অঙ্ক প্র্যাকটিসের টুল
বাচ্চাদের অঙ্ক প্র্যাকটিসের জন্য নামতা আর যোগ বিয়োগের অ্যাপ কিভাবে বানাব?
বিল্ডারে বাংলায় বলুন কোন ক্লাসের জন্য কী ধরনের অঙ্ক চান, যেমন দুই অঙ্কের যোগ বা সাত এর নামতা, আর বলুন প্রতিবার নতুন অঙ্ক আসবে, উত্তর দিলেই ঠিক ভুল দেখাবে এবং কীভাবে করতে হয় তা ধাপে ধাপে বোঝাবে। শেষে কত পেল সেই নম্বরও দেখাবে। ফ্রি Model-এ পুরোটাই ফ্রি।
কী বানাবেন
একটা অঙ্ক প্র্যাকটিসের টুল। পর্দায় একটা অঙ্ক আসবে, যেমন ৪৭ + ২৮। উত্তর লিখে চাপ দিলেই বলে দিবে ঠিক হলো না ভুল হলো। ভুল হলে কীভাবে করতে হতো সেটা ধাপে ধাপে দেখাবে। তারপরই নতুন একটা অঙ্ক, আবার নতুন, যতক্ষণ খুশি। উপরে সবসময় দেখা যাবে কতগুলো ঠিক হলো।

অভিভাবকদের কাছে এটা খুব জনপ্রিয়। ছেলেমেয়েকে রোজ দশ মিনিট বসিয়ে দিলেই হলো, নতুন অঙ্ক নিজে থেকেই আসতে থাকবে, প্রতিদিন নতুন করে প্রশ্ন বানিয়ে দিতে হবে না। শিক্ষকরাও ক্লাসের জন্য একটা বানিয়ে লিংক দিয়ে দিতে পারেন।
ধাপে ধাপে
- কী ধরনের অঙ্ক, ঠিক করুন। যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, নাকি নামতা। সংখ্যাগুলো কত বড় হবে সেটাও ভেবে নিন, যেমন এক অঙ্কের, দুই অঙ্কের, নাকি তিন অঙ্কের।
- বিল্ডারে নাম দিয়ে শুরু করুন। বিল্ডার ট্যাবে গিয়ে একটা নাম লিখুন, যেমন রাফির অঙ্ক প্র্যাকটিস, তারপর বানানো শুরু করুন চাপুন।
- পরিষ্কার করে বলুন কী চান। ক্লাস, অঙ্কের ধরন, সংখ্যার আকার আর কীভাবে ফল দেখাবে, সব একসাথে লিখে দিন। নমুনা নিচে আছে।
- নিজে কয়েকটা অঙ্ক করে দেখুন। ডান পাশের প্রিভিউতে ইচ্ছা করে ভুল উত্তরও দিন। সমাধানটা ঠিকঠাক বোঝাচ্ছে কি না দেখে নিন।
- সহজ কঠিন ভাগ করে দিন। বলুন শুরুতে যেন সহজ, মাঝারি আর কঠিন, এই তিনটা বাটন থাকে। বাচ্চা বড় হলে শুধু বাটন বদলালেই চলবে।
- শেয়ার করুন বা ফোনে বসান। শেয়ার বাটনে লিংক পাবেন। Publish করলে ফোনের হোম স্ক্রিনেও বসিয়ে নেওয়া যায়, তখন ইন্টারনেট ছাড়াও চলবে।
দুটো নমুনা প্রম্পট:
ক্লাস থ্রির বাচ্চার জন্য একটা অঙ্ক প্র্যাকটিসের অ্যাপ বানাও। দুই অঙ্কের যোগ আর বিয়োগ, প্রতিবার নতুন অঙ্ক নিজে থেকে আসবে। উত্তর লিখে চাপ দিলে ঠিক না ভুল দেখাবে, ভুল হলে ধাপে ধাপে সমাধানটা দেখাবে। উপরে থাকবে কতগুলো ঠিক হলো আর কতগুলো হলো না। সব লেখা বাংলায়, বড় হরফে, মোবাইলে যেন সহজে চাপা যায়।
এবার নামতার একটা অংশ যোগ করো। ২ থেকে ২০ পর্যন্ত যেকোনো নামতা বেছে নেওয়া যাবে, প্রথমে পুরো নামতাটা দেখাবে, তারপর এলোমেলো করে প্রশ্ন করবে। দশটা প্রশ্ন শেষ হলে নম্বর দেখাবে আর কোনগুলো ভুল হয়েছিল তা বলে দিবে।

আরও ভালো করার কৌশল
- ক্লাসের নাম বলে দিন। ক্লাস টু আর ক্লাস এইট লিখলে অঙ্কের কঠিনতা নিজে থেকেই আলাদা হয়ে যায়, আপনাকে সংখ্যার লিমিট ধরে ধরে বলতে হয় না।
- সমাধান যেন সত্যিই বোঝায়। বলুন যে উত্তরের সাথে হাতে কলমে যেভাবে করা হয় সেভাবেই লাইন ধরে দেখাতে হবে, শুধু শেষ উত্তরটা নয়।
- বড় হরফ আর বড় বাটন চান। ছোট বাচ্চা ফোনে টিপবে, তাই লেখা আর বাটন বড় হলে সে নিজেই চালাতে পারবে।
- উৎসাহ দিন। পরপর পাঁচটা ঠিক হলে একটা ছোট বাহবা দেখাতে বলুন। বাচ্চারা এতে অনেকক্ষণ বসে থাকে।
- ভুলের লিস্ট রাখুন। কোন ধরনের অঙ্কে বেশি ভুল হচ্ছে সেটা শেষে দেখালে কোথায় দুর্বলতা তা এক নজরেই বোঝা যায়।
যেসব ভুল অনেকে করেন
- নম্বর সব ফোনে দেখা যাবে ভাবা। বাচ্চা কত পেল সেই হিসাব যে ব্রাউজারে সে অঙ্ক করেছে সেখানেই থাকে। আপনার ফোনে খুললে আপনি নিজের হিসাব দেখবেন, তার নয়। জানতে চাইলে তার পর্দাটাই দেখুন।
- অস্পষ্ট করে বলা। শুধু অঙ্কের অ্যাপ বানাও বললে কী পাবেন বলা মুশকিল। কোন ক্লাস, কোন নিয়ম, কত বড় সংখ্যা, বলে দিলে প্রথমবারেই কাজের জিনিস পাবেন।
- একসাথে সব চাওয়া। যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, নামতা, ভগ্নাংশ আর জ্যামিতি একবারে চাইলে সবকিছুই আধাখেঁচড়া হয়। একটা দিয়ে শুরু করুন, পরে যোগ করতে বলুন।
- ফল ভেরিফাই না করা। কয়েকটা অঙ্ক নিজে কষে মিলিয়ে নিন, বিশেষ করে ভাগ আর ভগ্নাংশে।
এরপর কী করবেন
অঙ্কের টুল দাঁড়িয়ে গেলে বলুন একটা রোজকার হিসাব যোগ করতে, যাতে বাচ্চা কোন দিন কতক্ষণ প্র্যাকটিস করল তা দেখা যায়। অভ্যাস ধরে রাখার পুরো নিয়মটা রুটিন অ্যাপের গাইডে আছে। আর অঙ্কের বদলে যদি প্রশ্ন উত্তরের পরীক্ষা চান, কুইজ অ্যাপের গাইডটা দেখে নিন।
নতুনদের যত প্রশ্ন
আমার বাচ্চা উত্তর মুখস্থ করে ফেলবে না তো?
না, প্রতিবার সংখ্যা বদলে নতুন অঙ্ক আসে। মুখস্থের সুযোগই নেই, নিয়মটাই শিখতে হয়।
কোন ক্লাসের অঙ্ক পর্যন্ত পারে?
স্কুলের পুরো পরিসর: যোগ-বিয়োগ থেকে বীজগণিত, জ্যামিতি, ত্রিকোণমিতি। যে অধ্যায় চান, নাম বলে দিন।
ভুল করলে কি বকা দেয়?
একদম না, ভুলটা কোথায় হলো ধাপে ধাপে দেখিয়ে দেয়। ভুল করাটাই তো প্র্যাকটিসের কাজ।