প্রথম অ্যাপ (বিল্ডার)
BanglaCodes দিয়ে প্রথম ওয়েবসাইট বা অ্যাপ কিভাবে বানাব?
বিল্ডার ট্যাবে অ্যাপের নাম দিয়ে বানানো শুরু করুন, তারপর বাংলায় লিখুন কী চান আর বানাও চাপুন, ডান পাশেই সাইটটা তৈরি হয়ে যাবে। এরপর বলে বলে ঘষামাজা করুন, প্রতিটা বদলের আগে অটো সেভ হয়। শেষে শেয়ার চাপলে লাইভ লিংক আর QR কোড পাবেন।
চলুন, একটা পোর্টফোলিও বানাই
ধরুন আপনার একটা personal ওয়েবসাইট দরকার। ধাপে ধাপে দেখাচ্ছি।

ধাপ ১: "বিল্ডার" ট্যাবে গিয়ে উপরের বড় বক্সে লিখুন কী বানাতে চান:
আমার জন্য একটা পোর্টফোলিও সাইট বানাও। উপরে আমার নাম "নাসির উদ্দিন শামীম" আর একটা ছোট পরিচয়। মাঝে আমার ৩টা কাজের নমুনা রাখার জায়গা। নিচে যোগাযোগের ফর্ম। রং হবে গাঢ় নীল আর সাদা।
ধাপ ২: "বানানো শুরু করুন" চাপুন। বিল্ডার খুলবে, আর কয়েক সেকেন্ডে নিজে থেকেই বানানো শুরু হবে। তার আগে চাইলে বক্সের ওপরের "শুরুর আগে ঠিক করে নিন" কার্ডে অ্যাপের ভাষা, কাদের জন্য, আর "ডিজাইন" চিপে সাইটের ধাঁচ আর রং বেছে নিন: যেমন ঝকঝকে রঙিন, প্রিমিয়াম ডার্ক বা দেশি ঐতিহ্য, সাথে তৈরি রঙের জোড়া বা নিজের দুটো রং। কিছুতে চাপলেই গোনা থেমে যায়; বেছে নিয়ে নিজে "পাঠান" চাপুন।
ধাপ ৩: AI প্রথমে বাংলায় বলবে কী করছে, তারপর ডান পাশে সাইটটা দেখা যাবে: আপনার নামে একটা লোগো, হেডার আর ফুটার, আর প্রতিটা ছবির জায়গায় বিষয় মিলিয়ে বাছা আসল ছবি (Pexels থেকে, ফুটারে ফটোগ্রাফারের নাম থাকে)।
ধাপ ৪: এবার ঘষামাজা। যেমন:
- "নামটা আরও বড় করো"
- "একটা ছবি রাখার জায়গা দাও উপরে"
- "মোবাইলে দেখতে কেমন লাগে ঠিক করো"
প্রতিবার বললেই বদলে যাবে। ভয় নেই, প্রতিটা বদলের আগে অটো সেভ হয়, "আগের ভার্সন" থেকে যখন খুশি ফেরা যায়।
ধাপ ৫: হয়ে গেলে "ফ্রিতে লাইভ করুন" চাপুন। সাইটটা নিজের নামের ঠিকানায় লাইভ হবে (apnar-site.banglacodes.app), আর যে শিট খুলবে তাতে "লিংক কপি করুন", "WhatsApp-এ পাঠান" আর "সবাইকে জানান" বাটন থাকে, ফেসবুক, WhatsApp যেখানে খুশি দিন। লাইভ না করে শুধু দেখাতে চাইলে "শেয়ার" চাপলে একটা দেখার লিংক copy হয়।
দুটো দারুণ কৌশল, জেনে রাখুন
আগে প্ল্যান, পরে কাজ: লেখার বক্সের ওপরে "বানান / প্ল্যান / প্রশ্ন" থেকে "প্ল্যান" বেছে নিন (ফোনে বক্সের নিচের সারির চিপে চেপে)। তখন AI সরাসরি না বানিয়ে আগে ধাপগুলো দেখাবে: কী কী section হবে, কোন ফাইল লাগবে, ডিজাইন কেমন হবে। পছন্দ হলে "প্ল্যান মতো বানিয়ে ফেলুন" চাপুন, না হলে বলুন কী বদলাতে হবে। বড় অ্যাপে এতে Token-ও বাঁচে, ফলও ভালো হয়।
ছবি দেখিয়ে বোঝান: কোনো ডিজাইনের screenshot ভালো লাগলে copy করে প্রম্পট বক্সে paste করে দিন (বা ছবির আইকনে চেপে বেছে নিন)। AI ছবিটা দেখে সেই ধাঁচে বানাবে। নিজের সাইটের ভাঙা layout-এর ছবি দিয়ে "এটা ঠিক করো" বলাও চলে।
তৈরি টেমপ্লেট থেকে শুরু করা
নিজে লিখতে ইচ্ছা না করলে অ্যাপ পেজে ৩০টার বেশি তৈরি টেমপ্লেট আছে, সাত ভাগে সাজানো। উপরের চিপগুলোয় চেপে ভাগ বেছে নিতে পারেন, বা সার্চ বাক্সে নাম লিখে খুঁজতে পারেন:
- পড়াশোনা: পরীক্ষার প্রস্তুতি (নোট + MCQ + মক টেস্ট), ফ্ল্যাশকার্ড, পড়ার রুটিন, অঙ্ক প্র্যাকটিস
- শিক্ষক ও ট্রেইনার: সার্টিফিকেট মেকার, ক্লাস কুইজ, রেজাল্ট শিট, হাজিরা খাতা, স্কুল, মাদ্রাসা বা কোচিংয়ের সাইট
- ব্যবসা ও দোকান: দোকানের ক্যাটালগ, রেস্টুরেন্ট মেনু (QR-সহ), আয়-ব্যয়ের হিসাব, ইনভয়েস ও রিসিপ্ট, দর্জির অর্ডার খাতা, টিউশন বুকিং, কোর্স বিক্রির পেজ, ডেলিভারি অর্ডার ফর্ম, সার্ভিস বুকিং, ডাক্তারের চেম্বার, অফার ও অর্ডার পেজ
- চাকরি ও ক্যারিয়ার: CV, পোর্টফোলিও, লিংক-ইন-বায়ো
- কনটেন্ট ও সোশ্যাল: পোস্ট ও ক্যাপশন, পোস্টার ও ব্যানার, শুভেচ্ছা কার্ড, বিয়ের দাওয়াত, ইভেন্ট পেজ
- দরকারি টুল: নামাজের সময়সূচি (সময় অ্যাপ নিজেই হিসাব করে), কনভার্টার, অভ্যাস ট্র্যাকার, সমিতির হিসাব
- মজা ও গেম: কুইজ, Snake গেম, মেমোরি গেম
টেমপ্লেটে চাপলে বিল্ডার খুলবে, বক্সের ওপরে কার্ডটার নাম থাকবে, আর বক্সে হালকা করে লেখা থাকবে কোন কোন তথ্য দিলে ভালো হয় (যেমন দোকানের নাম আর ফোন)। বক্সটা আপনার: নিজের তথ্য লিখে "পাঠান" চাপুন, কার্ডের নিজের নির্দেশনা বাকিটা সামলাবে। নিজে "পাঠান" না চাপা পর্যন্ত কিছু তৈরি হবে না, তাই নিশ্চিন্তে ঘেঁটে দেখুন।
নাম দিলেই প্রম্পট তৈরি
নতুন অ্যাপ বানানোর সময় শুধু একটা নাম দিলেও চলে। নামে "দোকান", "মেনু", "হিসাব" বা "পোর্টফোলিও"-র মতো শব্দ থাকলে বিল্ডার নিজেই বুঝে নেয় কী ধরনের জিনিস লাগবে, আর সেই শুরুর নির্দেশনাটা ভেতরে ভেতরে AI-কে দিয়ে দেয়। বক্সটা তাই খালিই থাকে, আপনার জন্য: দুই লাইনে নিজের আসল তথ্য লিখুন (দোকানের নাম, কী বিক্রি করেন, ফোন), তারপর "পাঠান" চাপুন।
বানানো শেষ হলে যা হয়
প্রথমবার অ্যাপ তৈরি হয়ে গেলে একটা কার্ড আসবে, তাতে থাকবে:
- QR কোড: ফোনের ক্যামেরা ধরলেই সাইটটা খুলবে। দোকানে বসে ক্রেতাকে ফোন দেখিয়ে দিলেই হলো।
- কত সময়ে বানানো হলো: শেয়ার করার লেখাতেও ওটা বসে যায় ("৪৫ সেকেন্ডে বানিয়ে ফেললাম")।
- WhatsApp-এ পাঠান: এক চাপে বন্ধু বা ক্রেতার কাছে।
আর প্রতিবার বানানোর শেষে AI নিজে থেকেই পরের তিনটা ধাপ বলে দেয়, আপনার অ্যাপটার জন্যই। যেমন দোকানের সাইট হলে: আসল ছবি বসানো, বিকাশ নম্বর যোগ করা, খোলা-বন্ধের সময় দেওয়া। "১" লিখে পাঠালেই ও কাজে নেমে যাবে। তবে ফোন, ঠিকানা, খোলার সময় আর বিকাশ, নগদ, রকেট নম্বর বসাতে AI লাগে না: সাইট ম্যানেজের "ব্যবসা ও চেহারা" ট্যাবে লিখে সেভ করলেই পুরো সাইটে বসে যায়, Token কাটে না।
কী কী বানানো যায়
ব্রাউজারে যা চলে, প্রায় সবই: পোর্টফোলিও, দোকানের সাইট, বিয়ের দাওয়াত, রেস্টুরেন্টের মেনু, কুইজ, ছোট গেম, 3D গেম (three.js দিয়ে), ক্যালকুলেটর, হিসাবের টুল, স্লাইড, অ্যানিমেশন, SVG লোগো।
নতুনদের যত প্রশ্ন
ভুল কিছু লিখে ফেললে সব নষ্ট হয়ে যাবে না তো?
না। প্রতিটা বদলের আগে আগের অবস্থা নিজে থেকে জমা থাকে, আর বদলের পরেই "আগেরটায় ফিরে যান" বাটন পাবেন। এক চাপে সব আগের মতো।
একসাথে কয়টা জিনিস বানাতে পারব?
ফ্রিতেই ১০০টা পর্যন্ত অ্যাপ রাখা যায়। একটা শেষ না করে আরেকটা শুরু করলেও কোনোটা হারায় না।
বানানোর মাঝপথে ইন্টারনেট চলে গেলে?
যা বানানো হয়ে গিয়েছিল সেটা জমা থাকে। ইন্টারনেট ফিরলে সেখান থেকেই আবার বলুন, নতুন করে শুরু করতে হয় না।
সাইট বানানো হয়ে গেলে লেখা, দাম আর ছবি বদলাতে আর AI-কে বলতে হয় না, আর তাতে Token-ও খরচ হয় না। পুরো সিস্টেম সাইট ম্যানেজ করুন গাইডে।