নাম দিয়ে লোগো ডিজাইন, বাংলায় আর ইংরেজিতে
নাম দিয়ে লোগো ডিজাইন করুন: দোকান, পেজ, মাদ্রাসা বা নিজের নাম লিখুন, আসল বাংলা ফন্টে তিন রঙের নামের লোগো আসবে। PNG আর SVG নামান, মোবাইলেই।
- আমার নামের লোগো বানাও: "তাসনিয়া রহমান", ছবি তুলি, ফটোগ্রাফির পেজের জন্য। শুধু নাম, সরু আর মার্জিত ফন্টে, কালো আর হালকা সোনালি।
- মাদ্রাসার নাম দিয়ে লোগো: "দারুল আরকাম মাদ্রাসা, কুমিল্লা"। বাংলা নাম বড় করে, নিচে ছোট করে ইংরেজিতে। গাঢ় সবুজ রং, সাদামাটা।
- দোকানের নাম দিয়ে লোগো চাই: "রাহাত টেলিকম"। মোবাইল আর রিচার্জের দোকান। "রাহাত" বড়, "টেলিকম" ছোট, নীল আর কমলা।
নাম দিয়ে লোগো ডিজাইন করলে কি বাংলা নামটা নিখুঁত থাকবে, অক্ষর ভাঙবে না?
থাকবে। নামের লোগো ছবির AI দিয়ে আঁকা হবে না, আসল বাংলা ফন্টে লেখা হবে, তাই মাত্রা আর যুক্তাক্ষর অটুট থাকবে আর বানান থাকবে ঠিক আপনার লেখার মতো। চ্যাটে নামটা হুবহু লিখুন, সাথে কী কাজের নাম আর পছন্দের রং; তিন রঙে তিনটা লোগো আসবে, সাথে ফন্টের নাম। PNG বা SVG করে নামিয়ে নিন।
নাম দিয়ে লোগো বানানোর তিনটা ধাপ
- নামটা হুবহু লিখুন: উদ্ধৃতি চিহ্নের ভেতরে নামটা ঠিক যেভাবে লোগোতে থাকবে, বাংলায় বা ইংরেজিতে বা দুইটাতেই। সাথে কী কাজের নাম আর কোন রং।
- তিনটা রং মিলিয়ে দেখুন: চ্যাটে তিনটা লোগো আসবে, প্রতিটা আলাদা রঙে, পাশে রঙের কোড আর ফন্টের নাম। ফন্ট বদলাতে চাইলে বলুন "আরেকটু মোটা ফন্ট দাও"।
- PNG আর SVG নামান: পছন্দেরটা PNG করে ফেসবুক আর WhatsApp-এর জন্য, SVG করে ছাপার জন্য নামিয়ে রাখুন। নামানোর পরে বানানটা আরেকবার পড়ে নিন।
নামের লোগো ডিজাইন করতে গিয়ে বাংলা অক্ষর ভাঙে কেন
নাম দিয়ে লোগো বানাতে অনেকে AI ছবির অ্যাপে লেখেন "আমার নাম দিয়ে লোগো", আর পান এমন কিছু যেটা দূর থেকে বাংলার মতো, কাছে গেলে অর্থহীন দাগ। ছবির AI অক্ষর লেখে না, আকৃতি আঁকে; বাংলার মাত্রা, রেফ, যুক্তাক্ষর ওর হাতে ভেঙে যায়। আর যে লোগোর মূল জিনিসটাই নাম, সেখানে একটা ভাঙা অক্ষর মানে পুরো লোগো বাতিল।
এখানে নামটা বসবে আসল ফন্টে, যেভাবে বইয়ে ছাপা হয়। আপনি "ক্ষ" লিখলে "ক্ষ"-ই থাকবে, "শ্রী" লিখলে "শ্রী"। তাই বানান ঠিক রাখার দায়িত্বটা শুধু আপনার লেখায়, আঁকায় নয়।
লম্বা নাম, ছোট নাম: নামের লোগো কীভাবে সাজাবেন
- এক দুই শব্দের নাম: "রাহাত", "নকশি", "প্রত্যয়"। পুরো নামটাই বড় করে, এক লাইনে। এমন নাম লোগো হিসেবে সবচেয়ে সহজে মনে থাকে।
- তিন চার শব্দের নাম: "মধুবন মিষ্টান্ন ভান্ডার"। যে শব্দটা মানুষ মুখে বলে, সেটা বড়; বাকিটা নিচে ছোট করে। লিখে দিন "মধুবন বড়, বাকিটা ছোট"।
- নামের সাথে জায়গা: "কুমিল্লা", "মিরপুর ১০"। জায়গার নাম লোগোর ভেতরে না রেখে নিচে আলাদা ছোট লাইনে রাখুন, নতুন শাখা খুললে লোগো বদলাতে হবে না।
- নিজের নামের লোগো: ফটোগ্রাফার, টিউটর, মেহেদি আর্টিস্ট, ফ্রিল্যান্সার। পুরো নাম এক লাইনে, নিচে ছোট করে কাজের নাম: "ফটোগ্রাফি", "গণিত শিক্ষক"।
- আদ্যক্ষরের লোগো: নাম লম্বা হলে একটা আদ্যক্ষর দিয়েও বলুন, যেমন বাংলায় "ম" বা ইংরেজিতে "TR"। ফেসবুকের গোল প্রোফাইল ছবিতে আর অ্যাপের আইকনে এটাই কাজে লাগবে।
নামের লোগোর ফন্ট: কোনটা কোন কাজে মানায়
নামের লোগোতে ফন্টই পুরো ডিজাইন, তাই ফন্ট দেখে ঠিক করুন। মোটা, সোজা ফন্ট দোকান, টেলিকম, হার্ডওয়্যার বা কোচিংয়ে শক্ত আর ভরসার ভাব আনে। সরু, হালকা ফন্ট ফটোগ্রাফি, বুটিক বা গয়নায় মার্জিত লাগে। গোলগাল ফন্ট বাচ্চাদের জিনিস আর খাবারে মিষ্টি দেখায়।
বাংলা আর ইংরেজি দুই নাম একসাথে থাকলে দুইটা ফন্টের উচ্চতা মিলিয়ে বসানো হবে, যাতে একটা আরেকটার পাশে বেখাপ্পা না লাগে। প্রতিটা লোগোর পাশে ফন্টের নাম লেখা থাকবে; পরে পোস্টার বা কার্ডে একই ফন্ট বলে দিলে সব জায়গায় এক রকম দেখাবে।
নাম দিয়ে লোগোর রং আর তিনটা ভার্সন
চ্যাটে একই নামের তিনটা লোগো আসবে তিনটা আলাদা রঙে, প্রতিটায় দুইটার বেশি রং নয়। পাশে রঙের কোড লেখা থাকবে, যেমন গাঢ় সবুজের কোড; সাইনবোর্ড বা ব্যানার ছাপার সময় প্রেসকে ওই কোডটা দিলে রং ঠিক মিলবে।
শুধু কালো রঙের একটা ভার্সনও চেয়ে রাখুন। রাবার স্ট্যাম্প, সাদাকালো ফটোকপি আর ক্যাশ মেমোর মাথায় রঙিন লোগো ধূসর দাগ হয়ে যায়; কালো ভার্সনটা সেখানে পরিষ্কার থাকবে। গাঢ় পটের জন্য সাদা ভার্সনও বলুন।
মাদ্রাসা, মসজিদ আর সংগঠনের নামের লোগো
- পুরো নাম বানানসহ: প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত নামে যে বানান আছে, ঠিক সেটাই লিখুন, "দারুল" না "দারুল্", "একাডেমি" না "একাডেমী"। একই প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড আর লোগোতে দুই বানান থাকলে অভিভাবকের চোখে পড়ে।
- প্রতিষ্ঠার সাল: "স্থাপিত" লিখে সালটা দিতে চাইলে নিজে লিখে দিন, AI সাল বানাবে না।
- আরবি লেখা: আরবি নাম বা আয়াত লোগোতে চাইলে সেটা নির্ভুল লেখা হিসেবে নিজে দিন, আর নামানোর পরে জানেন এমন কাউকে দিয়ে পড়িয়ে নিন।
- সিল আর প্যাড: এসব প্রতিষ্ঠানে লোগো সবচেয়ে বেশি যায় প্যাডের মাথায় আর সিলে। লোগো হয়ে গেলে অফিস প্যাড ডিজাইনের পেজে প্যাড বানিয়ে নিন।
নামের লোগো কি আমার ট্রেডমার্ক হয়ে যাবে?
না। লোগো বানালেই সেটা আইনত নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক হয় না, আর BanglaCodes কোনো নিবন্ধন করে না। বানানো লোগো আপনি নিজের ব্যবসায় যেখানে খুশি ব্যবহার করবেন, আমরা এর উপর কোনো দাবি করব না। নিবন্ধন করতে চাইলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরে (DPDT) খোঁজ নিন, বা একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
লোগো বানানোর আগে ফেসবুকে আর গুগলে নামটা একবার খুঁজে দেখুন, একই এলাকায় একই নামে অন্য দোকান আছে কি না। নাম এখনো ঠিক না হলে দোকানের নামের পেজ থেকে আগে নাম বেছে নিন।
নামের লোগো ডিজাইন ফ্রি কি না
ফ্রি। নামের লোগো ছবির AI দিয়ে আঁকা হবে না বলে দিনের ছবির হিসাবে ধরা হবে না; চ্যাটের উত্তরটা যাবে রোজের ৪,০০,০০০ পর্যন্ত ফ্রি AI টোকেন থেকে। ফন্ট, রং বা সাজানো কয়েকবার বদলানো সাধারণত এর মধ্যেই হয়ে যাবে, কোনো নামের লোগো অ্যাপ নামাতে হবে না।
নাম দিয়ে লোগো নিয়ে প্রশ্নোত্তর
নাম দিয়ে লোগো বানানোর অ্যাপ কি লাগবে?
লাগবে না। ফোনের ব্রাউজারে চ্যাট খুলে নামটা লিখলেই লোগো আসবে, PNG আর SVG সেখান থেকেই নামবে। আলাদা লোগো অ্যাপ বা সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হবে না।
নামের লোগো ডিজাইন বাংলা ফন্টে হবে?
হবে। বাংলা নাম আসল বাংলা ফন্টে লেখা হবে, মাত্রা অটুট রেখে। ইংরেজি নামও থাকলে তার জন্য মিলিয়ে একটা ইংরেজি ফন্ট বেছে নেওয়া হবে, আর দুইটা ফন্টের নাম লোগোর পাশে লেখা থাকবে।
নামের লোগো ডিজাইন free তে কি পুরোটা পাব?
পাবেন। তিনটা লোগো, রঙের কোড, ফন্টের নাম আর PNG ও SVG ফাইল, সবই রোজের ফ্রি AI টোকেন থেকে হবে। কার্ড বা বিকাশ কিছুই লাগবে না, আর লোগোর কোণায় কোনো জলছাপ বসবে না।
নাম দিয়ে লোগো তৈরি করলে বানান ভুল হলে কী করব?
চ্যাটে ঠিক বানানটা আবার লিখে বলুন এই বানানে বদলে দাও, নতুন লোগো আসবে। লোগো নামটা হুবহু আপনার লেখা থেকেই নেয়, তাই শুরুতেই উদ্ধৃতি চিহ্নের ভেতরে নির্ভুল বানানে লিখুন।
নামের সাথে একটা ছোট চিহ্ন দেওয়া যাবে?
যাবে, বলে দিন কী চিহ্ন, যেমন ক্যামেরা, বই বা ফুলের আকার, আর সেটা নামের বাঁয়ে না উপরে। তবে নামের লোগোতে নামটাই আসল; চিহ্ন যত সরল হবে, ছোট মাপে তত পরিষ্কার দেখাবে।
নামের লোগো দিয়ে কি ভিজিটিং কার্ড বানানো যাবে?
যাবে। লোগোর PNG ফাইলটা রেখে দিন, তারপর চ্যাটে কার্ডের তথ্য লিখে লোগোটা বসাতে বলুন। কার্ডে লোগোর ফন্টের নাম বলে দিলে দুইটা এক পরিবারের মতো দেখাবে।
বানানো নামের লোগো কি ট্রেডমার্ক করা হবে?
না, আমরা ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করি না, আর লোগো বানালেই নিবন্ধিত হয় না। নিবন্ধন চাইলে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর বা একজন আইনজীবীর কাছে খোঁজ নিন।
আরও পড়ুন
- দোকানের লোগো, তিন ধাঁচে
- দোকানের লোগো বানানো, ডিজাইনার ছাড়াই
- লোগো আর ভিজিটিং কার্ডের গাইড
- লোগোর রঙে ফেসবুক কভার
আরও যা বানিয়ে নিতে পারেন
- লোগো: দোকান বা ব্র্যান্ডের লোগো, তিন ধাঁচে
- ফেসবুক কভার ফটো: সঠিক মাপে বাংলা লেখার কভার ফটো
- দোকানের নাম: দোকান আর পেজের নামের লিস্ট, মানেসহ
- ভিজিটিং কার্ড: ভিজিটিং কার্ডের দুই পিঠ, প্রেসে দেওয়ার মতো
- প্যাড ডিজাইন: A4 বা A5 মাপে প্যাড আর খাম, বাংলা ফন্টে