শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট তৈরি: স্কুল, কলেজ আর মাদ্রাসা
স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসার ওয়েবসাইট বাংলায় লিখে বানান: নোটিশ, ভর্তি, শিক্ষক, কমিটি আর মাউশির চাওয়া তথ্য। ঠিকানা EMIS-এ নিজেরাই দিবেন।
- আমাদের স্কুলের ওয়েবসাইট বানিয়ে দাও। নাম চরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি। প্রতিষ্ঠান পরিচিতি, শিক্ষকদের নাম ও বিষয়, ক্লাস রুটিন, ব্যবস্থাপনা কমিটি আর নোটিশ বোর্ড থাকবে।
- একটা দাখিল মাদ্রাসার ওয়েবসাইট দরকার: মাদ্রাসার পরিচিতি, সুপার আর শিক্ষকদের লিস্ট, ভর্তির নিয়ম, নোটিশ, আর ম্যাপসহ ঠিকানা। রং সবুজ আর সাদা।
- কলেজের সাইটে মাউশির চাওয়া তথ্যগুলো আলাদা আলাদা করে দাও: পাঠদানের অনুমতি, শাখা, শ্রেণি ও লিঙ্গভিত্তিক শিক্ষার্থী, এমপিও, তথ্যসেবা কেন্দ্র আর অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা।
মাউশির নোটিশের ১১টা তথ্যসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট কি নিজেরাই বানানো যায়?
যায়। প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, কোন কোন শ্রেণি, শিক্ষক আর কমিটির তথ্য বাংলায় লিখে দিন; AI নোটিশ বোর্ড, ভর্তির ফর্ম, শিক্ষকদের লিস্ট আর যোগাযোগসহ সাইট বানিয়ে দিবে, আর বাকি তথ্যগুলো আলাদা সেকশনে বসাবে। লাইভ করার পরে ঠিকানাটা EMIS-এ আপনাকেই জমা দিতে হবে। বানানো শুরু করা ফ্রি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট তৈরির নিয়ম, তিন ধাপে
- তথ্যগুলো এক জায়গায় জড়ো করুন: প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি, অনুমতি ও স্বীকৃতির তথ্য, শ্রেণি ও শাখা, শিক্ষক আর কর্মচারীর নাম, কমিটি, রুটিন আর অফিসের ফোন। অফিস ফাইলে যা আছে সেখান থেকেই নিন।
- বাংলায় লিখে সাইট বানান: নাম, ঠিকানা আর কোন কোন সেকশন চান লিখে পাঠান। AI কয়েক মিনিটে নোটিশ বোর্ড, ভর্তির ফর্ম, শিক্ষকদের লিস্ট আর যোগাযোগসহ সাইট সাজিয়ে দিবে।
- লাইভ করে ঠিকানা জমা দিন: Publish চাপুন, সাইটের ঠিকানা কপি করুন। তারপর প্রতিষ্ঠানের নিজের লগইন দিয়ে EMIS বা DSHE-র নির্ধারিত জায়গায় সেটা নিজেরা জমা দিন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নিয়ে নোটিশে আসলে কী বলা আছে
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, কলেজ আর স্কুল অ্যান্ড কলেজকে ওয়েবসাইট হালনাগাদ করতে বলে, ১১টা তথ্যসহ, আর সাইটের ওয়েব ঠিকানা DSHE বা EMIS-এর IMS মডিউলে দিতে বলে। ২০২৬ সালের মে মাসে একই নির্দেশ আবার আসে, ৪ জুনের সময় দিয়ে; তাতে কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, সচল ফোন আর email সবসময় হালনাগাদ রাখার কথা ছিল।
নোটিশের পুরো লেখা নিজের উপজেলা বা জেলা শিক্ষা অফিস থেকে মিলিয়ে নিন, কারণ নতুন নির্দেশ এলে লিস্ট বদলাতে পারে। এখানে যা লেখা, তা পত্রিকার খবর থেকে নেওয়া।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে যে ১১টা তথ্য চাওয়া হয়েছে
- প্রতিষ্ঠান পরিচিতি
- পাঠদানের অনুমতি ও স্বীকৃতি
- শ্রেণি ও লিঙ্গভিত্তিক শিক্ষার্থীর তথ্য
- অনুমোদিত শাখার তথ্য
- পাঠদান সংক্রান্ত তথ্য: শিক্ষকদের নামসহ পূর্ণাঙ্গ রুটিন, পাঠ্যসূচি আর বিভিন্ন নোটিশ
- এমপিও তথ্য
- যোগাযোগের ঠিকানা
- তথ্যসেবা কেন্দ্রের তথ্য
- অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তার তথ্য
- শিক্ষক ও কর্মচারীর তথ্য
- ব্যবস্থাপনা কমিটির তথ্য
স্কুল আর মাদ্রাসার ওয়েবসাইট ডিজাইন: কী কী সাজানো হবে
বানানোর কার্ডটা স্কুল, মাদ্রাসা আর কোচিং, তিনটার জন্যই। উপরে নাম, এক লাইনের পরিচয় আর "ভর্তির তথ্য" বাটন; তারপর নোটিশ বোর্ড, নতুনটা উপরে আর প্রতিটায় তারিখ; শ্রেণি আর সময়, ভর্তির নিয়ম, শিক্ষকদের নাম ও বিষয়, ঠিকানা, ম্যাপ আর ফোন। উপরের ১১টার যেগুলো এর বাইরে, যেমন এমপিও বা কমিটি, সেগুলো লিখে দিলে আলাদা সেকশন হয়ে বসবে।
আপনি যে তথ্য দিবেন না, AI তা বানাবে না: শিক্ষার্থীর সংখ্যা, পাসের হার বা এমপিও কোড নিজে থেকে বসবে না, ফাঁকা থাকবে। মাদ্রাসা হলে সুপার বা অধ্যক্ষ, দাখিল বা আলিম শ্রেণি আর মাদ্রাসার নিজের পরিভাষা লিখে দিন, সাইট সেভাবেই সাজানো হবে। মাদ্রাসার জন্য নির্দেশনা আসে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে; উপরের লিস্টটা মাউশির, তাই কোন তথ্য বাধ্যতামূলক তা নিজের অফিসে জেনে নিন।
সরকারি প্রতিষ্ঠান হলে আগে জাতীয় তথ্য বাতায়ন দেখুন
পত্রিকার খবরে লেখা আছে, জাতীয় তথ্য বাতায়নের অধীন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি খরচ বাঁচাতে আলাদা করে সাইট না বানিয়ে জাতীয় তথ্য বাতায়ন ফ্রেমওয়ার্কের ভেতরেই সাইট বানাবে। আপনার প্রতিষ্ঠান সেই দলে পড়লে এখানে বানানোর আগে উপজেলা বা জেলা শিক্ষা অফিসে জিজ্ঞেস করুন।
বেসরকারি স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসা যাঁরা নিজের সাইট চান, এই পেজ তাঁদের জন্য। অফিস যদি নির্দিষ্ট ঠিকানা বা ডোমেইনের কথা বলে, সেটা আগে জেনে নিন, তারপর বানান।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হালনাগাদ রাখবেন কীভাবে
- ফোন নম্বর, email, প্রধান শিক্ষকের নাম বা কোনো লেখা বদলাতে সাইট ম্যানেজার খুলুন, বদলে সেভ করুন। এর জন্য AI বা Token লাগবে না
- নতুন নোটিশ চ্যাটে এক লাইনে বলুন, যেমন "নোটিশ যোগ করো: ১৬ ডিসেম্বর বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে", তারপর আবার Publish করুন। নোটিশগুলো কোডের ভেতরের লিস্টে থাকে, তাই ম্যানেজারের লেখার ঘরে আসে না
- শিক্ষক বদলি হলে বা কমিটি নতুন হলে সেই সেকশনটা বদলাতে বলুন; পুরো সাইট আবার বানাতে হবে না
- শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ফোন নম্বর বা ঠিকানা সাইটে দিবেন না; সাইটে যা থাকে তা যে কেউ দেখতে পারে
এই ওয়েবসাইট কী করবে না
BanglaCodes আপনার হয়ে EMIS বা DSHE-তে কিছু জমা দিবে না; ঠিকানাটা প্রতিষ্ঠানের নিজের লগইন দিয়ে আপনাদেরই দিতে হবে। এটা স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারও নয়: বেতন আদায়, অভিভাবককে SMS বা রোল দিয়ে রেজাল্ট খোঁজার পোর্টাল এখানে নেই। নম্বর থেকে গ্রেড বের করতে আলাদা রেজাল্ট শিট বানিয়ে নিন, আর রোজকার হাজিরার জন্য হাজিরা খাতা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট তৈরিতে খরচ কত
সাইট বানানো, বদলানো আর আপনার-নাম.banglacodes.app ঠিকানায় লাইভ করা হবে রোজ ৪,০০,০০০ পর্যন্ত ফ্রি AI টোকেনের মধ্যে। ফ্রি সাইটের ভর্তির ফর্ম আবেদনটা WhatsApp মেসেজ বানিয়ে আপনার কাছে পাঠাবে।
প্রতিষ্ঠানের নিজের ডোমেইনে (যেমন aiinbangla.com-এর মতো একটা .com বা অন্য ঠিকানা) চালাতে লাইফটাইম হোস্টিং, একবারই ৳৬,৯৯৯, সারাজীবনের জন্য। তখন ভর্তির আবেদন সাইট ইনবক্সে জমা হবে, দিনে ২৫টা পর্যন্ত। ডোমেইনটা প্রতিষ্ঠান নিজে কিনবে; পুরো হিসাব দামের পেজে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নিয়ে প্রশ্নোত্তর
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে কী কী তথ্য থাকতে হবে?
মাউশির ২০২৫ সালের নোটিশে ১১টা: প্রতিষ্ঠান পরিচিতি, পাঠদানের অনুমতি ও স্বীকৃতি, শ্রেণি ও লিঙ্গভিত্তিক শিক্ষার্থী, অনুমোদিত শাখা, শিক্ষকদের নামসহ রুটিন ও পাঠ্যসূচি ও নোটিশ, এমপিও, যোগাযোগ, তথ্যসেবা কেন্দ্র, অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা, শিক্ষক কর্মচারী আর ব্যবস্থাপনা কমিটি। নতুন নির্দেশ এসেছে কি না শিক্ষা অফিসে জেনে নিন।
ওয়েবসাইটের ঠিকানা EMIS-এ কিভাবে দিব?
প্রতিষ্ঠানের নিজের EMIS বা DSHE লগইন দিয়ে, নোটিশে বলা IMS মডিউলে। BanglaCodes এই জমাটা আপনার হয়ে করবে না। Publish করার পরে সাইটের পুরো ঠিকানা কপি করে সেখানে বসান; ঝামেলা হলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জিজ্ঞেস করুন।
মাদ্রাসা ওয়েবসাইট ডিজাইন কি এখানে করা যাবে?
যাবে। কার্ডটা স্কুল, মাদ্রাসা আর কোচিং তিনটার জন্যই। মাদ্রাসার নাম, দাখিল বা আলিম শ্রেণি, সুপার আর শিক্ষকদের নাম, ভর্তির নিয়ম লিখে দিন, সবুজ সাদা বা পছন্দের রঙে সাজিয়ে দিবে। কোন তথ্য বাধ্যতামূলক, তা মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা দেখে ঠিক করুন।
সরকারি স্কুলের ওয়েবসাইট কি এখানে বানানো উচিত?
আগে অফিসে জেনে নিন। খবরে বলা আছে, জাতীয় তথ্য বাতায়নের অধীন সরকারি প্রতিষ্ঠান সাইট বানাবে জাতীয় তথ্য বাতায়ন ফ্রেমওয়ার্কের ভেতরে। আপনার প্রতিষ্ঠান সেই দলে পড়লে সেই পথটাই নিন।
স্কুলের ওয়েবসাইট বানাতে কত টাকা লাগে?
বানানো আর banglacodes.app ঠিকানায় লাইভ করা ফ্রিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের নিজের ডোমেইনে চালাতে আর ভর্তির আবেদন সাইট ইনবক্সে রাখতে লাইফটাইম হোস্টিং, একবারই ৳৬,৯৯৯। ডোমেইন কেনার খরচ আলাদা, সেটা প্রতিষ্ঠান নিজে কিনবে।
নোটিশ আর শিক্ষকের তথ্য পরে হালনাগাদ করব কিভাবে?
ফোন, email বা নামের মতো লেখা সাইট ম্যানেজারে বদলে সেভ করুন, AI লাগবে না। নতুন নোটিশ চ্যাটে এক লাইনে লিখে বোর্ডে যোগ করতে বলুন, তারপর আবার Publish করুন।
এই সাইটে কি বেতন নেওয়া বা রেজাল্ট দেখানো যায়?
না, এটা স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার নয়। বেতন আদায়, SMS বা রোল দিয়ে রেজাল্ট খোঁজার ব্যবস্থা নেই। নোটিশ বোর্ডে যে রেজাল্ট টাঙাতেন, সেটা নোটিশ হিসেবে দিতে পারেন; গ্রেড হিসাবের জন্য আলাদা রেজাল্ট শিট অ্যাপ বানিয়ে নিন।
মোবাইল দিয়ে কি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বানানো যায়?
যায়। লেখা, বানানো, বদলানো আর Publish, সবই ফোনের ব্রাউজার থেকে হবে। বানানো সাইটও আগে ফোনে ঠিকঠাক দেখানোর মতো করে সাজানো হয়, কারণ অভিভাবকেরা বেশিরভাগ ফোন থেকেই দেখবেন।
আরও পড়ুন
- স্কুল, মাদ্রাসা আর কোচিংয়ের কাজের ওয়েব অ্যাপ
- লাইভ সাইটের লেখা আর ফোন নম্বর নিজে বদলানো
- প্রতিষ্ঠানের নিজের ডোমেইনে লাইফটাইম হোস্টিং
- ভর্তির ফর্মের আবেদন সাইট ইনবক্সে আনা
- কোচিং সেন্টারের সাইট, ব্যানার আর লিফলেট
আরও যা বানিয়ে নিতে পারেন
- কোচিং সেন্টার: ব্যাচ, ভর্তি আর নোটিশের সাইট, সাথে ব্যানার
- ভর্তি চলছে: স্কুল, মাদ্রাসা আর কোচিংয়ের ভর্তির পোস্টার ও ফরম
- রেজাল্ট শিট: নম্বর দিলেই গ্রেড, জিপিএ, মেধাক্রম আর মার্কশিট
- ক্লাস রুটিন: শ্রেণি আর পিরিয়ড ধরে রুটিন, প্রিন্ট আর লিংক
- ওয়েবসাইট: দোকান, অফিস, স্কুল বা নিজের জন্য পুরো ওয়েবসাইট