সাইটগুলো কেন একরকম দেখাত
AI-কে শুধু "আমার দোকানের সাইট বানাও" বললে সে সবচেয়ে নিরাপদ পথটা ধরে: সাদা পটভূমি, হালকা নীল বাটন, মাঝারি লেখা। কিছুই ভুল না, কিন্তু কিছুই মনে থাকে না। আমরা নিজেরা অনেক বানানো সাইট ঘেঁটে দেখেছি, আর এই কথাটাই বারবার চোখে পড়েছে: বেশিরভাগ সাইট ফ্যাকাশে আর একরকম।
সমাধানটা সোজা। ডিজাইনের সিদ্ধান্তটা AI-এর হাতে ছেড়ে না দিয়ে আপনি নিজে নিন, তারপর AI সেই সিদ্ধান্তের উপর পুরো সাইট সাজাক। এখন বিল্ডারে প্রথম বিল্ডের আগেই সেটা বেছে দেওয়ার জায়গা আছে।
প্রথমে স্টাইল
সাতটা স্টাইল আছে, আর প্রতিটার চেহারা আলাদা:
- ঝকঝকে রঙিন: বড় লেখা, গাঢ় রং, দূর থেকেই চোখে পড়ে। অফার, দোকান আর ইভেন্টের জন্য ভালো।
- প্রিমিয়াম ডার্ক: কালো পটভূমিতে উজ্জ্বল রঙের ঝলক। টেক, গেমিং, ফটোগ্রাফি বা রাতের রেস্টুরেন্টে মানায়।
- পরিষ্কার আধুনিক: অনেক ফাঁকা জায়গা, সহজ আর গোছানো। ক্লিনিক, অফিস, কোচিং বা যেকোনো কাজের অ্যাপে।
- দেশি ঐতিহ্য: নকশিকাঁথা আর আলপনার ছোঁয়া, উষ্ণ রং। শাড়ি, পিঠা, হস্তশিল্প বা বিয়ের কাজে।
- মজার ও রঙচঙে: গোল কোণা আর হাসিখুশি রং। বাচ্চাদের স্কুল, খেলনা বা কেকের দোকানে।
- রাজকীয় লাক্সারি: সোনালি ছোঁয়া, সরু লেখা, অভিজাত ভাব। গয়না, বুটিক বা দামি সার্ভিসে।
- সবুজ প্রকৃতি: গাছপালা আর মাটির রং, শান্ত ভাব। নার্সারি, অর্গানিক খাবার বা এগ্রো ব্যবসায়।
কোনটা নিবেন ঠিক করতে না পারলে "AI বেছে নিক" রাখুন। তখন AI আপনার ব্যবসা বুঝে মানানসই একটা বেছে নেয়, কিন্তু সেটাও সাদামাটা হয় না, কারণ প্রতিটা স্টাইলের নিজস্ব নিয়ম আছে।
তারপর রং
রঙের জন্য তিনটা পথ:
- দশ জোড়া তৈরি রং থেকে একটা, যেমন গাঢ় সবুজ আর সোনালি, মেরুন আর ক্রিম, বা কালো আর সোনালি। প্রতিটা জোড়া এমনভাবে বাছা যে দুটো রং একসাথে মানায়।
- নিজের দুটো রং, যদি দোকানের সাইনবোর্ড বা লোগোর একটা নির্দিষ্ট রং থাকে।
- রং AI-কে ছেড়ে দেওয়া।
আপনি রং দিলে AI সেটাই ব্যবহার করে, নিজের মতো বদলে দেয় না। বাটন, হেডার, দামের লেখা, সব জায়গায় একই রং ফিরে ফিরে আসে, তাই সাইটটা একটা ব্র্যান্ডের মতো দেখায়।
প্রতিবার যা থাকে
স্টাইল যেটাই হোক, প্রতিটা সাইটে কয়েকটা জিনিস সবসময় থাকে:
- লোগো: আপনার ব্যবসার নাম দিয়ে বানানো, আপনার বাছাই করা রঙে। বাংলা নাম হলেও অক্ষর কাটে না।
- হেডার: উপরে লোগো আর মেনু, আর ফোনে খুললে মেনুটা ঠিকঠাক খোলে বন্ধ হয়।
- ফুটার: যোগাযোগ, ঠিকানা আর দরকারি লিংক, গুছিয়ে।
নিজের আঁকা লোগো দরকার হলে সেটার জন্য আলাদা লেখাও আছে: লোগো বানানোর সহজ পথ।
ছবি: প্রতিটা জায়গায় আসল ছবি
আগে AI অনেক সময় ছবির জায়গায় ফাঁকা ধূসর বাক্স রেখে দিত, নয়তো এমন ছবি বসাত যার সাথে ব্যবসার কোনো মিল নেই। এখন প্রতিটা ছবির জায়গা Pexels থেকে আসল ছবি দিয়ে ভরা হয়, আর ছবিটা বাছা হয় সেই জায়গাটা কী নিয়ে তা দেখে: জুতার দোকানের প্রোডাক্টে জুতার ছবি, রেস্টুরেন্টের মেনুতে খাবারের ছবি। ফুটারে Pexels-এর নামটা থাকে, কারণ ছবিগুলো তাদের।
নিজের তোলা ছবি থাকলে সেটাও দেওয়া যায়। বিল্ডারে ছবি টেনে আনলে AI সেটাই বসায়, আর পরে সাইট ম্যানেজার থেকে যেকোনো ছবি বদলানো যায়।
বানানোর পরে মন বদলালে
ধরুন সাইট লাইভ হয়ে গেছে, আর এখন মনে হচ্ছে সবুজের চেয়ে মেরুন ভালো হত। পুরো সাইট আবার বানাতে হবে না। সাইট ম্যানেজারে রং আর ফন্ট বদলালে পুরো সাইটে একসাথে বদলে যায়, AI ছাড়াই, কোনো Token ছাড়াই। লোগোও সেখান থেকে বদলানো যায়, আমাদের ডিজাইন থেকে বা নিজের ছবিতে। কোথায় কী আছে, ধাপে ধাপে আছে এখানে: সাইট ম্যানেজার গাইড।
খরচের পুরো হিসাব জানতে চাইলে পড়ুন একটা ওয়েবসাইটে আসলে কত খরচ। ছোট করে বললে: ডিজাইন বাছা, লোগো, ছবি আর পরে রং বদলানো, সবই ফ্রি প্ল্যানেও আছে।
প্রশ্নোত্তর
স্টাইল বাছলে কি প্রতিবার একই রকম সাইট হবে? না। স্টাইল ঠিক করে দেয় চেহারার ধাঁচ, যেমন রঙের ব্যবহার, লেখার আকার আর কোণাগুলো কেমন হবে। সাইটের ভেতরের অংশ, সেকশন আর লেখা আসে আপনার ব্যবসা থেকে, তাই দুটো দোকান একই স্টাইলে বানালেও দুটো সাইট আলাদা হয়।
নিজের রং দিলে কি AI সেটা বদলে দেয়? না। আপনি দুটো রং দিলে AI সেই দুটোই ব্যবহার করে। বানানোর পরে আমরা নিজেরাও মিলিয়ে দেখি রংগুলো সাইটে আছে কি না, না থাকলে AI-কে আবার ঠিক করতে বলা হয়।
ডিজাইন বাছার জন্য কি টাকা লাগে? না। স্টাইল আর রং বাছা, লোগো, হেডার, ফুটার, আসল ছবি, আর পরে সাইট ম্যানেজারে রং বা ফন্ট বদলানো, সব ফ্রি প্ল্যানেই আছে।
ছবিগুলো কি ব্যবহার করা নিরাপদ? হ্যাঁ। ছবিগুলো Pexels থেকে আসে, যেখানে ছবি বিনামূল্যে ব্যবহারের অনুমতি থাকে। সাইটের ফুটারে Pexels-এর নাম দেওয়া থাকে। তবু নিজের দোকান বা প্রোডাক্টের আসল ছবি থাকলে সেটা দিন, কাস্টমারের কাছে সেটাই সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য।
পুরনো সাইটেও কি নতুন রং বসানো যায়? যায়। ফন্ট এখনই বদলানো যায়। রঙের বেলায়, সাইটটা আগের নিয়মে বানানো হলে সাইট ম্যানেজার সেটা বলে দেয়, তখন সেখানকার "নতুন ডিজাইনে সাজান" চাপুন। একটা AI বিল্ডে সাইটটা নতুন নিয়মে সেজে যায়, আর এরপর থেকে রং সাইট ম্যানেজার থেকেই সঙ্গে সঙ্গে বদলায়।
ডার্ক স্টাইল কি ফোনে পড়তে কষ্ট হয়? হওয়ার কথা না। ডার্ক স্টাইলে লেখা রাখা হয় উজ্জ্বল রঙে আর যথেষ্ট বড় করে, যাতে কম আলোতেও পড়া যায়। তবু আপনার কাস্টমার যদি বেশিরভাগ দিনের আলোয় খোলেন, পরিষ্কার আধুনিক বা ঝকঝকে রঙিন বেশি নিরাপদ।
সংক্ষেপে
- বানানোর আগে স্টাইল আর রং বেছে দিন, সাইট আর সাদামাটা হবে না
- সাতটা স্টাইল, দশ জোড়া রং, নয়তো নিজের দুটো রং
- প্রতিবার লোগো, হেডার, ফুটার আর প্রতিটা জায়গায় আসল ছবি
- পরে রং, ফন্ট আর লোগো বদলাতে AI বা Token লাগে না
- সবকিছু ফ্রি প্ল্যানেই আছে