ফেসবুক পেজ না ওয়েবসাইট, দোকানের জন্য কোনটা

প্রশ্নটা আসলে কী

বাংলাদেশে ছোট ব্যবসার আসল প্রতিদ্বন্দ্বী Wix বা Shopify নয়। ফেসবুক পেজ।

প্রায় সব দোকানেরই একটা পেজ আছে, বিক্রিও ওখান থেকেই হয়। তাই "ওয়েবসাইট লাগবে কি না" প্রশ্নটার পেছনে আসল প্রশ্নটা হলো: পেজ যা করতে পারে না, সেটা কি আমার লাগে?

পেজ যা ভালো পারে

সততার খাতিরে আগে এটাই বলা দরকার, কারণ পেজের জোরটা আসল।

যাঁরা বলেন "পেজেই তো চলছে", তাঁরা ভুল বলছেন না।

পেজ যা পারে না

চারটা জিনিস, আর চারটাই ব্যবসা একটু বড় হলে কামড়াতে শুরু করে।

Google-এ আসে না। কেউ যখন "মিরপুরে হোমমেড কেক" লিখে খোঁজেন, ফেসবুক পোস্ট সেখানে প্রায় আসেই না। আপনার নাম আগে থেকে না জানলে আপনাকে খুঁজে পাওয়ার উপায় নেই।

পুরোনো জিনিস হারিয়ে যায়। তিন মাস আগের দামের পোস্টটা কেউ খুঁজে পাবেন না, আপনিও না। পেজ একটা স্রোত, তাক নয়।

অর্ডার কথোপকথনে মেশে। রাত এগারোটার অর্ডারটা সকালে নতুন মেসেজের নিচে চাপা পড়ে যায়। কোনটা সামলানো হয়েছে আর কোনটা বাকি, সেটার কোনো তালিকা নেই।

জায়গাটা আপনার নয়। পেজে সমস্যা হলে, রিচ কমে গেলে বা নিয়ম বদলালে করার কিছু থাকে না। ক্রেতার তালিকাটাও আপনার হাতে থাকে না।

সাইট যা যোগ করে

সাইট পেজের বিকল্প নয়, পেজের যেগুলো নেই সেগুলো।

যেটা দরকারপেজসাইট
নতুন মানুষ পাওয়াভালোGoogle থেকে ধীরে, কিন্তু স্থায়ী
দাম আর ঠিকানা এক জায়গায়পোস্টে হারায়সবসময় একই ঠিকানায়
অর্ডারের তালিকানেইইনবক্সে গোছানো
নিজের নামের ঠিকানাfacebook.com/...নিজের ডোমেইন
ক্রেতার তথ্য নিজের কাছেনাCSV নামানো যায়

সবচেয়ে বড় ব্যবহারিক লাভটা টেবিলে ধরা পড়ে না: একই প্রশ্নের উত্তর বারবার টাইপ করা বন্ধ হয়। দাম কত, ডেলিভারি কত, কতদিন লাগে, কোথায় দোকান। এই চারটা প্রশ্ন দিনে বিশবার আসে, আর সাইটের লিংকটা একবার পাঠিয়ে দিলেই হয়।

কখন সাইটটা যোগ করবেন

তাড়াহুড়ার দরকার নেই। এই তিনটার একটা হলে বুঝবেন সময় হয়েছে।

এর আগে পেজই যথেষ্ট। জোর করে সাইট বানিয়ে ফেলে রাখার কোনো মানে নেই।

দুটো একসাথে যেভাবে চালাবেন

সবচেয়ে কাজের ছকটা এরকম: পেজ হলো কথা বলার জায়গা, সাইট হলো গুছিয়ে রাখার জায়গা।

অর্ডারটা সাইটের ফর্ম দিয়ে এলে সেটা একটা তালিকায় জমা হয়, কথোপকথনে হারায় না। কোথায় জমা হয় আর তিনটা অবস্থা দিয়ে কীভাবে সামলাবেন, সেটা অর্ডার ইনবক্সের লেখায় দেওয়া আছে।

পুরো পথটা কেমন দাঁড়ায়

অর্ডার আসা, সেটা সামলানো, টাকা নেওয়া আর কুরিয়ারে তুলে দেওয়া: এই গোটা ব্যবস্থাটা কীভাবে দাঁড়ায় সেটা দোকানের ওয়েব অ্যাপের লেখায় ধাপে ধাপে দেওয়া আছে।

আর Google-এ দোকানটা দেখানোর কাজটা আলাদা, ওটার জন্য Google-এ দোকান আনার লেখাটা দেখে নিতে পারেন।

প্রশ্নোত্তর

পেজ বন্ধ করে দিব? একদমই না। পেজে আপনার ক্রেতারা আছেন আর কথাবার্তা ওখানেই হয়। সাইটটা পেজের বদলে নয়, পেজের পাশে। দুটোর কাজ আলাদা।

সাইট বানালে কি ফেসবুকে বিক্রি কমে যাবে? কমার কোনো কারণ নেই। বরং পোস্টে সাইটের লিংক দিলে যাঁরা দাম জানতে চান তাঁরা নিজেরাই দেখে নেন, আর ইনবক্সে শুধু আসল প্রশ্নগুলো আসে।

Google-এ আসতে কতদিন লাগে? সাধারণত কয়েক সপ্তাহ, আর সেটা নির্ভর করে এলাকা আর প্রতিযোগিতার উপর। এটা পোস্টের মতো তাৎক্ষণিক নয়, কিন্তু একবার এলে সেটা মাসের পর মাস থাকে, রোজ পোস্ট না দিলেও।

লিংক-ইন-বায়ো পেজ দিয়ে কি কাজ চলবে? কিছুটা চলে, যদি শুধু কয়েকটা লিংক এক জায়গায় রাখা দরকার হয়। কিন্তু দাম, পণ্যের তালিকা আর অর্ডারের ফর্ম রাখতে চাইলে ওটা ছোট পড়ে যায়।

ফ্রি সাইট দিয়েই কি শুরু করা যায়? যায়। banglacodes.com-এর ফ্রি লিংকে সাইটটা বানিয়ে পোস্টে দিয়ে দেখতে পারেন মানুষ ঢুকছে কি না। শুধু মনে রাখবেন, ফ্রি লিংকে ফর্মের জমা আপনার কাছে পৌঁছায় না, ওটার জন্য হোস্টিং লাগে।

পেজে যে রিভিউগুলো আছে সেগুলো সাইটে দেওয়া যাবে? যাবে, তবে যেগুলো সত্যিই ক্রেতারা লিখেছেন কেবল সেগুলোই। বানানো রিভিউ সাইটে বসালে সেটা ধরা পড়ে আর বিশ্বাসটাই নষ্ট হয়।

দুই জায়গায় দাম আলাদা হয়ে গেলে? এটাই সবচেয়ে সাধারণ ভুল। নিয়মটা সহজ রাখুন: দাম বদলালে আগে সাইটে বদলান, তারপর পেজে পোস্ট দিন। সাইটটাই আসল তালিকা, পোস্ট হলো ঘোষণা।

ডোমেইন কেনা কি ঝামেলার? প্রথমবার একটু অচেনা লাগে, কিন্তু কাজটা ছোট। কোথা থেকে কিনবেন আর সাইটের সাথে কীভাবে জুড়বেন, সেটা ডোমেইন কেনা আর যোগ করার লেখায় ধাপে ধাপে দেওয়া আছে।

সাইট বানাতে কত সময় লাগে? বাংলায় বলে দিলে প্রথম সাইটটা কয়েক মিনিটেই দাঁড়িয়ে যায়। এরপর দাম আর ছবি বসাতে আর ঠিকঠাক করতে যতটুকু সময় দিতে চান।

সংক্ষেপে