নির্বাচনী পোস্টার ডিজাইন, প্রার্থীর ছবি আর প্রতীকসহ
প্রার্থীর নাম, পদ, প্রতীক আর ছবি দিন; নির্বাচনী পোস্টার তৈরি হবে নিখুঁত বাংলা ফন্টে, মোবাইল দিয়েই। ফেসবুক আর WhatsApp-এর মাপে, আচরণবিধি মেনে, ফ্রিতে।
- ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফেসবুক পোস্টার বানিয়ে দাও: চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ আব্দুল করিম, প্রতীক আনারস। উপরে "উন্নয়নের জন্য ভোট দিন", নিচে ৩ নম্বর চরপাড়া ইউনিয়ন। চারকোনা মাপে।
- ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নাসরিন আক্তারের ফেসবুক পোস্টার, চারকোনা মাপে। প্রতীক টিউবওয়েল, স্লোগান "আপনার পাশে, সবসময়"। আমার ছবিটা বাঁ পাশে বসাও।
- স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য পদে পোস্টার: প্রার্থী রফিকুল ইসলাম, প্রতীক চশমা, ভোট শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে। ছোট, সহজ, ছাপার জন্য A4 মাপে।
নির্বাচনী পোস্টার ডিজাইন মোবাইল দিয়ে কিভাবে করব, প্রার্থীর ছবি আর প্রতীকসহ?
প্রার্থীর নাম, পদ, প্রতীক, নির্বাচনের নাম আর তারিখ বাংলায় লিখে দিন, সাথে প্রার্থীর ছবি। AI সেগুলো দিয়ে নির্বাচনী পোস্টার সাজিয়ে দিবে, নাম আর স্লোগান বসবে আসল বাংলা ফন্টে, তাই বানান ভাঙবে না। শেষে পোস্টারটা PNG ছবি হয়ে ফোনে নামবে, ফেসবুক আর WhatsApp-এ প্রচারের জন্য। জাতীয় আর স্থানীয় নির্বাচনে ছাপা পোস্টার এখন নিষেধ, তাই ছাপার কাজ ব্যানার আর হ্যান্ডবিলে।
নির্বাচনী পোস্টার তৈরির তিনটা ধাপ
- প্রার্থীর তথ্য লিখুন: নাম, কোন পদে, কোন নির্বাচনে, প্রতীকের নাম, ভোটের তারিখ আর এক লাইনের স্লোগান। প্রার্থীর একটা পরিষ্কার ছবি দিন।
- দেখে বাংলায় বদলান: পোস্টার স্ক্রিনে এলে বলুন কী বদলাবে: "নামটা আরও বড় করো", "প্রতীকের ছবিটা ডান দিকে নাও", "সাদা-কালো করে দাও"।
- ছবি নামিয়ে কাজে লাগান: নামানোর বাটনে চাপ দিলে পোস্টারটা PNG ছবি হয়ে ফোনে নামবে। ফেসবুকে দিন, WhatsApp গ্রুপে পাঠান, বা ছাপার দোকানে নিয়ে যান।
নির্বাচনী পোস্টারে প্রার্থীর নামের বানান ভুল হবে না
নির্বাচনের পোস্টারে সবচেয়ে বড় লজ্জা হলো প্রার্থীর নামের ভুল বানান। AI দিয়ে ছবি বানাতে গেলে বাংলা লেখা ভেঙে যায়: মাত্রা কাটা, যুক্তাক্ষর জট পাকানো, আর "মোঃ" হয়ে যায় অচেনা কিছু। ছবি আঁকার AI বাংলা অক্ষর লিখতে পারে না।
এখানে নাম, পদ, প্রতীকের নাম আর স্লোগান আঁকা হবে না, আসল বাংলা ফন্টে বসবে। আপনি যে বানানে লিখবেন, পোস্টারে হুবহু সেই বানান থাকবে। তবুও নামানোর পরে নামটা প্রার্থীকে দিয়ে একবার পড়িয়ে নিন; হাজার কপি ছাপার পরে একটা অক্ষরও বদলানো যায় না।
নির্বাচনী পোস্টারে যা যা থাকতেই হবে
- প্রার্থীর নাম আর ছবি। নামটা পোস্টারের সবচেয়ে বড় লেখা। ছবিটা হোক আলো ভালো এমন জায়গায় তোলা, সামনের দিকে তাকানো; ঝাপসা ছবি বড় করে ছাপালে আরও ঝাপসা দেখায়।
- পদের নাম। চেয়ারম্যান, মেম্বার, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য, কাউন্সিলর, মেয়র, বা কমিটির কোন পদ। ভোটার যেন এক নজরে বোঝেন কোন ব্যালটে খুঁজবেন।
- প্রতীক। প্রতীকের নাম লিখে দিন, আর প্রতীকের একটা পরিষ্কার ছবি থাকলে সেটাও দিন। প্রতীকটা নামের পাশে বড় করে থাকলে যাঁরা পড়তে পারেন না, তাঁরাও চিনবেন।
- নির্বাচনের নাম আর ভোটের তারিখ। কোন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, পৌরসভা বা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন, আর কোন দিন ভোট। তারিখ নিজের হাতে লিখুন, আন্দাজে ছাড়বেন না।
- এক লাইনের স্লোগান। "উন্নয়নের জন্য ভোট দিন", "আপনার পাশে, সবসময়" ধরনের ছোট একটা কথা। লম্বা প্রতিশ্রুতির লিস্ট পোস্টারে কেউ পড়েন না, সেগুলো রাখুন লিফলেটে।
কোন নির্বাচনের পোস্টার বানানো যায়
যেকোনো নির্বাচনের: ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আর মেম্বার, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আর কাউন্সিলর, উপজেলা, স্কুল আর মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি, সমবায় সমিতি, বাজার কমিটি, ক্লাব, আইনজীবী সমিতি বা ছাত্র সংসদ। পোস্টারের কাঠামো একই থাকে, বদলায় শুধু পদ আর প্রতীক।
BanglaCodes কোনো দল বা প্রার্থীর পক্ষে নয়। যে কেউ নিজের বা নিজের প্রার্থীর পোস্টার বানাতে পারবেন, একই নিয়মে, একই দামে। পোস্টারে কী লেখা থাকবে তা আপনি ঠিক করবেন; অন্য প্রার্থীকে ছোট করা, মিথ্যা দাবি বা কারও ছবি অনুমতি ছাড়া বসানো থেকে দূরে থাকুন।
জাতীয় আর স্থানীয় নির্বাচনে ছাপা পোস্টার নিষেধ, ডিজিটাল পোস্টার চলবে
নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধিতে এখন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে (ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন) কোনো ধরনের ছাপা পোস্টার ব্যবহার করা যায় না। ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল আর বিলবোর্ড চলে, তবে সংখ্যা আর মাপ আচরণবিধিতে বাঁধা, আর প্লাস্টিক, পলিথিন বা রেক্সিনের জিনিস নিষেধ। নিয়ম ভাঙলে জেল আর জরিমানা দুইই হতে পারে।
ডিজিটাল প্রচার চলবে: ফেসবুক, WhatsApp আর অন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টার দেওয়া যায়। তবে অনলাইন প্রচার শুরুর আগে অ্যাকাউন্টের ID আর ইমেইল রিটার্নিং অফিসারকে জমা দিতে হয়, আর AI দিয়ে ভুল তথ্য, ভুয়া খবর বা কারও চরিত্রহনন নিষেধ। মাপ আর নিয়ম নির্বাচন ভেদে বদলায়, তাই কাজ শুরুর আগে আপনার নির্বাচনের সর্বশেষ আচরণবিধি রিটার্নিং অফিস থেকে জেনে নিন।
স্কুল, মাদ্রাসা, সমিতি, ক্লাব বা ছাত্র সংসদের নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধির আওতায় পড়ে না; সেখানে কমিটি যে নিয়ম দিয়েছে, সেটাই মানুন।
ফেসবুকের জন্য নির্বাচনী পোস্টার, আর মাঠের ব্যানার
- ফেসবুক আর WhatsApp: চারকোনা মাপে বলুন। এলাকার গ্রুপে পাঠানো ছবিতে নাম আর প্রতীক বড় রাখুন, ছোট লেখা ফোনে পড়া যায় না।
- ফেসবুক পেজের কভার: চওড়া মাপ। ফোনে কভারের দুই পাশ কাটা পড়ে, তাই নাম আর প্রতীক মাঝখানে রাখতে বলুন। চওড়া মাপের সব কথা ব্যানারের পেজে আছে।
- ব্যানার, ফেস্টুন আর হ্যান্ডবিল: জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে ছাপার কাজ এগুলোই। আচরণবিধির মাপটা বলে দিন, যেমন "আচরণবিধির মাপে ব্যানার", আর প্রেসে আগে জিজ্ঞেস করুন তাঁদের কত বড় ফাইল লাগবে। স্কুল বা সমিতির নির্বাচনে ছাপা পোস্টারও চলে, যদি কমিটি নিষেধ না করে।
- টাকা দিয়ে বুস্ট করার আগে: ফেসবুকে নির্বাচন বা রাজনীতির বিজ্ঞাপন চালাতে Meta-র আলাদা অনুমোদন আর "কে টাকা দিয়েছে" লেখা লাগতে পারে। বুস্টের আগে Meta-র বিজ্ঞাপনের নিয়ম দেখে নিন।
পোস্টারের সাথে লিফলেট, ব্যানার আর প্রচারের পেজ
একটা নির্বাচনী প্রচারে শুধু পোস্টার লাগে না। বাড়ি বাড়ি দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতির লিস্টসহ লিফলেট, মোড়ে টাঙানোর জন্য চওড়া ব্যানার, আর চাইলে প্রার্থীর পরিচয়, কাজ আর প্রতিশ্রুতি নিয়ে একটা ছোট ওয়েবসাইট, যার লিংক ফেসবুকে আর পোস্টারের QR কোডে দেওয়া যায়।
সবগুলোতে একই রং, একই ছবি আর একই স্লোগান রাখুন। ভোটার যখন তিন জায়গায় একই চেহারা দেখবেন, নাম আর প্রতীক মনে থাকবে সহজে।
নির্বাচনী পোস্টার ডিজাইনে কত টাকা লাগে
ডিজাইন করতে টাকা লাগবে না। রোজ ৪,০০,০০০ পর্যন্ত ফ্রি AI টোকেন পাবেন, আর একটা পোস্টার বানিয়ে কয়েকবার বদলানো সাধারণত এর মধ্যেই হয়ে যাবে। আলাদা কোনো পোস্টার বানানোর অ্যাপ বা সফটওয়্যার নামাতে হবে না, আর ডিজাইনারের কাছে বারবার দৌড়াতে হবে না।
পেছনের দৃশ্যের জন্য লেখা ছাড়া একটা AI ছবি চাইলে, যেমন গ্রামের রাস্তা বা পতাকার রং, সেটা দিনে ২০টা পর্যন্ত ফ্রি। ছাপার খরচ প্রেস ঠিক করবে; আমরা কিছু ছাপাই না।
নির্বাচনী পোস্টার নিয়ে প্রশ্নোত্তর
চেয়ারম্যান পোস্টার ডিজাইন কিভাবে করব?
প্রার্থীর নাম, "চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী", ইউনিয়নের নাম, প্রতীকের নাম, ভোটের তারিখ আর একটা স্লোগান লিখে দিন, সাথে প্রার্থীর ছবি। AI পোস্টার সাজিয়ে দিবে, দেখে বাংলায় বলে বদলে নিন, তারপর PNG নামান।
নির্বাচনী পোস্টার বানানোর অ্যাপস কি নামাতে হবে?
না। লেখা, বানানো, বদলানো আর ছবি নামানো সবই ফোনের ব্রাউজার থেকে হবে। টেমপ্লেট খুঁজে নিজে হাতে নাম বসাতে হবে না; বাংলায় বললেই সাজানোর কাজটা AI করবে।
প্রতীকের ছবি কোথা থেকে পাব?
প্রতীক বরাদ্দের সময় যে ছবি দেওয়া হয় তার পরিষ্কার একটা কপি নিন, বা প্রতীকের সহজ একটা ছবি নিজে তুলে দিন। AI দিয়েও সাধারণ জিনিসের ছবি বানানো যায়, তবে প্রতীক সরকারি নমুনার মতো হওয়াই নিরাপদ।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কি পোস্টার ছাপানো যায়?
না। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধিতে জাতীয় আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ছাপা পোস্টার নিষেধ। ফেসবুক আর WhatsApp-এ ডিজিটাল পোস্টার দিন, আর ছাপার কাজ করুন আচরণবিধির মাপের ব্যানার, ফেস্টুন আর হ্যান্ডবিলে। সর্বশেষ নিয়মটা রিটার্নিং অফিস থেকে জেনে নিন।
একই পোস্টারে কয়েকজন প্রার্থীর নাম দেওয়া যায়?
যায়, যেমন একটা প্যানেলের সবার নাম আর পদ। তবে নাম যত বেশি, লেখা তত ছোট হবে। দেয়ালে দূর থেকে পড়ার পোস্টারে একজন প্রার্থী রাখাই ভালো, প্যানেলের লিস্ট দিন লিফলেটে।
BanglaCodes কি কোনো দলের পোস্টার বানায়?
না, BanglaCodes কোনো দল বা প্রার্থীর পক্ষে নয়। যে কেউ নিজের পোস্টার নিজে বানাতে পারবেন, একই নিয়মে। কী লেখা থাকবে তা আপনার দায়িত্ব, তাই অন্যকে ছোট করা বা মিথ্যা দাবি থেকে দূরে থাকুন।
নির্বাচনী পোস্টার কি আপনারা ছাপিয়ে দেন?
না, আমরা কিছু ছাপাই না। এখানে ডিজাইন বানিয়ে PNG নামিয়ে নিবেন, তারপর আপনার পছন্দের প্রেসে ছাপাবেন। প্রেসে আগে জিজ্ঞেস করে নিন কত বড় ফাইল লাগবে।
আরও পড়ুন
- পোস্টার আর ব্যানারের পুরো গাইড
- পোস্টার আর ব্যানার নিজে বানানোর নিয়ম
- AI ছবি: কী পারবেন, দিনে কয়টা
- পোস্টারের সাথে ফেসবুকে কী লিখবেন