সোশ্যাল পোস্ট আর ক্যাপশন
ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রামের জন্য বাংলা পোস্ট আর ক্যাপশন কিভাবে বানাবো?
ছবিটার জন্য বিল্ডারে একটা পোস্টার পেজ বানাতে বলুন, মাপটা বলে দিন, ফিডের জন্য চৌকো আর স্টোরির জন্য খাড়া, তারপর PNG হিসেবে নামিয়ে নিন। বাংলা লেখা ছবির উপরে নিখুঁত বসবে। আর ক্যাপশনটা চ্যাটে চেয়ে নিন, কয়েকটা বিকল্প দিবে, পছন্দেরটা বেছে নিবেন।
সোশ্যাল পোস্ট মানে দুটো জিনিস
একটা ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম পোস্টে আসলে দুটো জিনিস লাগে। এক, ছবিটা, যেটা মানুষ স্ক্রল করতে করতে দেখে। দুই, ক্যাপশন, নিচের লেখাটা। BanglaCodes-এ দুটোই পাওয়া যায়। ছবিটা বানাবেন বিল্ডারে একটা পোস্টার পেজ দিয়ে, আর ক্যাপশনটা চেয়ে নিবেন চ্যাটে, বাংলাতেই।

মাপটা আগে ঠিক করুন
মাপ ভুল হলে ফেসবুক নিজেই ছবিটা কেটে দেয়, আর কাটা পড়ে সাধারণত আপনার সবচেয়ে দরকারি লেখাটাই। তাই প্রম্পটে মাপটা বলে দেওয়া সবচেয়ে জরুরি অভ্যাস।
- ফেসবুক ফিডের পোস্ট: চৌকো মাপ চান, এটাই সবচেয়ে নিরাপদ।
- ইনস্টাগ্রাম পোস্ট: চৌকো, বা একটু লম্বাটে খাড়া মাপ।
- স্টোরি বা রিলসের কভার: পুরো খাড়া, ফোনের পর্দার মাপে।
- ফেসবুক পেজের কভার: চওড়া আর কম উঁচু, লেখা মাঝখানে রাখুন।
- প্রোফাইল ছবি: চৌকো, আর মনে রাখবেন গোল করে কাটা হবে।
ধাপে ধাপে
ধাপ ১: বিল্ডারে নাম দিন, যেমন "ঈদের পোস্ট", তারপর "বানানো শুরু করুন" চাপুন।
ধাপ ২: কী লেখা থাকবে হুবহু লিখুন, মাপ বলুন, রং বলুন। বাংলা লেখা যেহেতু ছবির উপরে থাকবে, তাই AI ছবি নয়, একটা পোস্টার পেজ চান, তাহলে অক্ষর নিখুঁত আসবে।
ফেসবুকের জন্য একটা চৌকো পোস্টার পেজ বানাও। গাঢ় নীল পটভূমিতে সাদা বড় বাংলা লেখা "শুভ নববর্ষ ১৪৩২", নিচে ছোট করে "রহিম স্টোরের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা"। কোণায় হালকা আলপনার নকশা। বাংলা ফন্ট ঠিকভাবে বসাও আর PNG হিসেবে নামানোর বাটন দাও।
ধাপ ৩: "পাঠান" চাপুন, ডান পাশে পোস্টটা দেখুন। পছন্দ না হলে বাংলায় বলে বদলে নিন।
ধাপ ৪: ডাউনলোড বাটনে চাপ দিন, PNG ফাইলটা নেমে যাবে।
ধাপ ৫: এবার ক্যাপশন। চ্যাট ট্যাবে গিয়ে বাংলায় ক্যাপশন চেয়ে নিন, নিচের নমুনার মতো করে।
ক্যাপশনও লিখিয়ে নিন
ছবি বানানো সহজ, কিন্তু নিচে কী লিখবেন সেটা ভেবে অনেকে আটকে যান। চ্যাটে চাইলেই কয়েকটা বিকল্প পেয়ে যাবেন, তারপর যেটা ভালো লাগে বেছে নিবেন।
আমার দোকানের নববর্ষের ফেসবুক পোস্টের জন্য ৩টা বাংলা ক্যাপশন লিখে দাও। ছোট আর আন্তরিক হবে, বেশি বড় নয়, শেষে কয়েকটা মানানসই হ্যাশট্যাগ দিও। দোকানের নাম রহিম স্টোর, মিরপুরে, কাপড় বিক্রি করি।
একইভাবে অফারের পোস্ট, নতুন প্রোডাক্ট আসার খবর, দোকান বন্ধ থাকার নোটিশ, সবের ক্যাপশন চেয়ে নিতে পারেন। পছন্দ না হলে বলুন "আরও ছোট করো" বা "আরও ঘরোয়া ভাষায় লেখো"।
কোন পোস্টগুলো বেশি কাজে দেয়
- উৎসবের শুভেচ্ছা: ঈদ, পূজা, নববর্ষ, বিজয় দিবস। মানুষ শেয়ার করে বলে দূর পর্যন্ত যায়।
- অফারের পোস্ট: ছাড়ের অঙ্কটা সবচেয়ে বড় করে লিখুন, বাকি সব ছোট।
- নতুন প্রোডাক্টের খবর: প্রোডাক্টের আসল ছবি আপলোড করে তার উপর এক লাইন লেখা।
- দামের লিস্ট: পাঁচ ছয়টা আইটেম আর দাম, ক্রেতারা এটা সেভ করে রাখে।
- ক্রেতার কমেন্ট: কারও প্রশংসার কথা বড় করে লিখে দিলে বিশ্বাস তৈরি হয়।
আরও সুন্দর করার কৌশল
- এক পোস্টে এক কথা। দুটো খবর একসাথে দিলে কোনোটাই মনে থাকে না।
- লেখা বড় রাখুন। বেশির ভাগ মানুষ ফোনে ছোট করে দেখে, ছোট লেখা কেউ পড়ে না।
- একই রং ধরে রাখুন। প্রতিটা পোস্টে একই দুই রং থাকলে মানুষ আপনার পোস্ট চিনে যায়।
- একটা সেট বানিয়ে রাখুন। একবারে সাত দিনের সাতটা পোস্ট বানিয়ে রাখলে ঝামেলা কমে।
- ফোনে দেখে নিন। নামানোর পর নিজের ফোনে খুলে পড়া যাচ্ছে কিনা দেখুন।
যেসব ভুল অনেকে করেন
- AI ছবিতে বাংলা লেখা চাওয়া। ছবির ভেতরে বাংলা অক্ষর ভেঙে যায়, পোস্টার পেজ চান।
- মাপ না বলা। ফেসবুক কেটে দিবে, আর কাটা পড়বে দরকারি লেখাটাই।
- কিনারা ঘেঁষে লেখা। চারপাশে ফাঁকা জায়গা রাখতে বলুন।
- ক্যাপশন ছাড়া পোস্ট করা। ছবিটা যত সুন্দরই হোক, দুই লাইন লেখা থাকলে সাড়া বেশি মেলে।
- হ্যাশট্যাগে ভরিয়ে ফেলা। পাঁচ ছয়টাই যথেষ্ট, বেশি দিলে দেখতে খারাপ লাগে।
এরপর কী করবেন
একটা পোস্ট বানানো হয়ে গেলে সেটাকেই ভিত্তি বানিয়ে ফেলুন। একই রং আর একই লেখা দিয়ে বলুন স্টোরির মাপে আরেকটা বানিয়ে দিতে, আর একটা ছোট GIF করে দিতে। একবারের পরিশ্রমে তিন জায়গায় দেওয়ার জিনিস হয়ে যাবে।
নতুনদের যত প্রশ্ন
রোজ রোজ পোস্ট বানাতে কি রোজ আসতে হবে?
ডিজাইনটা একবার বানিয়ে রাখুন, তারপর প্রতিদিন শুধু লেখা-দাম বদলাতে বলুন। দুই মিনিটের কাজ।
ছবির মাপ কি ফেসবুকের জন্য ঠিক থাকবে?
থাকবে, পোস্টের ছবি বর্গাকার মাপে তৈরি হয়, ফেসবুক আর Instagram দুটোতেই ঠিকঠাক।
ক্যাপশনও কি AI লিখে দিবে?
দিবে, দোকানের ভাষায়, হ্যাশট্যাগসহ। পছন্দ না হলে "আরও মজা করে লেখো" বলুন।