বিজ্ঞাপনের জন্য ল্যান্ডিং পেজ, বাংলায় বলে বানিয়ে নিন

একটা প্রোডাক্ট, একটা অফার, একটা অর্ডার ফর্ম: ফেসবুক বিজ্ঞাপনের ল্যান্ডিং পেজ বাংলায় বলে বানিয়ে নিন। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে অর্ডার, WhatsApp বাটনসহ।

ল্যান্ডিং পেজ বানিয়ে দিন

ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করার নিয়ম কী, আর কোডিং না জেনে কি বানানো যায়?

নিয়মটা এক লাইনের: এক পেজে একটা প্রোডাক্ট, একটা অফার আর অর্ডারের একটাই পথ। বাংলায় লিখে দিন প্রোডাক্টের নাম, দাম, অফার, ডেলিভারি চার্জ আর WhatsApp নম্বর; AI বড় ছবি, সুবিধা, প্রশ্নোত্তর আর ক্যাশ অন ডেলিভারির অর্ডার ফর্মসহ পুরো ল্যান্ডিং পেজ বানিয়ে দিবে। কোডিং লাগবে না, বানানো আর লাইভ করা ফ্রিতে।

ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করার নিয়ম, তিন ধাপে

  1. প্রোডাক্ট আর অফারটা লিখুন: নাম, দাম, অফার, ঢাকার ভিতরে আর বাইরের ডেলিভারি চার্জ আর WhatsApp নম্বর। প্রোডাক্টের নিজের ছবি থাকলে বিল্ডারে সেটা দিন, বড় ছবিতে সেটাই বসবে।
  2. AI পুরো পেজ বানাবে: উপরে ছবি, দাম আর "এখনই অর্ডার করুন", তারপর সুবিধা, ব্যবহারের নিয়ম আর প্রশ্নোত্তর, শেষে অর্ডার ফর্ম, যেখানে মোট দাম নিজে হিসাব হবে।
  3. লাইভ করে বিজ্ঞাপনে লিংক দিন: Publish চাপুন, নিজে একটা অর্ডার দিয়ে দেখুন ঠিকঠাক আসছে কি না, তারপর ঠিকানাটা ফেসবুক বিজ্ঞাপনের লিংকে বসান।

বিজ্ঞাপনের ক্লিক ইনবক্সে না, ল্যান্ডিং পেজে পাঠান

বিজ্ঞাপনে টাকা যাচ্ছে প্রতিটা ক্লিকে। ক্লিকটা ফেসবুক পেজ বা ইনবক্সে গেলে কাস্টমার জিজ্ঞেস করেন "দাম কত?", উত্তরের অপেক্ষায় থাকেন, আর অনেকে আর ফেরেন না। যিনি থাকেন, তাঁর নাম-ঠিকানা আবার মেসেজ থেকে হাতে টুকে নিতে হয়।

ল্যান্ডিং পেজ মাঝের এই ধাপগুলো তুলে দিবে। দাম, অফার, ডেলিভারির খরচ আর সময় কাস্টমার নিজেই দেখে নিবেন, আর মন ঠিক করার মুহূর্তেই অর্ডার ফর্মটা হাতের কাছে পাবেন।

ভালো ল্যান্ডিং পেজ ডিজাইনের নিয়ম: এক অফার, এক কাজ

ল্যান্ডিং পেজে কী লিখবেন

প্রোডাক্টের নাম আর সেটা কোন সমস্যা মেটায়, এক লাইনে। তারপর তিন-চারটা সুবিধা নিজের ভাষায়, কীভাবে ব্যবহার করবেন, আর দাম ও অফার ঠিক যেমন। আগের দাম কেটে দেখাতে চাইলে সেটাও লিখে দিন; আপনি না বললে AI কাটা দাম বসাবে না।

রিভিউ আর স্টকের কথা আসল হলে তবেই দিন। AI নিজে থেকে রিভিউ, "স্টক শেষ হচ্ছে" বা অফার বানিয়ে বসাবে না, কারণ বিজ্ঞাপনের কাস্টমার একবার ধরে ফেললে আর বিশ্বাস করেন না।

ল্যান্ডিং পেজ থেকে অর্ডার আসবে কোথায়

ফ্রি সাইটে: কাস্টমার ফর্ম পূরণ করে পাঠালে তাঁর WhatsApp খুলে যাবে, নাম, মোবাইল, ঠিকানা, পরিমাণ আর মোট দাম লেখা মেসেজ তৈরি থাকবে, তিনি পাঠালেই অর্ডার আপনার নম্বরে, আর টাকা ক্যাশ অন ডেলিভারিতে।

লাইফটাইম হোস্টিং নিলে (একবারই ৳৬,৯৯৯) অর্ডার জমা হবে সাইট ইনবক্সে, দিনে ২৫টা পর্যন্ত, আর ফোনে অর্ডারের নোটিফিকেশন পাবেন। বিজ্ঞাপন জোরে চললে Business-এ দিনে ১০০টা, Commerce-এ ৫০০টা, আর Commerce-এ ক্রেতাকে SMS আর Steadfast বা Pathao-র কুরিয়ার ফাইল। হোস্টিং পরে নিলে বিল্ডারে বলুন ফর্মটা সাইটের ফর্ম করে দিতে, তারপর আবার Publish করুন।

বিজ্ঞাপন চালুর পরে ল্যান্ডিং পেজ সামলানো

ল্যান্ডিং পেজ ডিজাইনে কত খরচ

ডিজাইনের জন্য আলাদা টাকা নেই: বানানো, বদলানো আর আপনার-নাম.banglacodes.app ঠিকানায় লাইভ করা হবে রোজ ৪,০০,০০০ পর্যন্ত ফ্রি AI টোকেনের মধ্যে।

টাকা লাগবে যখন অর্ডার সাইট ইনবক্সে জমা রাখতে বা নিজের ডোমেইনে চালাতে চাইবেন: লাইফটাইম হোস্টিং, একবারই ৳৬,৯৯৯, সারাজীবনের জন্য। দিনে অনেক অর্ডারের জন্য Business ৳১৪,৪৯৯ বা Commerce ৳২৩,৯৯৯, দুটোই একবারের দাম। বিজ্ঞাপনের খরচ ফেসবুকের, সেটা আলাদা। পুরো হিসাব দামের পেজে আছে।

ল্যান্ডিং পেজের যে ভুলে বিজ্ঞাপনের টাকা নষ্ট হয়

ল্যান্ডিং পেজ নিয়ে প্রশ্নোত্তর

ল্যান্ডিং পেজ আর ওয়েবসাইটের পার্থক্য কী?

ওয়েবসাইটে অনেক পেজ থাকে, দোকান বা প্রতিষ্ঠানের পুরো পরিচয়। ল্যান্ডিং পেজ এক পেজের, একটাই প্রোডাক্ট আর একটাই কাজ: অর্ডার। বিজ্ঞাপন থেকে আসা কাস্টমারের জন্য তাই ল্যান্ডিং পেজই ভালো।

ল্যান্ডিং পেজ ডিজাইন করতে কত টাকা লাগে?

বানানো আর banglacodes.app ঠিকানায় লাইভ করা ফ্রিতেই হবে, অর্ডার আসবে WhatsApp-এ। অর্ডার সাইট ইনবক্সে জমা রাখতে বা নিজের ডোমেইনে চালাতে লাইফটাইম হোস্টিং লাগবে, একবারই ৳৬,৯৯৯, সারাজীবনের জন্য।

মোবাইল দিয়ে কি ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করা যায়?

যায়। লেখা, বানানো, বদলানো আর লাইভ করা সবই ফোনের ব্রাউজার থেকে হবে, বিজ্ঞাপনে দেওয়ার লিংকটাও ফোন থেকেই কপি করে নিবেন।

ল্যান্ডিং পেজে ক্যাশ অন ডেলিভারি আর বিকাশ দুটোই রাখা যায়?

যায়। ফর্মে পেমেন্ট থাকবে ক্যাশ অন ডেলিভারি। সাইট ম্যানেজারে bKash, নগদ বা রকেটের নম্বর দিলে ফর্মের ভেতরে নম্বর, কপির বাটন আর TrxID লেখার ঘর বসবে, আর TrxID অর্ডারের সাথেই আপনার কাছে আসবে।

একাধিক প্রোডাক্টের জন্য কি একটা ল্যান্ডিং পেজেই হবে?

প্রতিটা প্রোডাক্টের আলাদা পেজ ভালো হবে, আর প্রতিটা বিজ্ঞাপন যাবে তার নিজের পেজে। অনেক প্রোডাক্ট একসাথে দেখাতে চাইলে কার্টসহ অনলাইন দোকানের সাইট বানান।

ল্যান্ডিং পেজে কি ফেসবুক Pixel বসানো যায়?

যায়। সাইট ম্যানেজারে Facebook Pixel ID-র ঘরে সংখ্যাটা বসিয়ে সেভ করুন, ফ্রি ঠিকানাতেও কাজ করবে। Pixel ID পাবেন Facebook-এর Events Manager-এ।

অফার শেষ হলে দাম বদলাব কীভাবে?

ঘোষণা বার আর ছোট লেখা সাইট ম্যানেজার থেকেই বদলাবেন, AI বা Token ছাড়া। দামের হিসাব বদলাতে বিল্ডারে এক লাইনে বলুন, আবার Publish করুন, তারপর নিজে একটা অর্ডার দিয়ে মোটটা মিলিয়ে নিন।

ল্যান্ডিং পেজের ডেমো কোথায় দেখব?

নিজের প্রোডাক্ট দিয়েই দেখুন: লিখে পাঠানোর কয়েক মিনিটের মধ্যে আপনার পেজটাই স্ক্রিনে আসবে, সেটাই আপনার ডেমো। পছন্দ না হলে চ্যাটে বলুন কী বদলাতে হবে, লাইভ করার আগে যতবার খুশি।

আরও পড়ুন

আরও যা বানিয়ে নিতে পারেন

আর কী কী বানানো যায়, সব দেখুন