সাইট লাইভ হলো, এবার কী
সাইট লাইভ করার পরের দিনটা অনেকের কাছে সবচেয়ে বেশি হতাশার। লিংকটা ফেসবুকে দিলেন, কেউ কেউ খুললেন, কিন্তু একটাও ফোন এলো না। বেশিরভাগ সময় কারণটা খুব ছোট: সাইটে এখনো নমুনা নম্বর বসানো, নয়তো লিংক শেয়ার করলে ছবিহীন একটা ধূসর বাক্স দেখায়, নয়তো দোকানে আসা কাস্টমার জানেনই না যে সাইট আছে।
নিচের পাঁচটা কাজ এই তিনটা সমস্যাই মেটায়। সবগুলো সাইট ম্যানেজার থেকে হয়, AI লাগে না, Token কাটে না, আর সব প্ল্যানে ফ্রি। সাইট ম্যানেজার কোথায় আর কীভাবে খুলবেন, সেটা আছে সাইট ম্যানেজার গাইডে।
১. নমুনা নম্বরের জায়গায় আসল নম্বর
AI যখন সাইট বানায়, আপনার আসল নম্বর তার জানা থাকে না, তাই সে একটা নমুনা নম্বর বসিয়ে রাখে। কাস্টমার সেই নম্বরে ফোন দিলে কেউ ধরবে না।
সাইট ম্যানেজারে নিজের ফোন, WhatsApp, ইমেইল আর ঠিকানা একবার লিখে সেভ করুন। সাইটের যত জায়গায় নমুনা নম্বর আছে, সবখানে আপনার আসল নম্বর বসে যায়: লেখায়, "কল করুন" বাটনে, আর WhatsApp লিংকে। কোন জায়গায় এখনো নমুনা বাকি, সেটাও সেখানে দেখা যায়।
২. ভাসমান WhatsApp বাটন
বাংলাদেশে বেশিরভাগ অর্ডার শুরু হয় একটা WhatsApp মেসেজ দিয়ে। WhatsApp নম্বর দেওয়া থাকলে সাইটের কোণায় একটা ছোট সবুজ বাটন ভেসে থাকে, পেজের যেখানেই থাকুন। কাস্টমার একবার চাপলেই আপনার সাথে চ্যাট খুলে যায়।
বাটনটা নিজে থেকেই চালু থাকে। না চাইলে সাইট ম্যানেজার থেকে বন্ধ করা যায়।
৩. লোগো আর রং, নিজের দোকানের মতো
AI-এর বানানো লোগো পছন্দ না হলে আরেকটা ডিজাইন বেছে নিন, নয়তো নিজের লোগোর ছবি দিন। সাইটের যেখানে যেখানে লোগো আছে, আর ব্রাউজারের ট্যাবের ছোট আইকনটাও, সব একসাথে বদলে যায়।
রং আর ফন্টও একই জায়গা থেকে বদলায়। দোকানের সাইনবোর্ডের রং আর সাইটের রং এক হলে কাস্টমার এক নজরে চেনেন যে এটা আপনারই দোকান। ডিজাইন নিয়ে বিস্তারিত আছে এখানে: প্রথম বিল্ডেই সুন্দর সাইট।
৪. শেয়ার করার আগে প্রিভিউ
লিংক ফেসবুকে বা WhatsApp-এ দিলে একটা ছোট কার্ড দেখায়: একটা ছবি, একটা শিরোনাম আর দুই লাইনের বর্ণনা। Google-এ খুঁজলেও প্রায় একই জিনিস দেখায়। কার্ডটা ভালো না হলে মানুষ লিংকটাই খোলেন না।
সাইট ম্যানেজারে শেয়ারের আগে দেখে নেওয়া যায় কার্ডটা কেমন দেখাবে। শিরোনাম বেশি লম্বা হলে Google সেটা কেটে দেয়, সেটাও সেখানে বলে দেওয়া থাকে, তাই শেয়ারের আগেই ঠিক করে নিতে পারেন।
৫. দোকানে QR কোড
যে কাস্টমার দোকানে এসে কিনে গেলেন, তিনিই পরের বার অনলাইনে অর্ডার দেওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য মানুষ। সাইট ম্যানেজার থেকে সাইটের QR কোড নামিয়ে নিন, প্রিন্ট করে ক্যাশ কাউন্টারে, ডেলিভারির প্যাকেটে বা ভিজিটিং কার্ডে লাগান। ফোনের ক্যামেরা ধরলেই সাইট খুলে যায়।
রেস্টুরেন্ট হলে একই কাজে আলাদা একটা মেনুও বানানো যায়: রেস্টুরেন্টের QR মেনু।
এরপর কী
এই পাঁচটা হয়ে গেলে সাইটটা এখন সত্যিই কাস্টমারের কাজে লাগে। এরপরের ধাপ অর্ডার নেওয়া, পেমেন্ট আর কুরিয়ার, সেই পুরো পথটা আছে দোকানের ওয়েব অ্যাপ লেখায়।
প্রশ্নোত্তর
আসল নম্বর বসাতে কি আবার AI দিয়ে বানাতে হয়? না। সাইট ম্যানেজারে নম্বর লিখে সেভ করলেই নমুনা নম্বরগুলোর জায়গায় আপনার নম্বর বসে যায়। AI লাগে না, Token কাটে না।
WhatsApp বাটন কি সব সাইটে আসে? WhatsApp নম্বর দেওয়া থাকলে আসে, আর নিজে থেকেই চালু থাকে। সাইটে আগে থেকেই নিজের কোনো ভাসমান WhatsApp বাটন থাকলে দ্বিতীয়টা বসে না। না চাইলে সাইট ম্যানেজার থেকে বন্ধ করা যায়।
নিজের লোগোর ছবি দিলে সেটা কোথায় কোথায় বসে? সাইটে যেখানে যেখানে লোগো আছে, সবখানে, আর ব্রাউজারের ট্যাবের ছোট আইকনেও। পরে আবার বদলাতে চাইলে একই জায়গা থেকে বদলানো যায়।
এই কাজগুলোর জন্য কি কোনো প্যাক কিনতে হয়? না। নম্বর বসানো, WhatsApp বাটন, লোগো আর রং বদল, শেয়ার প্রিভিউ আর QR কোড, সবই ফ্রি প্ল্যানে আছে।
সাইট এখনো লাইভ না করলে কি এগুলো করা যায়? যায়। বদলগুলো প্রিভিউতে সাথে সাথে দেখা যায়। সাইট লাইভ থাকলে সেভ করার সাথে সাথে লাইভ সাইটেও বসে যায়।
সংক্ষেপে
- নমুনা নম্বরের জায়গায় নিজের ফোন, WhatsApp, ইমেইল আর ঠিকানা বসান
- ভাসমান WhatsApp বাটন চালু রাখুন, অর্ডার সেখান থেকেই আসে
- লোগো আর রং দোকানের মতো করুন, এক জায়গা থেকেই
- শেয়ারের আগে Google আর Facebook-এর প্রিভিউ মিলিয়ে নিন
- QR কোড নামিয়ে দোকানে লাগান
- সবকিছু AI আর Token ছাড়া, সব প্ল্যানে ফ্রি