অনলাইন দোকান ও প্রোডাক্টের ক্যাটালগ
দোকানের প্রোডাক্টের অনলাইন ক্যাটালগ কিভাবে বানাব?
বাংলায় লিখে দিন কী কী প্রোডাক্ট আছে, দাম কত আর কোন কোন ভাগে সাজাতে চান, বিল্ডার ছবিসহ একটা ক্যাটালগ পেজ বানিয়ে দিবে। প্রতিটা প্রোডাক্টের নিচে WhatsApp অর্ডার বাটন বসবে, ক্রেতা চাপ দিলেই তার ফোনে প্রোডাক্টের নাম আর দাম লেখা মেসেজ তৈরি হয়ে যাবে, সে শুধু পাঠাবে। ভেতরে অনলাইন পেমেন্ট নেই, অর্ডার আপনার কাছে মেসেজেই আসে।
কী বানাবেন
আপনার দোকানের প্রোডাক্টগুলো ছবি আর দামসহ এক পেজে সাজানো থাকবে। ক্রেতা লিংক পেলে ফোনে দেখবে, পছন্দ হলে প্রোডাক্টের নিচের বাটনে চাপ দিবে, আর সাথে সাথে তার WhatsApp খুলে আপনার নম্বরে একটা মেসেজ তৈরি হয়ে থাকবে, যাতে প্রোডাক্টের নাম আর দাম আগে থেকেই লেখা। সে শুধু পাঠান চাপবে।

একটা কথা শুরুতেই পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। ফ্রিতে বানানো এই পেজটা বড় ই-কমার্স সাইটের মতো নয়। ফ্রি পেজে ক্রেতা কার্ড বা বিকাশে ভেতরেই টাকা দিতে পারবে না, আর অর্ডারগুলো কোথাও জমাও থাকে না। অর্ডার আপনার কাছে আসবে মেসেজে বা ফোনে, আর টাকা নিবেন ক্যাশ অন ডেলিভারি বা বিকাশে। বাংলাদেশে বেশিরভাগ ছোট দোকান ঠিক এভাবেই চলে, তাই শুরুর জন্য এটাই যথেষ্ট।
অর্ডার সত্যিই জমা রাখতে চাইলে সেটাও হয়। লাইফটাইম হোস্টিং নিলে সাইটের ফর্ম সত্যি কাজ করে, নিজের ডোমেইন লাগে না: অর্ডার আর মেসেজ সাইট ড্যাশবোর্ডের ইনবক্সে জমা হয়, email-এ খবর যায়, আর কার্ট-সহ চেকআউট পেজও বানানো যায় (ক্যাশ অন ডেলিভারি সহ); Business আর Commerce-এ দিনে আরও বেশি অর্ডার নেওয়া যায়। কেমন খরচ আর কী কী পাবেন, দেখুন banglacodes.com/docs/business-hosting। এই গাইডের বাকিটা ফ্রি পেজের জন্য লেখা, দুটোতেই কাজে লাগবে।
ধাপে ধাপে
ধাপ ১: বিল্ডার ট্যাবে গিয়ে অ্যাপের একটা নাম দিন, যেমন রহিম স্টোর ক্যাটালগ। তারপর বানানো শুরু করুন চাপুন।
ধাপ ২: কাজে নামার আগে কাগজে লিস্টটা একবার লিখে ফেলুন। প্রতিটা প্রোডাক্টের জন্য তিনটা জিনিস দরকার: নাম, দাম, আর কোন ভাগে পড়ে। ভাগ মানে যেমন শাড়ি, থ্রি পিস, বাচ্চাদের জামা। হাতের কাছে ফোন নম্বরটাও রাখুন।
ধাপ ৩: লেখার বক্সে বাংলাতেই বলুন কী চান। যত পরিষ্কার বলবেন, প্রথমবারেই তত কাছাকাছি জিনিস পাবেন।
আমার কাপড়ের দোকান রহিম স্টোরের জন্য একটা প্রোডাক্টের ক্যাটালগ পেজ বানাও। তিনটা ভাগ থাকবে: শাড়ি, থ্রি পিস, বাচ্চাদের জামা। প্রতিটা ভাগে ৪টা করে প্রোডাক্ট, প্রতিটার ছবি রাখার জায়গা, নাম আর দাম ৳ চিহ্নসহ। প্রতিটা প্রোডাক্টের নিচে একটা WhatsApp অর্ডার বাটন, চাপলে যেন ০১৭xxxxxxxx নম্বরে প্রোডাক্টের নাম আর দাম লেখা মেসেজ তৈরি হয়। উপরে দোকানের নাম, নিচে ঠিকানা আর খোলার সময়। রং সবুজ আর সাদা, মোবাইলে যেন সুন্দর দেখায়।
ধাপ ৪: বানাও চাপুন। AI প্রথমে বাংলায় বলবে কী করছে, তারপর ডান পাশে পেজটা দেখা যাবে। ফোনের মতো সরু করে দেখে নিন, ক্রেতারা তো ফোনেই দেখবে।
ধাপ ৫: এবার আসল ছবি বসান। প্রথম বিল্ডেই প্রতিটা প্রোডাক্টের জায়গায় বিষয় মিলিয়ে Pexels থেকে একটা ছবি বসে যায়, তাই পেজ ফাঁকা দেখায় না; কিন্তু ক্রেতা কিনবেন আপনার জিনিস দেখে, তাই নিজের তোলা ছবিই দিন। Attach করতে পারেন দিনে ৬০টা পর্যন্ত, আর পরে একটা একটা করে বদলাতে চাইলে সাইট ম্যানেজের "লেখা ও ছবি" ট্যাবই সহজ। নিজের ছবি না থাকলে বিল্ডারের ছবি খুঁজুন বাটন থেকে অন্য ফ্রি ছবি নিতে পারেন, বা বাংলায় বর্ণনা দিয়ে ছবি বানিয়ে নিতে পারেন। শুধু মনে রাখবেন, বানানো ছবির ভেতরে বাংলা লেখা বসে না, তাই দাম বা নাম ছবির ভেতরে না চেয়ে পেজের লেখাতেই রাখুন।
ধাপ ৬: ছোট ছোট করে ঘষামাজা করুন। একবারে একটা কথা বললে ফল ভালো হয়।
দামের নিচে ছোট করে লেখো ডেলিভারি চার্জ আলাদা, আর উপরে একটা সার্চ বাক্স দাও যাতে ক্রেতা প্রোডাক্টের নাম লিখে খুঁজে নিতে পারে।
ধাপ ৭: শেয়ার চাপুন। লিংক copy হয়ে যাবে, ফেসবুক পেজে, WhatsApp গ্রুপে বা বিজ্ঞাপনে দিন। সাথে একটা QR কোডও পাবেন, ওটা প্রিন্ট করে দোকানের কাউন্টারে রেখে দিলে ক্রেতা ক্যামেরা ধরলেই পেজটা খুলবে।
আরও সুন্দর করার কৌশল
- দাম বদলালে সাথে সাথে বলুন, যেমন শাড়ির দাম ১২৫০ করে দাও। এক লাইনেই হয়ে যায়।
- যে প্রোডাক্ট শেষ, সেটা মুছে না দিয়ে তার উপরে স্টক নেই লেখা একটা লাল ছাপ বসাতে বলুন। ক্রেতা বুঝবে আপনার দোকানে জিনিসটা থাকে।
- WhatsApp মেসেজে প্রোডাক্টের নামের সাথে একটা ছোট কোড রাখতে বলুন, যেমন SH-০৩। ফোনে কথা বলার সময় কোনটা নিয়ে কথা হচ্ছে সাথে সাথে বোঝা যায়।
- ফোনে কথা বলাই যাদের সহজ, তাদের জন্য উপরে একটা কল করুন বাটন রাখুন, চাপলেই আপনার নম্বরে ডায়াল হবে।
- হোম স্ক্রিনে বসানোর মতো করে বানাতে বললে ক্রেতা পেজটা ফোনে অ্যাপের মতো রেখে দিতে পারবে, ইন্টারনেট না থাকলেও খুলবে।
যেসব ভুল অনেকে করেন
- এক প্রম্পটে পঞ্চাশটা প্রোডাক্ট ঢেলে দেওয়া। আগে চার পাঁচটা দিয়ে চেহারাটা পছন্দ করে নিন, তারপর বাকিগুলো ভাগে ভাগে যোগ করুন।
- ভুল ফোন নম্বর বসিয়ে রাখা। বানানো শেষে নিজে একবার অর্ডার বাটনে চেপে দেখুন মেসেজটা ঠিক নম্বরে যাচ্ছে কি না।
- ক্রেতাকে ভেতরেই টাকা দিতে বলা। ওটা এখানে হয় না, তাই পেজে লিখে দিন কীভাবে টাকা নিবেন, যেমন ডেলিভারির সময় হাতে হাতে, বা মেসেজে কথা বলে।
- নিজের ডোমেইনে দেওয়ার পর আর Publish না চাপা। পরে যা বদলাবেন তা লাইভ সাইটে যাবে না যতক্ষণ না আবার Publish চাপছেন।
এরপর কী করবেন
প্রথম দিন কয়েকটা অর্ডার হাতে আসার পর দেখবেন ক্রেতারা কী জিজ্ঞেস করছে। সেই প্রশ্নগুলোরই উত্তর পেজে বসিয়ে দিন, যেমন ডেলিভারি কতদিনে, ঢাকার বাইরে যায় কি না, বদলানো যায় কি না। যত প্রশ্নের উত্তর পেজে থাকবে, তত কম মেসেজ আপনাকে টাইপ করতে হবে। এরপর একই দোকানের জন্য রিসিপ্টের পেজ বা হিসাবের খাতাও বানিয়ে নিতে পারেন, দুটোই আলাদা অধ্যায়ে ধাপে ধাপে দেওয়া আছে।
নতুনদের যত প্রশ্ন
অনলাইন দোকান মানেই কি অনেক খরচ?
এখানে শূন্য টাকায় শুরু। সাইট ফ্রি, লিংক ফ্রি, অর্ডার আসে আপনার WhatsApp-এ। খরচ শুধু তখনই, যদি নিজের ডোমেইনে সাইট চান: হোস্টিংয়ের একবারের দাম, আর ডোমেইনের নিজের বছরের দাম রেজিস্ট্রারকে।
প্রোডাক্টের দাম বদলাতে কি আবার বানাতে হবে?
না, "শাড়িটার দাম ২,৫০০ করো" বললেই বদলে যায়, লিংক একই থাকে।
ক্রেতা টাকা দিবে কিভাবে?
যেভাবে এখন নেন: হাতে হাতে, bKash বা Nagad নম্বরে। অর্ডারের মেসেজে সব বিবরণ থাকে, লেনদেনটা আপনার নিজের হাতে।