নামাজ, তাসবিহ আর রমজানের টুল
নামাজের সময়সূচি বা তাসবিহ কাউন্টের অ্যাপ কিভাবে বানাব?
নামাজের সময়সূচি, তাসবিহ কাউন্ট, রমজানের সেহরি ও ইফতারের লিস্ট আর দোয়ার সংকলন সবই বানানো যায় এবং ইন্টারনেট ছাড়াই ফোনে চলে। অ্যাপ পেজের "নামাজের সময়সূচি" কার্ড থেকে বানালে অ্যাপ নিজেই বাংলাদেশের ৬৪ জেলার পাঁচ ওয়াক্তের সময় হিসাব করে; রমজানের লিস্টের সময় নিজে দিন। শেয়ারের আগে স্থানীয় মসজিদের সময়ের সাথে মিলিয়ে নিন।
কী বানাবেন
দৈনন্দিন ইবাদতের ছোট ছোট সহায়ক টুল বানানো এখানে সহজ, আর এগুলো ঘরের মানুষ থেকে শুরু করে পাড়ার সবাই ব্যবহার করতে পারে। বানানো হয়ে গেলে ফোনের হোম স্ক্রিনে বসিয়ে নেওয়া যায় এবং ইন্টারনেট ছাড়াই খোলে, যা মসজিদে বা গ্রামে খুব কাজে দেয়।

যেগুলো সবচেয়ে বেশি বানানো হয়:
- নামাজের সময়সূচি: জেলা বাছলেই আজকের পাঁচ ওয়াক্ত আর সূর্যোদয়, পরের ওয়াক্ত কোনটা আর হাতে কত সময় আছে। সময়গুলো অ্যাপ নিজেই হিসাব করে।
- তাসবিহ কাউন্ট: বড় একটা ঘরে চাপ দিলে গোনা বাড়বে, ৩৩ আর ১০০-তে একটা ইশারা।
- সেহরি ও ইফতারের লিস্ট: রমজানের ৩০ দিনের তারিখ ধরে ধরে সময়, আজকের দিনটা আলাদা রঙে।
- দোয়ার সংকলন: আরবি, বাংলা উচ্চারণ আর অর্থ, বিষয় ধরে সাজানো, খোঁজার ব্যবস্থাসহ।
- কিবলার দিক: আপনার জেলার জন্য দিকটা ছবি ও ডিগ্রিতে দেখানো, সাথে ব্যবহারের নিয়ম।
- রমজানের হিসাব খাতা: রোজা, তারাবি আর দান কোন দিন কেমন হলো, নিজের জন্য টুকে রাখা।
ধাপে ধাপে
ধাপ ১: নামাজের সময়সূচি বানাতে নিজে লিখবেন না, তৈরি কার্ড থেকে শুরু করুন। অ্যাপ পেজের টেমপ্লেটগুলোর "দরকারি টুল" ভাগে নামাজের সময়সূচি কার্ডে চাপুন। বক্সে শুধু আপনার জেলা আর মসজিদের নাম লিখে পাঠান।
ধাপ ২: এই কার্ড থেকে বানালে সময়গুলো অ্যাপ নিজেই হিসাব করে, ফোনের ব্রাউজারেই, ইন্টারনেট ছাড়াও। বাংলাদেশের ৬৪ জেলার যেকোনোটা বেছে নেওয়া যায়, আর বাছাই করা জেলা অ্যাপ মনে রাখে। হিসাবের পদ্ধতি ইসলামিক সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, করাচি (ফজর আর ইশা ১৮ ডিগ্রি), আসর হানাফি মতে, মাগরিব সূর্যাস্তে। রোজ বা মাসে মাসে নতুন সময় বসাতে হয় না।
জেলা সিলেট। মসজিদের নাম বায়তুল আমান জামে মসজিদ, উপরে বড় করে থাকবে। সবুজ আর সাদা রঙে, বয়স্করাও পড়তে পারেন এমন বড় লেখায়।
ধাপ ৩: প্রথম ফলটা এলে নিজের মসজিদের সময়ের সাথে মিলিয়ে দেখুন। মসজিদের সময় এক দুই মিনিট আলাদা হলে প্রতিটা ওয়াক্তের পাশের এক মিনিট কমানো আর বাড়ানোর বাটনে মিলিয়ে নিন, অ্যাপ সেটাও মনে রাখে। এই মিলিয়ে দেখার কাজটা কখনো বাদ দিবেন না।
ধাপ ৪: এবার সাজসজ্জা আর সুবিধা। বড় লেখা, রাতের জন্য অন্ধকার পর্দা, আর হোম স্ক্রিনে বসানোর ব্যবস্থা চান। বয়স্করা ব্যবহার করবেন ধরে নিয়ে লেখা বড় রাখতে বলুন।
একটা তাসবিহ কাউন্টের অ্যাপ বানাও। পর্দার মাঝখানে বড় একটা গোল ঘর থাকবে, যেখানে চাপ দিলে গোনা এক করে বাড়বে। ৩৩ আর ১০০ ছুঁলে ফোনে হালকা কাঁপুনি হবে আর রংটা বদলে যাবে। নিচে শূন্য করার একটা বাটন, আর তিনটা তাসবিহ আলাদা করে গোনার ব্যবস্থা: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার। অ্যাপ বন্ধ করে আবার খুললে গোনাটা যেন থাকে। ইন্টারনেট ছাড়া চলবে আর হোম স্ক্রিনে বসানো যাবে।
ধাপ ৫: পছন্দ হলে শেয়ার চাপুন আর লিংকটা পরিবার, মহল্লা বা মসজিদ কমিটির সাথে ভাগ করুন। QR কোডটা প্রিন্ট করে মসজিদের নোটিশ বোর্ডে লাগিয়ে দিলে যে কেউ ক্যামেরা ধরেই খুলে নিতে পারবে।
আরও ভালো করার কৌশল
- সময়ের উৎস লেখা থাকুক। কার্ড থেকে বানানো অ্যাপের নিচে নিজে থেকেই লেখা থাকে সময়গুলো কোন পদ্ধতিতে হিসাব করা। রমজানের লিস্টের মতো যা নিজে বসাবেন, তার নিচে লিখে দিন কোথা থেকে নেওয়া আর কোন তারিখে বসানো।
- সতর্কবাণী রাখুন। "নিজ এলাকার মসজিদের সাথে মিলিয়ে নিন" এই এক লাইনটা রাখা আদব ও দায়িত্ব দুটোই। মসজিদ ভেদে জামাতের সময় কয়েক মিনিট এদিক ওদিক হয়।
- হাতে বসানো লিস্ট আলাদা রাখুন। সেহরি ইফতারের মতো যে সময়গুলো নিজে দিবেন, সেগুলো যেন আলাদা একটা লিস্টের ফাইলে থাকে, তা বলে দিন। পরের বছর শুধু নতুন লিস্ট দিয়ে বলবেন "এটা বসাও", পুরো অ্যাপ আবার বানাতে হবে না।
- আরবি লেখার যত্ন। দোয়ার সংকলনে আরবি অংশটা বড় আর স্পষ্ট রাখতে বলুন, আর নিচে বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ। লেখাগুলো নির্ভরযোগ্য জায়গা থেকে নিয়ে নিজে পড়ে দেখে তবেই বসাবেন।
- রমজানের লিস্ট কাগজেও। সেহরি ইফতারের পুরো লিস্টটা PDF করে নামানোর বাটন রাখুন। মানুষ প্রিন্ট করে দেয়ালে টাঙায়, WhatsApp-এও পাঠায়।
যেসব ভুল অনেকে করেন
- কার্ড ছাড়া নিজে লিখে বানানো। "নামাজের সময়সূচি বানাও" নিজে লিখে পাঠালে AI নিজের মতো কোড লেখে, আর তাতে অনুমানের সময় বসতে পারে। সময় হিসাবের পরীক্ষিত কোডটা আসে শুধু নামাজের সময়সূচি কার্ড থেকে বানালে।
- সেহরি ইফতারের সময় AI-কে বানাতে দেওয়া। নামাজের কার্ড সেহরি, তারাবি বা জামাতের সময় হিসাব করে না। রমজানের লিস্টের সময় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ক্যালেন্ডার থেকে নিজে দিন; "তুমি বসিয়ে দাও" বললে অনুমানের সংখ্যা বসতে পারে, আর ইবাদতের বিষয়ে অনুমান চলে না।
- এক জেলার সময় সবার জন্য। ঢাকার সময় সিলেট বা চট্টগ্রামে হুবহু মেলে না। কার্ডের অ্যাপে জেলা বাছার ব্যবস্থা নিজেই থাকে; নিজে সময় বসানো লিস্টে কোন জেলার সময় তা বড় করে লিখে দিন।
- আজান বা বিজ্ঞপ্তির প্রতিশ্রুতি। অ্যাপ বন্ধ থাকা অবস্থায় নিজে থেকে ফোনে নোটিশ বা আজান বাজানোর ভরসা দিবেন না। অ্যাপ খোলা থাকলে সময় গোনা আর সংকেত দেখানো যায়, এটুকুই বলুন।
এরপর কী করবেন
একটা টুল দাঁড়িয়ে গেলে বাকিগুলো একই লিংকের ভেতরে ট্যাব করে যোগ করে দিতে পারেন, যেমন এক পেজে সময়সূচি, তাসবিহ আর দোয়া। রমজানের আগে সেহরি ইফতারের লিস্টটা আগেভাগে বানিয়ে রাখুন, আর মহল্লার মসজিদ কমিটিকে দেখান, তাঁরা খুশি হয়ে নোটিশ বোর্ডে QR লাগিয়ে দিবেন। মনে রাখবেন, নিজে বসানো সময় বদলালে আবার "আপডেট লাইভ করুন" চাপতে হবে, নইলে লিংকে পুরনোটাই থেকে যাবে; কার্ডের নামাজের সময় প্রতিদিন নিজেই বদলায়। আর যেকোনো ধর্মীয় লেখা প্রকাশের আগে জানাশোনা কারও চোখে একবার দেখিয়ে নেওয়াই উত্তম।
নতুনদের যত প্রশ্ন
নামাজের সময় কি নির্ভরযোগ্য?
নামাজের সময়সূচি কার্ড থেকে বানালে সময়গুলো অ্যাপ নিজেই হিসাব করে, বাংলাদেশের ৬৪ জেলার জন্য, করাচি পদ্ধতিতে আর আসর হানাফি মতে, আর সেই হিসাব আলাদা একটা পরিচিত হিসাবের সাথে মিলিয়ে পরীক্ষা করা। তবু আপনার মসজিদের সময় এক দুই মিনিট আলাদা হতে পারে, তাই একবার মিলিয়ে নিন আর দরকারে ওয়াক্তের পাশের বাটনে মিনিট কমান বা বাড়ান।
প্রতি মাসে কি নতুন সময় বসাতে হবে?
কার্ড থেকে বানানো অ্যাপে না। দিন বদলালে অ্যাপ নিজেই নতুন দিনের সময় হিসাব করে, ইন্টারনেট ছাড়াও। নিজে বসানো লিস্ট, যেমন রমজানের, বদলালে শুধু সেটা নতুন করে দিয়ে আবার লাইভ করুন।
রোজার সময়সূচিও কি বানানো যাবে?
যাবে, সেহরি-ইফতারের সময়সহ পুরো রমজানের ক্যালেন্ডার এক প্রম্পটেই। সময়গুলো ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ক্যালেন্ডার থেকে নিজে দিন।
কুরআনের আয়াত কি অ্যাপে দেওয়া নিরাপদ?
আয়াত ও অনুবাদ বসানো যায়, তবে ছাপার আগে কোনো আলেম বা নির্ভরযোগ্য কপির সাথে বানান মিলিয়ে নিন, এটা আদবেরও ব্যাপার।