মোবাইল দিয়েই ব্যানার তৈরি করুন, বাংলা লেখা নিখুঁত

দোকানের অফার, ভর্তি চলছে, ঈদ বা মাহফিলের ব্যানার বাংলায় বলে বানিয়ে নিন। ফেসবুকের মাপে বা ছাপার মাপে, নিখুঁত বাংলা লেখায়, ছবি হিসেবে নামিয়ে নিন।

ব্যানার বানিয়ে দিন

একটা ব্যানার বানিয়ে দাও বললে কি ছাপার মাপের ব্যানার পাওয়া যাবে?

যাবে। ব্যানারে হুবহু কী লেখা থাকবে লিখুন, আর মাপ বলুন: কত ফুট চওড়া আর কত ফুট উঁচু, নাকি ফেসবুক পেজের কভার। লেখা বসবে আসল বাংলা ফন্টে, তাই যুক্তাক্ষর ভাঙবে না; শেষে ব্যানারটা PNG ছবি হয়ে নামবে। ডিজাইনটা এখানে ফ্রিতে হবে, আর ছাপাবে আপনার পছন্দের ছাপার দোকান।

ব্যানার বানানোর তিনটা ধাপ, ফোন থেকেই

  1. লেখা আর মাপ দিন: ব্যানারে হুবহু কী লেখা থাকবে, আর কত বড়: ফুটে, পিক্সেলে, নাকি ফেসবুকের কভার।
  2. দূরে ধরে পড়ে দেখুন: ব্যানারটা স্ক্রিনে এলে ফোনটা হাত থেকে দূরে ধরে দেখুন লেখা পড়া যায় কি না। না গেলে বলুন "লেখা কমাও, নামটা আরও বড় করো"।
  3. PNG নামিয়ে ছাপান: নামানোর বাটনে চাপ দিলে ব্যানারটা ছবি হয়ে ফোনে নামবে। ফেসবুকে দিন, নয়তো ছাপার দোকানে ফ্লেক্সে ছাপিয়ে নিন।

ব্যানারের ডিজাইন করাতে আর দোকানে বসে থাকতে হবে না

ব্যানার লাগলে সাধারণত ছাপার দোকানেই পাশে বসে ডিজাইন করাতে হয়, আর বানান ভুলটা ধরা পড়ে ছাপা হওয়ার পরে। AI দিয়ে নিজে বানাতে গেলে আরেক ঝামেলা: বাংলা লেখা ভেঙে আসে, আর ব্যানার আসে চারকোনা, দোকানের সামনে টাঙানোর মতো চওড়া নয়।

এখানে আপনি বলবেন কী লেখা থাকবে আর কত বড়, ব্যানারটা সেই চওড়া মাপেই সাজানো হবে, লেখা বসবে আসল বাংলা ফন্টে। ছাপাতে দেওয়ার আগে যতবার দরকার দেখে বদলে নিতে পারবেন।

ব্যানার পড়া হয় দূর থেকে, তাই লেখা কম আর অক্ষর বড়

পোস্টার মানুষ ফোনে হাতে ধরে পড়েন, ব্যানার পড়েন রাস্তা থেকে, হেঁটে বা রিকশায় যেতে যেতে। দুই তিন সেকেন্ডে যতটুকু পড়া যায়, ব্যানারে ততটুকুই কাজ করে।

ছাপার ব্যানারের মাপ: ফুটে বলুন, ফাইলের মাপ দোকান থেকে জেনে নিন

ছাপার ব্যানার ফুটে মাপা হয়, যেমন ৬ ফুট বাই ৩ ফুট, বা সাইনবোর্ডের জন্য ১০ ফুট বাই ৩ ফুট। লেখার সময় মাপটা এভাবেই বলুন, তাহলে চওড়া আর উচ্চতার অনুপাত ঠিক থাকবে।

ব্যানার যত বড়, ফাইলও তত বড় লাগে। দোকানে আগে জিজ্ঞেস করুন: "এই মাপের ব্যানারের জন্য কত পিক্সেলের ফাইল লাগবে?" নামানোর পরে গ্যালারিতে ছবির ডিটেইলস খুলে মাপ মিলিয়ে নিন; কম হলে বিল্ডারে বলুন বড় করতে।

পেছনে AI দিয়ে বানানো ছবি থাকলে বড় ছাপার জন্য সেটা চ্যাটে HD চালু করে বানান, খুঁটিনাটি বেশি পরিষ্কার আসবে। প্রতিটা HD ছবিতে ২,৫০০ প্রিমিয়াম Token কাটবে, দিনের ফ্রি ছবির হিসাবের বাইরে। ব্যানারের লেখায় HD লাগবে না, কারণ লেখা বসবে ফন্টে।

ফেসবুক পেজের কভার: পর্দার জন্য চওড়া ব্যানার

ফেসবুক পেজের কভারও একটা ব্যানার, শুধু পর্দার জন্য। কম্পিউটারে কভার পুরো চওড়া দেখায়, কিন্তু ফোনে দুই পাশ খানিকটা কেটে যায়। তাই পেজের নাম আর মূল কথা মাঝখানে রাখতে বলুন, কিনারায় থাকুক শুধু রং বা নকশা।

লিখুন "ফেসবুক পেজের কভারের মাপে"। চ্যাট থেকেও কভার হয়: লেখাটা দিয়ে বলুন "এই লেখা দিয়ে একটা কভার বানিয়ে দাও, ফেসবুক পেজের কভারের মাপে"। লেখা বাংলা ফন্টে বসবে, নামানোর বাটন আসবে, আর দিনের ছবির হিসাবে এটা ধরা হবে না।

কোন ব্যানারে কী লিখবেন: দোকান, ভর্তি, ঈদ, মাহফিল

দোকানের সাইনবোর্ড আর অফারের ব্যানার। সাইনবোর্ডে দোকানের নাম সবচেয়ে বড়, নিচে এক লাইনে কী পাওয়া যায় আর ফোন নম্বর; অফার এখানে নয়, সাইনবোর্ড থাকবে বছরের পর বছর। অফারের ব্যানার আলাদা: ছাড়টা সবচেয়ে বড়, সাথে শেষ তারিখ।

টেইলার্স আর কোচিং সেন্টার। টেইলার্সের ব্যানারে কী কী সেলাই করেন (থ্রি পিস, ব্লাউজ, পাঞ্জাবি) আর কত দিনে ডেলিভারি। কোচিংয়ের ব্যানারে কোন ক্লাস, কোন বিষয় আর ব্যাচের সময়; ব্যানার, লিফলেট আর সাইট একসাথে লাগলে কোচিং সেন্টারের পেজ দেখুন।

ভর্তি চলছে ব্যানার। "ভর্তি চলছে" কথাটাই সবচেয়ে বড়, তার নিচে কোন ক্লাস বা সেশন, শেষে প্রতিষ্ঠানের নাম আর ঠিকানা। গেটে টাঙালে নম্বরটা মোটা করে দিন, অভিভাবক যেতে যেতে ছবি তুলে রাখেন।

ঈদ আর মাহফিলের ব্যানার। ঈদের ব্যানারে শুভেচ্ছা আর দোকান বা সংগঠনের নাম, অফার এক লাইনে। মাহফিলের গেটের ব্যানারে মাহফিলের নাম, তারিখ ও বার, আর প্রধান বক্তার নাম পদবিসহ, আপনার দেওয়া বানানেই।

জন্মদিনের ব্যানার। নাম আর "শুভ জন্মদিন" বড় করে, চাইলে ছবিসহ। ছবিটা বিল্ডারে দিন, লেখা বসবে ছবির পাশে; ছবির ভেতরে লেখা আঁকতে বলবেন না।

ব্যানার কত টাকা ফুট? ডিজাইন আর ছাপার খরচ আলাদা

ব্যানারের ফুট প্রতি দাম হলো ছাপার দাম, আর সেটা ঠিক করে ছাপার দোকান: ফ্লেক্স না কাপড়, কত বড়, কয়টা, কত তাড়াতাড়ি লাগবে, এসবের উপর। আমরা ছাপাই না, তাই রেট বলব না; দুই তিনটা দোকানে একই মাপ বলে দাম জিজ্ঞেস করুন।

ডিজাইনের অংশটা এখানে ফ্রিতে হবে। রোজ ৪,০০,০০০ পর্যন্ত ফ্রি AI টোকেন পাবেন, ব্যানার বানানো আর কয়েকবার বদলানো সাধারণত তার মধ্যেই হয়ে যাবে। তৈরি ফাইল নিয়ে গেলে দোকানে বসে ডিজাইন করাতে হবে না।

ব্যানার বানানো আর ছাপা নিয়ে প্রশ্নোত্তর

ব্যানার কত টাকা ফুট?

ফুট প্রতি দাম ঠিক করে ছাপার দোকান, আর সেটা বদলায় ফ্লেক্স না কাপড়, মাপ আর কয়টা ছাপাবেন তার উপর। আমরা ছাপাই না, তাই রেট বলব না; দুই তিনটা দোকানে জিজ্ঞেস করে নিন। ডিজাইনটা এখানে ফ্রিতে বানিয়ে নিন।

মোবাইল দিয়ে কি ব্যানার তৈরি করা যায়?

যায়। লেখা, মাপ বলা, দেখে বদলানো আর PNG নামানো সবই ফোনের ব্রাউজারে, এই ব্যানার বানানোর ওয়েবসাইটেই হবে। কোনো অ্যাপস বা কম্পিউটার লাগবে না।

ব্যানার বানানোর সফটওয়্যার ছাড়া কি ছাপার মতো ফাইল হবে?

হবে, যদি মাপটা ঠিক বলেন। ছাপার দোকান থেকে জেনে নিন কত পিক্সেলের ফাইল লাগবে, সেই সংখ্যা লিখে দিন, আর নামানোর পরে গ্যালারিতে ছবির মাপ মিলিয়ে নিন।

ব্যানারে কতটুকু লেখা রাখা উচিত?

যত কম, তত ভালো: নাম বা মূল কথা এক লাইনে, নিচে এক লাইন, আর ফোন নম্বর। রাস্তা থেকে মানুষ দুই তিন সেকেন্ডের বেশি তাকান না।

ব্যানার টেমপ্লেট কোথায় পাব?

আলাদা টেমপ্লেট খুঁজতে হবে না। বাংলায় বলুন কীসের ব্যানার আর কী লেখা, AI সেই হিসেবে সাজিয়ে দিবে; পছন্দ না হলে বলুন "অন্য ধাঁচে বানাও" বা "রং বদলাও"।

বড় করে ছাপালে ব্যানার ঝাপসা আসবে না তো?

লেখা বসবে ফন্টে, তাই বানানো মাপে ঝকঝকে থাকবে। ঝাপসা হয় ছোট ফাইল অনেক বড় করে ছাপালে, তাই ছাপার দোকানের বলা মাপেই বানান।

আরও পড়ুন

আরও যা বানিয়ে নিতে পারেন

আর কী কী বানানো যায়, সব দেখুন