে। ঘরের উপরে লেখা থাকে সেটা কী ধরনের (প্রধান শিরোনাম, অংশের শিরোনাম, ইত্যাদি)।

প্রোডাক্ট অংশ শুধু দোকানের সাইটে আসে। প্রতিটা প্রোডাক্টের নাম, দাম আর ছবি আলাদা করে থাকে। দাম বদলাতে সংখ্যাটার উপর টাইপ করুন, টাকার চিহ্ন লিখতে হবে না।

বাটন আর লিংক অংশে দুই ধরনের ঘর: বাটনে কী লেখা থাকবে, আর বাটনে চাপলে কোথায় যাবে। দ্বিতীয়টার পাশে একটা ছোট বাটন আছে, চাপলে ঠিকানাটা নতুন ট্যাবে খুলে দেখাবে, তাই ঠিক আছে কি না যাচাই করা যায়।

যোগাযোগ অংশে আপনার মোবাইল নম্বর। এই ঘরটা একটু আলাদা: নম্বর বদলালে সাইটের সব জায়গায় বদলায়, লেখা নম্বরেও, ফোনের লিংকেও, WhatsApp বাটনেও। একটা বদলে আরেকটা পুরোনো থেকে গেলে ক্রেতা ভুল নম্বরে ফোন করতেন। নম্বরটা ০১XXXXXXXXX আকারে লিখুন।

৩চ: সেভ করা

পাতার নিচে একটা সাদা বার সবসময় আটকে থাকে। তাতে একটা বাটন আর পাশে লেখা কতগুলো বদল করেছেন।

সেভ করার পর অন্য কারও ফোনে পুরোনো লেখাটা বড়জোর এক মিনিট থাকতে পারে। এটা স্বাভাবিক, ইন্টারনেট পাতাগুলো একটু সময় নিজের কাছে জমা রাখে যাতে দ্রুত খোলে।

৩ছ: ভুল হলে ফেরানো

!আগের অবস্থায় ফেরান

ঘরগুলোর নিচে আগের অবস্থায় ফেরান লেখা একটা অংশ। চাপ দিলে একটা তালিকা খোলে: কখন কী বদল হয়েছিল, সবশেষ ২০টা।

যেকোনোটার পাশে এটাতে ফিরুন চাপলে সাইট ঠিক ওই অবস্থায় ফিরে যায়। আর এখনকার অবস্থাটাও তালিকায় জমা হয়, তাই ফিরে গিয়ে দেখে আবার ফেরত আসা যায়।

মানে হাত দেওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই। এটা জেনে রাখলে পরীক্ষা করে দেখতে ভয় লাগবে না।

ফেরানোর পর লাইভ সাইটে বসাতে একবার Publish করতে হয়।

ধাপ ৪: "ব্যবসা ও চেহারা" ট্যাব

!ব্যবসা ও চেহারা ট্যাব

ছোট ব্যবসার জন্য এই ট্যাবটাই সবচেয়ে দামি, অথচ সবচেয়ে কম খোলা হয়।

কেন এটা আলাদা করে দরকার

আপনার সাইটের নিচে ঠিকানা লেখা আছে। "যোগাযোগ" অংশে ফোন নম্বর আছে। উপরে লেখা আছে সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা।

Google তবু জানে না।

আপনি বা আমি পড়লে বুঝি ওগুলো দোকানের ঠিকানা আর সময়। কম্পিউটার বোঝে না, ওর কাছে ওগুলো পাতার আর দশটা লেখার মতোই লেখা। কম্পিউটারকে আলাদা করে, নির্দিষ্ট ছকে বলে দিতে হয়: এটা একটা ব্যবসা, নাম এই, ঠিকানা এই, শনিবার এই সময় খোলা।

এই ট্যাবের ফর্মটা পূরণ করলে সেই বলে দেওয়াটা নিজে থেকেই হয়ে যায়। কোড লিখতে হয় না।

এতে কী পাওয়া যায়

রাত ৯টায় কেউ ফোনে "মিরপুর ১০ মিষ্টির দোকান" লিখে খুঁজলে ফলাফলে আপনার দোকানের নামের সাথে ঠিকানা আর "এখন খোলা" লেখাটা দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়। ওই এক লাইন দেখা আর না দেখার পার্থক্যটাই একটা অর্ডার।

সৎ কথাটা হলো: তথ্য দিলেই Google দেখাবে এমন কোনো গ্যারান্টি নেই, সিদ্ধান্তটা ওদের। কিন্তু না দিলে সুযোগটাই থাকে না।

দোকানের তথ্যের ঘরগুলো

খোলার সময়

!প্রতিটা দিনের খোলার সময়

সাতটা দিনের প্রতিটার পাশে একটা টিক বাক্স আছে।

সময় ভুল দিবেন না। সাইটে রাত ১১টা লেখা দেখে কেউ সাড়ে ১০টায় এসে বন্ধ পেলে সেটা তথ্য না দেওয়ার চেয়েও খারাপ।

সোশ্যাল মিডিয়া

ফেসবুক, WhatsApp, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক। পুরো ঠিকানা দিন, মানে https:// দিয়ে শুরু হওয়া লিংকটা, শুধু পেজের নাম নয়।

ফেসবুক পেজের লিংক কীভাবে পাবেন: পেজটা খুলে ব্রাউজারের উপরের ঠিকানার ঘর থেকে পুরোটা কপি করুন।

উপরের ঘোষণা বার

!ঘোষণা বার আর তার নমুনা

সাইটের একদম উপরে এক লাইনের একটা রঙিন পট্টি। "ঈদে ৩ দিন বন্ধ", "আজ ঢাকায় ফ্রি ডেলিভারি", "আমাদের নতুন নম্বর", যা দরকার।

আগে এই এক লাইনের জন্য AI-কে বলে পুরো পাতা আবার বানাতে হতো, আর তাতে Token খরচ হতো। এখন লিখে সেভ চাপলেই হলো।

ফন্ট

ছয়টা ফন্টের তালিকা। প্রতিটাতেই বাংলা আছে, তাই লেখা ভেঙে চৌকো বাক্স হয়ে যাওয়ার ভয় নেই, বাছাইয়ের এটাই একমাত্র নিয়ম ছিল।

"সাইটের নিজের ফন্ট" রাখলে সাইট বানানোর সময় যেটা ছিল সেটাই থাকে।

সার্চ ইঞ্জিন

!সার্চ ইঞ্জিনের অংশ

Google-এ সাইটটা দেখাতে চাই না। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত, বা সাইটটা শুধু নিজের লোকদের জন্য হলে টিক দিন। কাজ শেষে টিক তুলে দিতে ভুলবেন না, নইলে সাইটটা কেউ খুঁজে পাবে না।

Google Analytics ID আর Facebook Pixel ID। এই দুটো না বুঝলে খালি রাখুন, কিছু হারাবে না। কতজন এলো তার হিসাব "এক নজরে" ট্যাবে এমনিতেই আছে। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিলে দ্বিতীয়টা কাজে লাগে।

Google-এর যাচাই কোড। Google Search Console নামে Google-এর একটা টুল আছে, সেটা ব্যবহার করলে এক লাইনের একটা কোড দেয়। সেটা এখানে বসাতে হয়। এটাও না বুঝলে ছেড়ে দিন।

সেভ

নিচের সেভ করুন বাটন। এই ট্যাবের কিছুই Publish করতে হয় না, সেভ করলেই লাইভ সাইটে বসে যায়।

সময় লাগে পাঁচ মিনিট, একবার। তারপর ঠিকানা বা সময় বদলালে এখানে ঢুকে বদলে দিলেই হলো।

ধাপ ৫: "এক নজরে" ট্যাব, কতজন আসছে

চারটা সংখ্যা আর একটা চার্ট।

নিচের চার্টে গত ৩০ দিনের প্রতিদিনের ভিজিটর। কোনো দিনের উপরে একটা কমলা ফোঁটা থাকলে বুঝবেন সেদিন কেউ ফর্ম পাঠিয়েছিল।

তার নিচে অ্যাডমিন কখন দেখেছে। সাপোর্টের জন্য আমাদের কেউ আপনার এই পাতাটা খুললে সময়সহ এখানে লেখা থাকে। কেউ না খুললে "কেউ দেখেনি"। এটা রাখা আছে যাতে "প্রতিটা দেখা লেখা থাকে" কথাটা আপনাকে বিশ্বাস করতে না হয়, নিজে দেখে নিতে পারেন।

ধাপ ৬: সাইট Publish করা আর নামিয়ে নেওয়া

Publish মানে কী

সাইট বানানোর পর সেটা প্রথমে শুধু আপনার। ইন্টারনেটে তুলে দেওয়ার কাজটার নাম Publish। একবার Publish করলে যে কেউ লিংকটা পেলে সাইটটা দেখতে পাবে।

সাইট Publish করা না থাকলে পাতার উপরে হলুদ একটা লাইন আসবে, আর পাশে এখনই Publish করুন বাটন। চাপ দিলেই হয়ে যায়।

"কিছু বদল লাইভ সাইটে যায়নি"

কখনো কখনো উপরে একটা লাইন দেখবেন: সাইটে কিছু বদল সেভ করা আছে যেটা এখনো লাইভ সাইটে যায়নি। পাশে আবার Publish করুন বাটন।

এটা হয় যখন আপনি বিল্ডারে AI দিয়ে কিছু বদলেছেন কিন্তু Publish চাপেননি। বাটনে চাপ দিলেই লাইভ সাইট আপ-টু-ডেট হয়ে যায়।

সাইট নামিয়ে নেওয়া

উপরের সারিতে সাইট নামিয়ে নিন। চাপ দিলে একবার জিজ্ঞেস করা হবে, তারপর লাইভ লিংকটা আর খুলবে না।

যা যা থেকে যায়: আপনার সব লেখা, সব ছবি, ইনবক্সের অর্ডার, আর ডোমেইন। কিছুই মুছে যায় না।

তাই যেকোনো সময় আবার Publish করলেই সাইট ফিরে আসে। মৌসুমি দোকান, বা ভুল করে আগেভাগে দেখিয়ে ফেলা সাইট, এসবের জন্য এটাই সহজ পথ।

ধাপ ৭: নিজের ডোমেইন

ডোমেইন জিনিসটা কী

Publish করার পর আপনার সাইটের ঠিকানা হয় এরকম: banglacodes.com/site/rahim-sweets/। এটা কাজ করে, কিন্তু ভিজিটিং কার্ডে ছাপানোর মতো নয়।

ডোমেইন হলো নিজের নামের একটা ঠিকানা, যেমন rahimsweets.com। এটা কিনতে হয়, আর প্রতি বছর ভাড়া দিতে হয় (সাধারণত ৳১,০০০ থেকে ৳১,৫০০)।

DNS জিনিসটা কী

ডোমেইন কিনলেই সাইট দেখা যায় না। কারণ ডোমেইনটা শুধু একটা নাম; ওই নাম শুনে ব্রাউজারকে কোথায় যেতে হবে সেটা কেউ বলে দেয়নি।

DNS হলো ইন্টারনেটের ফোনবুক। ওখানে লিখে রাখতে হয়: "rahimsweets.com নামটা শুনলে এই সার্ভারে যাও।" এই লিখে রাখাটাকে বলে DNS রেকর্ড বসানো, আর সেটা করতে হয় যেখান থেকে ডোমেইনটা কিনেছেন সেই কোম্পানির ওয়েবসাইটে ঢুকে।

ভয়ের কিছু নেই: কী লিখতে হবে সেটা আমরা হুবহু দেখিয়ে দিই, আপনাকে শুধু কপি করে বসাতে হয়। পুরো ধাপ ছবিসহ আছে নিজের ডোমেইন যোগ করা গাইডে।

এই পাতায় ডোমেইনের কাজ

ধাপ ৮: বাকি ট্যাবগুলো

ইনবক্স। সাইটে ফর্ম থাকলে (অর্ডার ফর্ম, যোগাযোগ ফর্ম) কেউ ভরে পাঠালে সেটা এখানে জমা হয়, আর আপনার email-এ খবর যায়। এটা চালু হয় নিজের ডোমেইনে হোস্টিং নিলে। বিস্তারিত: অর্ডার, মেসেজ আর ইমেইল

পেজ ও ব্লগ। নতুন পাতা বা ব্লগ পোস্ট, HTML না জেনেই। বিস্তারিত: নতুন পেজ আর ব্লগ পোস্ট

কোড ও অটো-রিপ্লাই। নিজের কোড বসানো, নিজের গেটওয়ের পেমেন্ট লিংক, ক্রেতাকে SMS। এগুলো একটু কারিগরি, আর Business প্ল্যানের সাথে আসে।

ব্যাকআপ। সাইটের সবকিছু এক ফাইলে নামিয়ে নিজের কম্পিউটারে রাখা। না নামালেও কিছু হারাবে না, আমরা নিজেরা প্রতি ৬ ঘণ্টায় ব্যাকআপ নিই; এটা আপনার নিজের হাতে রাখা কপি।

ছোট করে মনে রাখার তালিকা

যা করতে চানকোথায় যাবেন
দাম বদলাবোলেখা ও ছবি → প্রোডাক্ট
ছবি বদলাবোলেখা ও ছবি → ছবি
লোগো বা ট্যাবের আইকনলেখা ও ছবি → লোগো আর আইকন
সাইটের রংলেখা ও ছবি → সাইটের রং
Google-এ কী দেখাবেলেখা ও ছবি → পেজের নাম আর শেয়ার
ভুল হয়েছে, ফেরাবলেখা ও ছবি → আগের অবস্থায় ফেরান
ঠিকানা, খোলার সময়ব্যবসা ও চেহারা
উপরে অফারের লাইনব্যবসা ও চেহারা → ঘোষণা বার
কতজন এলোএক নজরে
অর্ডার এসেছে কি নাইনবক্স
নতুন পাতা বা ব্লগপেজ ও ব্লগ
সাইট বন্ধ রাখবউপরে "সাইট নামিয়ে নিন"

আটকে গেলে

যেকোনো পাতার ডান-নিচের কোণায় Help লাগবে? লেখা একটা বাটন আছে। চাপ দিয়ে বাংলায় প্রশ্ন লিখুন, সাথে সাথেই উত্তর পাবেন, আর কোন গাইডে বিস্তারিত আছে সেটাও দেখিয়ে দিবে।

মানুষের সাথে কথা বলতে চাইলে ওই একই জায়গায় Messenger আর email-এর লিংক আছে।