নিজের পোর্টফোলিও সাইট

ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য নিজের পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট কিভাবে বানাবো?

বিল্ডারে বাংলায় লিখুন আপনি কী কাজ করেন, কয়টা কাজের নমুনা দেখাতে চান আর কীভাবে যোগাযোগ করা যাবে। এক মিনিটেই একটা পোর্টফোলিও সাইট তৈরি হয়ে যাবে, নিজের ছবি আপলোড করে বসাতে পারবেন, আর শেয়ার বাটনে চাপ দিলেই লাইভ লিংক, যা ক্লায়েন্টকে পাঠানো যায়। ফ্রি Model-এ ফ্রি।

কী বানাবেন

একটা এক পেজের পোর্টফোলিও সাইট। উপরে আপনার নাম আর এক লাইনে আপনি কী করেন, নিচে আপনার কাজের নমুনা ছবিসহ, তারপর নিজের সম্পর্কে ছোট পরিচয়, আর সবার শেষে যোগাযোগের অংশ। ফোনে আর কম্পিউটারে দুই জায়গাতেই সুন্দর দেখাবে।

বানানো পোর্টফোলিও পেজ

এটা ডিজাইনার, ডেভেলপার, ফটোগ্রাফার, লেখক, ভিডিও এডিটর, যে কারও কাজে লাগে। ক্লায়েন্ট "আগের কাজ দেখান" বললে একটা লিংক দিয়ে দিলেই হলো।

ধাপে ধাপে

ধাপ ১: বিল্ডার ট্যাবে গিয়ে অ্যাপের নাম দিন, যেমন "আমার পোর্টফোলিও", তারপর "বানানো শুরু করুন" চাপুন।

ধাপ ২: নিজের পেশা আর কাজগুলোর নাম ধরে লিখুন। এভাবে:

আমার জন্য একটা পোর্টফোলিও সাইট বানাও। নাম তানভীর হাসান, আমি গ্রাফিক ডিজাইনার, লোগো আর সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট বানাই। উপরে নাম আর এক লাইনের পরিচয়। তারপর ৬টা কাজের নমুনা রাখার জায়গা, প্রতিটার নিচে কাজের নাম আর ক্লায়েন্টের নাম লেখার জায়গা। তারপর আমার সম্পর্কে ছোট একটা অংশ। শেষে যোগাযোগ, WhatsApp নম্বর ০১৭xxxxxxxx আর ফেসবুক পেজের লিংক। রং হবে সাদা, কালো আর হালকা কমলা।

ধাপ ৩: "পাঠান" চাপুন। ডান পাশে সাইটটা তৈরি হতে দেখবেন।

ধাপ ৪: এবার নিজের আসল ছবি বসান। প্রম্পট বক্সের ছবি বাটনে চেপে নিজের কাজের ছবি বেছে নিন, তারপর বলুন "এই ছবিটা প্রথম কাজের জায়গায় বসাও"। দিনে ৬০টা ছবি আপলোড করা যায়।

ধাপ ৫: ছোটখাটো ঠিকঠাক করুন। "লেখাটা আরও বড় করো", "মোবাইলে দেখতে কেমন লাগে ঠিক করো", "কাজের ছবিতে চাপ দিলে বড় করে দেখাও", যা দরকার বলুন।

ধাপ ৬: "শেয়ার" চাপুন, লিংক copy হয়ে যাবে। ফেসবুকে, ফাইভারে, ক্লায়েন্টের ইনবক্সে যেখানে খুশি দিন।

যোগাযোগের অংশটা যেভাবে সাজাবেন

এখানে একটা কথা পরিষ্কার করে বলি। বানানো সাইট নিজে থেকে কাউকে মেইল পাঠাতে পারে না, তাই সুন্দর একটা ফর্ম বসিয়ে বসে থাকলে কোনো মেসেজই আপনার কাছে পৌঁছাবে না (লাইফটাইম হোস্টিং নিলে অবশ্য ফর্ম সত্যি কাজ করে: সাবমিশন সাইট ড্যাশবোর্ডের ইনবক্সে জমা হয়, email-এও খবর যায়; বিস্তারিত banglacodes.com/docs/hosting-kon-ta)। এর বদলে যোগাযোগটা সরাসরি WhatsApp আর ফোনে নিয়ে যান। এভাবে বলুন:

যোগাযোগের অংশে কোনো ফর্ম রেখো না। বদলে একটা বড় সবুজ বাটন দাও, তাতে লেখা থাকবে WhatsApp-এ কাজের কথা বলুন, চাপ দিলেই আমার নম্বরে চ্যাট খুলবে আর লেখা থাকবে আমি আপনার পোর্টফোলিও দেখে যোগাযোগ করছি। পাশে আরেকটা বাটন দাও যাতে চাপ দিলে সরাসরি কল যায়।

এতে যে আপনার কাজ পছন্দ করল, সে এক চাপেই আপনার সাথে কথা বলতে পারবে।

আরও সুন্দর করার কৌশল

যেসব ভুল অনেকে করেন

এরপর কী করবেন

সাইটটা তৈরি হয়ে গেলে লাইভ লিংকটা ফেসবুক প্রোফাইলে, ফাইভারের বায়োতে আর CV-তে বসিয়ে দিন। নতুন কাজ শেষ হলেই বিল্ডারে ফিরে বলুন "নতুন একটা কাজ যোগ করো", এক মিনিটের ব্যাপার। লাইভ করা ফ্রি: "ফ্রিতে লাইভ করুন" চাপলে সাইটটা নিজের নামের ঠিকানায় (apnar-site.banglacodes.app) চলে, CV-তে ওই ঠিকানাটাই দিন; নিজের কেনা ডোমেইনে নিতে চাইলে একবারের লাইফটাইম হোস্টিং ৳৬,৯৯৯ লাগবে। মনে রাখবেন লাইভ করা একটা ছবি তুলে রাখার মতো, পরে বদল করলে "আপডেট লাইভ করুন" চাপতে হবে।

নতুনদের যত প্রশ্ন

দেখানোর মতো বড় কাজ তো করিনি, পোর্টফোলিও দিয়ে কী হবে?

ছোট কাজই যথেষ্ট: টিউশনির ফল, নিজের আঁকা, কলেজের প্রজেক্ট। গুছিয়ে দেখালে ছোট কাজও পেশাদার লাগে, আর সেটাই এ পেজের কাজ।

পরে নতুন কাজ যোগ করা যাবে?

যাবে, "নতুন একটা কাজ যোগ করো" বলে ছবি দিলেই গ্যালারিতে উঠবে। লিংক একই থাকে।

ক্লায়েন্ট কিভাবে যোগাযোগ করবে?

পেজের নিচে WhatsApp বাটন, ফোন নম্বর আর email লিংক থাকে, ক্লায়েন্ট চাপলেই সরাসরি আপনার কাছে মেসেজ। ফর্ম রাখা হয় না, কারণ স্ট্যাটিক সাইট নিজে থেকে মেইল পাঠাতে পারে না; ফর্মই লাগলে "অর্ডার, মেসেজ আর ইমেইল" গাইডটা দেখুন।

এরপর পড়ুন