WordPress থেকে আসছেন? যা বদলাবে আর যা হারাবেন না
কেন মানুষ WordPress ছাড়েন
WordPress খারাপ জিনিস নয়। দুনিয়ার বিরাট অংশের সাইট ওটাতেই চলে, আর কারণ আছে।
মানুষ ছাড়েন অন্য কারণে, আর কারণগুলো প্রায় সবসময় একই কয়টা:
আপডেটের ঝামেলা। কোর আপডেট, থিম আপডেট, বারোটা প্লাগিনের আপডেট। একটা করলে আরেকটা ভাঙে।
হ্যাক হয়ে যাওয়া। পুরোনো একটা প্লাগিন দিয়ে কেউ ঢুকে পড়ে, আর একদিন সাইট খুলে দেখেন অচেনা বিজ্ঞাপন।
হোস্টিংয়ের বিল। বছরে বছরে রিনিউ, আর ভুলে গেলে সাইট বন্ধ।
ছোট একটা বদলের জন্য অন্যের উপর নির্ভরতা। দাম বদলাতে হলেও ডেভেলপারকে ফোন করতে হয়।
কী বদলায়
| WordPress-এ যেভাবে | এখানে যেভাবে |
| প্লাগিন খুঁজে ইনস্টল | বাংলায় বলে দিলে বানিয়ে দেয় |
| থিম কিনে বসানো | বলে দিলে চেহারা বদলায় |
| আলাদা হোস্টিং কেনা, বছরে রিনিউ | একবার দিয়ে সারাজীবন |
| কোর আর প্লাগিন আপডেট | কিছু করতে হয় না |
| ডেভেলপার ডেকে ছোট বদল | সাইট ম্যানেজ পাতা থেকে নিজে |
সবচেয়ে বড় পার্থক্যটা মানসিক। WordPress-এ আপনি একটা সিস্টেম চালান, আর সেই সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ আপনার। এখানে চালানোর জিনিসটা আমাদের, আর আপনার কাজ শুধু লেখা আর দাম ঠিক রাখা।
কী হারাবেন, সত্যি কথাটা
এখানে সৎ থাকা দরকার, কারণ মাইগ্রেশনের সিদ্ধান্ত ভুল হলে সেটা মাসখানেক ভোগায়।
হাজারটা প্লাগিনের দুনিয়া নেই। WordPress-এ যেকোনো অদ্ভুত জিনিসের জন্য কারও না কারও বানানো প্লাগিন আছে। এখানে যা নেই, সেটা বলে বানিয়ে নিতে হয়, আর সবকিছু বানানো যায় না।
পুরোনো লেখা নিজে থেকে আসে না। WordPress থেকে সব পোস্ট এক ক্লিকে টেনে আনার কোনো বোতাম নেই। যেগুলো দরকার, সেগুলো নিজে কপি করে নতুন পেজে বসাতে হয়।
খুব বড় দোকান হলে ভাবুন। হাজার হাজার পণ্য, জটিল ভ্যারিয়েন্ট আর অনেকগুলো ভাষা থাকলে WooCommerce-ই এখনো বেশি সাজানো।
কোন দোকানের জন্য কী লাগে সেটা দোকানের ওয়েব অ্যাপের লেখায় ধরে ধরে বলা আছে।
ডোমেইনটা হারায় না
এটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভয় থাকে, আর ভয়টা অমূলক।
আপনার ডোমেইন, ধরুন aiinbangla.com, সেটা আপনার নিজের কেনা জিনিস, আর যেখান থেকে কিনেছেন সেখানেই থাকে। শুধু ঠিকানার খাতায়, মানে DNS-এ, একটা ঘর বদলাতে হয়, যাতে ওই নামটা নতুন সাইটের দিকে দেখায়।
মানে খদ্দের একই ঠিকানা লিখবেন, আর নতুন সাইট খুলবে। ভিজিটিং কার্ডে ছাপানো ঠিকানা বদলাতে হয় না।
কীভাবে করতে হয় সেটা ডোমেইন যোগ করার লেখায় ধাপে ধাপে আছে।
যেভাবে সরালে ঝামেলা কম
নতুনটা আগে দাঁড় করান। পুরোনো সাইট চালু রেখে নতুনটা বানিয়ে ফেলুন। দুইটা একসাথে থাকতে পারে, কারণ ডোমেইন বদলানোর আগে পর্যন্ত নতুনটা আলাদা ঠিকানায় থাকে।
যা সত্যিই দরকার সেটুকু আনুন। পাঁচ বছরের দুইশোটা পোস্টের মধ্যে বাস্তবে দশটা পড়া হয়। গুগল অ্যানালিটিক্স খুলে দেখুন কোনগুলোতে মানুষ আসে, সেগুলো আনুন, বাকিগুলো নিয়ে ভাবার দরকার নেই।
ছবিগুলো নামিয়ে নিন। পুরোনো সাইটের মিডিয়া লাইব্রেরি থেকে যেগুলো লাগবে সেগুলো নামিয়ে রাখুন, তারপর নতুন সাইটে বসান।
ডোমেইন সবশেষে বদলান। নতুন সাইট পুরো ঠিক হওয়ার পরে DNS-এর ঘরটা বদলান। এক দিনের মধ্যে সব জায়গায় ছড়িয়ে যায়।
পুরোনো হোস্টিং এক মাস রেখে দিন। সব ঠিক আছে নিশ্চিত হওয়ার আগে ওটা বন্ধ করবেন না। এক মাসের ভাড়া নিরাপত্তার দাম হিসেবে সস্তা।
যে ঠিকানাগুলো ভাঙবে
পুরোনো সাইটে যদি লেখাগুলোর ঠিকানা হয় aiinbangla.com/2023/05/post-name এমন, আর নতুনটায় সেটা অন্যরকম, তাহলে পুরোনো লিংকে ঢুকলে কিছু পাওয়া যাবে না।
ছোট দোকানের জন্য এটা সাধারণত সমস্যা নয়, কারণ মানুষ ভেতরের পাতার লিংক ধরে আসেন না, দোকানের নাম লিখে আসেন।
কিন্তু যদি কোনো লেখায় নিয়মিত গুগল থেকে মানুষ আসে, সেটার ঠিকানাটা নতুন সাইটেও যতটা সম্ভব একই রাখার চেষ্টা করুন। শিরোনাম একই রাখলে ঠিকানাও কাছাকাছি হয়।
খরচের হিসাব
WordPress-এ বছরে যা যায়: হোস্টিং, ডোমেইন, কখনো থিম, কখনো প্লাগিনের লাইসেন্স, আর ডেভেলপারের বিল।
এখানে ডোমেইনটা আপনার নিজের খরচ থাকে, আর হোস্টিংটা একবারের। পুরো হিসাবটা ওয়েবসাইটের খরচের লেখায় আছে, কারণ সংখ্যাগুলো এক জায়গায় থাকলে তুলনা করা সহজ।
প্রশ্নোত্তর
পুরোনো WordPress সাইটের লেখা কি নিজে থেকে চলে আসবে? না। যেগুলো দরকার সেগুলো নিজে কপি করে নতুন পেজে বসাতে হয়। বাস্তবে এটা কম কাজ, কারণ বেশিরভাগ পুরোনো পোস্ট আর কেউ পড়ে না; অ্যানালিটিক্স দেখে যেগুলোতে মানুষ আসে সেগুলোই আনুন।
ডোমেইনটা কি হারিয়ে যাবে? না। ডোমেইন আপনার নিজের কেনা, আর যেখান থেকে কিনেছেন সেখানেই থাকে। শুধু DNS-এ একটা ঘর বদলে নতুন সাইটের দিকে দেখাতে হয়, তাই ঠিকানা একই থাকে।
WooCommerce-এর মতো কার্ট আর চেকআউট কি আছে? অর্ডার নেওয়ার ফর্ম আর সাইট ইনবক্স আছে, আর নিজের bKash Merchant বা SSLCommerz-এর পেমেন্ট লিংক বাটনে বসানো যায়। তবে হাজার পণ্যের জটিল ভ্যারিয়েন্ট আর স্টক ব্যবস্থাপনা দরকার হলে WooCommerce এখনো বেশি সাজানো।
প্লাগিন ইনস্টল করা যায়? না, আর সেটাই মূল পার্থক্য। যা দরকার সেটা বাংলায় বলে বানিয়ে নিতে হয়। এতে আপডেট আর নিরাপত্তার ঝামেলা থাকে না, বিনিময়ে হাজারটা তৈরি প্লাগিনের দুনিয়াটাও থাকে না।
সরানোর সময় সাইট কি কিছুক্ষণ বন্ধ থাকবে? থাকার কথা নয়, যদি নতুনটা পুরো তৈরি করে তারপর ডোমেইন বদলান। পুরোনো সাইট চালু রেখেই নতুনটা বানানো যায়, কারণ ডোমেইন বদলানোর আগে নতুনটা আলাদা ঠিকানায় থাকে।
পুরোনো হোস্টিং কবে বন্ধ করব? সব ঠিক আছে নিশ্চিত হওয়ার অন্তত এক মাস পরে। এক মাসের ভাড়া নিরাপত্তার দাম হিসেবে সস্তা, কারণ কিছু ভুল হলে ফিরে যাওয়ার পথ খোলা থাকে।
গুগলে যে র্যাংক ছিল সেটা কি চলে যাবে? ঠিকানা বদলালে কিছু ওঠানামা হয়, এটা স্বাভাবিক। যে লেখাগুলোতে সত্যিই মানুষ আসে সেগুলোর শিরোনাম আর ঠিকানা যতটা সম্ভব একই রাখলে ধাক্কাটা কম লাগে।
হ্যাক হওয়ার ভয় কি থাকবে? WordPress-এ ভয়টা আসে পুরোনো প্লাগিন আর থিম থেকে, যেগুলো আপনাকে আপডেট রাখতে হয়। এখানে চালানোর জিনিসটা আমাদের দিকে, তাই আপডেট রাখার কাজটা আপনার নয়।
সংক্ষেপে
- প্লাগিন, থিম আর আপডেটের ঝামেলা থাকে না, বিনিময়ে প্লাগিনের দুনিয়াটাও থাকে না
- পুরোনো লেখা নিজে সরিয়ে আনতে হয়, নিজে থেকে আসে না
- ডোমেইন একই থাকে, শুধু DNS-এর একটা ঘর বদলায়
- নতুনটা আগে দাঁড় করান, ডোমেইন সবশেষে বদলান
- পুরোনো হোস্টিং এক মাস চালু রাখুন
- হাজার পণ্যের জটিল দোকান হলে WooCommerce-ই এখনো বেশি সাজানো