সাইট ম্যানেজ করুন: AI ছাড়াই নিজের সাইট আপডেট করা
বানানো সাইটের লেখা, ছবি বা দাম AI ছাড়া নিজে আপডেট করব কিভাবে?
সাইডবারের "সাইট/App ম্যানেজ করুন" বাটন দিয়ে যান। "রং ও লোগো" ট্যাবে সাইটের রং আর ফন্ট, চাপলেই লাইভ; "লেখা ও ছবি" ট্যাবে শিরোনাম, দাম, ছবি, লোগো আর favicon; "ব্যবসা ও চেহারা" ট্যাবে ঠিকানা, খোলার সময়, সোশ্যাল লিংক আর ঘোষণা বার; "পেজ ও ব্লগ" ট্যাবে HTML না জেনেই নতুন পেজ বা ব্লগ পোস্ট। কোনোটাতে Token লাগে না, আর "আগের অবস্থায় ফেরান" দিয়ে সবশেষ ২০টা ভার্সনের যেকোনোটায় ফেরা যায়।
এই গাইডটা কাদের জন্য
ধরে নিচ্ছি আপনি জীবনে কোনো ওয়েবসাইট অনলাইনে তোলেননি। DNS, হোস্টিং, SEO, এসব শব্দ শোনেননি বা শুনলেও মানে জানেন না। কোনো সমস্যা নেই। এই গাইডে প্রতিটা শব্দ যেখানে প্রথম আসে সেখানেই বুঝিয়ে দেওয়া আছে, আর প্রতিটা ধাপে কোন বাটনে চাপ দিতে হবে সেটা ছবিসহ দেখানো আছে।
একটা কথা শুরুতেই: এই পেজে যা করবেন তাতে কোনো Token খরচ হবে না। AI-কে কিছু বলতে হবে না, আর ভুল হলে ফেরত আসা যায়। তাই ভয় না পেয়ে হাত দিন।
প্রথমে কয়েকটা শব্দের মানে
সাইট নিয়ে কথা বলতে গেলে কয়েকটা শব্দ বারবার আসবে। একবার বুঝে নিলে বাকিটা সহজ।
| শব্দ | মানে |
| সাইট বা ওয়েবসাইট | ইন্টারনেটে আপনার দোকানের নিজের ঠিকানা, যেটা যে কেউ খুলে দেখতে পারে |
| Publish | সাইটটা ইন্টারনেটে তুলে দেওয়া, যাতে আপনি ছাড়াও অন্যরা দেখতে পায় |
| লাইভ সাইট | Publish করার পর সবাই যে ঠিকানায় সাইটটা দেখে |
| প্রিভিউ | শুধু আপনার দেখার জন্য একটা লিংক, কাজ শেষ হওয়ার আগে |
| ডোমেইন | সাইটের নিজের ঠিকানা, যেমন aiinbangla.com |
| DNS | ডোমেইনের নাম শুনে ব্রাউজার কোথায় যাবে সেটা বলে দেওয়ার ব্যবস্থা, ইন্টারনেটের ফোনবুক |
| ভিজিটর | যিনি আপনার সাইট খুলে দেখলেন |
| ইনবক্স | সাইটের ফর্ম ভরে কেউ পাঠালে সেটা যেখানে জমা হয় |
| SEO | Google-এ সাইটটা যাতে খুঁজে পাওয়া যায়, তার ব্যবস্থা |
এগুলো এখনই মুখস্থ করার দরকার নেই। নিচে যেখানে লাগবে সেখানে আবার মনে করিয়ে দেওয়া হবে।
ধাপ ১: পেজটা খুলুন
সাইট ম্যানেজ পেজে যাওয়ার তিনটা পথ আছে। যেটা হাতের কাছে সেটাই।
পথ ১, সবচেয়ে সহজ। বাঁ পাশের লম্বা সাইডবারে নিচের দিকে তাকান। "টপ-আপ করুন" লেখা কমলা বাটনটার ঠিক নিচে একটা সাদা বাটন আছে, তাতে লেখা সাইট/App ম্যানেজ করুন। ওটায় চাপ দিন।
পথ ২। বাঁয়ে "বিল্ডার" লেখায় চাপ দিলে আপনার সব অ্যাপের লিস্ট আসে। যেটা ম্যানেজ করতে চান তার কার্ডে ম্যানেজ বাটন।
পথ ৩। কোনো অ্যাপ খুলে থাকলে ডান পাশের প্যানেলে "সাইট/App ম্যানেজ করুন" লেখা একটা কার্ড আছে, তাতে "খুলুন"।
ফোনে সাইডবার দেখা না গেলে উপরে বাঁ কোণায় তিনটা দাগের বাটনে চাপ দিন, সাইডবার বেরিয়ে আসবে।
Publish না করা থাকলেও পেজটা খোলে। বরং কাউকে দেখানোর আগেই লেখা ঠিক করে নেওয়াটাই স্বাভাবিক।
ধাপ ২: উপরের অংশটা চিনে নিন

উপর থেকে নিচে, যা যা দেখছেন:
প্রথম লাইনে "← বিল্ডারে ফিরুন", পেজের নাম "সাইট ম্যানেজ করুন", আর ডানে একটা ছোট লেবেল (Basic, Business বা Commerce) যেটা বলে আপনার সাইটে কোন প্ল্যান চালু।
দ্বিতীয় লাইনে সাইটের ঠিকানাগুলো:
- লাইভ সাইট, কালো বাটন। এটাই সবাই যে ঠিকানায় সাইটটা দেখে। চাপ দিলে নতুন ট্যাবে খুলবে। Publish না করা থাকলে এটা থাকে না।
- প্রিভিউ লিংক। শুধু দেখার জন্য একটা ঠিকানা, কাজ চলার সময়ও কাজ করে।
- ডোমেইন। নিজের ঠিকানা (যেমন aiinbangla.com) যোগ করার জায়গা।
- সাইট নামিয়ে নিন। নিচে আলাদা করে বলা আছে।
লাইভ সাইটের বাটনের পাশে তিনটা ছোট গোল বাটন: লিংক কপি করুন, লিংক শেয়ার করুন (ফোনে ফোনের নিজের শেয়ার মেনু খোলে, কম্পিউটারে WhatsApp) আর QR কোড। QR কোডটা দোকানে টাঙিয়ে রাখার জন্য: "QR ডাউনলোড করুন" চাপলে সাইটের নাম, কোড আর ঠিকানাসহ একটা ছবি নামে, ছেপে নিলেই হলো। নিচে ছোট করে লেখা থাকে সাইট শেষ কবে লাইভ করা হয়েছে।
সাইট ঠিকঠাক আছে তো?
ঠিকানাগুলোর নিচেই একটা ছোট লিস্ট, লিংক কাস্টমারদের দেওয়ার আগে যা যা ঠিক থাকা দরকার: সাইট লাইভ আছে কি না, লোগো, আসল ফোন নম্বর, WhatsApp নম্বর, দোকানের ঠিকানা, Google-এ দেখানোর নাম আর বর্ণনা, শেয়ার করলে যে ছবি দেখাবে, আর নিজের ডোমেইন (এটা ইচ্ছা হলে)।
যেটা বাকি, তার পাশে একটা বাটন থাকে ("নম্বর দিন", "ছবি দিন"), চাপলে ঠিক যে জায়গায় ওটা ঠিক করা যায় সেখানে নিয়ে যায়। সব হয়ে গেলে লিস্টটা এক লাইনে গুটিয়ে যায়।
হোস্টিং চালু থাকলে তৃতীয় লাইনে ট্যাবের সারি আসে। ফোনে এগুলো এক লাইনেই থাকে, আঙুল দিয়ে বাঁয়ে-ডানে টানলে বাকিগুলো আসবে। কয়টা ট্যাব দেখবেন সেটা প্ল্যানের উপর নির্ভর করে (নিচের টেবিলে লেখা আছে)। হোস্টিং না নিলে সারিটা থাকে না, "লেখা ও ছবি" আর "ব্যবসা ও চেহারা" অংশ দুটো তখন একটার নিচে একটা সাজানো থাকে।
| ট্যাব | এখানে কী করবেন | কাদের জন্য |
| এক নজরে | কতজন এলো, কয়টা অর্ডার এলো | সবার |
| রং ও লোগো | সাইটের রং, ফন্ট আর লোগো, চাপলেই লাইভ | সবার |
| লেখা ও ছবি | সাইটের লেখা, দাম, ছবি, লোগো, রং | সবার |
| ব্যবসা ও চেহারা | ঠিকানা, খোলার সময়, সোশ্যাল, WhatsApp বাটন, ঘোষণা বার | সবার |
| ইনবক্স | ফর্ম থেকে আসা অর্ডার আর মেসেজ | লাইফটাইম হোস্টিং বা প্ল্যান নিলে |
| পেজ ও ব্লগ | নতুন পেজ বা ব্লগ পোস্ট | সব সাইটে, সংখ্যা প্ল্যান অনুযায়ী |
| কোড ও অটো-রিপ্লাই | হেডার/ফুটারে নিজের কোড, নিজের গেটওয়ের পেমেন্ট লিংক, ক্রেতাকে SMS আর ফর্মের অটো-রিপ্লাই (শেষ দুটো শুধু Commerce) | Business ও Commerce |
| ব্যাকআপ | সব তথ্য এক ফাইলে নামানো | Business ও Commerce |
ধাপ ৩: "লেখা ও ছবি" ট্যাব, রোজকার কাজের জায়গা
এই ট্যাবটাই আপনি সবচেয়ে বেশি খুলবেন। ট্যাবে চাপ দিন।

প্রথমেই একটা সারি দেখবেন, "কোথায় যাবেন:" লেখা, আর পাশে কয়েকটা গোল বাটন। সাইটে যত ধরনের জিনিস বদলানো যায়, তত বাটন। যেটায় চাপ দিবেন, পেজ সোজা সেই অংশে চলে যাবে। আর আপনি এখন যে অংশে আছেন, সেই বাটনটা কালো হয়ে থাকবে, তাই কোথায় আছেন সেটা হারাবেন না।
লম্বা সাইটে এই সারিটাই সময় বাঁচাবে। ছবি বদলাতে নিচ পর্যন্ত স্ক্রল করার দরকার নেই, শুধু "ছবি" চাপুন।
৩ক: লোগো আর আইকন

এখানে দুটো জিনিস।
favicon মানে ব্রাউজারের ট্যাবে সাইটের নামের পাশে যে বুড়ো আঙুলের নখের সমান ছবিটা দেখায়, সেটা। খুব ছোট, কিন্তু ট্যাব ভরে গেলে মানুষ ওটা দেখেই আপনার সাইট খুঁজে নেয়।
বদলাতে ছবি বেছে নিন বাটনে চাপ দিন। ফোন হলে গ্যালারি খুলবে, কম্পিউটার হলে ফোল্ডার। একটা ছবি বাছুন, ব্যস। বাকিটা নিজে থেকে হয়: ছবিটা চৌকো করে কেটে ছোট করে নেওয়া হয়, কারণ ব্রাউজার ওটাকে মাত্র ষোলো পিক্সেলে আঁকে।
কোন ছবি ভালো: লোগো। চওড়া ছবি দিলে দুই পাশ কেটে যাবে, আর অনেক লেখাওয়ালা ছবি ওই মাপে পড়া যায় না।
লোগো, সাইটের একদম উপরে যেটা থাকে, সেটাও এই অংশেই।
৩খ: ছবি

সাইটে যতগুলো ছবি আছে, প্রতিটার জন্য একটা করে কার্ড। কার্ডে ছবিটা দেখা যায়, নিচে ছবি বেছে নিন বাটন, আর তার নিচে ছবিটার ঠিকানা লেখা থাকে (ওই ঠিকানাটা নিয়ে আপনার কিছু করার নেই, ওটা আমাদের হিসাব)।
ছবি বদলানোর ধাপ:
- যে ছবিটা বদলাতে চান তার কার্ডটা খুঁজুন
- ছবি বেছে নিন চাপুন
- ফোন বা কম্পিউটার থেকে নতুন ছবিটা বাছুন
- কার্ডে নতুন ছবিটা দেখা যাবে
- নিচের সেভ করে লাইভ করুন চাপুন
প্রতিটা ছবির পাশে আরেকটা ঘর আছে: ছবিটা কীসের, এক লাইনে। এটা অনেকে খালি রাখেন, রাখবেন না। কারণ দুটো:
- যাঁরা চোখে দেখেন না, তাঁদের ফোন সাইটটা পড়ে শোনায়, আর ছবির জায়গায় ওই লাইনটাই পড়ে
- Google ছবির ভেতরটা দেখে না, ওই লাইনটা পড়ে বোঝে ছবিটা কীসের
তাই "ছবি ১" না লিখে লিখুন "কাঠের বাক্সে সাজানো নলেন গুড়ের সন্দেশ"। কার্ডগুলোর নামও ওই লাইন থেকেই আসে, তাই পরেরবার কোন ছবিটা কোনটা সেটা এক নজরে বুঝবেন।
৩গ: সাইটের রং

সাইটটা যে কয়টা রং দিয়ে বানানো, সেগুলো এখানে ছোট চৌকো কোঠায় দেখানো হয়। পাশে লেখা থাকে সেই রংটা কত জায়গায় ব্যবহার হয়েছে।
ওই সংখ্যাটাই আসল কাজের জিনিস। যে রংটা ২০ জায়গায় আছে, সেটাই সম্ভবত আপনার বাটন আর শিরোনামের রং। যেটা ৩ জায়গায়, সেটা কোনো একটা ছোট অংশের।
রং বদলাতে কোঠাটায় চাপ দিন, রং বাছার একটা বাক্স খুলবে। বাছার সাথে সাথেই সাইটের সব জায়গায় একসাথে বদলাবে। আধা বদলে গিয়ে সাইট অদ্ভুত দেখাবে না।
সাদা আর কালো এখানে ইচ্ছে করেই দেখানো হয় না। ওগুলো রঙের পছন্দ নয়, সাইটের কাঠামো: লেখার রং, ঘরের দাগ। ওগুলো বদলালে পুরো সাইট পড়া কঠিন হয়ে যেত।
৩ঘ: পেজের নাম আর শেয়ার

এই অংশটা একটু ব্যাখ্যা দরকার, কারণ এখানে যা লিখবেন সেটা আপনার সাইটে দেখা যায় না, অথচ সবচেয়ে বেশি মানুষ ওটাই আগে পড়ে।
কেউ Google-এ কিছু খুঁজলে রেজাল্টের লিস্টে প্রতিটা সাইট তিন লাইনে দেখায়: উপরে নীল রঙের একটা নাম, নিচে ঠিকানা, তার নিচে দুই লাইনের পরিচয়। ওই নীল নামটাই "পেজের নাম", আর নিচের দুই লাইন হলো "এক লাইনের পরিচয়"। মানুষ ওটা পড়েই ঠিক করে আপনার সাইটে ঢুকবে কি না।
একইভাবে ফেসবুকে বা WhatsApp-এ কেউ আপনার সাইটের লিংক পাঠালে একটা কার্ড তৈরি হয়: একটা ছবি, তার নিচে নাম আর এক লাইন। সেটাও এখান থেকেই আসে।
তাই এই ঘরগুলোতে লেখার সাথে সাথে দুটো নমুনা দেখানো হয়, একটা Google-এর মতো আর একটা শেয়ার কার্ডের মতো। লিখতে লিখতেই দেখে নিতে পারবেন নামটা লম্বা হয়ে কেটে যাচ্ছে কি না।
কী লিখবেন:
- পেজের নাম: দোকানের নাম আর কোথায়, যেমন "রহিম সুইটস, মিরপুর ১০-এর মিষ্টির দোকান"। ৬০ অক্ষরের কাছাকাছি রাখলে কাটে না।
- এক লাইনের পরিচয়: কী পাওয়া যায় আর কেন আপনার কাছে আসবে, যেমন "১৯৮৫ সাল থেকে খাঁটি ছানার মিষ্টি, ঢাকায় হোম ডেলিভারি"। ১৫৫ অক্ষরের মধ্যে।
- শেয়ার করলে যে ছবিটা দেখাবে: এটাও একটা ছবির ঘর, তাই আপলোড বাটন আছে। দোকানের সবচেয়ে ভালো ছবিটা দিন।
৩ঙ: লেখা, প্রোডাক্ট, বাটন আর লিংক
বাকি অংশগুলো সোজা।
লেখা অংশে সাইটের শিরোনাম, প্যারা আর লিস্টের পয়েন্ট, প্রতিটা আলাদা ঘরে। ঘরের উপরে লেখা থাকে সেটা কী ধরনের (প্রধান শিরোনাম, অংশের শিরোনাম, ইত্যাদি)।
প্রোডাক্ট অংশ শুধু দোকানের সাইটে আসে। প্রতিটা প্রোডাক্টের নাম, দাম আর ছবি আলাদা করে থাকে। দাম বদলাতে সংখ্যাটার উপর টাইপ করুন, টাকার চিহ্ন লিখতে হবে না।
বাটন আর লিংক অংশে দুই ধরনের ঘর: বাটনে কী লেখা থাকবে, আর বাটনে চাপলে কোথায় যাবে। দ্বিতীয়টার পাশে একটা ছোট বাটন আছে, চাপলে ঠিকানাটা নতুন ট্যাবে খুলে দেখাবে, তাই ঠিক আছে কি না ভেরিফাই করা যায়।
যোগাযোগ অংশে আপনার মোবাইল নম্বর। এই ঘরটা একটু আলাদা: নম্বর বদলালে সাইটের সব জায়গায় বদলায়, লেখা নম্বরেও, ফোনের লিংকেও, WhatsApp বাটনেও। একটা বদলে আরেকটা পুরোনো থেকে গেলে ক্রেতা ভুল নম্বরে ফোন করতেন। নম্বরটা ০১XXXXXXXXX আকারে লিখুন।
৩চ: সেভ করা
পেজের নিচে একটা সাদা বার সবসময় আটকে থাকে। তাতে একটা বাটন আর পাশে লেখা কতগুলো বদল করেছেন।
- সাইট Publish করা থাকলে বাটনে লেখা থাকবে সেভ করে লাইভ করুন। চাপলেই বদলগুলো লাইভ সাইটে বসে যায়, আলাদা করে আর কিছু করতে হয় না।
- Publish করা না থাকলে শুধু সেভ করুন। বদলগুলো জমা থাকবে, Publish করলেই লাইভ হবে।
সেভ করার পর অন্য কারও ফোনে পুরোনো লেখাটা বড়জোর এক মিনিট থাকতে পারে। এটা স্বাভাবিক, ইন্টারনেট পেজগুলো একটু সময় নিজের কাছে জমা রাখে যাতে দ্রুত খোলে।
৩ছ: ভুল হলে ফেরানো

ঘরগুলোর নিচে আগের অবস্থায় ফেরান লেখা একটা অংশ। চাপ দিলে একটা লিস্ট খোলে: কখন কী বদল হয়েছিল, সবশেষ ২০টা।
যেকোনোটার পাশে এটাতে ফিরুন চাপলে সাইট ঠিক ওই অবস্থায় ফিরে যায়। আর এখনকার অবস্থাটাও লিস্টে জমা হয়, তাই ফিরে গিয়ে দেখে আবার ফেরত আসা যায়।
মানে হাত দেওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই। এটা জেনে রাখলে পরীক্ষা করে দেখতে ভয় লাগবে না।
ফেরানোর পর লাইভ সাইটে বসাতে একবার Publish করতে হয়।
ধাপ ৪: "ব্যবসা ও চেহারা" ট্যাব

ছোট ব্যবসার জন্য এই ট্যাবটাই সবচেয়ে দামি, অথচ সবচেয়ে কম খোলা হয়।
কেন এটা আলাদা করে দরকার
আপনার সাইটের নিচে ঠিকানা লেখা আছে। "যোগাযোগ" অংশে ফোন নম্বর আছে। উপরে লেখা আছে সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা।
Google তবু জানে না।
আপনি বা আমি পড়লে বুঝি ওগুলো দোকানের ঠিকানা আর সময়। কম্পিউটার বোঝে না, ওর কাছে ওগুলো পেজের আর দশটা লেখার মতোই লেখা। কম্পিউটারকে আলাদা করে, নির্দিষ্ট ছকে বলে দিতে হয়: এটা একটা ব্যবসা, নাম এই, ঠিকানা এই, শনিবার এই সময় খোলা।
এই ট্যাবের ফর্মটা পূরণ করলে সেই বলে দেওয়াটা নিজে থেকেই হয়ে যায়। কোড লিখতে হয় না।
এতে কী পাওয়া যায়
রাত ৯টায় কেউ ফোনে "মিরপুর ১০ মিষ্টির দোকান" লিখে খুঁজলে রেজাল্টে আপনার দোকানের নামের সাথে ঠিকানা আর "এখন খোলা" লেখাটা দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়। ওই এক লাইন দেখা আর না দেখার পার্থক্যটাই একটা অর্ডার।
সৎ কথাটা হলো: তথ্য দিলেই Google দেখাবে এমন কোনো গ্যারান্টি নেই, সিদ্ধান্তটা ওদের। কিন্তু না দিলে সুযোগটাই থাকে না।
দোকানের তথ্যের ঘরগুলো
- নাম। ভিজিটিং কার্ডে যা লেখা, ফেসবুক পেজে যা লেখা, আর এখানে যা লিখবেন, তিনটা এক হলে সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
- ফোন নম্বর। যে নম্বরটা সত্যিই ধরা হয়, কারণ সার্চ থেকে সরাসরি ফোন আসে।
- ঠিকানা আর শহর। যেভাবে রিকশাওয়ালাকে বলবেন সেভাবে লিখুন।
- ইমেইল। না দিলেও চলে।
- দামের ধরন। ৳ মানে সস্তা, ৳৳ মানে মাঝারি, ৳৳৳ মানে দামি। সার্চে অনেক সময় এটাও দেখায়।
- Google Maps লিংক। ফোনে Google Maps খুলে নিজের দোকান খুঁজুন, "Share" চাপুন, লিংকটা কপি করে এখানে বসান।
- বিকাশ, নগদ আর রকেট নম্বর। দোকানের তথ্যের ঠিক নিচে। নম্বর দিয়ে সেভ করলে যে পেজে অর্ডার নেওয়া হয় সেখানে পেমেন্টের একটা ঘর বসে: নম্বর, কপির বাটন আর TrxID লেখার জায়গা। বিস্তারিত: বিকাশ, নগদ আর রকেট নম্বর।
খোলার সময়

সাতটা দিনের প্রতিটার পাশে একটা টিক বাক্স আছে।
- টিক দেওয়া মানে ওই দিন দোকান খোলা। পাশে খোলা আর বন্ধের সময় বসানোর দুটো ঘর আসবে।
- টিক তুলে দেওয়া মানে ওই দিন বন্ধ। বন্ধের কথাটাও Google-কে জানানো হয়, কারণ "শুক্রবার বন্ধ" একটা তথ্য, তথ্যের অভাব নয়।
সময় ভুল দিবেন না। সাইটে রাত ১১টা লেখা দেখে কেউ সাড়ে ১০টায় এসে বন্ধ পেলে সেটা তথ্য না দেওয়ার চেয়েও খারাপ।
সোশ্যাল মিডিয়া
ফেসবুক, WhatsApp, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক। পুরো ঠিকানা দিন, মানে https:// দিয়ে শুরু হওয়া লিংকটা, শুধু পেজের নাম নয়।
ফেসবুক পেজের লিংক কীভাবে পাবেন: পেজটা খুলে ব্রাউজারের উপরের ঠিকানার ঘর থেকে পুরোটা কপি করুন।
উপরের ঘোষণা বার

সাইটের একদম উপরে এক লাইনের একটা রঙিন পট্টি। "ঈদে ৩ দিন বন্ধ", "আজ ঢাকায় ফ্রি ডেলিভারি", "আমাদের নতুন নম্বর", যা দরকার।
- সাইটে দেখান টিকটা দিলে পট্টিটা আসে, তুলে দিলে চলে যায়
- যা লেখা থাকবে, বড়জোর ২০০ অক্ষর
- চাপলে কোথায় যাবে, না দিলেও চলে
- দুটো রং, পট্টির আর লেখার। নিচেই নমুনা দেখায়, তাই বেছে নিতে সুবিধা
আগে এই এক লাইনের জন্য AI-কে বলে পুরো পেজ আবার বানাতে হতো, আর তাতে Token খরচ হতো। এখন লিখে সেভ চাপলেই হলো।
ফন্ট আর রং
ফন্ট আগে এই ট্যাবে ছিল, এখন আছে নিজের ট্যাবে, "রং ও লোগো"। সেখানে শিরোনামের ফন্ট আর লেখার ফন্ট আলাদা করে বাছা যায়, সাথে সাইটের দুটো রং আর লোগো। সবগুলোতে বাংলা আছে, আর চাপলেই লাইভ হয়, AI লাগে না।
সার্চ ইঞ্জিন

Google-এ সাইটটা দেখাতে চাই না। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত, বা সাইটটা শুধু নিজের লোকদের জন্য হলে টিক দিন। কাজ শেষে টিক তুলে দিতে ভুলবেন না, নইলে সাইটটা কেউ খুঁজে পাবে না।
Google Analytics ID আর Facebook Pixel ID। এই দুটো না বুঝলে খালি রাখুন, কিছু হারাবে না। কতজন এলো তার হিসাব "এক নজরে" ট্যাবে এমনিতেই আছে। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিলে দ্বিতীয়টা কাজে লাগে।
Google-এর ভেরিফাই কোড। Google Search Console নামে Google-এর একটা টুল আছে, সেটা ব্যবহার করলে এক লাইনের একটা কোড দেয়। সেটা এখানে বসাতে হয়। এটাও না বুঝলে ছেড়ে দিন।
সেভ
নিচের সেভ করুন বাটন। এই ট্যাবের কিছুই Publish করতে হয় না, সেভ করলেই লাইভ সাইটে বসে যায়।
সময় লাগে পাঁচ মিনিট, একবার। তারপর ঠিকানা বা সময় বদলালে এখানে ঢুকে বদলে দিলেই হলো।
ধাপ ৫: "এক নজরে" ট্যাব, কতজন আসছে
চারটা সংখ্যা আর একটা চার্ট।
- গত ৭ দিনে নতুন ভিজিটর আর মোট নতুন ভিজিটর। একজন মানুষ দশবার এলেও একবারই গোনা হয়, তাই এটা কতজন এসেছে তার হিসাব, কতবার পেজ খুলেছে তার নয়।
- মোট অর্ডার ও মেসেজ। সাইটের ফর্ম থেকে আসা।
- আপনার বানানো বাড়তি পেজ।
নিচের চার্টে গত ৩০ দিনের প্রতিদিনের ভিজিটর। কোনো দিনের উপরে একটা কমলা ফোঁটা থাকলে বুঝবেন সেদিন কেউ ফর্ম পাঠিয়েছিল।
তার নিচে অ্যাডমিন কখন দেখেছে। সাপোর্টের জন্য আমাদের কেউ আপনার এই পেজটা খুললে সময়সহ এখানে লেখা থাকে। কেউ না খুললে "কেউ দেখেনি"। এটা রাখা আছে যাতে "প্রতিটা দেখা লেখা থাকে" কথাটা আপনাকে বিশ্বাস করতে না হয়, নিজে দেখে নিতে পারেন।
ধাপ ৬: সাইট Publish করা আর নামিয়ে নেওয়া
Publish মানে কী
সাইট বানানোর পর সেটা প্রথমে শুধু আপনার। ইন্টারনেটে তুলে দেওয়ার কাজটার নাম Publish। একবার Publish করলে যে কেউ লিংকটা পেলে সাইটটা দেখতে পাবে।
সাইট Publish করা না থাকলে পেজের উপরে হলুদ একটা লাইন আসবে, আর পাশে এখনই Publish করুন বাটন। চাপ দিলেই হয়ে যায়।
"কিছু বদল লাইভ সাইটে যায়নি"
কখনো কখনো উপরে একটা লাইন দেখবেন: সাইটে কিছু বদল সেভ করা আছে যেটা এখনো লাইভ সাইটে যায়নি। পাশে আবার Publish করুন বাটন।
এটা হয় যখন আপনি বিল্ডারে AI দিয়ে কিছু বদলেছেন কিন্তু Publish চাপেননি। বাটনে চাপ দিলেই লাইভ সাইট আপ-টু-ডেট হয়ে যায়।
সাইট নামিয়ে নেওয়া
উপরের সারিতে সাইট নামিয়ে নিন। চাপ দিলে একবার জিজ্ঞেস করা হবে, তারপর লাইভ লিংকটা আর খুলবে না।
যা যা থেকে যায়: আপনার সব লেখা, সব ছবি, ইনবক্সের অর্ডার, আর ডোমেইন। কিছুই মুছে যায় না।
তাই যেকোনো সময় আবার Publish করলেই সাইট ফিরে আসে। মৌসুমি দোকান, বা ভুল করে আগেভাগে দেখিয়ে ফেলা সাইট, এসবের জন্য এটাই সহজ পথ।
ধাপ ৭: নিজের ডোমেইন
ডোমেইন জিনিসটা কী
Publish করার পর আপনার সাইটের ঠিকানা হয় এরকম: rahim-sweets.banglacodes.app। এটা কাজ করে আর ফ্রি, কিন্তু ভিজিটিং কার্ডে ছাপানোর মতো নয়।
ডোমেইন হলো নিজের নামের একটা ঠিকানা, যেমন aiinbangla.com। এটা কিনতে হয়, আর প্রতি বছর ভাড়া দিতে হয় (সাধারণত ৳১,০০০ থেকে ৳১,৫০০)।
DNS জিনিসটা কী
ডোমেইন কিনলেই সাইট দেখা যায় না। কারণ ডোমেইনটা শুধু একটা নাম; ওই নাম শুনে ব্রাউজারকে কোথায় যেতে হবে সেটা কেউ বলে দেয়নি।
DNS হলো ইন্টারনেটের ফোনবুক। ওখানে লিখে রাখতে হয়: "aiinbangla.com নামটা শুনলে এই সার্ভারে যাও।" এই লিখে রাখাটাকে বলে DNS রেকর্ড বসানো, আর সেটা করতে হয় যেখান থেকে ডোমেইনটা কিনেছেন সেই কোম্পানির ওয়েবসাইটে ঢুকে।
ভয়ের কিছু নেই: কী লিখতে হবে সেটা আমরা হুবহু দেখিয়ে দিই, আপনাকে শুধু কপি করে বসাতে হয়। পুরো ধাপ ছবিসহ আছে নিজের ডোমেইন যোগ করা গাইডে।
এই পেজে ডোমেইনের কাজ
- ডোমেইন বাটনে চাপলে ডোমেইন যোগ করার জায়গায় নিয়ে যাবে।
- ডোমেইন যোগ করা আছে কিন্তু এখনো ভেরিফাই হয়নি, এমন হলে উপরে একটা লাইন আসবে, সাথে ভেরিফাই করুন বাটন। DNS রেকর্ডটা বসানো হয়ে থাকলে ওই বাটনেই কাজ শেষ।
- DNS বসানোর পর সাথে সাথে কাজ নাও করতে পারে। ইন্টারনেটের ফোনবুকটা সারা পৃথিবীতে ছড়াতে কয়েক ঘণ্টা লাগে। একটু পরে আবার "ভেরিফাই করুন" চাপুন।
ধাপ ৮: বাকি ট্যাবগুলো
ইনবক্স। সাইটে ফর্ম থাকলে (অর্ডার ফর্ম, যোগাযোগ ফর্ম) কেউ ভরে পাঠালে সেটা এখানে জমা হয়, আর আপনার email-এ খবর যায়। ইনবক্সের ওপরের "ফোনে অর্ডারের নোটিফিকেশন" চালু করলে ফোনেও খবর আসে। এটা চালু হয় লাইফটাইম হোস্টিং বা প্ল্যান নিলে, নিজের ডোমেইন লাগে না। বিস্তারিত: অর্ডার, মেসেজ আর ইমেইল।
পেজ ও ব্লগ। নতুন পেজ বা ব্লগ পোস্ট, HTML না জেনেই। বিস্তারিত: নতুন পেজ আর ব্লগ পোস্ট।
নিজের কোড ও পেমেন্ট লিংক। হেডার-ফুটারে নিজের কোড বসানো আর নিজের গেটওয়ের পেমেন্ট লিংক, দুটোই Business প্ল্যান থেকে।
ক্রেতাকে SMS ও অটো-রিপ্লাই। অর্ডার পেলে ক্রেতার ফোনে SMS আর ফর্মের অটো-রিপ্লাই, এই দুটো শুধু Commerce প্ল্যানে।
ব্যাকআপ। সাইটের সবকিছু এক ফাইলে নামিয়ে নিজের কম্পিউটারে রাখা। না নামালেও কিছু হারাবে না, আমরা নিজেরা প্রতি ৬ ঘণ্টায় ব্যাকআপ নিই; এটা আপনার নিজের হাতে রাখা কপি।
ধাপ ৯: Android অ্যাপ আর সেরা কাজে জমা
এই পেজে আরও দুটো কার্ড আছে। সেরা কাজে জমা দেওয়া ফ্রি, আর প্রথম Android অ্যাপটাও ফ্রি।
অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ। আপনার লাইভ সাইট থেকে আসল Android অ্যাপ: ফোনে ইনস্টলের .apk আর Play Store-এর .aab। কার্ডে "অ্যাপ বানান" চাপুন; সাইট লাইভ না থাকলে বাটনটা আগে সাইট লাইভ করে দেয়। অ্যাপের নাম সাইটের নাম থেকে বসানো থাকে, আইকনে আগে সাইটের নিজের লোগো আসে; দেখে নিয়ে "অ্যাপ বানানো শুরু করুন" চাপুন। সাধারণত ৫ থেকে ১২ মিনিট লাগে, পেজ বন্ধ করলেও বানানো চলে, আর শেষ হলে email-এ জানিয়ে দেওয়া হয়। .apk ফাইলটা কাস্টমারদের WhatsApp-এ "Document" হিসেবে পাঠান, ছবি বা ভিডিও হিসেবে নয়। প্রথম অ্যাপটা ফ্রি, এরপরের প্রতিটা বিল্ডে ১০ হাজার প্রিমিয়াম Token (ফ্রি AI টোকেন দিয়ে হয় না); চাপার আগেই কার্ডে লেখা থাকে এই বিল্ডে কত লাগবে। এরপর এই পেজে যা সেভ করবেন, অ্যাপেও সাথে সাথে সেটাই দেখাবে, কারণ অ্যাপটা আপনার লাইভ সাইটটাই খোলে। পুরো নিয়ম: ফোনের অ্যাপের গাইড।
সেরা কাজে জমা দিন। সাইটটা নিয়ে গর্ব হলে এই কার্ড থেকে সেরা কাজের জন্য জমা দিন। আমরা রিভিউ করে দেখি, পছন্দ হলে banglacodes.com/showcase পেজে আপনার নামসহ ওঠে। বিস্তারিত: শোকেস গাইড।
ছোট করে মনে রাখার লিস্ট
| যা করতে চান | কোথায় যাবেন |
| দাম বদলাবো | লেখা ও ছবি → প্রোডাক্ট |
| ছবি বদলাবো | লেখা ও ছবি → ছবি |
| লোগো বা ট্যাবের আইকন | লেখা ও ছবি → লোগো আর আইকন |
| সাইটের রং | লেখা ও ছবি → সাইটের রং |
| Google-এ কী দেখাবে | লেখা ও ছবি → পেজের নাম আর শেয়ার |
| ভুল হয়েছে, ফেরাব | লেখা ও ছবি → আগের অবস্থায় ফেরান |
| ঠিকানা, খোলার সময় | ব্যবসা ও চেহারা |
| উপরে অফারের লাইন | ব্যবসা ও চেহারা → ঘোষণা বার |
| কতজন এলো | এক নজরে |
| অর্ডার এসেছে কি না | ইনবক্স |
| নতুন পেজ বা ব্লগ | পেজ ও ব্লগ |
| ফোনের Android অ্যাপ বানাব | "অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ" কার্ড |
| সেরা কাজে দেখাব | "সেরা কাজে জমা দিন" কার্ড |
| সাইট বন্ধ রাখব | উপরে "সাইট নামিয়ে নিন" |
আটকে গেলে
যেকোনো পেজের ডান-নিচের কোণায় Help লাগবে? লেখা একটা বাটন আছে। চাপ দিয়ে বাংলায় প্রশ্ন লিখুন, সাথে সাথেই উত্তর পাবেন, আর কোন গাইডে বিস্তারিত আছে সেটাও দেখিয়ে দিবে।
মানুষের সাথে কথা বলতে চাইলে ওই একই জায়গায় "Message দিন" বাটন আর email আছে।